القيامة
Al-Qiyamah
ইহা মক্কায় অবতীর্ণ, বিসমিল্লাহ্সহ ইহাতে ৪১ আয়াত এবং ২ রুকু আছে।
অবতীর্ণ হওয়ার সময়, প্রসঙ্গ ও বিষয়-বস্তু
এই সূরাটির নামকরণ করা হইয়াছে কিয়ামা বা পুনরুত্থান, কেননা পুনরুত্থান সম্বন্ধীয় বিষয়াবলীই এই সূরাতে আলোচিত হইয়াছে। এই সূরাটি নিশ্চয়ই নবুওয়াতের প্রারম্ভিক কালের একটি মক্কী সূরা, কেননা মক্কী সূরাগুলিই সুনির্দিষ্টভাবে আল্লাহ্র একত্ব, পুনরুত্থান ও ওহী-ইলহাম নিয়া আলোচনা করিয়াছে। পূর্ববর্তী সূরার শেষভাগে অত্যন্ত দৃঢ়তার সহিত ঘোষণা করা হইয়াছে যে, যাহারা কুরআনের বাণীকে গ্রহণ করিবে, তাহারা এতই উন্নতি করিবে যে, পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ও শক্তিশালী জাতিসমূহের মধ্যে তাহারা সর্বোত্তম মর্যাদার স্থান লাভ করিবে। এই সূরাটি পুনরুত্থান-বিষয় আলোচনা দ্বারা শুরু হইয়াছে এবং স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত করিতেছে যে, কুরআনের উচ্চাঙ্গীন শিক্ষা ও মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর পুণ্যময় সাহচর্য ও পবিত্রকারী আদর্শ নীতিবিচ্যুত ও অধঃপতিত আরব জাতিকে উচ্চ নীতিমালার উপর প্রতিষ্ঠিত করিয়া তাহাদের নৈতিক উত্থান ঘটাইবে।
সূরার প্রথমে শপথপূর্বক বলা হইয়াছে যে, পুনরুত্থান নিশ্চয়ই সংঘটিত হইবে এবং এই শপথের স্বপক্ষে মানুষের আধ্যাত্মিক পুনর্জাগরণকে সাক্ষীস্বরূপ পেশ করা হইয়াছে। অতিরিক্ত প্রমাণরূপে ‘নাফসে লাউওয়ামা’র শপথ নেওয়া হইয়াছে। ‘নাফসে লাউয়ামা’র অর্থ ভর্ৎসনাকারী আত্মা, যাহার বদৌলতে মন্দ কাজের জন্য হৃদয়ে অনুতাপ জন্মে। অনুশোচনার ফলে মানুষের নৈতিক উন্নতির উন্মেষ ঘটে। নৈতিক উন্নতির ইহাই প্রথম স্তর। অতঃপর সূরাটি অবিশ্বাসীদের একটি পুনঃ পুনঃ জিজ্ঞাসিত প্রশ্নের উল্লেখ করিয়াছে। তাহাদের প্রশ্নটি হইল—মানুষ যখন মৃত্যুর পর একেবারে মাটিতে মিশিয়া মাটি হইয়া যাইবে, তখন তাহারা আবার জীবন লাভ করিবে কিরূপে? এই আপত্তির উত্তরে বলা হইয়াছে যে, মানুষ মনে-প্রাণে এই কথা জানে যে, পাপ ও অপকর্মের শাস্তি না হইয়া পারে না। অতএব প্রত্যেকের কাজের জবাবদিহির জন্য একটি দিন থাকিতে হইবে, যেদিন তাহাদিগকে নিজ নিজ কাজের হিসাব দিতে হইবে। এই প্রসঙ্গে, কুরআনের বাণীসমূহের (পুস্তকাকারে) সম্পূর্ণভাবে সংগৃহীত হওয়া ও ঐশীভাবে অবিকল অবস্থায় ইহার সংরক্ষণ-কর্মকেও যুক্তিরূপে পেশ করা হইয়াছে। যেহেতু, অন্যান্য সকল ধর্মগ্রন্থ অপেক্ষা কুরআনই পুনরুত্থানের নিশ্চয়তার উপর অধিক গুরুত্ব আরোপ করিয়াছে, সেইহেতু কুরআনকে পূর্ণাকারে সংরক্ষণও করা হইয়াছে । তৎপর মানুষের মৃত্যুকালীন মনোকষ্টের একটি করুণ চিত্র তুলিয়া ধরিয়া, মৃত্যু হইতে বাঁচিবার অদম্য আকুতি চিত্রিত হইয়াছে। ইহাতে বুঝা যায়, মৃত্যুকালে মানুষের মনে এই ভয় প্রকট হইয়া উঠে যে, তাহাকে এখন কাজের হিসাব দিতে হইবে। সূরার শেষ দিকে অবিশ্বাসীদিগকে ভর্ৎসনার সুরে উপদেশ দেওয়া হইয়াছে যে, মানুষকে উদ্দেশ্যহীনভাবে সৃষ্টি করা হয় নাই। তাহাকে দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের জন্য সৃষ্টি করা হইয়াছে। সেই উদ্দেশ্য ও দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার জন্য তাহাকে নিশ্চয়ই জবাব দিতে হইবে। অবিশ্বাসীগণকে আরো স্মরণ করাইয়া দেওয়া হইয়াছে যে, মানুষের দৈহিক গঠন ও অবয়ব একটিমাত্র নগণ্য শুক্রবিন্দু হইতে সম্পন্ন হইয়াছে। ইহাতেই সে পূর্ণাকৃতির মানুষ হইয়াছে, অসীম শক্তি ও ক্ষমতাসমূহে ভূষিত হইয়াছে এবং অগণিত গুণাবলী দ্বারা অলঙ্কৃত হইয়াছে। ইহা দ্বারা অবিসংবাদিতরীপে বুঝা যায়, মানব-জীবন এক মহান উদ্দেশ্য পূরণের জন্য অস্তিত্বে আসিয়াছে। অতএব, দেহরূপ তাঁবু হইতে আত্মার প্রস্থানের সাথে সাথেই ইহার যাত্রা শেষ হইতে পারে না।
بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ ﴿۱﴾
لَاۤ اُقۡسِمُ بِیَوۡمِ الۡقِیٰمَۃِ ۙ﴿۲﴾
وَلَاۤ اُقۡسِمُ بِالنَّفۡسِ اللَّوَّامَۃِ ؕ﴿۳﴾
اَیَحۡسَبُ الۡاِنۡسَانُ اَلَّنۡ نَّجۡمَعَ عِظَامَہٗ ؕ﴿۴﴾
بَلٰی قٰدِرِیۡنَ عَلٰۤی اَنۡ نُّسَوِّیَ بَنَانَہٗ ﴿۵﴾
بَلۡ یُرِیۡدُ الۡاِنۡسَانُ لِیَفۡجُرَ اَمَامَہٗ ۚ﴿۶﴾
وَجُمِعَ الشَّمۡسُ وَالۡقَمَرُ ۙ﴿۱۰﴾