৩৬

يس

সূরা ইয়াসীন

Ya Sin

মক্কী ৮৪ আয়াত ৫ রুকু পারা ২২–২৩

ইহা মক্কায় অবতীর্ণ, বিসমিল্লাহ্‌সহ ইহাতে ৮৪ আয়াত এবং ৫ রুকু আছে।

وَجَآءَ مِنۡ اَقۡصَا الۡمَدِیۡنَۃِ رَجُلٌ یَّسۡعٰی قَالَ یٰقَوۡمِ اتَّبِعُوا الۡمُرۡسَلِیۡنَ ﴿ۙ۲۱﴾

২১
এবং শহরের দূর প্রান্ত২৪৩৬ হইতে এক ব্যক্তি২৪৩৭ দৌড়িয়া২৪৩৮ আসিল, সে বলিল, ‘হে আমার জাতি! তোমরা রসূলগণের অনুসরণ কর।
২৪৩৬। মিন আক্‌সাল্‌ মাদীনাতে—“শহরের দূরপ্রান্ত হইতে” কথা দ্বারা ইহাও বুঝায় যে, ইসলামের কেন্দ্রস্থল (মক্কা মুয়ায্‌যমা) হইতে বহুদূরবর্তী কোন স্থান হইতে।
২৪৩৭। “রাজুলুন” দ্বারা হয়ত প্রতিশ্রুত মসীহের প্রতি ইঙ্গিত করা হইয়াছে, কেননা মহানবী (সাঃ)-এর প্রসিদ্ধ হাদীসে প্রতিশ্রুত মসীহ-মাহদীকে “রাজুলুন” বলিয়া অভিহিত করা হইয়াছে। (বুখারী কিতাবুত তফসীর)।
২৪৩৮। “ইয়াস্ ‘আ” (দৌড়ানো) শব্দটি অর্থ এবং তাৎপর্য বহন করে কতিপয় হাদীসে মহানবী (সাঃ) প্রতিশ্রুত মসীহ্ সম্পর্কেও এই রকম শব্দ ব্যবহার করিয়াছেন, যাহা দ্বারা ইহাই বুঝায় যে, প্রতিশ্রুত মসীহ অবিশ্রান্ত পরিশ্রম, ব্যস্ততা ও দ্রুততার সহিত ঝটিকাপ্রবাহের মত ইসলামের খেদমতে আত্মনিয়োগ করিবেন।

اتَّبِعُوۡا مَنۡ لَّا یَسۡـَٔلُکُمۡ اَجۡرًا وَّہُمۡ مُّہۡتَدُوۡنَ ﴿۲۲﴾

২২
অনুসরণ কর তাহাদের, যাহারা তোমাদের নিকট কোন প্রতিদান চাহে না এবং তাহারা হেদায়াত প্রাপ্ত;

وَمَا لِیَ لَاۤ اَعۡبُدُ الَّذِیۡ فَطَرَنِیۡ وَاِلَیۡہِ تُرۡجَعُوۡنَ ﴿۲۳﴾

২৩
এবং আমার কি হইয়াছে যে আমি তাঁহার ইবাদত করিব না, যিনি আমাকে সৃষ্টি করিয়াছেন; এবং তাঁহারই দিকে তোমাদের সকলকে ফিরাইয়া লইয়া যাওয়া হইবে?

ءَاَتَّخِذُ مِنۡ دُوۡنِہٖۤ اٰلِہَۃً اِنۡ یُّرِدۡنِ الرَّحۡمٰنُ بِضُرٍّ لَّا تُغۡنِ عَنِّیۡ شَفَاعَتُہُمۡ شَیۡئًا وَّلَا یُنۡقِذُوۡنِ ﴿ۚ۲۴﴾

২৪
আমি কি তাঁহাকে ছাড়িয়া অন্য মা’বূদ গ্রহণ করিব?২৪৩৯ যদি রহমান আল্লাহ্ আমাকে কোন ক্ষতি পৌঁছাইতে চাহেন তাহা হইলে তাহাদের সুপারিশ আমার কোন উপকারে আসিবে না, এবং তাহারা আমাকে বাঁচাইতেও পারিবে না;
২৪৩৯। “অন্য মা’বূদ গ্রহণ”—প্রতিশ্রুত মসীহ্-এর আগমনের সময় মানুষ বহুবিধ উপাস্যের আরাধনা করিবে অর্থাৎ তাহারা বস্তুতন্ত্র, মিথ্যা রাজনৈতিক দর্শন, অবাস্তব অর্থনৈতিক মতবাদ ইত্যাদির সাধনা করিবে।

اِنِّیۡۤ اِذًا لَّفِیۡ ضَلٰلٍ مُّبِیۡنٍ ﴿۲۵﴾

২৫
এইরূপ করিলে আমি অবশ্যই প্রকাশ্য ভ্রান্তিতে পড়িব,

اِنِّیۡۤ اٰمَنۡتُ بِرَبِّکُمۡ فَاسۡمَعُوۡنِ ﴿ؕ۲۶﴾

২৬
নিশ্চয় আমি তোমাদের প্রতিপালকের উপর ঈমান আনিয়াছি, অতএব তোমরা আমার কথা শুন।’

قِیۡلَ ادۡخُلِ الۡجَنَّۃَ ؕ قَالَ یٰلَیۡتَ قَوۡمِیۡ یَعۡلَمُوۡنَ ﴿ۙ۲۷﴾

২৭
তাহাকে বলা হইল, ‘তুমি জান্নাতে প্রবেশ কর।’২৪৪০ সে বলিল, ‘হায়! আমার জাতি যদি (আমার পরিণাম) জানিতে পারিত—
২৪৪০। এই আয়াতে ‘রাজুলুন ইয়াস’আ’ সম্বন্ধে বলা হইল, “তুমি জান্নাতে প্রবেশ কর”। ইহা বিশেষভাবে প্রণিধান যোগ্য। কুরআনে যখন সত্যিকার ঈমানদারগণের সকলের জন্যই জান্নাতের প্রতিশ্রুতি রহিয়াছে,তখন এস্থলে ‘রাজুলুন’ এর ক্ষেত্রে জান্নাতে প্রবেশের বিশেষ উক্তিটি বাহ্যদৃষ্টিতে অত্যুক্তি বলিয়া মনে হয়। তবে, ইসলামের জন্য যাহারা জান, মাল, সময় এবং সম্মান সবকিছু উৎসর্গ করিয়াছেন সেইসকল পুণ্যাত্মাগণের জন্য আল্লাহ্‌র বিশেষ নির্দেশে প্রতিশ্রুত মসীহ্ (আঃ) কর্তৃক কাদিয়ানে বিশেষ শর্তে, ‘বেহেশতি মকবেরা’ নামে একটি বিশেষ কবরস্থান স্থাপন করার মাঝে, ‘জান্নাতে প্রবেশ কর’ আদেশটি বাহ্যিকভাবে রূপায়িত হইয়াছে বলিয়া বলা যাইতে পারে। প্রতিশ্রুত মসীহের প্রতি একটি ইলহামে বলা হইয়াছে ‘ইন্নি আনযালতু মা’আকাল্‌ জান্নাতা’ অর্থাৎ হে মসীহ্ তোমার সাথে আমি বেহেশ্‌ত অবতরণ করিয়াছি (তাযকিরাহ্)।এই ইলহামও উপরোক্ত ব্যাখ্যাটির সমর্থন করে (বিস্তারিত জানার জন্য প্রতিশ্রুত মসীহ প্রণীত ‘আল্ ওসীয়্যত’ পুস্তক দ্রষ্টব্য)।

بِمَا غَفَرَ لِیۡ رَبِّیۡ وَجَعَلَنِیۡ مِنَ الۡمُکۡرَمِیۡنَ ﴿۲۸﴾

২৮
যে কিরূপে আমার প্রতিপালক আমাকে ক্ষমা করিয়াছেন এবং আমাকে সম্মানিত লোকদের অন্তর্ভুক্ত করিয়াছেন।’

وَمَاۤ اَنۡزَلۡنَا عَلٰی قَوۡمِہٖ مِنۡۢ بَعۡدِہٖ مِنۡ جُنۡدٍ مِّنَ السَّمَآءِ وَمَا کُنَّا مُنۡزِلِیۡنَ ﴿۲۹﴾

২৯
এবং আমরা তাহার পর তাহার জাতির বিরুদ্ধে আকাশ হইতে কোন সৈন্যদল নাযেল করি নাই এবং না আমরা কখনও এইরূপ নাযেল করি।

اِنۡ کَانَتۡ اِلَّا صَیۡحَۃً وَّاحِدَۃً فَاِذَا ہُمۡ خٰمِدُوۡنَ ﴿۳۰﴾

৩০
উহা কেবল এক বিকট শব্দকারী আযাব ছিল, তখন দেখ! সহসা তোমাদের জীবন প্রদীপ নিভিয়া গেল।২৪৪১
২৪৪১। এই বর্ণনাটা গোলাবর্ষণ, বোমাবর্ষণ অগ্নি-বোমা ও আণবিক বোমা-বর্ষণ ইত্যাদির উপর প্রযোজ্য বলিয়া মনে হয়। ভয়ঙ্কর শব্দে ইহারা নিপতিত হয়। সাথে সাথে যে ভয়ানক অগ্নি নামিয়া আসে, তাহা পতনস্থানও চারি পাশের সব কিছু জ্বালাইয়া পোড়াইয়া ছারখার করিয়া দেয়। মাইলের পর মাইল স্থান জুড়িয়া জীবনের অস্তিত্ব বিলুপ্ত হইয়া যায়।এইরূপ ভয়াবহ ধ্বংসলীলার প্রতিই সূরা কাহাফ ইঙ্গিত রহিয়াছে যে, যাহা কিছু উহার উপর আছে উহাকে আমরা নিশ্চয় বিরান ভূমিতে পরিণত করিব (১৮ঃ৯)।