৪

النساء

সূরা আন্‌-নিসা

An-Nisa'

মাদানী ১৭৭ আয়াত ২৪ রুকু পারা ৪–৬

ইহা মদীনায় অবতীর্ণ, বিসমিল্লাহ্‌সহ ইহাতে ১৭৭ আয়াত এবং ২৪ রুকু আছে।

وَاِنۡ اَرَدۡتُّمُ اسۡتِبۡدَالَ زَوۡجٍ مَّکَانَ زَوۡجٍ ۙ وَّاٰتَیۡتُمۡ اِحۡدٰہُنَّ قِنۡطَارًا فَلَا تَاۡخُذُوۡا مِنۡہُ شَیۡئًا ؕ اَتَاۡخُذُوۡنَہٗ بُہۡتَانًا وَّاِثۡمًا مُّبِیۡنًا ﴿۲۱﴾

২১
এবং যদি তোমরা এক স্ত্রীর পরিবর্তে অন্য স্ত্রী গ্রহণ করিতে মনস্থ কর এবং তাহাদের কাহাকেও প্রচুর সম্পদ৫৮২ দিয়া থাক, তথাপি উহা হইতে কিছুই (ফিরাইয়া) লইও না। তোমরা কি অপবাদ দিয়া ও প্রকাশ্য পাপাচার করিয়া উহা ফিরাইয়া লইবে?
৫৮২। যদি বিশেষ কারণে কোনও ব্যক্তি এক স্ত্রীকে ত্যাগ করিয়া, অন্য কাহাকেও বিবাহ করিতে চায়, তাহা হইলে, সে ঐ স্ত্রীকে যাহা কিছু দিয়াছিল তাহা আর্থিক পরিমানে যত বেশীই হউক না কেন, ফেরত চাহিতে পারিবে না।

وَکَیۡفَ تَاۡخُذُوۡنَہٗ وَقَدۡ اَفۡضٰی بَعۡضُکُمۡ اِلٰی بَعۡضٍ وَّاَخَذۡنَ مِنۡکُمۡ مِّیۡثَاقًا غَلِیۡظًا ﴿۲۲﴾

২২
এবং কিভাবে তোমরা ইহা গ্রহণ করিতে পার যখন তোমরা একে অপরের সহিত মেলা মেশা করিয়াছ৫৮৩ এবং তাহারা (স্ত্রীগণ) তোমাদের নিকট হইতে সুদৃঢ় অঙ্গীকার৫৮৪ লইয়াছে?
৫৮৩। এই কথা দ্বারা প্রথমে মনে হয় স্বামী-স্ত্রীর যৌন-মিলনের কথাই বলা হইয়াছে, তবে তাহা না-ও হইতে পারে। তাহারা কাছাকাছি বসবাস করিয়া থাকিতে পারে, একান্তে ও নিভৃতে অন্তরঙ্গতার সহিত ভাব-বিনিময় করিয়া থাকিতে পারে। এই আয়াত অনুযায়ী, কোনও ব্যক্তি স্ত্রীকে টাকাকড়ি, সম্পত্তি ও উপহারাদি যাহা কিছু দিয়াছে, তাহা স্ত্রী হইতে ফেরত লইতে পারে না, যদিও সে স্ত্রী-সহবাস করে নাই।
৫৮৪। স্ত্রীগণ স্বামীদের খেয়ালীপনা ও যদৃচ্ছা ব্যবহারের পাত্রী নহেন। উভয়ই পবিত্র চুক্তি-নামা দ্বারা বাঁধা। স্ত্রীর প্রতি স্বামীর বিরাট দায়িত্ব ও কর্তব্য রহিয়াছে, যাহা সম্পাদন করা একান্তভাবে প্রয়োজনীয়। তাহাদের পরস্পরের সামাজিক অধিকার ও মর্যাদা বলিতে গেলে সমান। পুরুষদিগকে এখানে কড়াভাবে সতর্ক করিয়া দেওয়া হইয়াছে, তাহারা যেন তাহাদের ঐ পবিত্র বিবাহ-চুক্তিকে লঘু করিয়া না দেখে, যাহা দ্বারা তাহারা তাহাদের স্ত্রীর সহিত বিবাহ-বন্ধনে আবদ্ধ হইয়াছে।

وَلَا تَنۡکِحُوۡا مَا نَکَحَ اٰبَآؤُکُمۡ مِّنَ النِّسَآءِ اِلَّا مَا قَدۡ سَلَفَ ؕ اِنَّہٗ کَانَ فَاحِشَۃً وَّمَقۡتًا ؕ وَسَآءَ سَبِیۡلًا ﴿٪۲۳﴾

২৩
এবং নারীদের মধ্য হইতে যাহাদিগকে তোমাদের পিতৃপুরুষগণ বিবাহ করিয়াছে, তোমরা তাহাদিগকে বিবাহ করিও না, তবে পূর্বে যাহা হইয়াছে উহা ব্যতীত;৫৮৫ নিশ্চয় ইহা অশ্লীল এবং ঘৃণ্য এবং একটি নিকৃষ্ট প্রথা।
সূরা আন্‌-নিসা - রুকু ৩
৫৮৫। এই শব্দগুলি দ্বারা এই কথা বুঝায় না যে, পূর্বে বিমাতাকে বা দুই ভগ্নীকে যাহারা বিবাহ করিয়াছে, তাহাদিগকে এই আয়াত নাযেলের পরেও স্ত্রী হিসাবে রাখিতে পারিবে। এই শব্দগুলি দ্বারা কেবল এতটুকুই বুঝানো হইয়াছে যে, পূর্বে এইরূপ কাজ করিয়া যাহারা ভুল করিয়াছে, তাহারা যদি এখন সেই ভুল সংশোধন করিয়া লয়, তাহা হইলে পূর্বকৃত অন্যায় কাজের জন্য তাহাদের কোন ক্ষতি হইবে না। অতীতের ভুল মাফ করা হইবে, তবে বেআইনী বিবাহগুলি সাথে সাথেই রদ করিতে হইবে। ঐগুলি আর এক মুহূর্তও কার্যকর ও বলবৎ থাকিবে না।

حُرِّمَتۡ عَلَیۡکُمۡ اُمَّہٰتُکُمۡ وَبَنٰتُکُمۡ وَاَخَوٰتُکُمۡ وَعَمّٰتُکُمۡ وَخٰلٰتُکُمۡ وَبَنٰتُ الۡاَخِ وَبَنٰتُ الۡاُخۡتِ وَاُمَّہٰتُکُمُ الّٰتِیۡۤ اَرۡضَعۡنَکُمۡ وَاَخَوٰتُکُمۡ مِّنَ الرَّضَاعَۃِ وَاُمَّہٰتُ نِسَآئِکُمۡ وَرَبَآئِبُکُمُ الّٰتِیۡ فِیۡ حُجُوۡرِکُمۡ مِّنۡ نِّسَآئِکُمُ الّٰتِیۡ دَخَلۡتُمۡ بِہِنَّ ۫ فَاِنۡ لَّمۡ تَکُوۡنُوۡا دَخَلۡتُمۡ بِہِنَّ فَلَا جُنَاحَ عَلَیۡکُمۡ ۫ وَحَلَآئِلُ اَبۡنَآئِکُمُ الَّذِیۡنَ مِنۡ اَصۡلَابِکُمۡ ۙ وَاَنۡ تَجۡمَعُوۡا بَیۡنَ الۡاُخۡتَیۡنِ اِلَّا مَا قَدۡ سَلَفَ ؕ اِنَّ اللّٰہَ کَانَ غَفُوۡرًا رَّحِیۡمًا ﴿ۙ۲۴﴾

২৪
তোমাদের উপর হারাম করা হইল, তোমাদের মাতা৫৮৬ এবং তোমাদের কন্যা এবং তোমাদের ভগ্নী এবং তোমাদের ফুফু এবং তোমাদের খালা এবং ভ্রাতুষ্পুত্রী এবং ভাগিনেয়ী এবং তোমাদের দুধ-মাতা যাহারা তোমাদিগকে দুধ পান করাইয়াছে৫৮৭ এবং তোমাদের দুধ-বোন এবং তোমাদের স্ত্রীদের মাতা এবং তোমাদের কোলে লালিত পালিত তোমাদের সৎ-কন্যা যাহারা তোমাদের সেই স্ত্রীদের গর্ভজাত যাহাদের সহিত তোমরা উপগত হইয়াছ— কিন্তু যদি তোমরা তাহাদের সহিত উপগত, না হইয়া থাক তাহা হইলে তোমাদের উপর কোন পাপ বর্তিবে না– এবং তোমাদের ঔরসজাত পুত্রের বধু এবং ইহাও যে, তোমরা দুই ভগ্নীকে (বিবাহ দ্বারা) একত্র কর, কিন্তু যাহা পূর্বে হইয়াছে উহা ব্যতীত; নিশ্চয় আল্লাহ্ অতীব ক্ষমাশীল, পরম দয়াময়।
৫৮৬। হযরত নবী করীম (সাঃ) বলিয়াছেন, “আপন মাতার যে সব আত্মীয়ের সাথে বিবাহ নিষিদ্ধ, দুধ-মাতার ঐ সব আত্মীয়ের সাথেও নিষিদ্ধ, অর্থাৎ দুধ-মাতার ভগ্নী, কন্যা প্রভৃতি বিবাহ করা নিষিদ্ধ”।
৫৮৭। ফেকাহ্‌বিদগণ এই বিষয়ে বিভিন্ন মত পোষণ করেন যে, কতবার, কতদিন, কি পরিমাণ স্তন্যপান করিলে এই নিষেধাজ্ঞা বিবাহ ক্ষেত্রে কার্যকর বিবেচিত হইবে।

وَّالۡمُحۡصَنٰتُ مِنَ النِّسَآءِ اِلَّا مَا مَلَکَتۡ اَیۡمَانُکُمۡ ۚ کِتٰبَ اللّٰہِ عَلَیۡکُمۡ ۚ وَاُحِلَّ لَکُمۡ مَّا وَرَآءَ ذٰلِکُمۡ اَنۡ تَبۡتَغُوۡا بِاَمۡوَالِکُمۡ مُّحۡصِنِیۡنَ غَیۡرَ مُسٰفِحِیۡنَ ؕ فَمَا اسۡتَمۡتَعۡتُمۡ بِہٖ مِنۡہُنَّ فَاٰتُوۡہُنَّ اُجُوۡرَہُنَّ فَرِیۡضَۃً ؕ وَلَا جُنَاحَ عَلَیۡکُمۡ فِیۡمَا تَرٰضَیۡتُمۡ بِہٖ مِنۡۢ بَعۡدِ الۡفَرِیۡضَۃِ ؕ اِنَّ اللّٰہَ کَانَ عَلِیۡمًا حَکِیۡمًا ﴿۲۵﴾

২৫
এবং মহিলাদের মধ্য হইতে সধবা মহিলাগন৫৮৮ (তোমাদের উপর হারাম করা হইল),তাহারা ব্যতিরেকে যাহারা তোমাদের দক্ষিণ হস্তের অধিকারভুক্ত।৫৮৯ ইহা আল্লাহ্ কর্তৃক তোমাদের উপর বিধিবদ্ধ এবং উহারা (উপরে বর্ণিত মহিলাগণ) ব্যতিরেকে বাকী সকলকে তোমাদের জন্য বৈধ করা হইয়াছে, এইভাবে যে তোমরা আপন অর্থ দ্বারা পবিত্রতা রক্ষার্থে বিবাহ করিয়া তাহাদিগকে গ্রহণ কর, অবৈধ কাম চরিতার্থে নহে। অতএব, এই পন্থায় তাহাদের মধ্যে যাহাদের দ্বারা তোমরা উপকৃত হইয়াছ৫৯০ তাহাদিগকে তাহাদের নির্ধারিত দেন-মহর দাও; দেন-মহর নির্ধারণের পর কোন বিষয়ে তোমরা পরস্পর সম্মত হইলে তোমাদের উপর কোন পাপ বর্তিবে না। নিশ্চয় আল্লাহ্ সর্বজ্ঞানী, পরম প্রজ্ঞাময়।
৫৮৮। ‘মু্‌হ্‌সানাহ্‌’ শব্দের বহুবচন হইল ‘মুহ্‌সানাত’। ইহার অর্থ হইল, বিবাহিত মহিলা, স্বাধীনা স্ত্রীলোক, সতী-সাধ্বী নারী (লেইন)।
৫৮৯। একজন স্বাধীনা বিবাহিতা মহিলাকে, স্বামীর বর্তমানে, অন্য কেহ বিবাহ করিতে পারে না। কিন্তু যে স্ত্রীলোক ইসলাম ও মুসলমানের ধ্বংসকারী যুদ্ধে লিপ্ত হইয়া বন্দী হইয়াছে এবং স্বপক্ষের লোক তাহাকে মুক্ত করিতে আসে নাই, সেই বন্দিনী দাসীর ক্ষেত্রে, স্বাধীনা বিবাহিতা মহিলার আইন প্রযোজ্য হইবে না। স্বামী বা স্বজাতি তাহাকে মুক্ত না করায়, সে এখন সহায়-সম্বলহীন, তাহাকে বিবাহ দিয়া স্বামী ও সম্বল দান করা কর্তব্য। এই কারণে তাহাকে বিবাহ করিতে তাহার পূর্বস্বামীও তাহার সম্মতি ইত্যাদি বিবেচনার প্রয়োজন নাই। ‘মা মালাকাত আইমানুকুম’ এর তাৎপর্য এতটুকুই । এই যুদ্ধ-বন্দিনী মহিলারা যদি ইসলাম গ্রহণ করে এবং পূর্বের অমুসলমান স্বামীর কাছে যাইতে না চায়, তাহা হইলে মুসলমানের সাথে তাহাদের বিবাহ হইতে পরে। ৫৬১ টীকা দেখুন।
৫৯০। ‘তামাত্তা’আ বিল মারআতি’ অর্থ সে স্ত্রীলোকটি হইতে সাময়িক ভাবে উপকার পাইল। ‘ইস্‌তামতাআ বি কাযা, অর্থ সে ইহা দ্বারা দীর্ঘদিন উপকার পাইয়াছে। স্ত্রীলোকের সাথে অস্থায়ী সম্পর্ক অর্থে ইস্‌তাম্‌তার ব্যবহার, আরবী বাগ্‌ধারা, একেবারেই সমর্থন করে না (লিসান)। ইহা লক্ষ্যণীয় যে, যখন ‘তামাত্তু’ বিশেষ্যটি স্ত্রীলোকের সাথে অস্থায়ী সম্পর্ক বুঝাইয়া থাকে, সেই ক্ষেত্রে ইহার পরে ‘বা’ অব্যয়টিও ব্যবহৃত হয়, যেমন উপরের উদাহরণে দেখানো হইয়াছে। একজন আরব কবি বলিয়াছেন, “তামত্তা বিহা মা সা-আফাৎকা ওয়ালা তাকুন আলায়কা শাজান্‌ ফিল্‌ হাল্‌কি হীনা’তাবীনু”(হামাসাহ্)। অর্থাৎ “যতদিন পর্যন্ত স্ত্রীলোকটি সম্মত থাকে, ততদিন পর্যন্ত তাহার কাছ হইতে উপকৃত হও। কিন্তু সে যখন তোমার কাছ হইতে পৃথক হইয়া দূরে চলিয়া যায়, তখন এমন যেন না হয় যে, গলায় কাঁটা বিধার মত যন্ত্রণায় ভূগিতে থাক।” কিন্তু এই আয়াতে মেয়েলোক বুঝাইতে যে ‘হুন্না’ শব্দটি ব্যবহার করা হইয়াছে উহার সহিত (পূর্বে) ‘মিন’ অব্যয়টি ব্যবহৃত হইয়াছে। মুত্‌’আহ্‌র ব্যাপারে যে ভুলের উৎপত্তি হইয়াছে, তাহা দুইটি শব্দ ‘তামাত্তু’ ও ‘ইস্‌তিম্‌তা’হ্-এর প্রভেদ না বুঝার কারণেই হইয়াছে। লিসানের গ্রন্থকার যাজ্জাজের একটি উদ্ধৃতি দিয়াছেন, “আরবী ভাষার সঠিক জ্ঞান না থাকার কারণে, কিছু লোক মনে করিয়াছেন যে মুত্’আহ্ শরীয়াত-সিদ্ধ । কিন্তু ধর্ম বিশারদগণের ঐক্যমত ইহাই যে মুত্’আহ্ শরীয়াত-বিরুদ্ধ কাজ। ‘ফামাস্‌তাম্‌তা’ তুম্ বিহি মিন্‌হুন্না’র অর্থ উপরোক্ত শর্তগুলি পালনের মাধ্যমে বিবাহ। এই আয়াতে যদি মুত্’আহ্-এর কথাই বলা হইত, তাহা হইলে অব্যয়টি ‘মিন্’ না হইয়া ‘বা’ হইত। তদুপরি এখানে ‘ইস্‌তিম্‌তা’ শব্দ ব্যবহৃত হইয়াছে, ‘তামাত্তাআ’ শব্দ নহে; আর এই দুই শব্দের মধ্যে অর্থের প্রভেদ রহিয়াছে। ‘উজুরাহুন্না’ (তাহাদের মহরানা) শব্দটির ব্যবহার হইতেও মুত্’আহ্’র স্বপক্ষে কিছু উদ্‌গত হয় না। কুরআনের ৩৩ঃ৫১ আয়াতেও শব্দটি মহরানা অর্থে ব্যবহৃত হইয়াছে। অতএব, কুরআন মুত্’আহ্’কে নিশ্চিত ভাবে নিষেধ করিয়াছে, কেননা বিবাহ বন্ধন বহির্ভূত যৌন-মিলন কুরআন অনুযায়ী ব্যভিচার বৈ আর কিছু নহে।

وَمَنۡ لَّمۡ یَسۡتَطِعۡ مِنۡکُمۡ طَوۡلًا اَنۡ یَّنۡکِحَ الۡمُحۡصَنٰتِ الۡمُؤۡمِنٰتِ فَمِنۡ مَّا مَلَکَتۡ اَیۡمَانُکُمۡ مِّنۡ فَتَیٰتِکُمُ الۡمُؤۡمِنٰتِ ؕ وَاللّٰہُ اَعۡلَمُ بِاِیۡمَانِکُمۡ ؕ بَعۡضُکُمۡ مِّنۡۢ بَعۡضٍ ۚ فَانۡکِحُوۡہُنَّ بِاِذۡنِ اَہۡلِہِنَّ وَاٰتُوۡہُنَّ اُجُوۡرَہُنَّ بِالۡمَعۡرُوۡفِ مُحۡصَنٰتٍ غَیۡرَ مُسٰفِحٰتٍ وَّلَا مُتَّخِذٰتِ اَخۡدَانٍ ۚ فَاِذَاۤ اُحۡصِنَّ فَاِنۡ اَتَیۡنَ بِفَاحِشَۃٍ فَعَلَیۡہِنَّ نِصۡفُ مَا عَلَی الۡمُحۡصَنٰتِ مِنَ الۡعَذَابِ ؕ ذٰلِکَ لِمَنۡ خَشِیَ الۡعَنَتَ مِنۡکُمۡ ؕ وَاَنۡ تَصۡبِرُوۡا خَیۡرٌ لَّکُمۡ ؕ وَاللّٰہُ غَفُوۡرٌ رَّحِیۡمٌ ﴿٪۲۶﴾

২৬
এবং তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি স্বাধীন মো’মেন মহিলাগণকে বিবাহ করিবার সামর্থ্য না রাখে সে তোমাদের দক্ষিণহস্তের অধিকারভুক্ত তোমাদের মো’মেন দাসীদের৫৯১ মধ্য হইতে কাহাকেও বিবাহ করিবে। বস্তুতঃ আল্লাহ্ তোমাদের ঈমান সম্বন্ধে সর্বাপেক্ষা উত্তম জানেন, তোমরা একে অপর হইতে (উদ্ভূত), সুতরাং তোমরা তাহাদিগকে তাহাদের মালিকদের অনুমতিক্রমে বিবাহ কর এবং তাহাদিগকে ন্যায়-সঙ্গতভাবে তাহাদের দেন-মহর দাও, তাহাদের সতীত্ব রক্ষাকারিণী হওয়ার উদ্দেশ্যে, ব্যভিচারিণী হওয়ার উদ্দেশ্যেও নহে এবং গোপন বন্ধু গ্রহণকারিণীরূপেও৫৯১-ক নহে। অতঃপর, যখন তাহারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় তখন তাহারা অশ্লীলতায় লিপ্ত হইলে তাহাদের জন্য স্বাধীন নারীদের উপর যে শাস্তি উহার অর্ধেক।৫৯২ ইহা তোমাদের মধ্যে ঐ ব্যক্তির জন্য যে পাপকে ভয় করে। এবং যদি তোমরা ধৈর্য ধারণ কর তাহা হইলে ইহা তোমাদের জন্য উত্তম; বস্তুতঃ আল্লাহ্ অতীব ক্ষমাশীল, পরম দয়াময়।
সূরা আন্‌-নিসা - রুকু ৪
৫৯১। একজন বিশ্বাসী দাসীর মর্যাদাতে দোষের বা হীনতার কিছু আছে বলিয়া ইসলাম স্বীকার করে না। তবে, আত্মীয়-পরিজন-পরিবেশ ও সংসর্গের প্রভাবে, সে একজন স্বাধীন রমণীর মত সর্বগুণী সঙ্গিনী নাও হইতে পারে।
৫৯১-ক। ইহাতে বুঝা যায়, কেবল মাত্র সতী-সাধ্বী ও গুণবতী দাসীরাই বিবাহের যোগ্যতা রাখে। একবার বিবাহ হইয়া গেলে, তাহাদিগকেও স্বাধীনা স্ত্রীলোকের মতই ‘মহরানাদি’ দিতে হইবে।
৫৯২। এই আয়াত তিনটি শক্তিশালী নীতি নির্ধারণ করিয়া দিয়াছেঃ (১) বন্দী-দাসীকে স্ত্রীরূপে রাখিতে হইলে, প্রথমে তাহাকে রীতি মাফিক বিবাহ করিতে হইবে। ২ঃ২২২, ৪ঃ৪, এবং ২৪ঃ৩৩ আয়াতগুলিতেও তাহাই ব্যক্ত হইয়াছে। অতএব, ইসলাম উপ-পত্নী প্রথার মূলোৎপাটন করিয়াছে, যাহা ইসলাম-পূর্ব যুগে সর্বত্র, বিশেষতঃ আরব ভূমিতে প্রচলিত ছিল। (২) কৃতদাসী যদি অবৈধ যৌন অপরাধ করে, তবে তাহার শাস্তির পরিমাণ হইবে স্বাধীনা স্ত্রীলোকের অপরাধের শাস্তির অর্ধেক। স্বাধীনার জন্য এরূপ অপরাধের শাস্তি ১০০ বেত্রাঘাত আর কৃতদাসীর জন্য ৫০ বেত্রাঘাত। ইহাদ্বারা সাব্যস্ত হয় যে, প্রস্তরাঘাতে মৃত্যুদণ্ড প্রদান যৌন-অপরাধের শাস্তি নহে। ইহা এক ভ্রান্তি পূর্ণ ধারণা, কারণ মৃত্যুদণ্ডকে অর্ধেক রূপান্তর করা সম্ভব নহে। (৩) প্রসঙ্গতঃ আরব সমাজে স্বাধীনা স্ত্রী হইতে কৃতদাসী শ্রেণীর স্ত্রী, নিম্ন মর্যাদার অধিকারী ছিল। সম্ভবতঃ ইহার কারণ এই ছিল যে, কৃতদাসী ইসলামী রাষ্ট্র ধ্বংসের যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করিয়াছিল।

یُرِیۡدُ اللّٰہُ لِیُبَیِّنَ لَکُمۡ وَیَہۡدِیَکُمۡ سُنَنَ الَّذِیۡنَ مِنۡ قَبۡلِکُمۡ وَیَتُوۡبَ عَلَیۡکُمۡ ؕ وَاللّٰہُ عَلِیۡمٌ حَکِیۡمٌ ﴿۲۷﴾

২৭
আল্লাহ্ তোমাদিগকে বিশদভাবে বর্ণনা করিয়া দিতে এবং তোমাদিগকে তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের পথসমূহ দেখাইয়া দিতে এবং তোমাদের প্রতি সদয় দৃষ্টিপাত করিতে চাহেন। এবং আল্লাহ্ সর্বজ্ঞানী, পরম প্রজ্ঞাময়।

وَاللّٰہُ یُرِیۡدُ اَنۡ یَّتُوۡبَ عَلَیۡکُمۡ ۟ وَیُرِیۡدُ الَّذِیۡنَ یَتَّبِعُوۡنَ الشَّہَوٰتِ اَنۡ تَمِیۡلُوۡا مَیۡلًا عَظِیۡمًا ﴿۲۸﴾

২৮
বস্তুতঃ আল্লাহ্ তোমাদের প্রতি সদয় দৃষ্টিপাত করিতে চাহেন, কিন্তু যাহারা কু-প্রবৃত্তির অনুসরণ করে তাহারা চাহে যেন তোমরা (গর্হিত কাজের দিকে) একান্তভাবে ঝুঁকিয়া পড়।

یُرِیۡدُ اللّٰہُ اَنۡ یُّخَفِّفَ عَنۡکُمۡ ۚ وَخُلِقَ الۡاِنۡسَانُ ضَعِیۡفًا ﴿۲۹﴾

২৯
আল্লাহ্ তোমাদের বোঝা লাঘব করিতে চাহেন, কারণ মানুষকে দুর্বল করিয়া সৃষ্টি করা হইয়াছে।৫৯৩
৫৯৩। আল্লাহ্ এই কারণে শরীয়াত পাঠাইয়াছেন যাহাতে মানুষ সঠিক পথ প্রাপ্ত হয় এবং আধ্যাত্মিক উন্নতি লাভ করিতে পারে। মানুষ দুর্বল। সে নিজে নিজে আধ্যাত্মিক পথের সন্ধান পাইতে পারে না বলিয়া, আল্লাহ্ দয়া পরবশ হইয়া স্বয়ং এই ব্যবস্থা করিয়াছেন, এবং তাহার দায়িত্বের লাঘব করিয়াছেন। এই আয়াত খৃষ্ট-ধর্মের প্রায়শ্চিত্তবাদের অযৌক্তিকতা সাব্যস্ত করে। খৃষ্টানরা বলে যে, মানুষ দুর্বল,অতএব শরীয়াত বা ধর্মীয় আইন-পালন তাহাদের দ্বারা সম্ভব নয়। তাই তাহারা শরীয়াত বাতিল করিয়া প্রায়শ্চিত্তকেই মুক্তির পথ হিসাবে গ্রহণ করিয়াছে। অপর দিকে ইসলাম বলে, মানুষের এই দুর্বলতা আল্লাহ্‌র করুণা আকর্ষণ করিয়াছে এবং আল্লাহ্‌তা’লা দুর্বল মানুষের উদ্ধারের উপায় হিসাবে শরীয়াত দান করিয়াছেন যাহাতে শরীয়াতের সিঁড়ি বাহিয়া মানুষ আধ্যাত্মিক উন্নতি করিতে করিতে স্বীয় অভীষ্ট গন্তব্যে পৌঁছয়া যায়। অতএব, শরীয়াত ‘অভিশাপ’ তো নয়ই, বরং মানুষের জন্য পরম সাহায্য ও আশীর্বাদ স্বরূপ।

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَا تَاۡکُلُوۡۤا اَمۡوَالَکُمۡ بَیۡنَکُمۡ بِالۡبَاطِلِ اِلَّاۤ اَنۡ تَکُوۡنَ تِجَارَۃً عَنۡ تَرَاضٍ مِّنۡکُمۡ ۟ وَلَا تَقۡتُلُوۡۤا اَنۡفُسَکُمۡ ؕ اِنَّ اللّٰہَ کَانَ بِکُمۡ رَحِیۡمًا ﴿۳۰﴾

৩০
হে যাহারা ঈমান আনিয়াছ! তোমরা তোমাদের ধন-সম্পদ পরস্পরের মধ্যে অন্যায়ভাবে খাইও না, কিন্তু যদি উহা তোমাদের পরস্পরের সম্মতিক্রমে ব্যবসার মাধ্যমে অর্জিত হইয়া থাকে তাহা হইলে স্বতন্ত্র। এবং তোমরা নিজদিগকে হত্যা করিও না। নিশ্চয় আল্লাহ্ তোমাদের প্রতি পরম দয়াময়।