৮১

التكوير

সূরা আত্‌ তাক্‌ভীর

At-Takwir

মক্কী ৩০ আয়াত ১ রুকু পারা ৩০

ইহা মক্কায় অবতীর্ণ, বিসমিল্লাহ্‌সহ ইহাতে ৩০ আয়াত এবং ১ রুকু আছে।

بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ ﴿۱﴾

১
আল্লাহ্‌র নামে যিনি অযাচিত-অসীম দাতা, পরম দয়াময়।

اِذَا الشَّمۡسُ کُوِّرَتۡ ۪ۙ﴿۲﴾

২
যখন সূর্যকে আবৃত করা হইবে,৩২৬১
৩২৬১। সাধারণতঃ বিশ্বাস করা হয় যে, এই সূরাটি কেবলমাত্র মৃত্যু-পরবর্তী পুনরুত্থানের বিষয়টি আলোচনা করিয়াছে যখন চলমান প্রকৃতির নিয়ম-কানুন স্তব্ধ হইয়া নিষ্ক্রিয় হইয়া যাইবে! কিন্তু সূরাটির সম্পূর্ণ চিন্তাধারা ও সামগ্রিক মর্ম্মবাণী এতই পরিষ্কারভাবে ইহলোকের প্রাকৃতিক জগতের সুপরিচিত অবস্থাবলী সম্বন্ধে বর্ণনা দিতেছে যে, এই সূরাটিকে কেবলমাত্র পারলৌকিক চূড়ান্ত পুনরুত্থানের প্রতি আরোপ করিলে, কয়েকটি আয়াতের কোন অর্থই খুঁজিয়া পাওয়া যাইবে না। প্রকৃতপক্ষে, বস্তু-জগতে ও মানবিক-জীবনে, মহানবী (সাঃ)-এর সময়ের পরে, বিশেষতঃ আমাদের সময়ে, যে সকল মহাবিবর্তন আগেই সংঘটিত হইয়া গিয়াছে, এই সূরাটিতে উহাই বর্ণিত হইয়াছে। আলোচ্য আয়াতটির অর্থঃ আধ্যাত্মিক অন্ধকার যখন বিশ্বকে গ্রাস করিয়া ফেলিবে, আধ্যাত্মিক সূর্য (মহানবী-সঃ)-এর আলো যখন নিষ্প্রভ হইয়া আসিবে অথবা প্রায় তিরোহিত হইয়া যাইবে। আয়াতটির অন্য একটি অর্থ এইরূপ হইতে পারেঃ নবী করীম (সাঃ)-এর একটি সুপ্রসিদ্ধ হাদীসে বর্ণিত আছে যে, ইমাম মাহদী (আঃ)-এর সময়ে একই রমযান মাসে সূর্য-গ্রহণ ও চন্দ্র-গ্রহণ ঘটিবে, যাহা পৃথিবী ও আকাশসমূহ সৃষ্টি অবধি আর কখনও পূর্বে ঘটে নাই (কুতনী, পৃঃ ১৮৮)। এই সূর্য-গ্রহণ ও চন্দ্র-গ্রহণ ১৮৯৪ সালের রমযান মাসে বর্ণিত তারিখ অনুযায়ী সংঘটিত হইয়া মহানবী (সাঃ)-এর ভবিষ্যদ্বাণীকে অক্ষরে অক্ষরে পূর্ণ করিয়াছে।

وَاِذَا النُّجُوۡمُ انۡکَدَرَتۡ ۪ۙ﴿۳﴾

৩
এবং যখন নক্ষত্ররাজি নিষ্প্রভ হইবে,৩২৬২
৩২৬২। ‘আন্ নাজমু’ (তারকা) বলিতে হাক্কানী উলেমাকে বুঝাইয়াছে। এই অর্থ মহানবী (সাঃ)-এর প্রসিদ্ধ হাদীসের দ্বারা সমর্থিত। মহানবী (সাঃ) বলিয়াছেন, ‘আমার সাহাবীগণ তারকা সদৃশ, তাহাদের যাহাকেই তোমরা অনুসরণ করিবে, সৎপথপ্রাপ্ত হইবে’ (বায়হাকী)। অতএব, আয়াতটির এইরূপ অর্থ হইতে পারেঃ যখন ধর্মীয় নেতাগণের পদস্খলন ঘটিবে এবং তাহাদের প্রভাব-প্রতিপত্তি একেবারে কমিয়া যাইবে। আয়াতটিতে, ধর্মীয় সংস্কারকের আগমন কালে অসাধারণ সংখ্যায় উল্কাপাতের ঘটনা ঘটিয়া থাকে— এই কথার প্রতিও ইঙ্গিত থাকিতে পারে।

وَاِذَا الۡجِبَالُ سُیِّرَتۡ ۪ۙ﴿۴﴾

৪
এবং যখন পর্বতসমূহকে চালিত করা হইবে,৩২৬৩
৩২৬৩। যখন পাহাড়গুলিকে ডিনামাইট দ্বারা বিধ্বস্ত করিয়া উহার মধ্য দিয়া রাস্তা তৈরী করা হইবে। রূপকভাবে নিলে অর্থ দাঁড়াইবেঃ শাসকবর্গের কর্তৃত্ব খর্ব হইয়া যাইবে। ‘জাবাল’ শব্দের এক অর্থ জাতির প্রধান, বড় জামায়াত, (মুফরাদাত, মুনজেদ ও লেইন)।

وَاِذَا الۡعِشَارُ عُطِّلَتۡ ۪ۙ﴿۵﴾

৫
এবং যখন দশ মাসের গর্ভবতী উটনীগুলি বেকার পরিত্যক্ত হইবে,৩২৬৪
৩২৬৪। ‘উশারা’ শব্দের বহুবচন ‘ইশার’। ‘উশারা’ মানে দশ মাসের গর্ভবতী উষ্ট্রী। ‘ইশার’ বলিতে ঐ সকল উষ্ট্রীকে বুঝায় যাহারা এখনও বাচ্চা প্রসব করে নাই কিংবা যাহারা আসন্ন-প্রসবা (মুফরাদাত, লেইন)। আয়াতটির অর্থঃ যখন আরবের মত মরু দেশে পর্যন্ত উট্‌নীর কোন মূল্য বা প্রয়োজনীয়তা থাকিবে না। ইহা এই কথার প্রতি ইঙ্গিত করিয়াছে যে, যান-বাহনরূপে উটের ব্যবহার উঠিয়া যাইবে এবং উন্নত ও দ্রুতগতি সম্পন্ন যান-বাহন,মোটর গাড়ী, রেলগাড়ী, জাহাজ, এরোপ্লেন ইত্যাদি ইহার স্থান দখল করিয়া লইবে। রসূল করীম (সাঃ)-এর একটি হাদীসে উটের যায়গায় অন্য যান-বাহন ব্যবহারের স্পষ্ট ভবিষ্যদ্বাণী রহিয়াছেঃ ‘উটেরা পরিত্যক্ত হইবে এবং একস্থান হইতে অন্যস্থানে যাইবার জন্য ব্যবহৃত হইবে না’ (মুসলিম)।

وَاِذَا الۡوُحُوۡشُ حُشِرَتۡ ۪ۙ﴿۶﴾

৬
এবং যখন বন্যজন্তুগুলিকে সমবেত করা হইবে,৩২৬৫
৩২৬৫। ‘হুশিরা’ মূল শব্দের বিভিন্ন অর্থ রহিয়াছে (মুফরাদাত, মুনজেদ ও লেইন)। এই প্রেক্ষিতে, আয়াতটির অর্থ দাঁড়ায়ঃ যখন জন্তু-জানোয়ার ও পশুপাখীকে চিড়িয়াখানায় একত্রিত করা হইবে; অথবা যখন আদিবাসী লোকদিগকে ছত্রভঙ্গ বিচ্ছিন্ন অবস্থা হইতে আনিয়া নাগরিক সম্প্রদায়রূপে সংগঠিত করা হইবে, অথবা যখন তাহারা দলবদ্ধ হইয়া স্বীয় মাতৃভূমি ত্যাগ করিতে বাধ্য হইবে।

وَاِذَا الۡبِحَارُ سُجِّرَتۡ ۪ۙ﴿۷﴾

৭
এবং যখন নদীসমূহকে শুকাইয়া দেওয়া হইবে,৩২৬৬
৩২৬৬। আয়াতের অর্থঃ যখন সেচ কার্য বা বিদ্যুৎ উৎপাদন ইত্যাদির জন্য নদী হইতে পানি অন্যদিকে প্রবাহিত করা হইবে; অথবা সমুদ্র-যুদ্ধে যখন বিরাট বিরাট জাহাজে আগুন লাগিয়া মনে হইবে সমুদ্রে আগুন লাগিয়া গিয়াছে; অথবা খাল কাটিয়া বিশাল সমুদ্রগুলিকে সংযুক্ত করা হইবে; অথবা গ্রাম-গ্রামান্তর হইতে মানুষ সরিয়া আসিয়া শহরগুলিকে অতিরিক্ত জন-সংখ্যার চাপে ভারাক্রান্ত করিয়া ফেলিবে। ‘সুজ্জেরা’ শব্দটির মধ্যে এই সব অর্থই রহিয়াছে (মুফরাদাত, মুনজেদ ও লেইন)।

وَاِذَا النُّفُوۡسُ زُوِّجَتۡ ۪ۙ﴿۸﴾

৮
এবং যখন (বিভিন্ন জাতির) লোকদিগকে একত্রিত করা হইবে,৩২৬৭
৩২৬৭। যখন যোগাযোগ ও যাতায়াত ব্যবস্থা এতদূর উন্নত হইবে যে, অতিশয় দূরদূরান্তরের ভিন্ন ভিন্ন জাতির লোক পরস্পরের মধ্যে সহজে ও স্বল্প সময়ে যোগাযোগ ও আদান-প্রদানের সুযোগ লাভ করিবে এবং এই সুবাদে আন্তর্জাতিক সংস্থা স্থাপনের মাধ্যমে একই জাতির লোকের মত একত্রিত হইবে। এই আয়াতের অন্য তাৎপর্যঃ বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মতবাদের লোক সমমনাদের লইয়া দল সৃষ্টি করিবে।

وَاِذَا الۡمَوۡءٗدَۃُ سُئِلَتۡ ۪ۙ﴿۹﴾

৯
এবং যখন জীবন্ত সমাধিস্থ বালিকা সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করা হইবে—

بِاَیِّ ذَنۡۢبٍ قُتِلَتۡ ۚ﴿۱۰﴾

১০
কি অপরাধে তাহাকে হত্যা করা হইয়াছে?—৩২৬৮
৩২৬৮। কিশোরীদেরকে পোড়াইয়া মারা বা জীবন্ত অবস্থায় কবরে পুঁতিয়া রাখা ইত্যাদি অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ড দানের আইন রচিত হইবে।