২৭

النمل

সূরা আন্‌ নাম্‌ল

An-Naml

মক্কী ৯৪ আয়াত ৭ রুকু পারা ১৯–২০

ইহা মক্কায় অবতীর্ণ, বিসমিল্লাহ্‌সহ ইহাতে ৯৪ আয়াত এবং ৭ রুকু আছে।

بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ ﴿۱﴾

১
আল্লাহ্‌র নামে, যিনি অযাচিত-অসীম দাতা, পরম দয়াময়।

طٰسٓ ۟ تِلۡکَ اٰیٰتُ الۡقُرۡاٰنِ وَکِتَابٍ مُّبِیۡنٍ ۙ﴿۲﴾

২
তা সীন।২১৪৩ এইগুলি হইতেছে কুরআন এবং সুস্পষ্ট (বর্ণনাকারী) কিতাবের আয়াত,২১৪৪
২১৪৩। সংক্ষিপ্ত বর্ণমালার (হুরূফে মুকাত্তায়াত) সাধারণ অলোচনার জন্য দেখুন টীকা ১৬ এবং ১৭৩৮ এবং ‘তা সীন’ সম্বন্ধে ২০৯৪ টীকা দ্রষ্টব্য। ইহা অর্থবহ যে, ২৬ ও ২৮ সূরার প্রারম্ভে যেখানে তা সীন মীম্‌ সংক্ষিপ্ত বর্ণমালা ‘এইগুলি হইতেছে সুস্পষ্ট বর্ণনাকারী কিতাবের আয়াত’ দ্বারা শুরু হইয়াছে, সেখানে বর্তমান সূরার শুরুতে তা সীন যুক্ত হইয়া ‘এইগুলি হইতেছে কুরআন এবং সুস্পষ্ট বর্ণনাকারী কিতাবের আয়াত’ দ্বারা আরম্ভ হইয়াছে। ইহাতে প্রতীয়মান হয় যে, প্রথমোক্ত দুইটি সূরাতে হযরত মূসা (আঃ)-এর কিতাবের মধ্যে কুরআন সম্পর্কে পরোক্ষ উল্লেখ করা হইয়াছে, কিন্তু বর্তমান সূরাতে সেই কিতাবের (কুরআন) নামও উল্লেখ করা হইয়াছে (যেমন উল্লেখ করা হইয়াছে তফসীরাধীন আয়াতে এবং এই সুরারই ৭ ও ৯৩ আয়াতদ্বয়ে)।
২১৪৪। ‘আল্ কুরআন’ এবং ‘এই কিতাব’ গুণবাচক রূপে ব্যবহারের মধ্যে এক বিস্ময়কর ভবিষ্যদ্বাণী নিহিত রহিয়াছে যে, ইসলামের এই পবিত্র কিতাব সর্বকালের জন্য গ্রন্থাকারে সংরক্ষিত হইতে থাকিবে এবং ব্যাপকভাবে ইহা অধ্যয়ন করা হইবে। ‘কুরআন’ শব্দের অর্থ একটি পুস্তক বা গ্রন্থ যাহা বেশী বেশী পাঠ করা হয়। ‘যেহেতু জনসাধারণের ইবাদত, বিদ্যালয় এবং অন্যান্য অনুষ্ঠানাদিতে কুরআনের ব্যবহার ও পাঠ অধিকাংশ খৃষ্টানদেশে বাইবেল পাঠ অপেক্ষা অধিকতর ব্যাপক, সেই জন্য এই মন্তব্য খুবই সঠিক যে, গ্রন্থাবলীর মধ্যে কুরআন সর্বাপেক্ষা ব্যাপকভাবে পঠিত হয়।’ (এনসাইক ব্রিট, ৯ম সংস্করণ, ১৬শ খণ্ড, ৫৯৭ পৃষ্ঠা)।

ہُدًی وَّبُشۡرٰی لِلۡمُؤۡمِنِیۡنَ ۙ﴿۳﴾

৩
যাহা মো’মেনদের জন্য পূর্ণ হেদায়াত এবং শুভসংবাদ,

الَّذِیۡنَ یُقِیۡمُوۡنَ الصَّلٰوۃَ وَیُؤۡتُوۡنَ الزَّکٰوۃَ وَہُمۡ بِالۡاٰخِرَۃِ ہُمۡ یُوۡقِنُوۡنَ ﴿۴﴾

৪
যাহারা নামায কায়েম করে এবং যাকাত দেয় এবং তাহারা পরকালের উপর দৃঢ় বিশ্বাস রাখে।

اِنَّ الَّذِیۡنَ لَا یُؤۡمِنُوۡنَ بِالۡاٰخِرَۃِ زَیَّنَّا لَہُمۡ اَعۡمَالَہُمۡ فَہُمۡ یَعۡمَہُوۡنَ ؕ﴿۵﴾

৫
নিশ্চয় যাহারা পরকালের উপর ঈমান আনে না, আমরা তাহাদের কার্যকলাপকে তাহাদের জন্য সুন্দর করিয়া দেখাই,২১৪৫ সুতরাং তাহারা অন্ধভাবে ঘুরিয়া বেড়ায়।
২১৪৫। ৬ঃ৪৪ এবং ৮ঃ৪৯ আয়াতদ্বয় হইতে ইহা সুস্পষ্ট যে, অসৎলোকের মন্দ এবং অকল্যাণকর কর্মগুলিকে শয়তান তাহাদের চোখে সুন্দর করিয়া দেখায়। কিন্তু তফসীরাধীন আয়াতে বলা হইয়াছে যে, আল্লাহ্‌তা’লা অবিশ্বাসীদিগের কুকর্মগুলিকে তাহাদের দৃষ্টিতে সুন্দর করিয়া দেখান। ইহা প্রাকৃতিক নিয়ম যে, কোন ব্যক্তি যখন মন্দ কাজে অবাধ চলিতে থাকে, যেন তাহাকে এই কুকর্মে জবাবদিহি করিতে হইবে না, তখন সে তাহার এই আচরণকে ভাল এবং সঠিক সাব্যস্ত করিতে চেষ্টা করিতে থাকে এবং ইহা তাহার নজরে তদ্রুপই মনে হয়। প্রকৃত পক্ষে ইহা তাহার আপন কর্মেরই ফল, কিন্তু যেহেতু ইহা ঐশী-নিয়মের অধীনেই সংঘটিত হয় সেহেতু ইহা আল্লাহ্‌র প্রতিই আরোপিত হইয়াছে।

اُولٰٓئِکَ الَّذِیۡنَ لَہُمۡ سُوۡٓءُ الۡعَذَابِ وَہُمۡ فِی الۡاٰخِرَۃِ ہُمُ الۡاَخۡسَرُوۡنَ ﴿۶﴾

৬
এই সকল লোকের জন্য নিকৃষ্ট শাস্তি আছে এবং তাহারাই পরকালে সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত হইবে।

وَاِنَّکَ لَتُلَقَّی الۡقُرۡاٰنَ مِنۡ لَّدُنۡ حَکِیۡمٍ عَلِیۡمٍ ﴿۷﴾

৭
এবং নিশ্চয় তোমাকে কুরআন প্রদান করা হইতেছে পরম প্রজ্ঞাময় সর্বজ্ঞানীর নিকট হইতে।২১৪৬
২১৪৬। আঁ-হযরত (সাঃ)-এর নিজস্ব ধ্যান-ধারণাসমূহ লিপিবদ্ধ করিয়া গ্রন্থাকারে সংকলিত পুস্তকের নাম দেওয়া হইয়াছে ‘কুরআন’—এই অভিযোগ খণ্ডনের অকাট্য দলীল উপস্থাপন করা হইয়াছে এই আয়াতে এবং দ্ব্যর্থহীনভাবে ঘোষণা করা হইয়াছে যে, এই কুরআন তাঁহার উপর সরাসরি নাযেল করা হইয়াছে সর্বজ্ঞানী আল্লাহ্‌তা’লার নিকট হইতে।

اِذۡ قَالَ مُوۡسٰی لِاَہۡلِہٖۤ اِنِّیۡۤ اٰنَسۡتُ نَارًا ؕ سَاٰتِیۡکُمۡ مِّنۡہَا بِخَبَرٍ اَوۡ اٰتِیۡکُمۡ بِشِہَابٍ قَبَسٍ لَّعَلَّکُمۡ تَصۡطَلُوۡنَ ﴿۸﴾

৮
(স্মরণ কর) যখন মূসা নিজ পরিবারবর্গকে বলিল, ‘নিশ্চয় আমি এক আগুন দেখিয়াছি।২১৪৭ আমি উহা হইতে তোমাদের নিকট শীঘ্রই কোন গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ আনিব, অথবা তোমাদের জন্য জ্বলন্ত অংগার আনিব যেন তোমরা আগুন পোহাইতে পার।’
২১৪৭। হযরত মূসা (আঃ) যাহা দেখিয়াছিলেন, বাস্তবে উহা অগ্নি ছিল না। যদি তাহাই হইত, তাহা হইলে তিনি ‘নিশ্চয় আমি এক আগুন দেখিয়াছি’ এর পবিবর্তে বলিতেন, ‘আমি এই আগুন দেখিয়াছি।’ প্রকৃত পক্ষে কাশ্‌ফে বা দিব্য-দৃষ্টিতে মূসা (আঃ) ‘আগুন’ দেখিয়াছিলেন, যাহা আল্লাহ্‌তা’লার ভালবাসার প্রতীক। ইহা লক্ষ্যণীয় যে, হযরত মূসা (আঃ) সম্পর্কিত অধিকাংশ ঘটনাবলী, যেগুলি কুরআন করীমে বর্ণিত হইয়াছে, এই জড়জগতে বাস্তবে সংঘটিত হয় নাই, পরন্ত সেইগুলি আধ্যাত্মিক ক্রমোন্নতির এবং নবুওয়াতের মিশনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলীর কাশ্‌ফ বা দিব্য-দৃষ্টি ছিল। লাঠি সম্বন্ধে কাশ্‌ফ ছাড়াও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাশ্‌ফের কথাও কুরআন মজীদে উল্লেখ রহিয়াছে (৭ঃ১৪৪), তফসীরাধীন আয়াতে এইরূপ একটি উদাহরণই পেশ করা হইয়াছে।

فَلَمَّا جَآءَہَا نُوۡدِیَ اَنۡۢ بُوۡرِکَ مَنۡ فِی النَّارِ وَمَنۡ حَوۡلَہَا ؕ وَسُبۡحٰنَ اللّٰہِ رَبِّ الۡعٰلَمِیۡنَ ﴿۹﴾

৯
অতঃপর যখন সে সেই আগুনের নিকট আসিল, তখন তাহাকে ডাকিয়া বলা হইল, ‘বরকতমণ্ডিত করা হইয়াছে তাহাকে যে আগুনের মধ্যে আছে এবং তাহাদিগকেও যাহারা উহার চতুষ্পার্শ্বে আছে,২১৪৮ এবং সমগ্র জগতের প্রতিপালক আল্লাহ্ অতি পবিত্র;
২১৪৮। এই উক্তির অর্থ হইতে পারেঃ (ক) যে ব্যক্তি আগুনের অনুসন্ধানে আছে এবং যে ইহার নিকটে আছে; (খ) যে প্রকৃত আগুনের মধ্যে আছে এবং যে ইহাতে প্রবিষ্ট হইতে উদ্যত। আগুন আল্লাহ্‌-প্রেমের প্রতীক অথবা কষ্টের পরীক্ষা বা মানসিক যন্ত্রণার প্রতীক। আগুন আল্লাহ্ ছিল না, আল্লাহ্‌ও আগুনের মধ্যে ছিলেন না, উহা কেবল ঐশী নিদর্শন ছিল, যাহার ঔজ্জ্বল্য নিকটবর্তী সকল বস্তুর উপরে পতিত হইয়াছিল।

یٰمُوۡسٰۤی اِنَّہٗۤ اَنَا اللّٰہُ الۡعَزِیۡزُ الۡحَکِیۡمُ ۙ﴿۱۰﴾

১০
হে মূসা! প্রকৃত কথা এই যে, নিশ্চয় আমি আল্লাহ্‌, মহা পরাক্রমশালী, পরম প্রজ্ঞাময়;