السجدة
As-Sajdah
ইহা মক্কায় অবতীর্ণ, বিসমিল্লাহ্সহ ইহাতে ৩১ আয়াত এবং ৩ রুকু আছে।
অবতীর্ণ হওয়ার তারিখ ও প্রসংগ
এই সূরাটিও মক্কায় নাযেল হইয়াছিল। পূর্ববতী সূরা এই মন্তব্য সহ শেষ হইয়াছিল যে, একটি জাতির উত্থান ও পতন সম্পর্কিত সত্যিকার জ্ঞান একমাত্র আল্লাহ্রই নিকট রহিয়াছে এবং একমাত্র আল্লাহ্ই মানুষের বাহ্যিক, নৈতিক এবং আধ্যাত্মিক প্রয়োজনসমূহ মিটাইয়া থাকেন। বর্তমান সূরাটি এই ঘোষণা সহ শুরু হইয়াছে যে, আল্লাহ্ সমস্ত বিশ্ব-জগতের প্রতিপালক, তাহার হাতেই ব্যক্তি ও জাতিসমূহের উত্থান ও অগ্রগতির কারণসমূহ যেমন বিরাজমান, ঠিক তেমনি ব্যক্তি ও জাতিসমূহের ধ্বংস ও পরাজয়ের কারণসমূহ তিনিই নিয়ন্ত্রণ করেন।
বিষয়বস্তু
সূরাটির বিষয়-বস্তু হইতেছে ইসলামের চূড়ান্ত বিজয়ের ঘোষণা। অত্যন্ত জোরালো ভাষায় অবিশ্বাসীদের আরোপকৃত একটি মিথ্যা অভিযোগ খণ্ডন পূর্বক সূরাটি শুরু হইয়াছে। আর সেই অভিযোগ হইতেছে, কুরআন একটি মিথ্যা রচনা এবং হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) একজন ভণ্ড। ইহার জবাবে বলা হইয়াছে যে, হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) আদৌ ভণ্ড নহেন। কেননা, ভণ্ডরা কখনই তাহাদের অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনে সাফল্য লাভ করিতে পারে না। কিন্তু, হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অতি দ্রুত অগ্রগতির দিকে ধাবিত হইতেছে। অন্যদিকে পবিত্র কুরআনও কোন প্রতারণা নয়। কেননা, যথাসময়ে, সত্য এবং ন্যায়ের সমর্থনে এবং মানুষের দৈহিক, নৈতিক ও আধ্যাত্মিক চাহিদা মিটাইবার জন্য কুরআন অবতীর্ণ হইয়াছে। শুধু তাহাই নয়, সমস্ত বিশ্ব-প্রকৃতিও কুরআনের বাণী প্রচারিত হওয়ার অনুকূলে কাজ করিয়া যাইতেছে। অতঃপর,মূল প্রসংগ হইতে কিছুটা সরিয়া গিয়া সূরাটিতে একটি ভবিষ্যদ্বাণী করা হইয়াছে, যাহার মাধ্যমে বলা হইয়াছে যে, ইসলামের প্রাথমিক অগ্রগতির পর প্রায় এক হাজার বছর ব্যাপী ইহার ঔজ্জ্বল্য অনেকটা হ্রাসপ্রাপ্ত হইবে এবং এই সাময়িক অন্ধকারের পর পুনরায় ইসলাম ইহার স্বকীয় বৈশিষ্ট্যে প্রকাশিত হইবে। তখন ইসলাম ইহার মৌলিক মহিমা ও সৌন্দর্যসহ অবারিত উত্তরণের পথে আগাইয়া যাইবে। এই বিষয়টি বিশদভাবে বুঝাইবার জন্য এই সূরাটিতে একটি দৃষ্টান্ত পেশ করা হইয়াছে, যাহাতে বলা হইয়াছে, মানুষ যেইভাবে এক নিতান্ত অনুল্লেখযোগ্য বস্তু তথা কাদা হইতে পর্যায়ক্রমে সৃষ্টির এক পূর্ণতম পর্যায়ে পৌঁছিয়াছে, তেমনি ইসলামও নিতান্ত অসহায় অবস্থা হইতে ধীরে ধীরে শক্তি সঞ্চয় করিবে, সম্প্রসারিত হইবে এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে এক বিরাট শক্তি হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করিবে। শেষের দিকে সূরাটির মূল প্রতিপাদ্য বিষয় সম্পর্কে আলোকপাত করিয়া বলা হইয়াছে যে, হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর আর্বিভাব কোন অভিনব বিষয় নহে। পার্থিব জগতে যেভাবে মাটি উত্তপ্ত ও বিশুষ্ক হইবার পর আল্লাহ্তা’লা মেঘ হইতে বারি বর্ষণ করেন এবং পৃথিবী নূতন জীবন সম্ভারে আন্দোলিত হইয়া উঠে, ঠিক তেমনি, আধ্যাত্মিক ক্ষেত্রেও মানুষ যখন অন্ধকারে পথ-হারা হইয়া এদিক সেদিক ঘুরিয়া বেড়ায় তখন এক ঐশী-বাণী-বাহককে আল্লাহ্তা’লা (ঐশী বারিসহ) প্রেরণ করেন এবং তাঁহার মাধ্যমে আধ্যাত্মিকভাবে মৃত মানব-মণ্ডলী এক নব জীবনে উদ্বুদ্ধ হইয়া উঠে।
بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ ﴿۱﴾
تَنۡزِیۡلُ الۡکِتٰبِ لَا رَیۡبَ فِیۡہِ مِنۡ رَّبِّ الۡعٰلَمِیۡنَ ؕ﴿۳﴾
اَمۡ یَقُوۡلُوۡنَ افۡتَرٰٮہُ ۚ بَلۡ ہُوَ الۡحَقُّ مِنۡ رَّبِّکَ لِتُنۡذِرَ قَوۡمًا مَّاۤ اَتٰہُمۡ مِّنۡ نَّذِیۡرٍ مِّنۡ قَبۡلِکَ لَعَلَّہُمۡ یَہۡتَدُوۡنَ ﴿۴﴾
اَللّٰہُ الَّذِیۡ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضَ وَمَا بَیۡنَہُمَا فِیۡ سِتَّۃِ اَیَّامٍ ثُمَّ اسۡتَوٰی عَلَی الۡعَرۡشِ ؕ مَا لَکُمۡ مِّنۡ دُوۡنِہٖ مِنۡ وَّلِیٍّ وَّلَا شَفِیۡعٍ ؕ اَفَلَا تَتَذَکَّرُوۡنَ ﴿۵﴾
یُدَبِّرُ الۡاَمۡرَ مِنَ السَّمَآءِ اِلَی الۡاَرۡضِ ثُمَّ یَعۡرُجُ اِلَیۡہِ فِیۡ یَوۡمٍ کَانَ مِقۡدَارُہٗۤ اَلۡفَ سَنَۃٍ مِّمَّا تَعُدُّوۡنَ ﴿۶﴾
ذٰلِکَ عٰلِمُ الۡغَیۡبِ وَالشَّہَادَۃِ الۡعَزِیۡزُ الرَّحِیۡمُ ۙ﴿۷﴾
الَّذِیۡۤ اَحۡسَنَ کُلَّ شَیۡءٍ خَلَقَہٗ وَبَدَاَ خَلۡقَ الۡاِنۡسَانِ مِنۡ طِیۡنٍ ۚ﴿۸﴾
ثُمَّ جَعَلَ نَسۡلَہٗ مِنۡ سُلٰلَۃٍ مِّنۡ مَّآءٍ مَّہِیۡنٍ ۚ﴿۹﴾
ثُمَّ سَوّٰٮہُ وَنَفَخَ فِیۡہِ مِنۡ رُّوۡحِہٖ وَجَعَلَ لَکُمُ السَّمۡعَ وَالۡاَبۡصَارَ وَالۡاَفۡـِٕدَۃَ ؕ قَلِیۡلًا مَّا تَشۡکُرُوۡنَ ﴿۱۰﴾