৩২

السجدة

সূরা আস্‌ সাজ্‌দা

As-Sajdah

মক্কী ৩১ আয়াত ৩ রুকু পারা ২১

ইহা মক্কায় অবতীর্ণ, বিসমিল্লাহ্‌সহ ইহাতে ৩১ আয়াত এবং ৩ রুকু আছে।

بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ ﴿۱﴾

১
আল্লাহ্‌র নামে, যিনি অযাচিত-অসীম দাতা, পরম দয়াময়।

الٓـمّٓ ۚ﴿۲﴾

২
আলিফ লাম মীম্।

تَنۡزِیۡلُ الۡکِتٰبِ لَا رَیۡبَ فِیۡہِ مِنۡ رَّبِّ الۡعٰلَمِیۡنَ ؕ﴿۳﴾

৩
সকল জগতের প্রতিপালকের নিকট হইতে এই কিতাব নাযেল হইয়াছে, যাহাতে কোন সন্দেহ নাই।

اَمۡ یَقُوۡلُوۡنَ افۡتَرٰٮہُ ۚ بَلۡ ہُوَ الۡحَقُّ مِنۡ رَّبِّکَ لِتُنۡذِرَ قَوۡمًا مَّاۤ اَتٰہُمۡ مِّنۡ نَّذِیۡرٍ مِّنۡ قَبۡلِکَ لَعَلَّہُمۡ یَہۡتَدُوۡنَ ﴿۴﴾

৪
তাহারা কি বলিতেছে যে, ‘সে নিজেই ইহা রচনা করিয়া লইয়াছে?’ না, বরং ইহা অবশ্যই তোমার প্রভুর নিকট হইতে সমাগত সত্য, যেন তুমি ইহার দ্বারা ঐ জাতিকে সতর্ক করিতে পার যাহাদের নিকট তোমার পূর্বে কোন রসূল আসে নাই, যেন তাহারা হেদায়াত পায়।২৩২০
২৩২০। ‘আলিফ লাম মীম’ গ্রুপের চারিটি সূরার মধ্যে ইহাই শেষ সূরা। এই সূরা চারিটির মূল কেন্দ্রীয় বিষয় হইল এই যে, নৈতিক অধঃপতনের অতল গর্ভে নিপতিত একটি জাতির পুনর্জাগরণ এবং হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর মাধ্যমে এই জাতিটিকে আধ্যাত্মিক উন্নতির উচ্চতম শিখরে উঠাইয়া মহিমান্বিতকরণ। নৈতিক ও আধ্যাত্মিকভাবে মৃত একটি জাতির এই মহাজাগরণকে মৃত্যু পরবর্তী পুনরুত্থানের পক্ষে যুক্তিরূপে দেখানো হইয়াছে। এই চারিটি সূরাতেই বিশ্ব-সৃষ্টিকে উপলক্ষ্য করিয়া মূল বিষয়টির অবতারণা করা হইয়াছে।

اَللّٰہُ الَّذِیۡ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضَ وَمَا بَیۡنَہُمَا فِیۡ سِتَّۃِ اَیَّامٍ ثُمَّ اسۡتَوٰی عَلَی الۡعَرۡشِ ؕ مَا لَکُمۡ مِّنۡ دُوۡنِہٖ مِنۡ وَّلِیٍّ وَّلَا شَفِیۡعٍ ؕ اَفَلَا تَتَذَکَّرُوۡنَ ﴿۵﴾

৫
আল্লাহ্ তিনি, যিনি আকাশমণ্ডল ও পৃথিবী এবং এতদুভয়ের মধ্যে যাহা কিছু আছে সবই ছয় দিনে২৩২১ সৃষ্টি করিয়াছেন; অতঃপর তিনি আরশের২৩২২ উপর অধিষ্ঠিত হইয়াছেন। তিনি ব্যতীত তোমাদের কোন অভিভাবক নাই এবং কোন সুপারিশকারীও নাই। তথাপি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করিতেছ না?
২৩২১। দেখুন ৮৯৪ টীকা।
২৩২২। দেখুন ৫৪ টীকা।

یُدَبِّرُ الۡاَمۡرَ مِنَ السَّمَآءِ اِلَی الۡاَرۡضِ ثُمَّ یَعۡرُجُ اِلَیۡہِ فِیۡ یَوۡمٍ کَانَ مِقۡدَارُہٗۤ اَلۡفَ سَنَۃٍ مِّمَّا تَعُدُّوۡنَ ﴿۶﴾

৬
তিনি আকাশ হইত পৃথিবীর দিকে হুকুম প্রবর্তন করেন; অতঃপর ইহা তাঁহার দিকে উঠিয়া যাইবে এক দিনে, যাহার পরিমাণ হইবে তোমাদের গণনানুসারে এক হাজার বৎসর।২৩২৩
২৩২৩। এই আয়াতটি ইসলামের উত্থান-পতনের ইতিহাসের একটি মহা সংকটময় ক্রান্তি-লগ্নের প্রতি অঙ্গুলি নির্দেশ করিতেছে। ইসলামের প্রথম তিনশত বৎসর নিরবচ্ছিন্ন উন্নতি ও প্রগতির মধ্যে অতিবাহিত হইয়াছিল। হযরত নবী করীম (সাঃ)-এর একটি হাদীসে ইহা সুস্পষ্টভাবে বলা হইয়াছে, “আমি যে শতাব্দীতে আছি তাহাই সর্বোত্তম শতাব্দী, তৎপর সন্নিহিত শতাব্দী, তৎপর তৎসন্নিহিত শতাব্দী” (তিরমিযী, বুখারী-কিতাবুশ্ শাহাদাত)। তিনশত বৎসরের অপ্রতিহত অগ্রগতি ও বিজয়ের পর ইসলাম অধোমুখী হইতে লাগিল। অতঃপর এক হাজার বৎসর ধরিয়া ইসলামের অধঃপতন ও অধোমুখিতা চলিতে লাগিল। এই অধঃপতনের হাজার বৎসরের কথাই আলোচ্য আয়াতটিতে এইভাবে বলা হইয়াছেঃ “অতঃপর ইহা (ইসলাম) তাঁহার দিকে উঠিয়া যাইবে একদিনে যাহার পরিমাণ তোমাদের গণনানুসারে এক হাজার বৎসর।” মহানবী (সাঃ) অন্য এক হাদীসে বলিয়াছেন, “ঈমান সপ্তর্ষিমণ্ডলে উঠিয়া যাইবে এবং পারস্য বংশীয় এক বা একাধিক ব্যক্তি ইহাকে সেখান হইতে পৃথিবীতে নামাইয়া আনিবেন” (বুখারী, কিতাবুত্ তফসীর)। হিজরী চতুর্দশ শতাব্দীর প্রারম্ভে, প্রতিশ্রুত মসীহ ও ইমাম মাহ্দী (আঃ)-এর আগমনে এই অধঃপতনের গতি রুদ্ধ হইয়াছে এবং ইসলামের নব জাগরণ পুনরায় আরম্ভ হইয়াছে।

ذٰلِکَ عٰلِمُ الۡغَیۡبِ وَالشَّہَادَۃِ الۡعَزِیۡزُ الرَّحِیۡمُ ۙ﴿۷﴾

৭
তিনিই অদৃশ্যের এবং দৃশ্যের পরিজ্ঞাতা, মহা পরাক্রমশালী, পরম দয়াময় —

الَّذِیۡۤ اَحۡسَنَ کُلَّ شَیۡءٍ خَلَقَہٗ وَبَدَاَ خَلۡقَ الۡاِنۡسَانِ مِنۡ طِیۡنٍ ۚ﴿۸﴾

৮
যিনি প্রত্যেক বস্তুকে, যাহা তিনি সৃষ্টি করিয়াছেন, সুন্দর রূপ-গুণ দিয়াছেন। এবং তিনি কাদা হইতে মানুষের সৃষ্টির সূচনা করিয়াছেন।

ثُمَّ جَعَلَ نَسۡلَہٗ مِنۡ سُلٰلَۃٍ مِّنۡ مَّآءٍ مَّہِیۡنٍ ۚ﴿۹﴾

৯
অতঃপর তিনি তাহার বংশ সৃষ্টি করিয়াছেন তুচ্ছ পানির নির্যাস হইতে;

ثُمَّ سَوّٰٮہُ وَنَفَخَ فِیۡہِ مِنۡ رُّوۡحِہٖ وَجَعَلَ لَکُمُ السَّمۡعَ وَالۡاَبۡصَارَ وَالۡاَفۡـِٕدَۃَ ؕ قَلِیۡلًا مَّا تَشۡکُرُوۡنَ ﴿۱۰﴾

১০
অতঃপর তিনি তাহাকে পূর্ণ শক্তি দিয়া সুগঠিত করিলেন এবং উহাতে নিজের রূহ হইতে ফুৎকার করিলেন।২৩২৪ এবং তিনি তোমাদিগকে কান, চোখ এবং হৃদয় দান করিলেন, কিন্তু তোমরা অল্পই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।
২৩২৪। ‘রূহ’ শব্দের অর্থ ‘মানবাত্মা’ এবং ‘ঐশী-বাণী’ (লেইন)। অতএব এই আয়াতের দুইটি অর্থ হইতে পারেঃ (কে) মাতৃগর্ভে ভ্রূণের পরিপূর্ণ পরিপুষ্টি লাভের পর ইহাতে আত্মার উদ্ভব ঘটে; (খ) মানুষের আধ্যাত্মিক উন্নতি পরিপূর্ণতা লাভ করিলে তাঁহার ভাগ্যে আল্লাহ্‌র বাণী প্রাপ্তি ঘটে।