৩৯

الزمر

সূরা আয্‌ যুমার

Az-Zumar

মক্কী ৭৬ আয়াত ৮ রুকু পারা ২৩–২৪

ইহা মক্কায় অবতীর্ণ, বিসমিল্লাহ্‌সহ ইহাতে ৭৬ আয়াত এবং ৮ রুকু আছে।

قُلۡ یٰعِبَادِ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوا اتَّقُوۡا رَبَّکُمۡ ؕ لِلَّذِیۡنَ اَحۡسَنُوۡا فِیۡ ہٰذِہِ الدُّنۡیَا حَسَنَۃٌ ؕ وَاَرۡضُ اللّٰہِ وَاسِعَۃٌ ؕ اِنَّمَا یُوَفَّی الصّٰبِرُوۡنَ اَجۡرَہُمۡ بِغَیۡرِ حِسَابٍ ﴿۱۱﴾

১১
তুমি বল, ‘হে আমার বান্দাগণ যাহারা ঈমান আনিয়াছ! তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের তাক্‌ওয়া অবলম্বন কর। যাহারা এই দুনিয়াতে কল্যাণ সাধন করে তাহাদের জন্য কল্যাণই অবধারিত আছে। এবং আল্লাহ্‌র পৃথিবী সুপ্রশস্ত। ধৈর্যশীলগণকে অবশ্যই বেহিসাব প্রতিদান দেওয়া হইবে।২৫৬৭
২৫৬৭। এই আয়াতে মো’মেনগণকে বলা হইতেছে যে, তাহাদিগকে পরীক্ষা ও ত্যাগ-তিতিক্ষার ভিতর দিয়া অগ্রসর হইতে হইবে। এমনকি আল্লাহ্‌র খাতিরে তাহাদিগকে নিজেদের বাড়ী-ঘরও ছাড়িতে হইবে। যখন তাহারা এই সব পরীক্ষা ও দুঃখ-যাতনা ধৈর্য সহকারে অতিক্রম করিবে, তখন তাহারা দেখিতে পাইবে, আল্লাহ্‌র দুনিয়া তাহাদের জন্য সুপ্রশস্ত। আল্লাহ্‌র কাছ হইতে তখন তাহারা অগণিত ও অপরিমেয় পুরস্কার প্রাপ্ত হইবে।

قُلۡ اِنِّیۡۤ اُمِرۡتُ اَنۡ اَعۡبُدَ اللّٰہَ مُخۡلِصًا لَّہُ الدِّیۡنَ ﴿ۙ۱۲﴾

১২
তুমি বল, ‘নিশ্চয় আমি আদিষ্ট হইয়াছি যেন আমি আল্লাহ্‌র ইবাদত করি—তাঁহারই জন্য আনুগত্যকে বিশুদ্ধ করিয়া;

وَاُمِرۡتُ لِاَنۡ اَکُوۡنَ اَوَّلَ الۡمُسۡلِمِیۡنَ ﴿۱۳﴾

১৩
এবং আমি আদিষ্ট হইয়াছি যেন আমি আত্মসমর্পণকারীগণের মধ্যে প্রথম হই।’

قُلۡ اِنِّیۡۤ اَخَافُ اِنۡ عَصَیۡتُ رَبِّیۡ عَذَابَ یَوۡمٍ عَظِیۡمٍ ﴿۱۴﴾

১৪
তুমি বল, ‘যদি আমি আমার প্রতিপালকের অবাধ্যতা করি, তাহা হইলে নিশ্চয় আমি এক মহা দিবসের আযাবকে ভয় করি।’

قُلِ اللّٰہَ اَعۡبُدُ مُخۡلِصًا لَّہٗ دِیۡنِیۡ ﴿ۙ۱۵﴾

১৫
তুমি বল, ‘আমি আল্লাহ্‌র ইবাদত করি — তাঁহারই জন্য আমার আনুগত্যকে বিশুদ্ধ করিয়া।২৫৬৮
২৫৬৮। চারটি আয়াত ঘন ঘন রসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে অকপট ও বিশুদ্ধচিত্তে বিশ্বাস পোষণ করার ও ভক্তি সহকারে আল্লাহ্‌তা’লার ইবাদত করার নির্দেশ দেওয়া হইয়াছে। উদ্দেশ্য মনে হয় ইহাই যে, মদীনায় যাইয়া মুসলমানেরা অচিরেই যে ভীষণ পরীক্ষা ও সমস্যাবলীর সম্মুখীন হইবে, উহার মোকাবিলা করার জন্য তাহাদিগকে পূর্বেই প্রস্তুত করিয়া তোলা। মক্কায় থাকা কালের শেষ পর্যায়ে যখন মুসলমানেরা ক্ষুদ্র দলে কিংবা একাকী মদীনায় যাইতেছিলেন সেই সময়ে এই সূরা অবতীর্ণ হইয়াছিল।

فَاعۡبُدُوۡا مَا شِئۡتُمۡ مِّنۡ دُوۡنِہٖ ؕ قُلۡ اِنَّ الۡخٰسِرِیۡنَ الَّذِیۡنَ خَسِرُوۡۤا اَنۡفُسَہُمۡ وَاَہۡلِیۡہِمۡ یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ ؕ اَلَا ذٰلِکَ ہُوَ الۡخُسۡرَانُ الۡمُبِیۡنُ ﴿۱۶﴾

১৬
‘তোমরা তাঁহাকে ছাড়া যাহার ইচ্ছা ইবাদত কর।’ তুমি বল, ‘প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত তাহারা, যাহারা কিয়ামত দিবসে নিজদিগকেও এবং নিজেদের পরিজনবর্গকেও ক্ষতিগ্রস্ত করিয়াছে।’ শুন! ইহাই হইতেছে সুস্পষ্ট ক্ষতি।

لَہُمۡ مِّنۡ فَوۡقِہِمۡ ظُلَلٌ مِّنَ النَّارِ وَمِنۡ تَحۡتِہِمۡ ظُلَلٌ ؕ ذٰلِکَ یُخَوِّفُ اللّٰہُ بِہٖ عِبَادَہٗ ؕ یٰعِبَادِ فَاتَّقُوۡنِ ﴿۱۷﴾

১৭
তাহাদের ঊর্ধ্বে অগ্নির আবরণসমূহ থাকিবে এবং তাহাদের নিম্নেও (তদনুরূপ) আবরণসমূহ থাকিবে। ইহাই সেই বিষয়, যাহার সম্বন্ধে আল্লাহ্ নিজ বান্দাগণকে সতর্ক করিতেছেন, ‘হে আমার বান্দাগণ! আমার তাক্‌ওয়া অবলম্বন কর।’

وَالَّذِیۡنَ اجۡتَنَبُوا الطَّاغُوۡتَ اَنۡ یَّعۡبُدُوۡہَا وَاَنَابُوۡۤا اِلَی اللّٰہِ لَہُمُ الۡبُشۡرٰی ۚ فَبَشِّرۡ عِبَادِ ﴿ۙ۱۸﴾

১৮
এবং যাহারা পুণ্যের পথে বাধা-সৃষ্টিকারী বিদ্রোহীদের ইবাদত হইতে আত্মরক্ষা করে এবং আল্লাহ্‌র দিকে ঝুঁকিয়া থাকে— তাহাদের জন্য মহা সুসংবাদ। সুতরাং তুমি আমার বান্দাগণকে সুসংবাদ দাও,

الَّذِیۡنَ یَسۡتَمِعُوۡنَ الۡقَوۡلَ فَیَتَّبِعُوۡنَ اَحۡسَنَہٗ ؕ اُولٰٓئِکَ الَّذِیۡنَ ہَدٰٮہُمُ اللّٰہُ وَاُولٰٓئِکَ ہُمۡ اُولُوا الۡاَلۡبَابِ ﴿۱۹﴾

১৯
যাহারা মনোযোগসহকারে কথা শুনে এবং উহার উত্তম অংশের অনুসরণ করে২৫৬৯ তাহারাই ঐ সকল লোক, যাহাদিগকে আল্লাহ্ হেদায়াত দান করিয়াছেন এবং তাহারাই প্রকৃত বুদ্ধিমান।
২৫৬৯। মো’মেনগণের কাছে যদি দুইটি অনুমোদিত পথ খোলা থাকে, তখন তাহারা দুইটির মধ্যে ঐ পথই অবলম্বন করে, যেটি সর্বোত্তম ফল দান করিবে।

اَفَمَنۡ حَقَّ عَلَیۡہِ کَلِمَۃُ الۡعَذَابِ ؕ اَفَاَنۡتَ تُنۡقِذُ مَنۡ فِی النَّارِ ﴿ۚ۲۰﴾

২০
তবে যাহার উপর আযাবের আদেশ জারী হইয়া গিয়াছে সে কি (রক্ষা পাইতে পারে)? তুমি কি সেই ব্যক্তিকে রক্ষা করিতে পার যে আগুনে আছে?