২৫

الفرقان

সূরা আল্‌ ফুর্‌কান

Al-Furqan

মক্কী ৭৮ আয়াত ৬ রুকু পারা ১৮–১৯

ইহা মক্কায় অবতীর্ণ, বিসমিল্লাহ্‌সহ ইহাতে ৭৮ আয়াত এবং ৬ রুকু আছে।

وَمَاۤ اَرۡسَلۡنَا قَبۡلَکَ مِنَ الۡمُرۡسَلِیۡنَ اِلَّاۤ اِنَّہُمۡ لَیَاۡکُلُوۡنَ الطَّعَامَ وَیَمۡشُوۡنَ فِی الۡاَسۡوَاقِ ؕ وَجَعَلۡنَا بَعۡضَکُمۡ لِبَعۡضٍ فِتۡنَۃً ؕ اَتَصۡبِرُوۡنَ ۚ وَکَانَ رَبُّکَ بَصِیۡرًا ﴿٪۲۱﴾

২১
এবং আমরা তোমার পূর্বে যত রসূল প্রেরণ করিয়াছি তাহারা সকলেই তো আহার করিত এবং হাটে-বাজারে চলাফেরা করিত। এবং আমরা তোমাদের মধ্য হইতে কতককে কতকের জন্য পরীক্ষা স্বরূপ করিয়াছি (ইহা দেখিবার জন্য যে) তোমরা সবুর কর কিনা। বস্তুতঃ তোমার প্রভু সর্বদ্রষ্টা।
সূরা আল্‌ ফুর্‌কান - রুকু ২

وَقَالَ الَّذِیۡنَ لَا یَرۡجُوۡنَ لِقَآءَنَا لَوۡلَاۤ اُنۡزِلَ عَلَیۡنَا الۡمَلٰٓئِکَۃُ اَوۡ نَرٰی رَبَّنَا ؕ لَقَدِ اسۡتَکۡبَرُوۡا فِیۡۤ اَنۡفُسِہِمۡ وَعَتَوۡ عُتُوًّا کَبِیۡرًا ﴿۲۲﴾

২২
এবং যাহারা আমাদের সাক্ষাতের আশা রাখে না তাহারা বলে, ‘আমাদের উপর ফিরিশ্‌তা নাযেল করা হয় না কেন?২০৭১-ক অথবা আমরা আমাদের প্রতিপালককে প্রত্যক্ষ করি না কেন?’ তাহারা নিজেদের মনে অহংকার পোষণ করিয়াছে এবং বিদ্রোহিতায় সীমা ছাড়াইয়া গিয়াছে।
২০৭১-ক। ২৫২ টীকা দ্রষ্টব্য।

یَوۡمَ یَرَوۡنَ الۡمَلٰٓئِکَۃَ لَا بُشۡرٰی یَوۡمَئِذٍ لِّلۡمُجۡرِمِیۡنَ وَیَقُوۡلُوۡنَ حِجۡرًا مَّحۡجُوۡرًا ﴿۲۳﴾

২৩
যেদিন তাহারা ফিরিশ্‌তাদিগকে প্রত্যক্ষ করিবে সেদিন অপরাধীদের জন্য কোন শুভ সংবাদ থাকিবে না; এবং তাহারা (বিচলিত হইয়া) বলিবে, ‘(আমাদের ও তাহাদের মধ্যে) শক্ত আড়াল চাই!’২০৭২
২০৭২। একজন আরববাসী যখন তাহার অপসন্দ বিষয়ের সম্মুখীন হয় তখন বলিয়া থাকে ‘হিজরান মাহ্‌জূরান’ অর্থাৎ ইহা আমা হইতে দূরে থাকা ভাল যেন আমাকে এজন্য কষ্ট না পাইতে হয় (লেইন এবং মুফরাদাত)। পূর্ববর্তী আয়াতে বর্ণিত অবিশ্বাসীদিগের প্রথম উদ্ধৃত উত্তরে তাহাদিগকে বলা হইয়াছে যে, ফিরিশ্‌তাগণ নিশ্চিতই অবতীর্ণ হইবেন, কিন্তু তাহারা হইবেন শাস্তির ফিরিশ্‌তা এবং তাঁহারা যখন আসিবেন তখন তাহাদেরকে দেখা মাত্রই কাফেরকুল এই দৃশ্যকে ঘৃণা করিবে এবং ফিরিশ্‌তা ও তাহাদের মধ্যে এক শক্তিশালী প্রতিবন্ধক সৃষ্টির আকাংখা করিবে।

وَقَدِمۡنَاۤ اِلٰی مَا عَمِلُوۡا مِنۡ عَمَلٍ فَجَعَلۡنٰہُ ہَبَآءً مَّنۡثُوۡرًا ﴿۲۴﴾

২৪
এবং আমরা তাহাদের সর্ব প্রকার কৃত-কর্মের প্রতি মনোযোগ দিব যাহা তাহারা করিত, অতঃপর উহাদিগকে আমরা বিক্ষিপ্ত ধূলিকণায় পরিণত করিব৷২০৭৩
২০৭৩। এবং অবিশ্বাসীদের কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণ বাতিল করিয়া এবং তাহাদিগকে ধ্বংস করিয়া বাতাসে ধূলিকণার মত ছিন্ন ভিন্ন করিয়া দিয়া তাহাদের দ্বিতীয় দাবীর মোকাবিলা করা হইবে।

اَصۡحٰبُ الۡجَنَّۃِ یَوۡمَئِذٍ خَیۡرٌ مُّسۡتَقَرًّا وَّاَحۡسَنُ مَقِیۡلًا ﴿۲۵﴾

২৫
সেদিন জান্নাতবাসীগণ (তাহাদের) ঠিকানার দিক দিয়াও উৎকৃষ্ট হইবে এবং বিশ্রামাগারের দিক দিয়াও সর্বাধিক সুন্দর-মনোরম হইবে।

وَیَوۡمَ تَشَقَّقُ السَّمَآءُ بِالۡغَمَامِ وَنُزِّلَ الۡمَلٰٓئِکَۃُ تَنۡزِیۡلًا ﴿۲۶﴾

২৬
এবং যেদিন মেঘমালাসহ আকাশ বিদীর্ণ হইবে; এবং বহুল সংখ্যায় ফিরিশ্‌তা নাযেল করা হইবে-–

اَلۡمُلۡکُ یَوۡمَئِذِ ۣالۡحَقُّ لِلرَّحۡمٰنِ ؕ وَکَانَ یَوۡمًا عَلَی الۡکٰفِرِیۡنَ عَسِیۡرًا ﴿۲۷﴾

২৭
সেই দিন সর্বাধিপত্য সত্য সত্যই রহমান আল্লাহ্‌র হইবে।২০৭৪ এবং কাফেরদের জন্য সেই দিনটি হইবে অতি কঠোর।
২০৭৪। বদরের যুদ্ধের দিন কাফেরদিগের জন্য সত্যই এক চরম দুর্দশার দিন ছিল। ইহাই ছিল সেই দিন যখন ইসলামের ভিত্তি সুদৃঢ়ভাবে স্থাপিত হইয়াছিল এবং কুরায়শরা তাহাদের বেদনাদায়ক মনস্তাপ এবং পরাজয়ের মধ্য দিয়া বুঝিতে পারিয়াছিল যে, ইসলাম ধর্ম টিকিয়া থাকার জন্য আসিয়াছে।

وَیَوۡمَ یَعَضُّ الظَّالِمُ عَلٰی یَدَیۡہِ یَقُوۡلُ یٰلَیۡتَنِی اتَّخَذۡتُ مَعَ الرَّسُوۡلِ سَبِیۡلًا ﴿۲۸﴾

২৮
সেদিন যালেম নিজ হস্তদ্বয় দংশন করিয়া বলিবে, ‘হায়, যদি আমি রসূলের সঙ্গে পথ অবলম্বন করিতাম!

یٰوَیۡلَتٰی لَیۡتَنِیۡ لَمۡ اَتَّخِذۡ فُلَانًا خَلِیۡلًا ﴿۲۹﴾

২৯
হায়, আমার দুর্ভাগ্য! যদি আমি অমুককে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করিতাম!

لَقَدۡ اَضَلَّنِیۡ عَنِ الذِّکۡرِ بَعۡدَ اِذۡ جَآءَنِیۡ ؕ وَکَانَ الشَّیۡطٰنُ لِلۡاِنۡسَانِ خَذُوۡلًا ﴿۳۰﴾

৩০
নিশ্চয় সে আমাকে উপদেশ হইতে বিভ্রান্ত করিয়াছে, উহা আমার নিকট আসিবার পর।’ নিশ্চয় শয়তান প্রয়োজনের সময় মানুষকে একা ছাড়িয়া চলিয়া যায়।