لقمان
Luqman
ইহা মক্কায় অবতীর্ণ, বিসমিল্লাহ্সহ ইহাতে ৩৫ আয়াত এবং ৪ রুকু আছে।
অবতীর্ণ হওয়ার তারিখ, শিরোনাম এবং প্রসংগ
সাধারণভাবে সকলের অভিমত এই যে, আলোচ্য সূরাটি নবী করীম (সাঃ)-এর মক্কী জীবনের মাঝামাঝি সময়ে, অথবা, যেমন কেহ কেহ বলিয়া থাকেন, ৬ষ্ঠ কি ৭ম বৎসরের দিকে নাযেল হইয়াছিল। পূর্ববতী সূরা ‘আর্ রূম’ এই মন্তব্য সহ শেষ হইয়াছিল যে, পবিত্র কুরআন মানুষের আধ্যাত্মিক উন্নতি ও অগ্রগতির জন্য প্রয়োজনীয় সকল শিক্ষাই বিশদভাবে বর্ণনা করিয়াছে। কিন্তু কাফেরদের সত্য দর্শন করার মত দৃষ্টিশক্তি নাই এবং তাহাদের হৃদয়ও মোহরাবদ্ধ হইয়া রহিয়াছে। নিদর্শনের পর নিদর্শন দেখানো সত্বেও এইসব কাফেরগণ বারবার উল্লেখ করিয়া চলিয়াছে যে, হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) একজন মিথ্যাবাদী ও প্রতারক ছাড়া অন্য কিছু নহে। বর্তমান সূরাটি পবিত্র ও দৃঢ় উক্তি সহকারে শুরু হইয়াছে যে, হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কোন মিথ্যাবাদী বা প্রতারক নহেন এবং এই ঐশী কিতাব অর্থাৎ কুরআন মহাজ্ঞানী ও সর্বজ্ঞ আল্লাহ্র নিকট হইতে তাঁহার প্রতি অবতীর্ণ করা হইয়াছে। ইহা জ্ঞান ও প্রজ্ঞায় পরিপূর্ণ এবং ইহা সত্যান্বেষী যে কোন ব্যক্তিকেই সঠিক পথ প্রদর্শন করিয়া থাকে। পূর্ববর্তী সূরাতে ইহাও বলা হইয়াছিল যে, ইসলাম ক্রমাগত সাফল্য ও অগ্রগতির দিকে আগাইয়া যাইবে এবং কাফেররা পরাজয়, গ্লানি ও অপমানের সম্মুখীন হইবে। বর্তমান সূরাটিতে সেইসব বিষয়ে কিছুটা আলোকপাত করা হইয়াছে, যেসব নৈতিক আদর্শ ও লক্ষ্যকে সামনে রাখিয়া ও যেগুলির সত্যিকার বাস্তবায়নের মাধ্যমে ব্যক্তি ও জাতি স্ব-স্ব ক্ষেত্রে উন্নতি সাধন করিতে পারে এবং মহত্ব ও খ্যাতির অধিকারী হইতে পারে।
বিষয়বস্তু
সূরাটির শুরুতেই সফলতা লাভ করিবার অপরিহার্য পূর্বশর্ত হিসাবে সত্যিকার বিশ্বাস ও সঠিক কর্মের কথা বলা হইয়াছে এবং হযরত লুক্মান (আঃ)-এর মুখনিঃসৃত কিছু উক্তির মাধ্যমে কতিপয় বিশ্বজনীন নৈতিকতার মূল-তত্ব সম্পর্কে আলোচনা করা হইয়াছে। এইসব নৈতিক তত্বের মূল কথা হইতেছে, আল্লাহ্ এক এবং অন্যান্য নৈতিক আদর্শ এই মূল বিশ্বাস হইতেই উৎসারিত হইয়াছে। ঐশী একত্ববাদের পর দ্বিতীয় যে উল্লেখযোগ্য বিষয় তাহা হইতেছে, মানুষের প্রতি মানুষের কর্তব্যবোধ, যাহার মধ্যে সর্ব প্রথম অগ্রগণ্যতার দাবী রাখে পিতামাতার প্রতি সন্তানের কর্তব্য। এই দুইটি মৌলিক অনুশাসনের গুরুত্ব অনুধাবনের লক্ষ্যে একজন মুসলমানকে এই শিক্ষা দেওয়া হইয়াছে যে, সে যেন সর্বাবস্থায় আল্লাহ্র প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করে এবং কোন অবস্থাতেই যেন আল্লাহ্র আনুগত্যের মোকাবিলায় অন্য কাহারো প্রতি আনুগত্য না দেখায়, এমনকি, পিতামাতাও যদি আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কাহারো প্রতি আনুগত্য করিতে বলেন, তাহা হইলেও উহার প্রতিদ্বন্দ্বিতায় একমাত্র আল্লাহ্র প্রতিই আনুগত্য প্রদর্শন করিতে হইবে। তবে, এতদসত্বেও পিতামাতার প্রতি সহানুভূতিশীল, দয়ালু ও শ্রদ্ধাশীল থাকিতে হইবে । অতঃপর, বলা হইয়াছে যে, আল্লাহ্র প্রতি মানুষের আনুগত্যের বাস্তব রূপ নামায আদায়ের মাধ্যমে এবং মানুষের প্রতি তাহার দায়িত্ব ভাল কাজে অংশগ্রহণ ও খারাপ কাজ হইতে বিরত থাকার মাধ্যমে প্রতিপালিত হইয়া থাকে। অতঃপর, সূরাটিতে বলা হইয়াছে যে,যখন একজন মো’মেন সত্য প্রচারের কঠিন কাজে নিজেকে নিয়োজিত করে এবং মানুষকে সৎভাবে জীবন যাপন করার আহ্বান জানায়, তখন বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা ও বাধা-বিপত্তি তাহার সম্মুখে আসিয়া দাঁড়ায় এবং তাহাকে বিভিন্ন অত্যাচার, নিপীড়ন ও অপমান সহ্য করিতে হয়। কাজেই এইসব প্রতিকূলতায় ভীত না হইয়া মো’মেনদের উচিত ধৈর্য ও সহিষ্ণুতার সহিত এই অবস্থার মোকাবিলা করা। বস্তুতঃএকজন বিশ্বাসী যখন তাহার উপর ন্যস্ত সত্যও মহৎ কর্তব্য সম্পাদনে অসত্যের প্রবল বিরোধিতাকে ধৈর্য ও সহিষ্ণুতার সহিত মোকাবিলা করে, তখনই সাফল্য তাহার নিকট আসিয়া ধরা দেয় এবং দলে দলে লোক তাহার নিকট আনুগত্য প্রদর্শন করে। তবে একজন মোমেনকে এই সময়ে খুব সতর্কতা অবলম্বন করিতে হইবে এবং এই সময়ে তাহার সম্পর্কে যে উচ্চ প্রশংসা ও জয়ধ্বনি করা হইতে থাকে উহাতে প্রভাবান্বিত না হইয়া এবং অহমিকা ও আত্মশ্লাঘার শিকার না হইয়া তাহাকে মানসিক ভারসাম্য ও সাবধানতা সহকারে পরিস্থিতির মোকাবিলা করিতে হইবে। অতঃপর, সূরাটিতে প্রাকৃতিক নিয়ম-নীতির উল্লেখ পূর্বক বলা হইয়াছে যে, প্রাকৃতিক নিয়ম-কানুন ইসলামের অনুকূলেই কাজ করিতেছে। সূরাটি অবিশ্বাসীদের প্রতি এই সতর্কবাণী উচ্চারণ পূর্বক শেষ হইয়াছে যে, তাহাদের জন্য ফয়সালার দিন খুব দ্রুত আগাইয়া আসিতেছে, যখন তাহাদের মান-সম্মান, সম্পদ এবং প্রতিপত্তি কোনই কাজে আসিবে না। তখন তাহাদের সন্তান-সন্ততিরাও ইসলাম কবুল করিবে এবং ইহার উন্নতিকল্পে নিজ সম্পদরাজি ব্যয় করিবে।
بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ ﴿۱﴾
تِلۡکَ اٰیٰتُ الۡکِتٰبِ الۡحَکِیۡمِ ۙ﴿۳﴾
الَّذِیۡنَ یُقِیۡمُوۡنَ الصَّلٰوۃَ وَیُؤۡتُوۡنَ الزَّکٰوۃَ وَہُمۡ بِالۡاٰخِرَۃِ ہُمۡ یُوۡقِنُوۡنَ ؕ﴿۵﴾
اُولٰٓئِکَ عَلٰی ہُدًی مِّنۡ رَّبِّہِمۡ وَاُولٰٓئِکَ ہُمُ الۡمُفۡلِحُوۡنَ ﴿۶﴾
وَمِنَ النَّاسِ مَنۡ یَّشۡتَرِیۡ لَہۡوَ الۡحَدِیۡثِ لِیُضِلَّ عَنۡ سَبِیۡلِ اللّٰہِ بِغَیۡرِ عِلۡمٍ ٭ۖ وَّیَتَّخِذَہَا ہُزُوًا ؕ اُولٰٓئِکَ لَہُمۡ عَذَابٌ مُّہِیۡنٌ ﴿۷﴾
وَاِذَا تُتۡلٰی عَلَیۡہِ اٰیٰتُنَا وَلّٰی مُسۡتَکۡبِرًا کَاَنۡ لَّمۡ یَسۡمَعۡہَا کَاَنَّ فِیۡۤ اُذُنَیۡہِ وَقۡرًا ۚ فَبَشِّرۡہُ بِعَذَابٍ اَلِیۡمٍ ﴿۸﴾
اِنَّ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ لَہُمۡ جَنّٰتُ النَّعِیۡمِ ۙ﴿۹﴾
خٰلِدِیۡنَ فِیۡہَا ؕ وَعۡدَ اللّٰہِ حَقًّا ؕ وَہُوَ الۡعَزِیۡزُ الۡحَکِیۡمُ ﴿۱۰﴾