৪

النساء

সূরা আন্‌-নিসা

An-Nisa'

মাদানী ১৭৭ আয়াত ২৪ রুকু পারা ৪–৬

ইহা মদীনায় অবতীর্ণ, বিসমিল্লাহ্‌সহ ইহাতে ১৭৭ আয়াত এবং ২৪ রুকু আছে।

اِنَّ الَّذِیۡنَ یَاۡکُلُوۡنَ اَمۡوَالَ الۡیَتٰمٰی ظُلۡمًا اِنَّمَا یَاۡکُلُوۡنَ فِیۡ بُطُوۡنِہِمۡ نَارًا ؕ وَسَیَصۡلَوۡنَ سَعِیۡرًا ﴿٪۱۱﴾

১১
নিশ্চয় যাহারা যুলুম করিয়া এতীমগণের ধন-সম্পদ ভক্ষণ করে, তাহারা তাহাদের উদরে কেবল অগ্নি ভক্ষণ করে এবং অচিরেই তাহারা লেলিহান শিখা বিশিষ্ট অগ্নিতে প্রবেশ করিবে।
সূরা আন্‌-নিসা - রুকু ১

یُوۡصِیۡکُمُ اللّٰہُ فِیۡۤ اَوۡلَادِکُمۡ ٭ لِلذَّکَرِ مِثۡلُ حَظِّ الۡاُنۡثَیَیۡنِ ۚ فَاِنۡ کُنَّ نِسَآءً فَوۡقَ اثۡنَتَیۡنِ فَلَہُنَّ ثُلُثَا مَا تَرَکَ ۚ وَاِنۡ کَانَتۡ وَاحِدَۃً فَلَہَا النِّصۡفُ ؕ وَلِاَبَوَیۡہِ لِکُلِّ وَاحِدٍ مِّنۡہُمَا السُّدُسُ مِمَّا تَرَکَ اِنۡ کَانَ لَہٗ وَلَدٌ ۚ فَاِنۡ لَّمۡ یَکُنۡ لَّہٗ وَلَدٌ وَّوَرِثَہٗۤ اَبَوٰہُ فَلِاُمِّہِ الثُّلُثُ ۚ فَاِنۡ کَانَ لَہٗۤ اِخۡوَۃٌ فَلِاُمِّہِ السُّدُسُ مِنۡۢ بَعۡدِ وَصِیَّۃٍ یُّوۡصِیۡ بِہَاۤ اَوۡ دَیۡنٍ ؕ اٰبَآؤُکُمۡ وَاَبۡنَآؤُکُمۡ لَا تَدۡرُوۡنَ اَیُّہُمۡ اَقۡرَبُ لَکُمۡ نَفۡعًا ؕ فَرِیۡضَۃً مِّنَ اللّٰہِ ؕ اِنَّ اللّٰہَ کَانَ عَلِیۡمًا حَکِیۡمًا ﴿۱۲﴾

১২
আল্লাহ্ তোমাদিগকে তোমাদের সন্তান-সন্ততি সম্বন্ধে তাকিদপুর্ণ আদেশ দিতেছেন; একজন পুরুষের জন্য দুইজন নারীর অংশের সমান; কিন্তু যদি নারী দুই-এর অধিক হয়, তাহা হইলে সে (মৃত ব্যক্তি) যাহা ছাড়িয়া যায় উহার দুই-তৃতীয়াংশ তাহাদের জন্য; এবং যদি নারী একজনই থাকে তাহা হইলে তাহার জন্য অর্ধেক। এবং তাহার পিতামাতা৫৭৩ উভয়ের প্রত্যেকের জন্য উহা হইতে ষষ্ঠাংশ হইবে যাহা সে ছাড়িয়া গিয়াছে, যদি তাহার সন্তান৫৭৪ থাকে; কিন্তু যদি তাহার সন্তান না থাকে এবং তাহার পিতা মাতাই উত্তরাধিকারী হয় তাহা হইলে তাহার মাতার জন্য এক-তৃতীয়াংশ, এবং যদি তাহার একাধিক ভ্রাতা-ভগ্নী থাকে তাহা হইলে তাহার মাতার জন্য এক-ষষ্ঠাংশ; (এই সকল অংশ) সে যাহা ওসীয়্যত করে সেই ওসীয়্যত বা ঋণ (পরিশোধ)-এর পরে। তোমাদের পিতৃপুরুষ এবং তোমাদের সন্তানদের মধ্যে উপকারের ক্ষেত্রে কে তোমাদের নিকটতর তাহা তোমরা অবগত নহ। আল্লাহ্‌র পক্ষ হইতে ইহা ফরয৫৭৪-ক করা হইয়াছে। নিশ্চয় আল্লাহ্ সর্বজ্ঞাণী, পরম প্রজ্ঞাময়।
৫৭৩। পিতা ও মাতা উভয়েই (লেইন)।
৫৭৪। ‘ওয়ালাদ’ অর্থ (১) সন্তান, পুত্র, কন্যা, শিশু, (২) সন্তানাদি, পুত্র-কন্যাগণ। শব্দটি একবচন ও বহু বচন এবং পুং-স্ত্রী উভয় ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়।
৫৭৪-ক। এই আয়াতে মৃত ব্যক্তির সম্পত্তিতে সকল নিকট আত্মীয়ের অংশ নির্ধারণ করিয়া দেওয়া হইয়াছে। স্ত্রী-পুরুষ ও বয়স নির্বিশেষে সকলেই যথাযোগ্য অংশ পাইবে। মৃত ব্যক্তির সন্তান, পিতামাতা, স্বামী বা স্ত্রী হইল মূল উত্তরাধিকারী, তাহারা জীবিত থাকিলে সর্বাবস্থায়ই নির্দিষ্ট অংশ লাভ করিবে। অন্যান্য আত্মীয় বিশেষ অবস্থায় অংশ পাইতে পারে। একজন পুরুষকে একজন স্ত্রীলোকের অংশের দ্বিগুণ দেওয়া হইয়াছে, এই কারণে যে, পুরুষকে পরিবার প্রতিপালনের দায়িত্ব বহন করিতে হয় (রূহুল মাআনী, ২য় অঃ, পৃঃ-৩২)। পুত্র ও কন্যার প্রাপ্য অংশের অনুপাত নির্ধারণ করিয়া আয়াতটি বন্টন-ব্যবস্থার কথা শুরু করিয়াছে। একজন পুত্র দুইজন কন্যার সমান পাইবে। যে ক্ষেত্রে পুত্র-কন্যা উভয়ই বিদ্যমান থাকিবে, সেখানেই এই নিয়ম কার্যকরী হইবে। যেখানে কেবল কন্যা থাকিবে, পুত্র থাকিবে না, সেখানে কন্যাগণ সকলে মিলিয়া পরিত্যক্ত মোট সম্পত্তির দুই-তৃতীয়াংশ পাইবে, যদি তাহারা সংখ্যায় দুই-এর অধিক হয়। আর যদি একমাত্র সন্তান কন্যাই হয়, তাহা হইলে সে পাইবে সম্পত্তির অর্ধেকাংশ। যদি পুত্রহীন পিতার মাত্র দুইটি কন্যা সন্তান থাকে, তাহা হইলে দুই কন্যা মিলিয়া পিতৃসম্পত্তির কত অংশ পাইবে, তাহা সুস্পষ্ট ভাবে বলা হয় নাই। তবে বাক্যাংশটিতে (কিন্তু) অব্যয় ‘ফা’ ব্যবহার করা হইয়াছে যথা— কিন্তু, যদি কন্যারাই কেবল (উত্তরাধিকারী) হয় এবং তাহারা দুই-এর অধিক হয়। ইহাদ্বারা বুঝা যায় পূর্ববর্তী বাক্যে ‘দুই কন্যার’ উল্লেখের প্রতি ‘ফা’ (কিন্তু) অব্যয়ের সংযোগ রহিয়াছে, সেখানে দুই কন্যার অংশ নির্ধারিত হইয়াছে। তাহাছাড়া দুই কন্যার অংশ আমরা এই আয়াতের প্রথমে পাইয়া যাই, যেখানে স্ত্রী-পুরুষের অংশের অনুপাত নির্ধারণ করিয়া বলা হইয়াছে কন্যা দুইজন মিলিয়া একপুত্রের সমান। অতএব, যদি কোন ক্ষেত্রে এক পুত্র ও এক কন্যা থাকে,তাহা হইলে পুত্র দুই-তৃতীয়াংশ পাইবে আর কন্যা এক-তৃতীয়াংশ। কিন্তু যেহেতু দুই কন্যা এক পুত্রের সমান পাইবে, অতএব এই ক্ষেত্রে দুই কন্যার অংশও হইবে দুই-তৃতীয়াংশ। দুই বা ততোধিক কন্যার জন্য অপুত্রক পিতার সম্পতিতে দুই-তৃতীয়াংশ উত্তরাধিকার নির্ধারিত হইয়াছে। শুধু মাত্র দুই কন্যা থাকাবস্থায়, তাহারা কত অংশ পাইবে, এই কথা না বলাই যদি কুরআনের উদ্দেশ্য হইত, তাহা হইলে এই বাক্যাংশটি উক্ত প্রকারে ব্যক্ত না হইয়া বরং এইরূপ হইত, “একজন পুরুষের জন্য দুইজন নারীর অংশের সমান”। পিতামাতা অংশ প্রাপ্তির ব্যাপারে, তিন অবস্থায়, তিনটি শর্তের অধীনে, তিন ধরণের অংশ হইতে পারেঃ (১) যদি কোন ব্যক্তি এক বা একাধিক সন্তান রাখিয়া যান, তাহা হইলে পিতামাতা জীবিত থাকিলে প্রত্যেকে পাইবে এক-ষষ্ঠাংশ, (২) সন্তানহীন অবস্থায় মারা গেলে এবং স্ত্রী-স্বামী কেহ না থাকিলে, পিতা-মাতাই একমাত্র উত্তরাধিকারী হইবেন, সেই ক্ষেত্রে মাতা সম্পত্তির এক-তৃতীয়াংশ পাইবেন এবং পিতা দুই-তৃতীয়াংশ পাইবেন; (৩) তৃতীয় অবস্থা, একটি বিশেষ অবস্থা, যাহা দ্বিতীয় অবস্থার ব্যতিক্রম মাত্র। উপরোক্ত (২) এ এই মৃত ভ্রাতা-ভগ্নীর উল্লেখ নাই। যদি মৃতের ভ্রাতা-ভগ্নী থাকে তাহা হইলে, মৃতের মাতা এক-ষষ্ঠাংশ পাইবেন এবং পিতা পাইবেন পাঁচ-ষষ্ঠাংশ। পিতাকে এই ক্ষেত্রে আনুপাতিক হারে বেশী দিবার কারণ হইল, মৃতের ভাই-ভগ্নীর লালন পালনের ভার তাহার পিতার উপরেই বর্তায়। এই ক্ষেত্রে, মৃতের ভাই-বোনেরা উত্তরাধিকার সূত্রে কিছুই সরাসরি পাইতেছে না। পরবর্তী আয়াতেও উত্তরাধিকারের বিষয়ই রহিয়াছে।

وَلَکُمۡ نِصۡفُ مَا تَرَکَ اَزۡوَاجُکُمۡ اِنۡ لَّمۡ یَکُنۡ لَّہُنَّ وَلَدٌ ۚ فَاِنۡ کَانَ لَہُنَّ وَلَدٌ فَلَکُمُ الرُّبُعُ مِمَّا تَرَکۡنَ مِنۡۢ بَعۡدِ وَصِیَّۃٍ یُّوۡصِیۡنَ بِہَاۤ اَوۡ دَیۡنٍ ؕ وَلَہُنَّ الرُّبُعُ مِمَّا تَرَکۡتُمۡ اِنۡ لَّمۡ یَکُنۡ لَّکُمۡ وَلَدٌ ۚ فَاِنۡ کَانَ لَکُمۡ وَلَدٌ فَلَہُنَّ الثُّمُنُ مِمَّا تَرَکۡتُمۡ مِّنۡۢ بَعۡدِ وَصِیَّۃٍ تُوۡصُوۡنَ بِہَاۤ اَوۡ دَیۡنٍ ؕ وَاِنۡ کَانَ رَجُلٌ یُّوۡرَثُ کَلٰلَۃً اَوِ امۡرَاَۃٌ وَّلَہٗۤ اَخٌ اَوۡ اُخۡتٌ فَلِکُلِّ وَاحِدٍ مِّنۡہُمَا السُّدُسُ ۚ فَاِنۡ کَانُوۡۤا اَکۡثَرَ مِنۡ ذٰلِکَ فَہُمۡ شُرَکَآءُ فِی الثُّلُثِ مِنۡۢ بَعۡدِ وَصِیَّۃٍ یُّوۡصٰی بِہَاۤ اَوۡ دَیۡنٍ ۙ غَیۡرَ مُضَآرٍّ ۚ وَصِیَّۃً مِّنَ اللّٰہِ ؕ وَاللّٰہُ عَلِیۡمٌ حَلِیۡمٌ ﴿ؕ۱۳﴾

১৩
এবং তোমাদের স্ত্রীগণ যাহা কিছু ছাড়িয়া যায় উহার অর্ধেকাংশ তোমাদের জন্য যদি তাহাদের কোন সন্তান না থাকে; কিন্তু যদি তাহাদের কোন সন্তান (বর্তমান) থাকে তাহা হইলে তোমাদের জন্য এক-চতুর্থাংশ উহা হইতে যাহা তাহারা ছাড়িয়া গিয়াছে, (এই সকল অংশ) তাহারা যাহা ওসীয়্যত করে সেইসব ওসীয়্যত বা ঋণ (পরিশোধ)-এর পরে। এবং তাহাদের জন্য উহা হইতে এক-চতুর্থাংশ যাহা তোমরা ছাড়িয়া যাও যদি তোমাদের কোন সন্তান না থাকে; কিন্তু যদি তোমাদের সন্তান (বর্তমান) থাকে তাহা হইলে তোমরা যাহা ছাড়িয়া যাও তাহারা পাইবে উহার এক-অষ্টমাংশ, (এই সকল অংশ) তোমরা যাহা ওসীয়্যত কর সেই ওসীয়্যত বা ঋণ (পরিশোধ)-এর পরে। এবং যদি কালালা৫৭৫ অবস্থায় কোন পুরুষ বা মহিলার ‘মিরাস’ (পরিত্যক্ত সম্পত্তি) বন্টন করিতে হয়, এবং তাহার এক ভ্রাতা অর্থবা ভগ্নী থাকে তাহা হইলে উভয়ের প্রত্যেকে ষষ্ঠাংশ পাইবে। কিন্তু তাহারা যদি ততোধিক হয়, তাহা হইলে তাহারা সকলেই এক-তৃতীয়াংশে (সমান সমান) অংশীদার হইবে, (এই সকল অংশ) ওসীয়্যত যাহা করা হয় সেই ওসীয়্যত বা ঋণ (পরিশোধ)-এর পরে। (এই বন্টন) কাহারও ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে নহে।৫৭৫-ক (ইহা) আল্লাহ্‌র তরফ হইতে তাকিদপূর্ণ নির্দেশ, বস্তুতঃ আল্লাহ্ সর্বজ্ঞানী, পরম সহিষ্ণু।
৫৭৫। ‘কালালাহ্‌’ অর্থ (১) যে ব্যক্তির মৃত্যুকালে পিতা, মাতা বা সন্তান থাকে না (২) যে ব্যক্তির মৃত্যুকালে পিতা ও পুত্র সন্তান থাকে না। ইবনে আব্বাসের মতে, পিতা জীবিত থাকা বা না থাকা অবস্থায়, যে ব্যক্তির মৃত্যুকালে পুত্রসন্তান থাকে না, সেই কালালাহ্। ইহা ‘কালালাহ্’র তৃতীয় সংজ্ঞা (লেইন, মুফরাদাত)। ‘কালালাহ্’র ভ্রাতা-ভগ্নী তিন ধরণের হইতে পারে। প্রথম, একই পিতামাতার সন্তান যাহাদিগকে ‘আয়ানী’ বলা হয়। দ্বিতীয়, পিতার সন্তান বটে, তবে সহোদর নয়। তাহাদিগকে ‘আল্লাতী’ বৈমাত্রেয় বলা হয়। তৃতীয়, এক মাতার সন্তান, তবে পিতা ভিন্ন, তাহাদিগকে বলা হয় ‘আখ্‌ইয়াফী’। এই আখ্‌ইয়াফী ভাই-বোনদের কথা এই আয়াতে বলা হইয়াছে। ‘আয়ানী’ ও ‘আল্লাতী’ (বৈমাত্রেয়) ভাই-বোনদের অংশ প্রাপ্তির নীতি এই সূরার সর্বশেষ আয়াতে বর্ণিত হইয়াছে। তৃতীয় বা ‘আখ্‌ইয়াফী’ প্রথম ‘আয়ানী’ এবং দ্বিতীয় ‘আল্লাতী’ ভাই-বোনদের অংশের তুলনায় কম। কারণ, তারা কেবল মৃতের মাতার দিক হইতে এবং অপর দুই শ্রেণী মৃতের পিতার দিক হইতে উদ্ভূত। ‘কালালাহ্‌’ ব্যক্তির পরিত্যক্ত সম্পত্তির উত্তরাধিকারে ভ্রাতা ও ভগ্নীর অংশ সমান-সমান। সাধারণ অনুপাত ২ঃ১ ‘কালালাহ্‌’র ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয় না।
৫৭৫-ক। “কাহারও ক্ষতি সাধনের উদ্দেশ্যে নহে” শব্দগুলি প্রণিধানযোগ্য । ইহার অর্থ হইল “ওসীয়্যতের” (উইলের) বা সাধারণ বন্টনের নীতি পালন করিতে যাইয়া, ঋণ-পরিশোধের কথা যেন বাদ না পড়ে । কেননা ঋণ-পরিশোধ সর্বাগ্রগণ্য।

تِلۡکَ حُدُوۡدُ اللّٰہِ ؕ وَمَنۡ یُّطِعِ اللّٰہَ وَرَسُوۡلَہٗ یُدۡخِلۡہُ جَنّٰتٍ تَجۡرِیۡ مِنۡ تَحۡتِہَا الۡاَنۡہٰرُ خٰلِدِیۡنَ فِیۡہَا ؕ وَذٰلِکَ الۡفَوۡزُ الۡعَظِیۡمُ ﴿۱۴﴾

১৪
এইগুলি আল্লাহ্‌র (নির্ধারিত) সীমাসমূহ, এবং যে কেহ আল্লাহ্ এবং তাঁহার রসূলের আনুগত্য করে, তিনি তাহাকে জান্নাতে প্রবিষ্ট করিবেন, যাহার তলদেশ দিয়া নহরসমূহ প্রবাহিত থাকিবে, ইহাতে তাহারা চিরকাল বাস করিতে থাকিবে এবং উহাই মহা সফলতা।

وَمَنۡ یَّعۡصِ اللّٰہَ وَرَسُوۡلَہٗ وَیَتَعَدَّ حُدُوۡدَہٗ یُدۡخِلۡہُ نَارًا خَالِدًا فِیۡہَا ۪ وَلَہٗ عَذَابٌ مُّہِیۡنٌ ﴿٪۱۵﴾

১৫
এবং যে কেহ আল্লাহ্ এবং তাঁহার রসূলের অবাধ্যতা করে এবং তাঁহার (নির্ধারিত) সীমাসমূহ লংঘন করে, তিনি তাহাকে অগ্নিতে প্রবিষ্ট করিবেন, সেখানে সে দীর্ঘকাল বাস করিতে থাকিবে, এবং তাহার জন্য রহিয়াছে লাঞ্ছনাজনক আযাব।
সূরা আন্‌-নিসা - রুকু ২

وَالّٰتِیۡ یَاۡتِیۡنَ الۡفَاحِشَۃَ مِنۡ نِّسَآئِکُمۡ فَاسۡتَشۡہِدُوۡا عَلَیۡہِنَّ اَرۡبَعَۃً مِّنۡکُمۡ ۚ فَاِنۡ شَہِدُوۡا فَاَمۡسِکُوۡہُنَّ فِی الۡبُیُوۡتِ حَتّٰی یَتَوَفّٰہُنَّ الۡمَوۡتُ اَوۡ یَجۡعَلَ اللّٰہُ لَہُنَّ سَبِیۡلًا ﴿۱۶﴾

১৬
এবং তোমাদের নারীদের মধ্যে যাহারা ঘোরতর অশ্লীল৫৭৬ আচরণ করে, তাহাদের বিরুদ্ধে তোমাদের মধ্য হইতে চারজন সাক্ষী তলব কর, যদি তাহারা সাক্ষ্য দেয় তাহা হইলে তোমরা তাহাদিগকে গৃহ আবদ্ধ করিয়া রাখ যে পর্যন্ত না তাহাদের মৃত্যু ঘটে অথবা আল্লাহ্ তাহাদের জন্য অন্য কোন পথ করিয়া দেন।
৫৭৬। “ফাহিশাহ্‌” শব্দটি যে ভাবে কুরআনে ব্যবহৃত হইয়াছে (৭ঃ২৯, ৩৩ঃ৩১, ৬৫ঃ২), ইহার অর্থ ঐ ধরণের অবৈধ যৌন-সংগম বা ব্যভিচারই বুঝায় না যাহার জন্য ২৪ঃ৩ আয়াতে শাস্তির বিধান রহিয়াছে। শব্দটি প্রকাশ্য বা এমন অপকর্মের জন্য ব্যবহৃত হইয়াছে, যাহা সমাজের সংহতি বিনাশ করে এবং শান্তি ভঙ্গের কারণ হইয়া দাঁড়ায়। এই আয়াতে যে ধরণের অপরাধী স্ত্রীলোকের উল্লেখ করা হইয়াছে, ঠিক সেই ধরনের অপরাধী পুরুষের উল্লেখ পরবর্তী আয়াতে রহিয়াছে—নির্দিষ্ট শাস্তির উল্লেখ ছাড়া। এই অপরাধী পুরুষের অপরাধ হইল কুৎসিৎ ও নৈতিকতা বর্জিত কার্যকলাপ, যাহা অবৈধ যৌন-মিলন বা ব্যভিচারের পর্যায়ে পৌঁছায় নাই, তার নীচে আছে। এই অভিমত হইল, আবু মুসলিম ও মুজাহিদেরও। ঐসব স্ত্রীলোককে অন্যান্য স্ত্রীলোকের সাথে মিলামিশা হইতে দূরে রাখিতে হইবে, যে পর্যন্ত তাহারা আত্ম-সংশোধন না করে অথবা বিবাহিতা হইয়া চলিয়া না যায়, বিবাহ একটি পথ যাহা আল্লাহ্ তাহাদের জন্য খুলিয়া দেন। যেহেতু অপরাধের গুরুত্ব ও অভিযোগের প্রকৃতি ভয়ানক, সেহেতু চারিজন সাক্ষীর প্রয়োজন, যাহাতে অভিযুক্তা মহিলার প্রতি কোন অবিচার না হয়।

وَالَّذٰنِ یَاۡتِیٰنِہَا مِنۡکُمۡ فَاٰذُوۡہُمَا ۚ فَاِنۡ تَابَا وَاَصۡلَحَا فَاَعۡرِضُوۡا عَنۡہُمَا ؕ اِنَّ اللّٰہَ کَانَ تَوَّابًا رَّحِیۡمًا ﴿۱۷﴾

১৭
এবং যদি তোমাদের মধ্য হইতে দুইজন পুরুষ৫৭৭ উহাতে লিপ্ত হয় তাহা হইলে তাহাদের উভয়কে শাস্তি দাও। কিন্তু তাহারা যদি তওবা করে এবং সংশোধন করে, তাহা হইলে তাহাদের নিকট হইতে মুখ ফিরাইয়া লও, নিশ্চয় আল্লাহ্ সদয় দৃষ্টিদানকারী, পরম দয়াময়।
৫৭৭। এই ক্ষেত্রে, শাস্তির কথা বলা হইয়াছে বটে, কিন্তু শাস্তির নির্দিষ্ট কোন রূপ বা রকম বলা হয় নাই। সেটা কর্তৃপক্ষের উপর ছাড়িয়া দেওয়া হইয়াছে। এই আয়াতে এবং পূর্ববর্তী আয়াতে এমন ধরণের অপরাধের উল্লেখ করা হইয়াছে, যাহার জন্য কোনও নির্দিষ্ট ধরণের শাস্তির উল্লেখ করা হয় নাই। কর্তৃপক্ষ সমসাময়িক ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিচার-বিশ্লেষণ পূর্বক সমীচীন শাস্তি দান করিবেন। এই আয়াতের ব্যক্ত অপরাধ দুইজন পুরুষের অস্বাভাবিক যৌনতা বা তার কাছাকাছি কিছুও হইতে পারে।

اِنَّمَا التَّوۡبَۃُ عَلَی اللّٰہِ لِلَّذِیۡنَ یَعۡمَلُوۡنَ السُّوۡٓءَ بِجَہَالَۃٍ ثُمَّ یَتُوۡبُوۡنَ مِنۡ قَرِیۡبٍ فَاُولٰٓئِکَ یَتُوۡبُ اللّٰہُ عَلَیۡہِمۡ ؕ وَکَانَ اللّٰہُ عَلِیۡمًا حَکِیۡمًا ﴿۱۸﴾

১৮
আল্লাহ্ কেবল সেই সকল লোকের তওবা গ্রহণ করেন যাহারা অজ্ঞতাবশতঃ৫৭৮ মন্দকর্ম করে, অতঃপর সত্বরই৫৭৯ তওবা করে। ইহাদের প্রতিই আল্লাহ্ সদয় দৃষ্টিপাত করেন, বস্তুতঃ আল্লাহ্ সর্বজ্ঞানী, পরম প্রজ্ঞাময়।
৫৭৮। ‘অজ্ঞতাবশতঃ’ কথাটি দ্বারা এইরূপ বুঝায় না যে, অপরাধী যে কুকর্ম করে,তাহা সে কুকর্ম বলিয়া জানে না। বস্তুতঃ প্রত্যেক দুষ্কর্মই অজ্ঞতা-প্রসূত, পূর্ণ ও সঠিক জ্ঞানের অভাব হইতেই জন্মলাভ করে। মহানবী (সাঃ) বলিয়াছেন, “এমন অনেক প্রকারের জ্ঞান আছে, যাহা প্রকৃত পক্ষে অজ্ঞতা”। অর্থাৎ ঐরূপ জ্ঞানার্জ্জন মানুষের ক্ষতির কারণ হয় ( বিহার )। অতএব, ‘অজ্ঞতাবশতঃ শব্দগুলি পাপের প্রকৃত তত্ত্ব ও দর্শনের প্রতি দৃষ্টি আর্কষণ পূর্বক, মানুষকে সঠিক ও উপকারী সৎ জ্ঞান লাভ করিয়া, পাপ-মুক্তির উপায় বলিয়া দিতেছে।
৫৭৯। “সত্বরই” অর্থ “মৃতুর পূর্বে”। পরবর্তী আয়াতের বাক্যাংশ “যাহারা মন্দ কর্ম করিতে থাকে এমন কি তাহাদের কাহারও সম্মুখে মৃত্যু আসিয়া উপস্থিত হয়” এই অর্থ সমর্থন করে।

وَلَیۡسَتِ التَّوۡبَۃُ لِلَّذِیۡنَ یَعۡمَلُوۡنَ السَّیِّاٰتِ ۚ حَتّٰۤی اِذَا حَضَرَ اَحَدَہُمُ الۡمَوۡتُ قَالَ اِنِّیۡ تُبۡتُ الۡـٰٔنَ وَلَا الَّذِیۡنَ یَمُوۡتُوۡنَ وَہُمۡ کُفَّارٌ ؕ اُولٰٓئِکَ اَعۡتَدۡنَا لَہُمۡ عَذَابًا اَلِیۡمًا ﴿۱۹﴾

১৯
এবং ঐ সকল লোকের তওবা গ্রহণযোগ্য নহে, যাহারা মন্দকর্ম করিতে থাকে এমনকি যখন তাহাদের কাহারও সম্মুখে মৃত্যু আসিয়া উপস্থিত হয়, তখন সে বলে, ‘এখন আমি নিশ্চয় তওবা করিলাম’; এবং তাহাদের জন্যও নহে যাহারা কাফের অবস্থায় মারা যায়। ইহারাই ঐসকল লোক, যাহাদের জন্য আমরা যন্ত্রণাদায়ক আযাব প্রস্তুত করিয়া রাখিয়াছি।

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَا یَحِلُّ لَکُمۡ اَنۡ تَرِثُوا النِّسَآءَ کَرۡہًا ؕ وَلَا تَعۡضُلُوۡہُنَّ لِتَذۡہَبُوۡا بِبَعۡضِ مَاۤ اٰتَیۡتُمُوۡہُنَّ اِلَّاۤ اَنۡ یَّاۡتِیۡنَ بِفَاحِشَۃٍ مُّبَیِّنَۃٍ ۚ وَعَاشِرُوۡہُنَّ بِالۡمَعۡرُوۡفِ ۚ فَاِنۡ کَرِہۡتُمُوۡہُنَّ فَعَسٰۤی اَنۡ تَکۡرَہُوۡا شَیۡئًا وَّیَجۡعَلَ اللّٰہُ فِیۡہِ خَیۡرًا کَثِیۡرًا ﴿۲۰﴾

২০
হে যাহারা ঈমান আনিয়াছ! ইহা তোমাদের জন্য হালাল নহে যে, তোমরা বলপূর্বক নারীগণের উত্তরাধিকারী হইয়া যাও; এবং তোমরা তাহাদিগকে যাহা দিয়াছ উহার কতক ছিনাইয়া লওয়ার উদ্দেশ্যে তাহাদিগকে আটকাইয়া রাখিও না, যদি না তাহারা প্রকাশ্যভাবে অশ্লীলতায়৫৮০ লিপ্ত হয়; এবং তাহাদের সহিত সদ্ভাবে৫৮১ বসবাস কর; যদি তোমরা তাহাদিগকে অপসন্দ কর, তাহা হইলে (স্মরণ রাখিও) এমনও হইতে পারে যে, তোমরা যে বস্তুকে অপসন্দ কর আল্লাহ্ উহার মধ্যে প্রভূত কল্যাণ রাখিয়াছেন।
৫৮০। মৃত ব্যক্তির বিধবা স্ত্রীকে নূতন ভাবে বিবাহ করা হইতে মৃতের আত্মীয়রা সম্পত্তির লোভে বাধা দিতে পারে না। তবে, চরিত্রহীন লোকের সহিত বিবাহ হইতে তাহাকে বারণ করিতে পারে। এই বাক্যটি যদি স্বামীদের প্রতি আহ্বান বলিয়া ধরা হয়, তাহা হইলে ইহার অর্থ হইবে, যে সব স্ত্রী স্বামীর সহিত আর বসবাস করিতে চায় না, বরং খোলার মাধ্যমে স্বামী হইতে পৃথক হইতে চায়, তাহা হইলে স্ত্রীর অর্থ বা সম্পদের লোভে, স্বামী যেন বাধা না দেয়। তবে, সে একটি মাত্র কারণে স্ত্রীকে বাধা দিতে পারে—যদি ইহা প্রতিপন্ন হয় যে, গর্হিত ও অপরাধ মূলক অপকর্মের উদ্দেশ্যে স্ত্রী খোলা চাহিতেছে।
৫৮১। নবী করীম (সাঃ) বলিয়াছেন “তোমাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তি সে, যে তাহার স্ত্রীর সহিত সর্বোত্তম ব্যবহার করে।” ‘আশিরুহুন্না’ ‘মুফা’য়ালা’র ওজনে বা মাত্রায় থাকায়, ইহাদ্বারা পারস্পারিকতা বুঝায়, স্বামী ও স্ত্রীকে পরস্পর মিলিয়া-মিশিয়া থাকা ও পরস্পর ভালবাসা বিনিময়ের মাধ্যমে বাস করার তাকিদ দেওয়া হইয়াছে।