৭৫

القيامة

সূরা আল্ কিয়ামা

Al-Qiyamah

মক্কী ৪১ আয়াত ২ রুকু পারা ২৯

ইহা মক্কায় অবতীর্ণ, বিসমিল্লাহ্‌সহ ইহাতে ৪১ আয়াত এবং ২ রুকু আছে।

بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ ﴿۱﴾

১
আল্লাহ্‌র নামে, যিনি অযাচিত-অসীম দাতা, পরম দয়াময়।৩১৭৫
৩১৭৫। ১ঃ১ দেখুন।

لَاۤ اُقۡسِمُ بِیَوۡمِ الۡقِیٰمَۃِ ۙ﴿۲﴾

২
না,৩১৭৬ আমি কিয়ামত দিবসের কসম খাইতেছি।
৩১৭৬। এখানে এই ‘লা’ শব্দটির তাৎপর্য হইল, ‘তাহারা যেরূপ মনে করে, বিষয়টা সেরূপ নহে।’ সময় সময় ‘লা’ শব্দটি আপত্তি খণ্ডনের জন্য ব্যাবহৃত হয় অথবা পূর্বে যাহা হইয়াছে অথবা ভবিষ্যতে যাহা হইবে তাহা প্রত্যাখ্যান করার উদ্দেশ্যে ব্যাবহৃত হয় (মুফরাদাত, লেইন)।

وَلَاۤ اُقۡسِمُ بِالنَّفۡسِ اللَّوَّامَۃِ ؕ﴿۳﴾

৩
পুনরায় (বলিতেছি) না, আমি পুনঃপুনঃ ভর্ৎসনাকারী আত্মার৩১৭৭ কসম খাইতেছি, (যে কিয়ামত দিবস অবশ্যম্ভাবী)।
৩১৭৭। মানুষের আধ্যাত্মিক উন্নতির তিনটি বড় বড় স্তর রহিয়াছে বলিয়া কুরআন উল্লেখ করিয়াছে। প্রথম স্তরটিকে বলা হইয়াছে ‘নফসে আম্মারা’ বা মন্দকাজের আদেশ প্রদানে তৎপর আত্মার স্তর। এই স্তরে মানুষের পাশবিক বা জৈবিক শক্তির প্রাধান্য থাকে। দ্বিতীয় স্তরটি হইল ‘নফসে লাউওয়ামা’র স্তর বা ভর্ৎসনাকারী আত্মার স্তর। এই স্তরে মানুষের জাগ্রত বিবেক মন্দ কাজের জন্য তাহাকে ভর্ৎসনা করে এবং তাহার পাশবিক ইন্দ্রিয়-সমূহসহ মানসিক ক্ষুধাগুলিকে পরাভূত করে। ইহাই তাহার নৈতিক পুনরুত্থানের ধাপ। আর সেজন্যই এই পুনরুদ্ধার বা পুনরুত্থানকে কিয়ামত বা সর্বশেষ পুনরুত্থানের সাক্ষীরূপে এখানে পেশ করা হইয়াছে। যদি কোন দায়িত্বই না থাকে এবং পরবর্তী জীবনে যদি তাহার কার্যাবলীর হিসাব দিতে না হয়, তাহা হইলে মন্দ কাজ করিয়া সে বিবেকের তাড়না খায় কেন? আধ্যাত্মিক তৃতীয় বা সর্বোচ্চ স্তর হইল ‘নফসে মুৎমায়িন্নাহ্’ (শান্তি-প্রাপ্ত আত্মা)। এই স্তরে পৌঁছিয়া আত্মা সম্পূর্ণ প্রশান্তি লাভ করে। ভুলভ্রান্তি ও পাপাসক্তি হইতে সম্পূর্ণ মুক্ত হইয়া সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছার সহিত তাহার ইচ্ছা একাকার হইয়া যায়।

اَیَحۡسَبُ الۡاِنۡسَانُ اَلَّنۡ نَّجۡمَعَ عِظَامَہٗ ؕ﴿۴﴾

৪
মানুষ কি ধারণা করে যে, আমরা তাহার অস্থিসমূহকে কখনও একত্রিত করিব না?

بَلٰی قٰدِرِیۡنَ عَلٰۤی اَنۡ نُّسَوِّیَ بَنَانَہٗ ﴿۵﴾

৫
না, বরং আমরা তাহার আঙ্গুলের অগ্রভাগগুলিকেও পুনর্বিন্যস্ত করিতে সক্ষম।৩১৭৮
৩১৭৮। ‘বানান’ (আঙ্গুলের অগ্রভাগ) বলিতে, মানুষের দেহ, অঙ্গ-প্রতঙ্গ ও সকল প্রকার শক্তি-সামর্থ্যকেই বুঝাইয়াছে। কেননা, আঙ্গুলের সাহায্যে মানুষ প্রয়োজনীয় বস্তু ধরে এবং প্রয়োজনে আত্মরক্ষার কাজ করে। শব্দটি দ্বারা মানুষের সর্বাঙ্গকেও বুঝাইতে পারে, কারণ অনেক সময় বস্তুর অংশ দ্বারা সমস্ত বস্তুটাই বুঝায় (যেমন ‘এবার মাথা-গণনা হইবে’ বাক্যে মাথা অর্থ মানুষ)। আয়াতটির তাৎপর্য হইলঃ আল্লাহ্ একটা মানুষের বা একটা জাতির মৃত্যু ও ধ্বংসের পরেও তাহাকে বা সেই জাতিকে সকল শক্তিনিচয়সহ পুনরুজ্জীবনের পূর্ণ সামর্থ্য রাখেন।

بَلۡ یُرِیۡدُ الۡاِنۡسَانُ لِیَفۡجُرَ اَمَامَہٗ ۚ﴿۶﴾

৬
তথাপি মানুষ অনবরত তাহার সম্মুখে পাপাচারে লিপ্ত থাকিতে চাহে।

یَسۡـَٔلُ اَیَّانَ یَوۡمُ الۡقِیٰمَۃِ ؕ﴿۷﴾

৭
সে জিজ্ঞাসা করে, ‘কিয়ামতের দিন কখন হইবে?’

فَاِذَا بَرِقَ الۡبَصَرُ ۙ﴿۸﴾

৮
অতএব যখন চক্ষু ঝল্‌সাইয়া যাইবে,

وَخَسَفَ الۡقَمَرُ ۙ﴿۹﴾

৯
এবং চন্দ্রে গ্রহণ লাগিবে,

وَجُمِعَ الشَّمۡسُ وَالۡقَمَرُ ۙ﴿۱۰﴾

১০
এবং সূর্য এবং চন্দ্র উভয়কে (গ্রহণে) একত্রিত করা হইবে,৩১৭৯
৩১৭৯। ‘সূর্য ও চন্দ্রকে একত্রিত করা হইবে’—এই বাক্যটি দ্বারা ‘সৌরজগতের মহা বিপর্যয় ঘটিবে’; বুঝাইতে পারে। আয়াতটির অন্য অর্থ হইতে পারে এইঃ আরব ও ইরান সাম্রাজ্যের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা বিলুপ্ত হইবে; কারণ ‘চন্দ্র’ হইল আরব জাতির ক্ষমতার প্রতীক এবং ‘সূর্য’ ইরানের ক্ষমতার প্রতীক। ইহা ছাড়াও আয়াতটির অন্য অর্থ হইতে পারে। মহানবী (সাঃ)-এর একটি হাদীসে ভবিষ্যদ্বাণী রহিয়াছে যে, প্রতিশ্রুত ইমাম মাহদীর আগমনের সময় তাঁহার সত্যতার চিহ্নস্বরূপ একই রমযান মাসে চন্দ্রগ্রহণ ও সূর্যগ্রহণ হইবে। (বায়হাকী, দারকুৎনী) যদিও ইহা প্রাকৃতিক নিয়মেই ঘটিবে, তথাপি ইহাতে অস্বাভাবিকতাও পরিলক্ষিত হইবে।এই আয়াতটিতে উপরোক্ত হাদীসের ঘটনার প্রতিও ঈঙ্গিত থাকিতে পারে। আশ্চর্যের ব্যাপার, ১৮৯৪ খৃষ্টীয় সনের রমযান মাসে এই চন্দ্র ও সূর্যগ্রহণ সংঘটিত হয়।