৩৪

سبأ

সূরা সাবা

Saba

মক্কী ৫৫ আয়াত ৬ রুকু পারা ২২

ইহা মক্কায় অবতীর্ণ, বিসমিল্লাহ্‌সহ ইহাতে ৫৫ আয়াত এবং ৬ রুকু আছে।

قُلۡ لَّکُمۡ مِّیۡعَادُ یَوۡمٍ لَّا تَسۡتَاۡخِرُوۡنَ عَنۡہُ سَاعَۃً وَّلَا تَسۡتَقۡدِمُوۡنَ ﴿٪۳۱﴾

৩১
তুমি বল, ‘তোমাদের জন্য একদিনের মিয়াদ নির্ধারিত আছে,২৩৯৬ যাহা হইতে তোমরা এক মুহূর্ত পশ্চাতেও থাকিতে পারিবে না এবং এক মুহূর্ত সম্মুখেও যাইতে পারিবে না।’
সূরা সাবা - রুকু ৩
২৩৯৬। ইহা বদরের যুদ্ধের দিনকে বুঝাইতে পারে। অথবা ৩২ঃ৬ আয়াতে বর্ণিত দিনকে বুঝাইতে পারে, যাহা এক হাজার বৎসরের সমান বলিয়া উল্লেখিত হইয়াছে। এই হাজার বৎসর অতিক্রমের পর, ইসলাম সত্য ও বিশ্ব-ধর্মরূপে পরিচিত ও গৃহীত হইতে থাকিবে এবং ধীরে ধীরে সারা পৃথিবীতে ছড়াইয়া পড়িবে।

وَقَالَ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا لَنۡ نُّؤۡمِنَ بِہٰذَا الۡقُرۡاٰنِ وَلَا بِالَّذِیۡ بَیۡنَ یَدَیۡہِ ؕ وَلَوۡ تَرٰۤی اِذِ الظّٰلِمُوۡنَ مَوۡقُوۡفُوۡنَ عِنۡدَ رَبِّہِمۡ ۚۖ یَرۡجِعُ بَعۡضُہُمۡ اِلٰی بَعۡضِ ۣالۡقَوۡلَ ۚ یَقُوۡلُ الَّذِیۡنَ اسۡتُضۡعِفُوۡا لِلَّذِیۡنَ اسۡتَکۡبَرُوۡا لَوۡلَاۤ اَنۡتُمۡ لَکُنَّا مُؤۡمِنِیۡنَ ﴿۳۲﴾

৩২
এবং যাহারা কুফরী করিয়াছে তাহারা বলে, ‘আমরা এই কুরআনের উপর কখনও ঈমান আনিব না, এবং উহার উপরও (ঈমান আনিব) না যাহা ইহার সম্মুখে আছে।’ এবং তুমি যদি (সেই সময়কে) দেখিতে পাইতে যখন যালেমদিগকে তাহাদের প্রতিপালকের সম্মুখে দণ্ডায়মান করা হইবে, তখন তাহারা একে অপরের সহিত বিতর্ক করিবে; যাহাদিগকে দুর্বল মনে করা হইয়াছিল তাহারা অহংকারীদিগকে বলিবে, ‘যদি তোমরা না থাকিতে তাহা হইলে আমরা অবশ্যই মো’মেন হইতাম।’২৩৯৭
২৩৯৭। মানব-প্রবৃত্তি এমনই যে, যখন দোষী ব্যক্তি শাস্তির সম্মুখীন হয়, তখন সে নিজের দোষের ও কুকর্মের দায়িত্ব অন্যের উপর চাপাইয়া নিজেকে বাঁচাইতে চায়। এই আয়াত ও পরবর্তী আয়াত দুইটিতে মানুষের প্রবৃত্তির এই দিকটার উপর আলোকপাত করা হইয়াছে।

قَالَ الَّذِیۡنَ اسۡتَکۡبَرُوۡا لِلَّذِیۡنَ اسۡتُضۡعِفُوۡۤا اَنَحۡنُ صَدَدۡنٰکُمۡ عَنِ الۡہُدٰی بَعۡدَ اِذۡ جَآءَکُمۡ بَلۡ کُنۡتُمۡ مُّجۡرِمِیۡنَ ﴿۳۳﴾

৩৩
(তখন) যাহারা অহংকার করিয়াছিল তাহারা তাহাদিগকে বলিবে যাহাদিগকে দুর্বল মনে করা হইত, ‘আমরা কি তোমাদের নিকট হেদায়াত আসিবার পর তোমাদিগকে উহা হইতে বিরত রাখিয়াছিলাম? না, বরং তোমরাই অপরাধী ছিলে।’

وَقَالَ الَّذِیۡنَ اسۡتُضۡعِفُوۡا لِلَّذِیۡنَ اسۡتَکۡبَرُوۡا بَلۡ مَکۡرُ الَّیۡلِ وَالنَّہَارِ اِذۡ تَاۡمُرُوۡنَنَاۤ اَنۡ نَّکۡفُرَ بِاللّٰہِ وَنَجۡعَلَ لَہٗۤ اَنۡدَادًا ؕ وَاَسَرُّوا النَّدَامَۃَ لَمَّا رَاَوُا الۡعَذَابَ ؕ وَجَعَلۡنَا الۡاَغۡلٰلَ فِیۡۤ اَعۡنَاقِ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا ؕ ہَلۡ یُجۡزَوۡنَ اِلَّا مَا کَانُوۡا یَعۡمَلُوۡنَ ﴿۳۴﴾

৩৪
এবং যাহাদিগকে দুর্বল মনে করা হইয়াছিল, তাহারা অহংকারীদিগকে বলিবে, ‘না, বরং (তোমাদের) রাত-দিনের ষড়যন্ত্রই ছিল (যাহা আমাদিগকে বিভ্রান্ত করিয়াছিল), যখন তোমরা আমাদিগকে আদেশ দিতে যেন আমরা আল্লাহ্‌কে অস্বীকার করি এবং তাঁহার সহিত অন্যকে সমমর্যদাসম্পন্ন শরীক স্থির করি।’ এবং যখন তাহারা আযাব দেখিবে তখন তাহারা নিজেদের অনুতাপ গোপন করিবে;২৩৯৮ এবং যাহারা অস্বীকার করিয়া থাকিবে আমরা তাহাদের গলায় বেড়ী পরাইব,২৩৯৮-ক তাহারা যে কার্যকলাপ করিত উহা ছাড়া তাহাদিগকে অন্য কোন প্রতিফল দেওয়া হইবে না।
২৩৯৮। ‘আসার্‌রাহু’ মানে সে ইহা লুকাইয়াছিল, সে ইহা প্রকাশ করিয়াছিল (লেইন)।
২৩৯৮-ক। ‘আনাক’ এর অন্য অর্থ হইল দলনেতা অথবা ধনী লোক (লেইন)।

وَمَاۤ اَرۡسَلۡنَا فِیۡ قَرۡیَۃٍ مِّنۡ نَّذِیۡرٍ اِلَّا قَالَ مُتۡرَفُوۡہَاۤ ۙ اِنَّا بِمَاۤ اُرۡسِلۡتُمۡ بِہٖ کٰفِرُوۡنَ ﴿۳۵﴾

৩৫
এবং আমরা এমন কোন জনপদে কোন রসূল পাঠাই নাই যাহার বিত্তশালী লোকেরা এই কথা বলে নাই যে, (হে রসূলগণ!) ‘তোমাদিগকে যে পয়গাম দিয়া পাঠানো হইয়াছে, নিশ্চয় আমরা উহা অস্বীকার করিতেছি।’২৩৯৯
২৩৯৯। আল্লাহ্‌র নবীগণ আসেন নির্যাতিত, নিপতিত, আশাহত মানবতাকে সমাজের সঠিক স্থানে উন্নীত করিয়া কায়েমী স্বার্থবাদীদের হাত হইতে তাহাদের ন্যায্য প্রাপ্য তাহাদের জন্য নিশ্চিত করিবার জন্য। আর এই কারণেই সকল যুগে ইহাই প্রত্যক্ষ করা গিয়াছে যে, নতুন ঐশী-বাণী আসার সাথে সাথে ধনী, সম্পদশালী, শক্তিধর ও প্রতিপত্তিশালীরা, তথা কায়েমী স্বার্থবাদী মহল নবীর বিরুদ্ধে লাগিয়া যায়।

وَقَالُوۡا نَحۡنُ اَکۡثَرُ اَمۡوَالًا وَّاَوۡلَادًا ۙ وَّمَا نَحۡنُ بِمُعَذَّبِیۡنَ ﴿۳۶﴾

৩৬
এবং তাহারা ইহাও বলিত যে, ‘আমরা ধন-সম্পদ এবং সন্তান-সন্ততিতে অধিক; এবং আমাদিগকে কখনও আযাব দেওয়া হইবে না।’

قُلۡ اِنَّ رَبِّیۡ یَبۡسُطُ الرِّزۡقَ لِمَنۡ یَّشَآءُ وَیَقۡدِرُ وَلٰکِنَّ اَکۡثَرَ النَّاسِ لَا یَعۡلَمُوۡنَ ﴿٪۳۷﴾

৩৭
তুমি বল, ‘নিশ্চয় আমার প্রতিপালক যাহার জন্য চাহেন রিয্‌ক (এর দ্বার) সম্প্রসারিত করিয়া দেন এবং যাহার জন্য চাহেন সংকীর্ণ করিয়া দেন; কিন্তু অধিকাংশ লোকই তাহা জানে না।’
সূরা সাবা - রুকু ৪

وَمَاۤ اَمۡوَالُکُمۡ وَلَاۤ اَوۡلَادُکُمۡ بِالَّتِیۡ تُقَرِّبُکُمۡ عِنۡدَنَا زُلۡفٰۤی اِلَّا مَنۡ اٰمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا ۫ فَاُولٰٓئِکَ لَہُمۡ جَزَآءُ الضِّعۡفِ بِمَا عَمِلُوۡا وَہُمۡ فِی الۡغُرُفٰتِ اٰمِنُوۡنَ ﴿۳۸﴾

৩৮
এবং তোমাদের ধন-সম্পদ এবং তোমাদের সন্তান-সন্ততি এমন কোন বস্তু নহে যে, উহা তোমাদিগকে মর্যাদায় আমার নিকটবর্তী করিয়া দিবে, সেই ব্যাক্তি ব্যতীত যে ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে,২৪০০ এইরূপ লোকদিগকে তাহাদের কৃত-কর্মের জন্য দ্বিগুণ পুরস্কার দেওয়া হইবে এবং তাহারা বালাখানার মধ্যে শান্তির সহিত বসবাস করিবে।
২৪০০। ধন-দৌলত, ক্ষমতা ও মর্যাদা ইত্যাদি দুনিয়ার সম্পদ আল্লাহ্‌র নৈকট্য লাভের উপায় নহে। বরং এইগুলি মানুষকে আল্লাহ্‌র কাছ হইতে দূরে রাখতে চায়। সঠিক বিশ্বাস এবং সৎকর্মই মানুষের প্রকৃত সম্পদ যাহা মানুষের জন্য পরিত্রাণ ও আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টি বহন করিয়া আনে।

وَالَّذِیۡنَ یَسۡعَوۡنَ فِیۡۤ اٰیٰتِنَا مُعٰجِزِیۡنَ اُولٰٓئِکَ فِی الۡعَذَابِ مُحۡضَرُوۡنَ ﴿۳۹﴾

৩৯
এবং যাহারা (আমাদিগকে) আমাদের নিদর্শনাবলী সম্বন্ধে ব্যর্থ করিবার উদ্দেশ্যে চেষ্টা করিবে তাহাদিগকে আযাবের সম্মুখে২৪০১ হাযির করা হইবে।
২৪০১। সত্য ও আল্লাহ্‌র উদ্দেশ্যকে ঠেকাইবার জন্য অবিশ্বাসীরা যত প্রচেষ্টা এবং যত ষড়যন্ত্রই করুক না কেন, তাহারা কখনই সফলতার মুখ দেখিবে না, বরং তাহাদের এই হীন দুষ্কৃতি তাহাদেরই মাথায় ভাঙ্গিয়া পড়িবে।

قُلۡ اِنَّ رَبِّیۡ یَبۡسُطُ الرِّزۡقَ لِمَنۡ یَّشَآءُ مِنۡ عِبَادِہٖ وَیَقۡدِرُ لَہٗ ؕ وَمَاۤ اَنۡفَقۡتُمۡ مِّنۡ شَیۡءٍ فَہُوَ یُخۡلِفُہٗ ۚ وَہُوَ خَیۡرُ الرّٰزِقِیۡنَ ﴿۴۰﴾

৪০
তুমি বল, ‘নিশ্চয় আমার প্রতিপালক স্বীয় বান্দাদের মধ্য হইতে যাহার জন্য চাহেন রিয্‌ক (এর দ্বার) সম্প্রসারিত করিয়া দেন এবং যাহার জন্য চাহেন সংকীর্ণ করিয়া দেন। এবং তোমরা যাহা কিছু খরচ করিবে তিনি অবশ্যই উহার প্রতিদান দিবেন; বস্তুতঃ তিনি রিয্‌কদানকারীদের মধ্যে সর্বোত্তম।