৩৬

يس

সূরা ইয়াসীন

Ya Sin

মক্কী ৮৪ আয়াত ৫ রুকু পারা ২২–২৩

ইহা মক্কায় অবতীর্ণ, বিসমিল্লাহ্‌সহ ইহাতে ৮৪ আয়াত এবং ৫ রুকু আছে।

وَسَوَآءٌ عَلَیۡہِمۡ ءَاَنۡذَرۡتَہُمۡ اَمۡ لَمۡ تُنۡذِرۡہُمۡ لَا یُؤۡمِنُوۡنَ ﴿۱۱﴾

১১
এবং তুমি তাহাদিগকে সতর্ক কর বা না কর তাহাদের জন্য উভয় সমান, তাহারা ঈমান আনিবে না।২৪৩০
২৪৩০। টীকা ২৬ প্রষ্টব্য।

اِنَّمَا تُنۡذِرُ مَنِ اتَّبَعَ الذِّکۡرَ وَخَشِیَ الرَّحۡمٰنَ بِالۡغَیۡبِ ۚ فَبَشِّرۡہُ بِمَغۡفِرَۃٍ وَّاَجۡرٍ کَرِیۡمٍ ﴿۱۲﴾

১২
তুমি শুধু সেই ব্যক্তিকে সতর্ক করিতে পার যে উপদেশের অনুসরণ করে, এবং অদৃশ্যেও রহমান আল্লাহ্‌কে ভয় করিয়া চলে। অতএব তুমি তাহাকে ক্ষমা এবং সম্মানজনক পুরস্কারের শুভ সংবাদ দাও।

اِنَّا نَحۡنُ نُحۡیِ الۡمَوۡتٰی وَنَکۡتُبُ مَا قَدَّمُوۡا وَاٰثَارَہُمۡ ؕؑ وَکُلَّ شَیۡءٍ اَحۡصَیۡنٰہُ فِیۡۤ اِمَامٍ مُّبِیۡنٍ ﴿٪۱۳﴾

১৩
নিশ্চয় আমরাই মৃতকে জীবিত করি এবং তাহারা যাহা কিছু (ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য) অগ্রে প্রেরণ করে এবং যাহা কিছু পশ্চাতে ফেলিয়া যায় সকলই আমরা লিপিবদ্ধ করিয়া রাখি, বস্তুতঃ প্রত্যেক বস্তুকেই আমরা সুস্পষ্ট কিতাবে২৪৩১ গণনা করিয়া রাখিয়াছি।
সূরা ইয়াসীন - রুকু ১
২৪৩১। ইমাম অর্থ জনগণ বা সেনাদলের নেতা, আদর্শ বা উদাহরণ, কোন জাতির ধর্ম-গ্রন্থ, রাস্তা বা পথ ইত্যাদি (লেইন)।

وَاضۡرِبۡ لَہُمۡ مَّثَلًا اَصۡحٰبَ الۡقَرۡیَۃِ ۘ اِذۡ جَآءَہَا الۡمُرۡسَلُوۡنَ ﴿ۚ۱۴﴾

১৪
এবং তুমি তাহাদের নিকট এক জনপদের২৪৩২ অধিবাসীদের উপমা বর্ণনা কর, যখন তাহাদের নিকট রসূলগণ আসিয়াছিল।
২৪৩২। ‘কারইয়াহ্’ অর্থ শহর, স্থান বা জনপদ, রূপকভাবে ইহা দ্বারা সারা বিশ্বকেও বুঝাইতে পারে। অতএব ‘আসহাবাল কার্ইয়াত’ দ্বারা বিশ্ব-মানবকেও বুঝাযাইতে পারে। অথবা যদি একটি শহরবাসীর কথা বুঝাইয়া থাকে তাহাহইলে মক্কাবাসীদেরকে বুঝাইতে পারে, যাহা ইসলামের মূলকেন্দ্র। এই ক্ষেত্রে ‘মুরসালুন’ (রসূলগণ) বলিতে মহানবী (সাঃ)-কে বুঝাইবে, কেননা তিনি একাধারে সকল নবীর প্রতিনিধি বিশ্ব-নবী ছিলেন।

اِذۡ اَرۡسَلۡنَاۤ اِلَیۡہِمُ اثۡنَیۡنِ فَکَذَّبُوۡہُمَا فَعَزَّزۡنَا بِثَالِثٍ فَقَالُوۡۤا اِنَّاۤ اِلَیۡکُمۡ مُّرۡسَلُوۡنَ ﴿۱۵﴾

১৫
যখন আমরা তাহাদের নিকট (প্রথমে) দুইজন (রসূল কে)২৪৩৩ পাঠাইয়াছিলাম তখন তাহারা উভয়কে মিথ্যাবাদী বলিয়া প্রত্যাখ্যান করিয়াছিল, তখন আমরা তৃতীয়২৪৩৪ একজন (রসূল) দ্বারা (তাহাদিগকে) শক্তিশালী করিলাম; এবং তাহারা বলিল, ‘নিশ্চয় আমরা তোমাদের নিকট রসূলরূপে প্রেরিত হইয়াছি।’
২৪৩৩। এস্থলে দুইজন রসূল দ্বারা মূসা ও ঈসা (আঃ) অথবা ইব্‌রাহীম ও ইসমাঈল (আঃ)-কে বুঝাইতে পারে।
২৪৩৪। তৃতীয় রসূল দ্বারা হযরত মুহাম্মদ (সাঃ),বুঝাইতে পারে যিনি মূসা ও ঈসা (আঃ)-এর ভবিষ্যদ্বাণী পূর্ণ করিয়া এই দুই নবীর সত্যতাকে সাব্যস্ত ও শক্তিশালী করিয়াছেন। তাঁহাদের ভবিষ্যদ্বাণীতে মুহাম্মদ (সাঃ)-এর গুণবিশিষ্ট একজন নবীর আগমনের উল্লেখ ছিল এবং তিনি আসিয়াছেন। (দ্বিতীয় বিবরণ— ১৮ঃ১৮, মথি- ২১ঃ৩৩-৪৬)। অপরদিকে তিনি ইব্‌রাহীম ও ইসমাঈল (আঃ) এই দুই নবীর সত্যতাও জোরদার করিয়াছেন, কেননা হযরত ইব্‌রাহীম ও হযরত ইসমাঈল (আঃ)-এর দোয়ার পরিণাম ও ফলস্বরূপ হযরত নবী করীম (সাঃ) আসিয়াছেন (২ঃ১২৯-১৩০)।

قَالُوۡا مَاۤ اَنۡتُمۡ اِلَّا بَشَرٌ مِّثۡلُنَا ۙ وَمَاۤ اَنۡزَلَ الرَّحۡمٰنُ مِنۡ شَیۡءٍ ۙ اِنۡ اَنۡتُمۡ اِلَّا تَکۡذِبُوۡنَ ﴿۱۶﴾

১৬
তাহারা উত্তরে বলিল, ‘তোমরা আমাদের মত মানুষ বই কিছুই নহ, এবং রহমান আল্লাহ্ কিছুই নাযেল করেন নাই, তোমরা শুধু শুধু মিথ্যা বলিতেছ।’

قَالُوۡا رَبُّنَا یَعۡلَمُ اِنَّاۤ اِلَیۡکُمۡ لَمُرۡسَلُوۡنَ ﴿۱۷﴾

১৭
তাহারা বলিল, ‘আমাদের প্রতিপালক জানেন যে, আমরা নিশ্চয় তোমাদের নিকট রসূলরূপে প্রেরিত হইয়াছি;

وَمَا عَلَیۡنَاۤ اِلَّا الۡبَلٰغُ الۡمُبِیۡنُ ﴿۱۸﴾

১৮
বস্তুতঃ আমাদের উপর দায়িত্ব কেবল স্পষ্টরূপে (পয়গাম) পৌঁছাইয়া দেওয়া।’

قَالُوۡۤا اِنَّا تَطَیَّرۡنَا بِکُمۡ ۚ لَئِنۡ لَّمۡ تَنۡتَہُوۡا لَنَرۡجُمَنَّکُمۡ وَلَیَمَسَّنَّکُمۡ مِّنَّا عَذَابٌ اَلِیۡمٌ ﴿۱۹﴾

১৯
তাহারা বলিল, ‘নিশ্চয় আমরা তোমাদেরকে (আগমন) অশুভ মনে করি, তোমরা যদি তোমাদের কার্যকলাপ হইতে বিরত না হও তাহা হইলে নিশ্চয় আমরা তোমাদিগকে প্রস্তরাঘাতে হত্যা করিব,২৪৩৫ এবং নিশ্চয় আমাদের তরফ হইতে তোমাদিগকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি স্পর্শ করিবে।’
২৪৩৫। ‘রাজামা-হু’ অর্থ সে তাহাকে প্রস্তরাঘাত করিয়াছে। সে তাহাকে থাপড়াইয়া-কিলাইয়া মারিয়াছে; সে তাহাকে অভিশাপ দিয়াছে, সে তাহাকে সমাজচ্যুত করিয়াছে (লেইন)।

قَالُوۡا طَآئِرُکُمۡ مَّعَکُمۡ ؕ اَئِنۡ ذُکِّرۡتُمۡ ؕ بَلۡ اَنۡتُمۡ قَوۡمٌ مُّسۡرِفُوۡنَ ﴿۲۰﴾

২০
তাহারা বলিল, ‘তোমাদের দুর্ভাগ্য তোমাদেরই সঙ্গে আছে। (তোমরা) কি ইহা এইজন্য (বলিতেছ) যে, তোমাদিগকে সৎ উপদেশ দেওয়া হইতেছে? বরং (সত্য কথা এই যে) তোমরা সীমালংঘনকারী জাতি।’