৩৪

سبأ

সূরা সাবা

Saba

মক্কী ৫৫ আয়াত ৬ রুকু পারা ২২

ইহা মক্কায় অবতীর্ণ, বিসমিল্লাহ্‌সহ ইহাতে ৫৫ আয়াত এবং ৬ রুকু আছে।

بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ ﴿۱﴾

১
আল্লাহ্‌র নামে, যিনি অযাচিত-অসীম দাতা, পরম দয়াময়।

اَلۡحَمۡدُ لِلّٰہِ الَّذِیۡ لَہٗ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَمَا فِی الۡاَرۡضِ وَلَہُ الۡحَمۡدُ فِی الۡاٰخِرَۃِ ؕ وَہُوَ الۡحَکِیۡمُ الۡخَبِیۡرُ ﴿۲﴾

২
সকল প্রশংসা আল্লাহ্‌র, আকাশসমূহে যাহা কিছু আছে এবং পৃথিবীতে২৩৭৫ যাহা কিছু আছে সবই তাঁহার। এবং পরকালেও সকল প্রশংসা তাঁহারই,২৩৭৬ এবুং তিনি পরম সর্বজ্ঞাতা।
২৩৭৫। কুরআনের পাঁচটি সূরা যথা ১ম, ৬ষ্ঠ, ১৮শ, ৩৫তম ও বর্তমান আলোচ্য সূরা, ‘সকল প্রশংসা আল্লাহ্‌র’ বাক্য দ্বারা সূচিত হইয়াছে। এই সূরাগুলির প্রত্যেকটিই প্রত্যক্ষ ভাবে কিংবা আকার-ইঙ্গিতে, আল্লাহ্‌র প্রভুত্ব, সর্বশক্তিমানতা ও মাহাত্ম্য নিয়া আলোচনা করিয়াছে।
২৩৭৬। ‘পরকালেও সকল প্রশংসা তাঁহারই’ বাক্যটি দ্বারা ইসলামের সাময়িক পতনের পরে, ইহা পুনরায় যখন বিজয় মাল্যে ভূষিত হইবে, সেই সময়ের কথা এখানে বলা হইয়াছে। সূরা সাজদাহ্’র আয়াতের বিষয়-বস্তুর প্রতি এখানে ইঙ্গিত দেওয়া হইয়াছে। ইহার তাৎপর্য এই যে, কোন নির্দিষ্ট যুগে কি ধরণের শিক্ষা প্রয়োজন, তাহা একমাত্র আল্লাহ্‌ই জ্ঞাত আছেন। তেমনিভাবে, তাহার প্রেরিত শিক্ষা মানুষের হাতে পড়িয়া গ্লানি-প্রাপ্ত ও বিকৃত হইয়া গেলে, তাহা কখন আকাশে উঠাইয়া নেওয়া প্রয়োজন তাহাও তিনি ভালভাবে জানেন। যেরূপভাবে পৃথিবীর দুষিত পানিকে বাষ্পের আকারে আকাশে উত্তোলন করিয়া পরিস্রুত করতঃ পুনরায় বৃষ্টির আকারে তিনি তাহা আবার পৃথিবীতে পাঠাইয়া দেন, শিক্ষার ব্যাপারেও তিনি তদ্রুপই করিয়া থাকেন। যাহা কিছু যমীনে প্রবেশ করে এবং যাহা কিছু উহা হইতে নির্গত হয় এই বাক্যাংশের তাৎপর্য এইরূপও হইতে পারে—মানুষ যাহা বপন করে তাহাই ফসল হিসাবে কাটে। ভালকাজ ভাল ফলোৎপাদন করে, আর মন্দ কাজ মন্দ পরিণামের দিকে লইয়া যায়। এই আয়াতের আরও একটি তাৎপর্য হইতে পারে— আল্লাহ্ বিশেষ বিশেষ ও সাধারণ ঘটনাবলীর প্রত্যেকটি সম্বন্ধে জ্ঞাত— কোনূ জাতির কখন উত্থান হইবে আর কখন পতন ঘটিবে, এই সবকিছুই তাঁহার জানা আছে।

یَعۡلَمُ مَا یَلِجُ فِی الۡاَرۡضِ وَمَا یَخۡرُجُ مِنۡہَا وَمَا یَنۡزِلُ مِنَ السَّمَآءِ وَمَا یَعۡرُجُ فِیۡہَا ؕ وَہُوَ الرَّحِیۡمُ الۡغَفُوۡرُ ﴿۳﴾

৩
যাহা কিছু যমীনে প্রবেশ করে এবং যাহা কিছু উহা হইতে নির্গত হয়, এবং যাহা কিছু আকাশ হইতে নাযেল হয় এবং যাহা কিছু উহাতে আরোহণ করে সবই তিনি জানেন; তিনি পরম দয়াময়, অতীব ক্ষমাশীল।

وَقَالَ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا لَا تَاۡتِیۡنَا السَّاعَۃُ ؕ قُلۡ بَلٰی وَرَبِّیۡ لَتَاۡتِیَنَّکُمۡ ۙ عٰلِمِ الۡغَیۡبِ ۚ لَا یَعۡزُبُ عَنۡہُ مِثۡقَالُ ذَرَّۃٍ فِی السَّمٰوٰتِ وَلَا فِی الۡاَرۡضِ وَلَاۤ اَصۡغَرُ مِنۡ ذٰلِکَ وَلَاۤ اَکۡبَرُ اِلَّا فِیۡ کِتٰبٍ مُّبِیۡنٍ ٭ۙ﴿۴﴾

৪
এবং যাহারা কুফরী করিয়াছে তাহারা বলে, ‘আমাদের উপর (ধ্বংসের) নির্ধারিত মুহূর্ত আসিবে না।’ তুমি বল, ‘না, বরং আমার প্রতিপালকের কসম! যিনি সমস্ত অদৃশ্য বিষয় সম্যক জ্ঞাত, উহা তোমাদের উপর নিশ্চয় আসিবে। আকাশসমূহে ও পৃথিবীতে অবস্থিত কোন পরমাণু পরিমাণ বস্তুও অথবা উহা হইতে ক্ষুদ্রতর অথবা উহা হইতে বৃহত্তর বস্তুও আল্লাহ্ হইতে গোপন নহে, বরং সব কিছুই সুস্পষ্ট কিতাবে লিখা আছে,২৩৭৭
২৩৭৭। পূর্ববর্তী আয়াতের বিষয়টি এই আয়াতে আরও উন্নত ও বিস্তৃত আকারে ব্যক্ত করা হইয়াছে। বিষয়টি হইল, ভালই হউক আর মন্দই হউক, কোন কাজই ফলহীন হয় না। তাই, অবিশ্বাসীদিগকে সাবধান করা হইতেছে যে, ইসলামের প্রতি তাহাদের বিরোধিতা এবং মুসলমানদের প্রতি তাহাদের অত্যাচারের শাস্তি তাহাদিগকে ভুগিতেই হইবে।

لِّیَجۡزِیَ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ ؕ اُولٰٓئِکَ لَہُمۡ مَّغۡفِرَۃٌ وَّرِزۡقٌ کَرِیۡمٌ ﴿۵﴾

৫
যেন তিনি তাহাদিগকে প্রতিদান দেন যাহারা ঈমান আনিয়াছে এবং সৎকর্ম করিয়াছে। ইহারাই ঐ সকল লোক যাহাদের জন্য ক্ষমা এবং সন্মানজনক রিয্‌ক নির্ধারিত আছে।’

وَالَّذِیۡنَ سَعَوۡ فِیۡۤ اٰیٰتِنَا مُعٰجِزِیۡنَ اُولٰٓئِکَ لَہُمۡ عَذَابٌ مِّنۡ رِّجۡزٍ اَلِیۡمٌ ﴿۶﴾

৬
কিন্তু যাহারা (আমাদিগকে) আমাদের নিদর্শনাবলীর ব্যাপারে ব্যর্থ করিবার চেষ্টা করে তাহারাই সেই সকল লোক যাহাদিগকে নিকৃষ্ট প্রকারের যন্ত্রণাদায়ক আযাব দেওয়া হইবে।

وَیَرَی الَّذِیۡنَ اُوۡتُوا الۡعِلۡمَ الَّذِیۡۤ اُنۡزِلَ اِلَیۡکَ مِنۡ رَّبِّکَ ہُوَ الۡحَقَّ ۙ وَیَہۡدِیۡۤ اِلٰی صِرَاطِ الۡعَزِیۡزِ الۡحَمِیۡدِ ﴿۷﴾

৭
এবং যাহাদিগকে জ্ঞান দান করা হইয়াছে তাহারা প্রত্যক্ষ করিতেছে যে, তোমার প্রতিপালকের তরফ হইতে তোমার প্রতি যাহা নাযেল করা হইতেছে ইহা সত্য এবং ইহা মহা পরাক্রমশালী, অতীব প্রশংসাময় সত্তার পথের দিকে পরিচালিত করিতেছে।

وَقَالَ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا ہَلۡ نَدُلُّکُمۡ عَلٰی رَجُلٍ یُّنَبِّئُکُمۡ اِذَا مُزِّقۡتُمۡ کُلَّ مُمَزَّقٍ ۙ اِنَّکُمۡ لَفِیۡ خَلۡقٍ جَدِیۡدٍ ۚ﴿۸﴾

৮
এবং যাহারা কুফরী করিয়াছে তাহারা বলে, (হে লোক সকল!) ‘আমরা কি তোমাদিগকে এমন এক ব্যক্তির সন্ধান দিব যে তোমাদিগকে এই সংবাদ দিয়া বেড়ায় যে, যখন তোমাদিগকে সম্পূর্ণরূপে চূর্ণ বিচূর্ণ করিয়া দেওয়া হইবে, তখন নিশ্চয় তোমরা আবার নতুন সৃষ্টির আকারে উত্থিত হইবে?

اَفۡتَرٰی عَلَی اللّٰہِ کَذِبًا اَمۡ بِہٖ جِنَّۃٌ ؕ بَلِ الَّذِیۡنَ لَا یُؤۡمِنُوۡنَ بِالۡاٰخِرَۃِ فِی الۡعَذَابِ وَالضَّلٰلِ الۡبَعِیۡدِ ﴿۹﴾

৯
সে কি আল্লাহ্‌র নামে মিথ্যা রটনা করিতেছে অথবা সে উন্মাদ?’ না, বরং যাহারা পরকালের উপর ঈমান আনে না তাহারা আযাব এবং ঘোর বিভ্রান্তির মধ্যে পড়িয়া আছে।

اَفَلَمۡ یَرَوۡا اِلٰی مَا بَیۡنَ اَیۡدِیۡہِمۡ وَمَا خَلۡفَہُمۡ مِّنَ السَّمَآءِ وَالۡاَرۡضِ ؕ اِنۡ نَّشَاۡ نَخۡسِفۡ بِہِمُ الۡاَرۡضَ اَوۡ نُسۡقِطۡ عَلَیۡہِمۡ کِسَفًا مِّنَ السَّمَآءِ ؕ اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَاٰیَۃً لِّکُلِّ عَبۡدٍ مُّنِیۡبٍ ﴿٪۱۰﴾

১০
তাহারা কি আকাশ ও পৃথিবীর সেই সকল জিনিষের প্রতি লক্ষ্য করিয়া দেখে নাই, যাহা তাহাদের সম্মুখে এবং তাহাদের পশ্চাতে (তাহাদিগকে পরিবেষ্টন করিয়া) আছে? আমরা ইচ্ছা করিলে তাহাদিগকে ভূগর্ভে পুঁতিয়া দিতে পারি অথবা আকাশের কিছু খণ্ড তাহাদের উপর ফেলিয়া দিতে২৩৭৮ পারি। নিশ্চয় ইহাতে (আল্লাহ্‌র প্রতি) প্রত্যেক বিনয়ী বান্দার জন্য নিদর্শন আছে।
সূরা সাবা - রুকু ১
২৩৭৮। “আমরা ইচ্ছা করিলে তাহাদিগকে ভূগর্ভে পুঁতিয়া দিতে পারি”– বাক্যটি পার্থিব-নিদর্শনের জন্য এবং “আমরা আকাশের কিছু খণ্ড তাহাদের উপর ফেলিয়া দিতে পারি” ঐশী নিদর্শনের জন্য ব্যবহৃত হইয়াছে।