৩২

السجدة

সূরা আস্‌ সাজ্‌দা

As-Sajdah

মক্কী ৩১ আয়াত ৩ রুকু পারা ২১

ইহা মক্কায় অবতীর্ণ, বিসমিল্লাহ্‌সহ ইহাতে ৩১ আয়াত এবং ৩ রুকু আছে।

وَاَمَّا الَّذِیۡنَ فَسَقُوۡا فَمَاۡوٰٮہُمُ النَّارُ ؕ کُلَّمَاۤ اَرَادُوۡۤا اَنۡ یَّخۡرُجُوۡا مِنۡہَاۤ اُعِیۡدُوۡا فِیۡہَا وَقِیۡلَ لَہُمۡ ذُوۡقُوۡا عَذَابَ النَّارِ الَّذِیۡ کُنۡتُمۡ بِہٖ تُکَذِّبُوۡنَ ﴿۲۱﴾

২১
কিন্তু যাহারা দুষ্কর্ম করিয়াছে তাহাদের জন্য বাসস্থল হইবে জাহান্নাম, যখনই তাহারা উহা হইতে বাহির হওয়ার ইচ্ছা করিবে তখনই তাহাদিগকে উহার মধ্যে ফিরাইয়া দেওয়া হইবে এবং তাহাদিগকে বলা হইবে, ‘এখন তোমরা জাহান্নামে আযাবের স্বাদ গ্রহণ কর, যাহাকে তোমরা মিথ্যা বলিয়া অস্বীকার করিতে।’

وَلَنُذِیۡقَنَّہُمۡ مِّنَ الۡعَذَابِ الۡاَدۡنٰی دُوۡنَ الۡعَذَابِ الۡاَکۡبَرِ لَعَلَّہُمۡ یَرۡجِعُوۡنَ ﴿۲۲﴾

২২
এবং আমরা অবশ্যই তাহাদিগকে সেই আসন্ন বড় আযাবের পূর্বে (পৃথিবীতে) ছোট আযাবের স্বাদ গ্রহণ করাইব যেন তাহারা (আমাদের দিকে) ফিরিয়া আসে।২৩২৭
২৩২৭। ‘ছোট আযাব’ ও ‘বড় আযাব’ বলিতে যথাক্রমেঃ (১) ইহলৌকিক শাস্তি ও পারলৌকিক শাস্তি বুঝাইতে পারে; (২) বদরের যুদ্ধে কুরায়শদের পরাজয় ও মক্কার পতন বুঝাইতে পারে; (৩) অবিশ্বাসী জাতিসমূহকে দুঃখ-দারিদ্র্য ও দুর্ভোগ দ্বারা সর্তক করা হয়, কিন্তু তাহারা সর্তক না হইয়া দুষ্কৃতিতে লিপ্ত থাকিলে শেষাবধি তাহাদিগকে ধ্বংস করিয়া ফেলা হয়।

وَمَنۡ اَظۡلَمُ مِمَّنۡ ذُکِّرَ بِاٰیٰتِ رَبِّہٖ ثُمَّ اَعۡرَضَ عَنۡہَا ؕ اِنَّا مِنَ الۡمُجۡرِمِیۡنَ مُنۡتَقِمُوۡنَ ﴿٪۲۳﴾

২৩
এবং সেই ব্যক্তি অপেক্ষা অধিকতর যালেম আর কে হইতে পারে যাহাকে তাহার প্রভুর আয়াতসমুহ স্মরণ করাইয়া দেওয়া হয়, তথাপি সে উহা হইতে বিমুখ হইয়া যায়? নিশ্চয় আমরা অপরাধীদের নিকট হইতে প্রতিশোধ গ্রহণ করিব।
সূরা আস্‌ সাজ্‌দা - রুকু ২

وَلَقَدۡ اٰتَیۡنَا مُوۡسَی الۡکِتٰبَ فَلَا تَکُنۡ فِیۡ مِرۡیَۃٍ مِّنۡ لِّقَآئِہٖ وَجَعَلۡنٰہُ ہُدًی لِّبَنِیۡۤ اِسۡرَآءِیۡلَ ﴿ۚ۲۴﴾

২৪
এবং নিশ্চয় আমরা মূসাকে কিতাব দিয়াছিলাম, অতএব তুমিও উহা (এক কামিল কিতাব) প্রাপ্তি সম্বন্ধে সন্দেহ পোষণ করিও না এবং আমরা সেই কিতাবকে বনী ইসরাঈলের জন্য হেদায়াত স্বরূপ করিয়াছিলাম।

وَجَعَلۡنَا مِنۡہُمۡ اَئِمَّۃً یَّہۡدُوۡنَ بِاَمۡرِنَا لَمَّا صَبَرُوۡا ۟ؕ وَکَانُوۡا بِاٰیٰتِنَا یُوۡقِنُوۡنَ ﴿۲۵﴾

২৫
এবং আমরা তাহাদের মধ্য হইতে এমন বহু ইমাম নিযুক্ত করিয়াছিলাম যাহারা আমাদের আদেশানুযায়ী (লোকদিগকে) হেদায়াত করিত, কেননা তাহারা ধৈর্য সহকারে কাজ করিত এবং আমাদের নিদর্শনসমূহের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস করিত।

اِنَّ رَبَّکَ ہُوَ یَفۡصِلُ بَیۡنَہُمۡ یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ فِیۡمَا کَانُوۡا فِیۡہِ یَخۡتَلِفُوۡنَ ﴿۲۶﴾

২৬
নিশ্চয় তিনিই তোমার প্রতিপালক যিনি কিয়ামতের দিনে তাহাদের মধ্যে সেই বিষয়ে ফয়সালা করিয়া দিবেন যে বিষয়ে তাহারা মতভেদ করিত।

اَوَلَمۡ یَہۡدِ لَہُمۡ کَمۡ اَہۡلَکۡنَا مِنۡ قَبۡلِہِمۡ مِّنَ الۡقُرُوۡنِ یَمۡشُوۡنَ فِیۡ مَسٰکِنِہِمۡ ؕ اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَاٰیٰتٍ ؕ اَفَلَا یَسۡمَعُوۡنَ ﴿۲۷﴾

২৭
ইহা কি তাহাদিগকে হেদায়াত করে নাই যে, আমরা তাহাদের পূর্বে বহু জনগোষ্ঠীকে ধ্বংস করিয়া দিয়াছি যাহাদের বাসগৃহসমূহে তাহারা (এখন) চলাফেরা করিতেছে? নিশ্চয় ইহাতে অনেক নিদর্শন আছে, তথাপি তাহারা কি শুনিতেছে না?

اَوَلَمۡ یَرَوۡا اَنَّا نَسُوۡقُ الۡمَآءَ اِلَی الۡاَرۡضِ الۡجُرُزِ فَنُخۡرِجُ بِہٖ زَرۡعًا تَاۡکُلُ مِنۡہُ اَنۡعَامُہُمۡ وَاَنۡفُسُہُمۡ ؕ اَفَلَا یُبۡصِرُوۡنَ ﴿ؓ۲۸﴾

২৮
তাহারা কি দেখে না যে, আমরা শুষ্ক ভূমির দিকে বারিধারাকে হাঁকাইয়া লইয়া যাই, অতঃপর উহা দ্বারা আমরা শস্য উৎপাদন করি যাহা হইতে (কিয়দংশ) তাহাদের পশুগুলি ভক্ষণ করে এবং (কিয়দংশ) তাহারা নিজেরা আহার করে? তথাপি তাহারা কি দেখিতেছে না?

وَیَقُوۡلُوۡنَ مَتٰی ہٰذَا الۡفَتۡحُ اِنۡ کُنۡتُمۡ صٰدِقِیۡنَ ﴿۲۹﴾

২৯
এবং তাহারা বলে, ‘যদি তোমরা সত্যবাদী হও তাহা হইলে বল দেখি, সেই বিজয় কখন আসিবে?’

قُلۡ یَوۡمَ الۡفَتۡحِ لَا یَنۡفَعُ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡۤا اِیۡمَانُہُمۡ وَلَا ہُمۡ یُنۡظَرُوۡنَ ﴿۳۰﴾

৩০
তুমি বল, ‘যাহারা অস্বীকার করিয়াছে তাহাদের ঈমান সেই বিজয়ের২৩২৮ দিনে তাহাদের কোন উপকার করিবে না এবং তাহাদিগকে কোন অবকাশ দেওয়া হইবে না।’
২৩২৮। বদরের যুদ্ধ দিবস, যাহাকে ‘ফুরকান দিবস’ (ফয়সালার দিন) নামেও অভিহিত করা হইয়াছে (৮ঃ৪২)।