১১

هود

সূরা হুদ

Hud

মক্কী ১২৪ আয়াত ১০ রুকু পারা ১১–১২

ইহা মক্কায় অবতীর্ণ, বিসমিল্লাহ্‌সহ ইহাতে ১২৪ আয়াত এবং ১০ রুকু আছে।

اُولٰٓئِکَ لَمۡ یَکُوۡنُوۡا مُعۡجِزِیۡنَ فِی الۡاَرۡضِ وَمَا کَانَ لَہُمۡ مِّنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ مِنۡ اَوۡلِیَآءَ ۘ یُضٰعَفُ لَہُمُ الۡعَذَابُ ؕ مَا کَانُوۡا یَسۡتَطِیۡعُوۡنَ السَّمۡعَ وَمَا کَانُوۡا یُبۡصِرُوۡنَ ﴿۲۱﴾

২১
তাহারা পৃথিবীতে (আল্লাহ্‌র পরিকল্পনাকে) কখনও ব্যর্থ করিতে পারে না, এবং তাহাদের জন্য আল্লাহ্ ব্যতীত কোন বন্ধু নাই। তাহাদের শাস্তি দ্বিগুণ করা হইবে।১৩০৬ তাহারা শুনিতেও পারে না এবং দেখিতেও পারে না।
১৩০৬। “তাহাদের শাস্তি দ্বিগুণ করা হইবে,” অর্থ অবিশ্বাসীদের নেতাগণের নিজেদের পাপের জন্য এবং যাহাদেরকে তাহারা সত্যের বিরুদ্ধে বিভ্রান্ত করিয়াছিল তাহাদের অপরাধের জন্য শাস্তির মাত্রা দ্বিগুণ হইবে।

اُولٰٓئِکَ الَّذِیۡنَ خَسِرُوۡۤا اَنۡفُسَہُمۡ وَضَلَّ عَنۡہُمۡ مَّا کَانُوۡا یَفۡتَرُوۡنَ ﴿۲۲﴾

২২
ইহারা এমন যাহারা নিজেদের আত্মাকে ক্ষতিগ্রস্ত করিয়াছে এবং যাহা কিছু তাহারা মিথ্যা রচনা করিয়াছে উহা তাহাদের নিকট হইতে উধাও হইবে।

لَا جَرَمَ اَنَّہُمۡ فِی الۡاٰخِرَۃِ ہُمُ الۡاَخۡسَرُوۡنَ ﴿۲۳﴾

২৩
নিঃসন্দেহে, ইহারাই এমন যাহারা পরকালে সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত হইবে।

اِنَّ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ وَاَخۡبَتُوۡۤا اِلٰی رَبِّہِمۡ ۙ اُولٰٓئِکَ اَصۡحٰبُ الۡجَنَّۃِ ۚ ہُمۡ فِیۡہَا خٰلِدُوۡنَ ﴿۲۴﴾

২৪
নিশ্চয় যাহারা ঈমান আনিয়াছে এবং পুণ্য কর্ম করিয়াছে এবং তাহাদের প্রভুর প্রতি বিনত হইয়াছে১৩০৭ ইহারাই জান্নাতের অধিবাসী; সেখানে তাহারা চিরস্থায়ী হইবে।
১৩০৭। আধ্যাত্মিক উন্নতির ক্ষেত্রে উচ্চতর মোকাম বা মর্যাদা লাভ করিতে হইলে, সঠিক বিশ্বাসী ও সৎকর্মশীল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহ্‌র প্রতি পূর্ণ একীন, সম্পূর্ণরূপে আত্মসমর্পণ, দৃঢ় আস্থা এবং অকৃত্রিম প্রেম থাকিতে হইবে।

مَثَلُ الۡفَرِیۡقَیۡنِ کَالۡاَعۡمٰی وَالۡاَصَمِّ وَالۡبَصِیۡرِ وَالسَّمِیۡعِ ؕ ہَلۡ یَسۡتَوِیٰنِ مَثَلًا ؕ اَفَلَا تَذَکَّرُوۡنَ ﴿٪۲۵﴾

২৫
(এই) দুইটি দলের দৃষ্টান্ত, এক অন্ধ ও বধির এবং এক চক্ষুষ্মান ও শ্রবণক্ষম ব্যক্তির ন্যায়।১৩০৮ দৃষ্টান্তে এই দুই দল কি সমান? তোমরা কি উপদেশ গ্রহণ করিবে না?
সূরা হুদ - রুকু ২
১৩০৮। এই আয়াতে বিশ্বাস এবং অবিশ্বাসের মধ্যে যে বৈপরীত্য রহিয়াছে তাহা একটি সুন্দর দৃষ্টান্ত দ্বারা বুঝান হইয়াছে। একজন বিশ্বাসীকে পূর্ণ চক্ষুষ্মান এবং শ্রবণক্ষম ব্যক্তি হিসাবে আখ্যায়িত করা হইয়াছে, অপরদিকে অবিশ্বাসী ব্যক্তিকে অন্ধ ও বধির ব্যক্তির সহিত তুলনা করা হইয়াছে।

وَلَقَدۡ اَرۡسَلۡنَا نُوۡحًا اِلٰی قَوۡمِہٖۤ ۫ اِنِّیۡ لَکُمۡ نَذِیۡرٌ مُّبِیۡنٌ ﴿ۙ۲۶﴾

২৬
এবং আমরা নূহকে তাহার সম্প্রদায়ের নিকট পাঠাইয়াছিলাম, (সে বলিল) ‘নিশ্চয় আমি তোমাদের জন্য একজন প্রকাশ্য সতর্ককারী—

اَنۡ لَّا تَعۡبُدُوۡۤا اِلَّا اللّٰہَ ؕ اِنِّیۡۤ اَخَافُ عَلَیۡکُمۡ عَذَابَ یَوۡمٍ اَلِیۡمٍ ﴿۲۷﴾

২৭
যে, তোমরা আল্লাহ্‌ ব্যতীত কাহারও ইবাদত করিও না, নিশ্চয় আমি তোমাদের উপর এক যন্ত্রণাদায়ক দিনের শাস্তির আশঙ্কা করি।’১৩০৯
১৩০৯। “যন্ত্রণাদায়ক দিবসের শাস্তি” হইতে “একটি যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি” ভিন্নতর। প্রথমোক্ত শাস্তির দ্বারা শাস্তির অধিকতর ভয়াবহতা বুঝায়। কতক শাস্তি অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক, কিন্তু কতক এমন দিনও রহিয়াছে যাহার কথা স্মরণ হইলে মানুষের অন্তর ভয়-বেদনায় কাঁপিয়া উঠে, অথচ প্রকৃত শাস্তি কেবল তাহাদিগের বেদনার কারণ হয় যাহাদের উপর ইহা আরোপিত হয়। কিন্তু যন্ত্রণাদায়ক দিবসের শাস্তি তাহাদিগকেও ভীতি-বিহ্বল করে যাহারা পরবর্তী কালে আসিয়া থাকে।

فَقَالَ الۡمَلَاُ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا مِنۡ قَوۡمِہٖ مَا نَرٰٮکَ اِلَّا بَشَرًا مِّثۡلَنَا وَمَا نَرٰٮکَ اتَّبَعَکَ اِلَّا الَّذِیۡنَ ہُمۡ اَرَاذِلُنَا بَادِیَ الرَّاۡیِ ۚ وَمَا نَرٰی لَکُمۡ عَلَیۡنَا مِنۡ فَضۡلٍۭ بَلۡ نَظُنُّکُمۡ کٰذِبِیۡنَ ﴿۲۸﴾

২৮
কিন্তু তাহার জাতির প্রধানগণ, যাহারা অস্বীকার করিয়াছিল, বলিল, ‘আমরা তোমাকে আমাদের মত মানুষ ব্যতীত আর কিছুই দেখিতেছি না, এবং আমাদের মধ্যে যাহারা বাহ্যদৃষ্টিতে১৩১০ সর্বাপেক্ষা নিকৃষ্ট তাহারা ব্যতীত আমরা অন্য কাহাকেও তোমার অনুসরণ করিতে দেখিতেছি না। এবং আমরা আমাদের উপর তোমাদের কোন শ্রেষ্ঠত্ব দেখিতেছি না, বরং আমরা তোমাদিগকে মিথ্যাবাদী মনে করি।’
১৩১০। ‘বা-দি-আর্-রা’য়ী’ অর্থ-প্রথম চিন্তাতেই; বাহ্যদৃষ্টিতে; যথাযথ বিবেচনা না করিয়া (লেইন)। ‘আরা-যিলুনা বা-দিয়া আর্-রা’য়ী’ অর্থাৎ বিরুদ্ধবাধীদের দৃষ্টিতে নূহ্ (আঃ)-এর অনুসারীগণঃ (ক) বাহ্যদৃষ্টিতেই নিকৃষ্ট ও তুচ্ছ; (খ) তাহাদের বিশ্বাস অকপট নহে; (গ) ইহা তাহাদের ভালবাসা বিস্তারেরই ফল। ইহা নিতান্তই পরিতাপের বিষয় যে, সকল নবীদের সময়ই বিরুদ্ধবাদীরা আল্লাহ্‌র প্রেরিত রসূলের দাবীর সত্যতা যাচাই করার জন্য তাহাদের নিজস্ব মনগড়া মাপকাঠিতে বিচার করিতে যাইয়া সত্যকে বুঝিতে পারে না, ফলে তাহারা ধারণা করিয়া লয় যে, তাহারা খোলাখুলি চিন্তাভাবনা করিয়াছে ও যথেষ্ট বিচার-বিবেচনা করিয়া দেখিয়াছে বলিয়া নবীর দাবীকে মিথ্যা সাব্যস্ত করিয়া বসে।

قَالَ یٰقَوۡمِ اَرَءَیۡتُمۡ اِنۡ کُنۡتُ عَلٰی بَیِّنَۃٍ مِّنۡ رَّبِّیۡ وَاٰتٰٮنِیۡ رَحۡمَۃً مِّنۡ عِنۡدِہٖ فَعُمِّیَتۡ عَلَیۡکُمۡ ؕ اَنُلۡزِمُکُمُوۡہَا وَاَنۡتُمۡ لَہَا کٰرِہُوۡنَ ﴿۲۹﴾

২৯
সে বলিল, ‘হে আমার জাতি! তোমরা ঠিক করিয়া বল, যদি আমি আমার প্রভুর পক্ষ হইতে সমাগত কোন সুস্পষ্ট নিদর্শনের উপর (প্রতিষ্ঠিত) থাকি এবং তিনি যদি নিজের তরফ হইতে আমাকে এক বিশেষ রহমত দিয়া থাকেন যাহা তোমাদের দৃষ্টিতে অস্পষ্ট হইয়া গিয়াছে তাহা হইলে (তোমাদের কি অবস্থা হইবে)? আমরা কি ইহা তোমাদিগকে মানিতে বাধ্য করিতে পারি, যদিও তোমরা ইহা অপসন্দ কর?

وَیٰقَوۡمِ لَاۤ اَسۡئَلُکُمۡ عَلَیۡہِ مَالًا ؕ اِنۡ اَجۡرِیَ اِلَّا عَلَی اللّٰہِ وَمَاۤ اَنَا بِطَارِدِ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا ؕ اِنَّہُمۡ مُّلٰقُوۡا رَبِّہِمۡ وَلٰکِنِّیۡۤ اَرٰٮکُمۡ قَوۡمًا تَجۡہَلُوۡنَ ﴿۳۰﴾

৩০
এবং হে আমার জাতি! ইহার বিনিময়ে আমি তোমাদের নিকট কোন ধন-সম্পদ চাহি না; আমার পুরস্কার আল্লাহ্ ছাড়া আর কাহারও নিকট নাই। এবং যাহারা ঈমান আনিয়াছে তাহাদিগকে আমি কখনও তিরস্কার করিয়া তাড়াইয়া দিতে পারি না। তাহারা অবশ্যই তাহাদের প্রভুর সহিত সাক্ষাৎ লাভ করিবে। কিন্তু আমি দেখিতেছি যে, তোমরা এক অজ্ঞ জাতি;