৩৯

الزمر

সূরা আয্‌ যুমার

Az-Zumar

মক্কী ৭৬ আয়াত ৮ রুকু পারা ২৩–২৪

ইহা মক্কায় অবতীর্ণ, বিসমিল্লাহ্‌সহ ইহাতে ৭৬ আয়াত এবং ৮ রুকু আছে।

مَنۡ یَّاۡتِیۡہِ عَذَابٌ یُّخۡزِیۡہِ وَیَحِلُّ عَلَیۡہِ عَذَابٌ مُّقِیۡمٌ ﴿۴۱﴾

৪১
কাহার উপর সেই আযাব আসে, যাহা তাহাকে লাঞ্ছিত করে এবং কাহার উপর স্থায়ী আযাব আপতিত হয়?

اِنَّاۤ اَنۡزَلۡنَا عَلَیۡکَ الۡکِتٰبَ لِلنَّاسِ بِالۡحَقِّ ۚ فَمَنِ اہۡتَدٰی فَلِنَفۡسِہٖ ۚ وَمَنۡ ضَلَّ فَاِنَّمَا یَضِلُّ عَلَیۡہَا ۚ وَمَاۤ اَنۡتَ عَلَیۡہِمۡ بِوَکِیۡلٍ ﴿٪۴۲﴾

৪২
নিশ্চয় আমরা মানবমণ্ডলীর কল্যাণের জন্য তোমার নিকট এই কিতাব সত্যসহ নাযেল করিয়াছি। অতএব যে ব্যক্তি সৎপথ অবলম্বন করে, বস্তুতঃ সে নিজেরই কল্যাণ সাধনে এইরূপ করে, এবং যে ব্যক্তি পথভ্রষ্ট হয়, বস্তুতঃ সে নিজেরই আত্মার ক্ষতি সাধনের জন্য পথভ্রষ্ট হয়।২৫৭৯ এবং তুমি তাহাদের উপর অভিভাবক নহ।
সূরা আয্‌ যুমার - রুকু ৪
২৫৭৯। মানুষ নিজেই তাহার ভাল-মন্দ ভাগ্য গড়িয়া তোলে, তাহা সৌভাগ্যই হউক বা দুর্ভাগ্যই হউক।

اَللّٰہُ یَتَوَفَّی الۡاَنۡفُسَ حِیۡنَ مَوۡتِہَا وَالَّتِیۡ لَمۡ تَمُتۡ فِیۡ مَنَامِہَا ۚ فَیُمۡسِکُ الَّتِیۡ قَضٰی عَلَیۡہَا الۡمَوۡتَ وَیُرۡسِلُ الۡاُخۡرٰۤی اِلٰۤی اَجَلٍ مُّسَمًّی ؕ اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَاٰیٰتٍ لِّقَوۡمٍ یَّتَفَکَّرُوۡنَ ﴿۴۳﴾

৪৩
আল্লাহ্‌ মানুষের রূহকে তাহাদের মৃত্যুর সময় কবয করিয়া থাকেন, এবং যাহাদের (এখনও) মৃত্যু হয় নাই (তাহাদের রূহকেও) তাহাদের নিদ্রাকালে (কবয করিয়া থাকেন)। অতঃপর যাহাদের জন্য মৃত্যুর ফয়সালা করেন তাহাদের রূহকে ধরিয়া রাখেন, এবং অন্যগুলিকে এক নির্দিষ্ট কালের জন্য ফিরাইয়া দেন।২৫৮০ নিশ্চয় ইহাতে চিন্তাশীল জাতির জন্য অনেক নিদর্শন আছে।
২৫৮০। মানুষের মৃত্যুর সাথে, তাহার আত্মা মরে না বা পচে না। আত্মাকে তাহার নশ্বর আবাস (মরণশীল-দেহ) হইতে পৃথক করিয়া অন্যত্র লইয়া যাওয়া হয় এবং সেখানে রক্ষিত অবস্থায় থাকে যাহাতে নির্ধারিত সময় আসিলে সেই সংশ্লিষ্ট মানুষের কাজ-কর্মের হিসাব দান করিতে পারে।

اَمِ اتَّخَذُوۡا مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ شُفَعَآءَ ؕ قُلۡ اَوَلَوۡ کَانُوۡا لَا یَمۡلِکُوۡنَ شَیۡئًا وَّلَا یَعۡقِلُوۡنَ ﴿۴۴﴾

৪৪
তাহারা কি আল্লাহ্‌কে ছাড়িয়া শাফায়াতকারীদিগকে (সুপারিশকারী) ধরিয়াছে? তুমি বল, ‘যদি তাহাদের কোন ক্ষমতা না থাকে, এবং তাহাদের কোন বুদ্ধিও না থাকে, তবুও কি (তাহারা এইরূপ করিবে)?২৫৮১
২৫৮১। মানুষকে সাবধান করা হইতেছে যে, সে যেন এমন কোন কাজ না করে, যাহা তাহার অমর আত্মাকে কলুষিত করিতে পারে। সকল দুষ্কর্মের চরম দুষ্কর্ম হইল আল্লাহ্‌তা’লার সহিত কাহাকেও শরীক জ্ঞান করা।

قُلۡ لِّلّٰہِ الشَّفَاعَۃُ جَمِیۡعًا ؕ لَہٗ مُلۡکُ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ ؕ ثُمَّ اِلَیۡہِ تُرۡجَعُوۡنَ ﴿۴۵﴾

৪৫
তুমি বল, ‘সকল প্রকার শাফায়াত (সুপারিশ) আল্লাহ্‌র ইখতিয়ারে রহিয়াছে;২৫৮২ আকাশসমূহের ও পৃথিবীর আধিপত্য তাঁহারই। অতঃপর তাঁহারই দিকে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হইবে।’
২৫৮২। ৮৫ টীকা দেখুন।

وَاِذَا ذُکِرَ اللّٰہُ وَحۡدَہُ اشۡمَاَزَّتۡ قُلُوۡبُ الَّذِیۡنَ لَا یُؤۡمِنُوۡنَ بِالۡاٰخِرَۃِ ۚ وَاِذَا ذُکِرَ الَّذِیۡنَ مِنۡ دُوۡنِہٖۤ اِذَا ہُمۡ یَسۡتَبۡشِرُوۡنَ ﴿۴۶﴾

৪৬
এবং যখন আল্লাহ্‌কে স্মরণ করা হয় তাঁহাকে একক বলিয়া, তখন যাহারা পরকালের উপর ঈমান রাখে না তাহাদের অন্তরসমূহ ঘৃণায় সংকুচিত হয়, এবং যখন তিনি ছাড়া অন্যদের কথা উল্লেখ করা হয় অমনি তাহারা হর্ষোৎফুল্ল হয়।

قُلِ اللّٰہُمَّ فَاطِرَ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ عٰلِمَ الۡغَیۡبِ وَالشَّہَادَۃِ اَنۡتَ تَحۡکُمُ بَیۡنَ عِبَادِکَ فِیۡ مَا کَانُوۡا فِیۡہِ یَخۡتَلِفُوۡنَ ﴿۴۷﴾

৪৭
তুমি বল, ‘হে আল্লাহ্! আকাশসমূহ ও পৃথিবীর আদি স্রষ্টা, অদৃশ্য ও দৃশ্য সকল বিষয়ের পরিজ্ঞাতা; তুমিই তোমার বান্দাদের মধ্যে সেই সব বিষয়ের ফয়সালা করিবে যে সম্বন্ধে তাহারা মতভেদ করিতেছে।’

وَلَوۡ اَنَّ لِلَّذِیۡنَ ظَلَمُوۡا مَا فِی الۡاَرۡضِ جَمِیۡعًا وَّمِثۡلَہٗ مَعَہٗ لَافۡتَدَوۡا بِہٖ مِنۡ سُوۡٓءِ الۡعَذَابِ یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ ؕ وَبَدَا لَہُمۡ مِّنَ اللّٰہِ مَا لَمۡ یَکُوۡنُوۡا یَحۡتَسِبُوۡنَ ﴿۴۸﴾

৪৮
এবং যাহা কিছু পৃথিবীতে আছে যদি যালেমগণ উহার সব কিছুর মালিক হইত, বরং উহার সঙ্গে তদনুরূপ আরও থাকিত, তাহা হইলে তাহারা নিশ্চয় উহা কিয়ামত দিবসে কঠোর আযাব হইতে রক্ষা পাওয়ার জন্য মুক্তি-পণস্বরূপ পেশ করিত; এবং আল্লাহ্‌র তরফ হইতে তাহাদের উপর এমন সবকিছু প্রকাশিত হইবে যাহা তাহারা কল্পনাও করে নাই।

وَبَدَا لَہُمۡ سَیِّاٰتُ مَا کَسَبُوۡا وَحَاقَ بِہِمۡ مَّا کَانُوۡا بِہٖ یَسۡتَہۡزِءُوۡنَ ﴿۴۹﴾

৪৯
এবং তাহাদের অপকর্মের মন্দ ফল তাহাদের নিকট প্রকাশিত হইবে, এবং যে বিষয়ে তাহারা ঠাট্টা-বিদ্রূপ করিত উহা তাহাদিগকে পরিবেষ্টন করিবে।

فَاِذَا مَسَّ الۡاِنۡسَانَ ضُرٌّ دَعَانَا ۫ ثُمَّ اِذَا خَوَّلۡنٰہُ نِعۡمَۃً مِّنَّا ۙ قَالَ اِنَّمَاۤ اُوۡتِیۡتُہٗ عَلٰی عِلۡمٍ ؕ بَلۡ ہِیَ فِتۡنَۃٌ وَّلٰکِنَّ اَکۡثَرَہُمۡ لَا یَعۡلَمُوۡنَ ﴿۵۰﴾

৫০
এবং যখন মানুষকে কোন অনিষ্ট স্পর্শ করে তখন সে আমাদিগকে ডাকে। কিন্তু যখন আমরা তাহাকে আমাদের নিকট হইতে কোন নেয়ামত দিই, তখন সে বলে, ‘ইহা তো আমাকে আমার জ্ঞানের কারণে দেওয়া হইয়াছে।’২৫৮৩ না, বরং ইহা এক পরীক্ষা; কিন্তু তাহাদের অধিকাংশই ইহা জানে না।
২৫৮৩। মানুষের প্রকৃতি ইহাই যে, সে যখন বিপদগ্রস্ত হয় এবং কষ্টে পড়ে, তখন সে আল্লাহ্‌কে ডাকে ও তাঁহার কাছে প্রার্থনা করে। কিন্তু যখন সে প্রাচুর্যের মাঝে বাস করে, তখন সে আল্লাহ্‌তা’লাকে ভুলিয়া যায়। সে তখন মনে করিতে থাকে যে, তাহার জীবনের এই কৃতকার্যতা সে নিজের জ্ঞান, বুদ্ধিমত্তা ও কর্মশক্তি দ্বারা নিজেই অর্জন করিয়াছে। গম্ভীর ও বিশ্বস্ত ব্যক্তি আদৌ এরূপ করিতে পারে না।