২৫

الفرقان

সূরা আল্‌ ফুর্‌কান

Al-Furqan

মক্কী ৭৮ আয়াত ৬ রুকু পারা ১৮–১৯

ইহা মক্কায় অবতীর্ণ, বিসমিল্লাহ্‌সহ ইহাতে ৭৮ আয়াত এবং ৬ রুকু আছে।

وَقَالَ الرَّسُوۡلُ یٰرَبِّ اِنَّ قَوۡمِی اتَّخَذُوۡا ہٰذَا الۡقُرۡاٰنَ مَہۡجُوۡرًا ﴿۳۱﴾

৩১
এবং এই রসূল বলিবে, ‘হে আমার প্রভু! নিশ্চয় আমার জাতি এই কুরআনকে পরিত্যক্ত বস্তু বানাইয়া লইয়াছে।’২০৭৫
২০৭৫। এই আয়াত যথোপযুক্তভাবে তথাকথিত মুসলমানদের প্রতি আরোপিত হইতে পারে, যাহারা কুরআনকে অপ্রয়োজনীয় মনে করিয়াছে এবং ইহাকে পিঠের পিছনে ফেলিয়া রাখিয়াছে। বিগত চৌদ্দশত বৎসরে কুরআন কখনো এত বেশী উপেক্ষিত ও অবহেলিত হয় নাই যেমন হইয়াছে এই যুগের মুসলমান কর্তৃক। নবী করীম (সাঃ) হইতে এই সম্পর্কে এক হাদীস বর্ণিত আছেঃ ‘আমার উম্মতের উপর এমন এক সময় আসিবে যখন নাম ছাড়া ইসলামের আর কিছুই থাকবে না এবং কুরআনের অক্ষর ছাড়া আর কিছুই বাকী থাকিবে না’ (বায়হাকী, ‘শাবুল ঈমান’ অধ্যায়)। বর্তমান যুগই হইতেছে সেই যুগ।

وَکَذٰلِکَ جَعَلۡنَا لِکُلِّ نَبِیٍّ عَدُوًّا مِّنَ الۡمُجۡرِمِیۡنَ ؕ وَکَفٰی بِرَبِّکَ ہَادِیًا وَّنَصِیۡرًا ﴿۳۲﴾

৩২
এইরূপে আমরা সকল নবীর জন্য অপরাধীগণের মধ্য হইতে দুশমন নিয়োজিত করিয়াছি; বস্তুতঃ তোমার প্রভু হেদায়াত দানকারী ও সাহায্য দানকারী হিসাবে যথেষ্ট।

وَقَالَ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا لَوۡلَا نُزِّلَ عَلَیۡہِ الۡقُرۡاٰنُ جُمۡلَۃً وَّاحِدَۃً ۚۛ کَذٰلِکَ ۚۛ لِنُثَبِّتَ بِہٖ فُؤَادَکَ وَرَتَّلۡنٰہُ تَرۡتِیۡلًا ﴿۳۳﴾

৩৩
এবং কাফেরগণ বলিল, ‘কুরআনকে তাহার উপর কেন একত্রে নাযেল করা হইল না?’ এইভাবে (বিভিন্ন সময়ে, বিভিন্ন সুরায়) এইজন্য (নাযেল করিয়াছি) যেন আমরা এতদ্বারা তোমার হৃদয়কে সুদৃঢ় করি। এবং আমরা ইহাকে উত্তম আকারে সুবিন্যস্ত করিয়াছি।২০৭৬
২০৭৬। কুরআন খণ্ড খণ্ডভাবে ক্রমে ক্রমে নাযেল হইয়াছিল। অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উদ্দেশ্য মিটাইবার জন্যই এইরূপ করা হইয়াছিল, যেমনঃ (১) কুরআনের বিভিন্ন অংশ কিছু দিন অন্তর অন্তর নাযেল হইয়া উহাদের মধ্যে নিহিত কোন ভবিষ্যদ্বাণীর পূর্ণতা প্রত্যক্ষ করার জন্য মো’মেনদিগকে সুযোগ করিয়া দিয়াছিল, ফলে তাহাদের ঈমান শক্তিশালী ও দৃঢ় হইয়াছিল। অধিকন্তু এই বিরামকালে অবিশ্বাসীদের উত্থাপিত অভিযোগের জবাব দানের জন্য ইহা অভিপ্রেত ছিল। (২) যখন মুসলমানগণের বিশেষ অবস্থায় কোন বিশেষ প্রয়োজনে পথনির্দেশের আবশ্যক হইত তখনই প্রয়োজনীয় এবং সংশ্লিষ্ট আয়াতসমূহ অবতীর্ণ হইত। ২৩ বৎসর কাল ব্যাপিয়া কুরআন অবতীর্ণ হইয়াছিল। উদ্দেশ্য ছিল রসূল করীম (সাঃ)-এর সঙ্গীগণ ইহাকে স্মরণ রাখিতে, শিক্ষা করিতে এবং আয়ত্ব করিতে যেন সক্ষম হইতে পারে। যদি ইহা সম্পূর্ণ একটি গ্রন্থাকারে একই সঙ্গে নাযেল করা হইত তাহা হইলে অবিশ্বাসীরা বলিতে পারিত যে, নবী করীম (সাঃ) কোন লোক দ্বারা ইহা প্রস্তুত করাইয়াছিলেন। অতঃপর এহেন সম্ভাব্য আপত্তির উত্তর নিহিত ছিল ইহার বিভিন্ন সময়ে, বিভিন্ন উপলক্ষ্যে এবং বহু রকম অবস্থা ও পরিস্থিতির মধ্যে নাযেল হওয়ার মধ্যে। কুরআন খণ্ডে খণ্ডে নাযেল হইয়াছিল যাহাতে ইহা মুখস্থ করিয়া রাখা যায়। টুকরা টুকরাভাবে কুরআন নাযিল হইয়া বাইবেলের নিম্নলিখিত ভবিষ্যদ্বাণী পূর্ণ করিয়াছিলঃ “সে কাহাকে জ্ঞান শিক্ষা দিবে? কাহাকে বার্তা বুঝাইয়া দিবে? কি তাহাদিগকে, যাহারা দুধ ছাড়িয়াছে ও স্তন্য পানে নিবৃত্ত হইয়াছে? কেননা বিধির উপরে বিধি, বিধির উপরে বিধি, পাঁতির উপরে পাঁতি, পাঁতির উপরে পাঁতি; এখানে একটুকু সেখানে একটুকু। শোন! তিনি অস্পষ্টবাক্‌ ওষ্ঠ ও পর-ভাষা দ্বারা এই লোকদের সহিত কথাবার্তা কহিবেন” (যিশাইয়-২৮ঃ৯-১২)।

وَلَا یَاۡتُوۡنَکَ بِمَثَلٍ اِلَّا جِئۡنٰکَ بِالۡحَقِّ وَاَحۡسَنَ تَفۡسِیۡرًا ﴿ؕ۳۴﴾

৩৪
এবং তোমার নিকট তাহারা যত আপত্তি উত্থাপন করে অবশ্যই আমরা তোমার নিকট (উহার) সত্য সঠিক উত্তর এবং সর্বাধিক সুন্দর ব্যাখ্যা পেশ করিয়া দিই।২০৭৭
২০৭৭। ইহা কুরআনের এক স্বাতন্ত্র্যসূচক বৈশিষ্ট্য যে, যেখানে ইহা সকল ঐশী গ্রন্থসমূহের মধ্যে অদ্বিতীয়, যখনই কুরআন আল্লাহ্‌তা’লার অস্তিত্ব, ইসলামের সত্যতা, বা ইহার নিজ ঐশী ভিত্তি, অথবা ধর্মীয় অন্য কোন সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্বন্ধে কোন দাবী উত্থাপন করে, তখনই অন্য কোন প্রতিনিধিত্বের সাহায্য সহায়তার উপর নির্ভর করে না।

اَلَّذِیۡنَ یُحۡشَرُوۡنَ عَلٰی وُجُوۡہِہِمۡ اِلٰی جَہَنَّمَ ۙ اُولٰٓئِکَ شَرٌّ مَّکَانًا وَّاَضَلُّ سَبِیۡلًا ﴿٪۳۵﴾

৩৫
তাহাদিগকে তাহাদের মুখের উপরে২০৭৭-ক দোযখের দিকে একত্রিত করা হইবে— তাহারা হইবে মোকাম-মর্যাদায় অতি নিকৃষ্ট এবং সঠিক পথ হইতে হইবে সর্বাধিক ভ্রান্ত।
সূরা আল্‌ ফুর্‌কান - রুকু ৩
২০৭৭-ক। তাহাদের সর্দারগণের সঙ্গে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হইবে; উযুহু শব্দের অর্থ, নেতা বা সর্দারও হয়।

وَلَقَدۡ اٰتَیۡنَا مُوۡسَی الۡکِتٰبَ وَجَعَلۡنَا مَعَہٗۤ اَخَاہُ ہٰرُوۡنَ وَزِیۡرًا ﴿ۚۖ۳۶﴾

৩৬
এবং মূসাকে আমরা কিতাব দিয়াছিলাম এবং তাহার সহিত তাহার ভাই হারূনকে সহকারী নিযুক্ত করিয়াছিলাম।

فَقُلۡنَا اذۡہَبَاۤ اِلَی الۡقَوۡمِ الَّذِیۡنَ کَذَّبُوۡا بِاٰیٰتِنَا ؕ فَدَمَّرۡنٰہُمۡ تَدۡمِیۡرًا ﴿ؕ۳۷﴾

৩৭
এবং আমরা বলিয়াছিলাম, ‘তোমরা উভয়ে সেই জাতির নিকট যাও যাহারা আমাদের আয়াতসমূহকে মিথ্যা বলিয়া প্রত্যাখ্যান করিয়াছে।’ অতঃপর আমরা তাহাদিগকে সম্পূর্ণরূপে বিধ্বস্ত করিয়া দিলাম।

وَقَوۡمَ نُوۡحٍ لَّمَّا کَذَّبُوا الرُّسُلَ اَغۡرَقۡنٰہُمۡ وَجَعَلۡنٰہُمۡ لِلنَّاسِ اٰیَۃً ؕ وَاَعۡتَدۡنَا لِلظّٰلِمِیۡنَ عَذَابًا اَلِیۡمًا ﴿ۚۖ۳۸﴾

৩৮
এবং নূহের জাতিকেও, যখন তাহারা রসূলগণকে মিথ্যাবাদী বলিয়া প্রত্যাখ্যান করিল তখন আমরা তাহাদিগকে নিমজ্জিত করিলাম এবং মানবজাতির জন্য তাহাদিগকে আমরা এক নিদর্শন করিলাম। এবং আমরা যালেমদের জন্য এক যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত করিয়া রাখিয়াছি।

وَّعَادًا وَّثَمُوۡدَا۠ وَاَصۡحٰبَ الرَّسِّ وَقُرُوۡنًۢا بَیۡنَ ذٰلِکَ کَثِیۡرًا ﴿۳۹﴾

৩৯
এবং আমরা ধ্বংস করিয়া দিয়াছি আদ ও সামূদকে এবং কূপের অধিবাসীগণকে২০৭৮ এবং তাহাদের মধ্যবর্তী আরও বহু জাতিকে,
২০৭৮। তফসীরকারকগণের কাহারও কাহারও মতে ‘ইয়ামামাহ্’র অন্তর্গত একটি শহরের নাম ‘রাস’ যেখানে সামূদ জাতির এক গোত্র বসবাস করিত। অন্যান্যদের মতে তাহাদিগকে এরূপ বলা হইত, কারণ তাহারা তাহাদের নবীকে কুপের মধ্যে নিক্ষেপ করিয়াছিল। তাহারা সামূদ জাতির অবশিষ্টাংশও ছিল।

وَکُلًّا ضَرَبۡنَا لَہُ الۡاَمۡثَالَ ۫ وَکُلًّا تَبَّرۡنَا تَتۡبِیۡرًا ﴿۴۰﴾

৪০
এবং তাহাদের মধ্য হইতে প্রত্যেকের জন্য আমরা দৃষ্টান্ত সমূহ বর্ণনা করিয়া দিয়াছি, কিন্তু (যখন তাহারা শুনিল না তখন) আমরা সকলকেই সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করিয়া দিয়াছি।