২৩

المؤمنون

সূরা আল-মুমিনূন

Al-Mu'minun

মক্কী ১১৯ আয়াত ৬ রুকু পারা ১৮

মক্কী সূরা, বিসমিল্লাহসহ ১১৯ আয়াত ও ৬ রুকূ

وَشَجَرَۃً تَخۡرُجُ مِنۡ طُوۡرِ سَیۡنَآءَ تَنۡۢبُتُ بِالدُّہۡنِ وَصِبۡغٍ لِّلۡاٰکِلِیۡنَ ﴿۲۱﴾

২১
আর সিনাই পর্বতে১৯৯০ জন্মায় এমন এক বৃক্ষও (সৃষ্টি করেছি) যা আহারকারীদের জন্য তেল ও নানাবিধ মসলা উৎপন্ন করে।
১৯৯০। ‘সিনাই পর্বত’ শব্দটি আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেয় বাইবেলের মহান ভবিষ্যদ্বাণীটি- ‘সদাপ্রভু সিনাই হইতে আসিলেন, সেয়ীর হইতে তাহাদের প্রতি উদিত হইলেন, পারাণ পর্বত হইতে আপন তেজ প্রকাশ করিলেন, এবং তিনি দশ হাজার পবিত্র সঙ্গীসহ আসিলেন, তাহাদের জন্য তাঁহার দক্ষিণ হস্তে আগুন ভরা আইন ছিল’ (দ্বিতীয় বিবরণ ৩৩:২; এইচ এফ প্রেস কোট প্রণীত ‘ওয়ানস টু সিনাই’ দ্রষ্টব্য)।

وَاِنَّ لَکُمۡ فِی الۡاَنۡعَامِ لَعِبۡرَۃً ؕ نُسۡقِیۡکُمۡ مِّمَّا فِیۡ بُطُوۡنِہَا وَلَکُمۡ فِیۡہَا مَنَافِعُ کَثِیۡرَۃٌ وَّمِنۡہَا تَاۡکُلُوۡنَ ﴿ۙ۲۲﴾

২২
গদেখুন: ৬:১৪৩; ১৬:৬; ৩৬:৭২-৭৩; ৪০:৮০-৮১৭আর নিশ্চয় তোমাদের জন্য চতুষ্পদ জন্তুর মাঝে এক শিক্ষণীয় বিষয় রয়েছে।১৯৯১ এগুলোর পেটে যা আছে তা থেকে আমরা তোমাদের পান করাই। এছাড়াও এগুলোতে তোমাদের জন্য আরো অনেক উপকারিতা রয়েছে এবং এগুলোর কোনো কোনোটি তোমরা খেয়েও থাকো।,*
১৯৯১। ‘ইবরাহ’ (শিক্ষণীয় বিষয়) অর্থ নির্দেশিকা অথবা যুক্তিপ্রমাণ যার দ্বারা কেউ অজ্ঞান থেকে জ্ঞানে পৌঁছে (লেইন)। শব্দটি ইন্দ্রিয়ের অগোচরে ঘটিত প্রক্রিয়ার প্রতি পরোক্ষভাবে প্রযোজ্য এবং এস্থলে গৃহপালিত পশুর পেটের মধ্যে সংঘটিত প্রক্রিয়ার প্রতি ইঙ্গিত করে। তাদের ভক্ষিত ঘাসপাতাকে সুস্বাদু দুগ্ধে পরিণত করার প্রক্রিয়ার ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করে একজন মানুষ আল্লাহ তা’লার মহান শক্তি সম্পর্কে এবং ঐশী নিয়মের ক্রিয়াশীলতার সূক্ষ্মতত্ত্ব সম্পর্কে উপলব্ধি করার অন্তর্দৃষ্টি লাভ করে।
* এখানে মানুষের জন্য সাতটি স্বর্গীয় পথের উল্লেখ রয়েছে। সাত সংখ্যা বলতে এরূপ সংখ্যা বুঝায় যার পুনরাবৃত্তি বার বার ঘটানো হয়, যেভাবে প্রতি সাত দিন পর পর সপ্তাহের পুনরাবৃত্তি হয়ে থাকে। অতএব ‘সাবআ তারাইক’ অর্থ হলো অগণিত স্বর্গীয় পথ। [হযরত খলীফাতুল মসীহ রাবে (রাহে.) কর্তৃক উর্দুতে অনূদিত কুরআন করীমে প্রদত্ত টীকা দ্রষ্টব্য)

وَعَلَیۡہَا وَعَلَی الۡفُلۡکِ تُحۡمَلُوۡنَ ﴿٪۲۳﴾

২৩
আর এগুলোতে এবং নৌযানেও তোমাদের আরোহণ করানো হয়।
সূরা আল-মুমিনূন - রুকু ১

وَلَقَدۡ اَرۡسَلۡنَا نُوۡحًا اِلٰی قَوۡمِہٖ فَقَالَ یٰقَوۡمِ اعۡبُدُوا اللّٰہَ مَا لَکُمۡ مِّنۡ اِلٰہٍ غَیۡرُہٗ ؕ اَفَلَا تَتَّقُوۡنَ ﴿۲۴﴾

২৪
আর আমরা নিশ্চয় নূহকে তার জাতির প্রতি প্রেরণ করেছিলাম। তখন সে বলেছিল, ‘হে আমার জাতি! তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো। তোমাদের জন্য তিনি ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য নাই। অতএব তোমরা কি তাকওয়া অবলম্বন করবে না?’কদেখুন: ১৬:৮-৯; ৩৬:৪২-৪৩; ৪৩:১৩খদেখুন: ৭:৬০; ১১:২৬; ৭১:২

فَقَالَ الۡمَلَؤُا الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا مِنۡ قَوۡمِہٖ مَا ہٰذَاۤ اِلَّا بَشَرٌ مِّثۡلُکُمۡ ۙ یُرِیۡدُ اَنۡ یَّتَفَضَّلَ عَلَیۡکُمۡ ؕ وَلَوۡ شَآءَ اللّٰہُ لَاَنۡزَلَ مَلٰٓئِکَۃً ۚۖ مَّا سَمِعۡنَا بِہٰذَا فِیۡۤ اٰبَآئِنَا الۡاَوَّلِیۡنَ ﴿ۚ۲۵﴾

২৫
গদেখুন: ৭:৬১; ১১:২৮; ১৭:৯৫; ৩৪:৪৪গদেখুন: ১১:৪২; ৪৩:১৪তখন তার জাতির মাঝে অস্বীকারকারীদের নেতারা বলল, ‘সে তো কেবল তোমাদের মতোই একজন মানুষ,১৯৯২ যে কি-না তোমাদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করতে চায়। আর আল্লাহ যদি চাইতেন তাহলে নিশ্চয় তিনি ফেরেশতা অবতীর্ণ করতেন। আমরা তো আমাদের পূর্বপুরুষদের মাঝে এরূপ (কিছুই) শুনি নি।ঘদেখুন: ১৭:৯৬; ৫৪:১০চদেখুন: ২৬:১১৮-১১৯; ৫৪:১১
১৯৯২। অবিশ্বাসীরা নিজ শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠার প্রবণতায় ভুগে থাকে। ফলে তারা আল্লাহর প্রত্যাদিষ্ট নবীগণকে এ বলে প্রত্যাখ্যান করে যে, সে তো তোমাদের মতো একজন মানুষ ছাড়া আর কিছু নয়। কাফিররা একজন ব্যক্তির নেতৃত্ব মেনে নিতে পারে না। প্রসঙ্গক্রমে এ আয়াতের অন্তর্নিহিত অর্থ প্রকাশ করে, স্মরণাতীত কাল থেকে ফেরেশতার অস্তিত্বে বিশ্বাস পোষণ করা হতো। হযরত নূহ (আ.)-এর যুগেও বিরুদ্ধবাদীরা তাদের ওপর ফেরেশতা অবতীর্ণ করে দেখানোর জন্য নূহ (আ.)-কে আহ্বান জানিয়েছিল।

اِنۡ ہُوَ اِلَّا رَجُلٌۢ بِہٖ جِنَّۃٌ فَتَرَبَّصُوۡا بِہٖ حَتّٰی حِیۡنٍ ﴿۲۶﴾

২৬
সে তো কেবল একজন মানুষ, যাকে পাগলামিতে পেয়ে বসেছে। সুতরাং তার (পরিণতির) জন্য তোমরা কিছুকাল অপেক্ষা করো।’

قَالَ رَبِّ انۡصُرۡنِیۡ بِمَا کَذَّبُوۡنِ ﴿۲۷﴾

২৭
সে (অর্থাৎ নূহ) বলল, ‘হে আমার প্রতিপালক-প্রভু! তুমি আমাকে সাহায্য করো, কেননা এরা আমাকে মিথ্যাবাদী আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছে।’

فَاَوۡحَیۡنَاۤ اِلَیۡہِ اَنِ اصۡنَعِ الۡفُلۡکَ بِاَعۡیُنِنَا وَوَحۡیِنَا فَاِذَا جَآءَ اَمۡرُنَا وَفَارَ التَّنُّوۡرُ ۙ فَاسۡلُکۡ فِیۡہَا مِنۡ کُلٍّ زَوۡجَیۡنِ اثۡنَیۡنِ وَاَہۡلَکَ اِلَّا مَنۡ سَبَقَ عَلَیۡہِ الۡقَوۡلُ مِنۡہُمۡ ۚ وَلَا تُخَاطِبۡنِیۡ فِی الَّذِیۡنَ ظَلَمُوۡا ۚ اِنَّہُمۡ مُّغۡرَقُوۡنَ ﴿۲۸﴾

২৮
অতএব আমরা তার প্রতি এ মর্মে ওহী করলাম, কদেখুন: ১১:৩৮আমাদের চোখের সামনে এবং আমাদের ওহী অনুযায়ী নৌকা তৈরি করো। খদেখুন: ১১:৪১; ৫৪:১৩-১৪অতঃপর আমাদের আদেশ যখন এসে যাবে এবং ভূগর্ভস্থ প্রস্রবণসমূহ যখন প্রবল বেগে উৎসারিত হবে তখন তুমি এতে (তথা নৌকায়) প্রতিটির (অর্থাৎ প্রয়োজনীয় সব প্রাণির) এক এক জোড়া করে তুলে নিও এবং তোমার পরিবার-পরিজনকেও (তুলে নিও), তাদের মাঝ থেকে কেবল তাকে ছাড়া যার বিরুদ্ধে (আগেই) সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে। আর যারা সীমালঙ্ঘন করেছে তাদের ব্যাপারে আমার সাথে কোনো কথা বলো না। নিশ্চয় তাদেরকে নিমজ্জিত করা হবে।১৯৯৩
১৯৯৩। ১৩১৫ ও ১৩১৬ টীকা দ্রষ্টব্য।

فَاِذَا اسۡتَوَیۡتَ اَنۡتَ وَمَنۡ مَّعَکَ عَلَی الۡفُلۡکِ فَقُلِ الۡحَمۡدُ لِلّٰہِ الَّذِیۡ نَجّٰنَا مِنَ الۡقَوۡمِ الظّٰلِمِیۡنَ ﴿۲۹﴾

২৯
ঘদেখুন: ১১:৪৯; ২৯:১৬; ২৩:৪৩; ২৫:৩৯এরপর তুমি ও তোমার সাথিরা যখন নৌকায় সুস্থিরভাবে বসবে তখন বলো, ‘সব প্রশংসা আল্লাহরই- যিনি অত্যাচারী জাতির কবল থেকে আমাদের উদ্ধার করেছেন।’

وَقُلۡ رَّبِّ اَنۡزِلۡنِیۡ مُنۡزَلًا مُّبٰرَکًا وَّاَنۡتَ خَیۡرُ الۡمُنۡزِلِیۡنَ ﴿۳۰﴾

৩০
আর বলো, ‘হে আমার প্রতিপালক-প্রভু! তুমি আমাকে এক কল্যাণময় অবতরণস্থলে অবতরণ করাও এবং তুমি অবতারণকারীদের মাঝে সর্বোত্তম’।”