الصف
As-Saff
মাদানী সূরা, বিসমিল্লাহসহ ১৫ আয়াত এবং ২ রুকূ
(হিজরতের পরে অবতীর্ণ)
এ সূরা তৃতীয় বা চতুর্থ হিজরি সনে মদীনাতে অবতীর্ণ হয়েছিল বলে মনে হয়, কেননা ৫ম আয়াতে শৃঙ্খলার অভাব সম্বন্ধে এবং নবী করীম (সা.)-এর প্রতি পূর্ণ আনুগত্যের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে বলা হয়েছে। উহুদের যুদ্ধের সময়ে উদ্ভূত পরিস্থিতির ইঙ্গিতবহ এ আয়াত থেকে বুঝা যায়, এ সূরাটি উহুদের যুদ্ধের পরে অবতীর্ণ হয়েছিল। সে যুদ্ধে কয়েকজন মুসলমান পূর্ণ আনুগত্য প্রদর্শনে ব্যর্থ হয়েছিলেন, যার দরুন বিপর্যয় ঘটেছিল। পূর্ববর্তী দুটি সূরাতে অবিশ্বাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ সম্পর্কে এবং যুদ্ধোদ্ভূত সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। এ সূরা সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপ করেছে ইমাম বা নেতার প্রতি পূর্ণ, অবিমিশ্র ও সার্বিক আনুগত্য প্রদর্শনের ওপর এবং নেতার নেতৃত্বে পূর্ণ আস্থা রেখে দৃঢ়তা ও একাত্মতার সঙ্গে সমন্বিতভাবে শত্রুর মোকাবিলা করার ওপর।
আল্লাহর মাহাত্ম্য, বুদ্ধিমত্তা ও শক্তির মহিমা ঘোষণার মধ্য দিয়ে সূরাটি আরম্ভ হয়েছে এবং মুমিনদেরকে ভর্ৎসনার সুরে উপদেশ দেওয়া হয়েছে, তারা যখন তাদের মুখ দিয়ে আল্লাহর পবিত্র গুণাবলি ও প্রশংসা উচ্চারণ করে তখন এটাই অপরিহার্য কর্তব্য হয়ে দাঁড়ায়, তারা যেন নিজেদের কাজের মাধ্যমেও তাদের ঈমানকে প্রতিষ্ঠিত করে। আল্লাহর গুণাবলিকে কাজের মাধ্যমে বাস্তবায়িত করে প্রতিফলিত করার মাঝেই রয়েছে ঈমানের সার্থকতা। মুখের ঈমান ও বাস্তব কার্যাবলির মধ্যে একাত্মতা ও সামঞ্জস্য বিধানে ঈমান সার্থক হয়। অতএব সত্যের পথে যখন তাদেরকে যুদ্ধের আহ্বান জানানো হয় তখন তাদের উচিত সে আহ্বানে সাড়া দিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে দৃঢ়তার সাথে কাফিরদের মোকাবিলা করা এবং নেতার প্রতি অবিচল আস্থা ও আনুগত্য প্রদর্শন করা। অতঃপর এ সূরাতে মূসা (আ.)-এর অনুসারীদের অবাধ্যতার কথা উল্লেখপূর্বক বলা হয়েছে, তারা যেন কখনো এরূপ না করে। এ পরোক্ষ সাবধানবাণী উচ্চারণের পর ঈসা (আ.)-এর সেই ভবিষ্যদ্বাণীর উল্লেখ করা হয়েছে যেখানে তিনি বলেছিলেন, ‘আমার পরে আহমদ নামক এক নবীর আগমন হবে’ এবং সাথে একথাও ঘোষণা করা হয়েছে, অন্ধকারের সন্তানরা আল্লাহর নূরকে (তথা জ্যোতিকে) নিভিয়ে ফেলার প্রাণপণ চেষ্টা করতে থাকবে, কিন্তু তাদের সকল প্রচেষ্টাই ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে। সে আলো সকল উৎকর্ষ ও উজ্জ্বলতা সহকারে ঝলমল করতে থাকবে, এমনকি ইসলাম সকল ধর্মের ওপর বিজয় লাভ করবে। আর সে বিজয় সংঘটিত হবার পূর্বে মুসলমানদেরকে আল্লাহর পথে বহু জান ও মাল কুরবানী করে প্রাণপণ সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে হবে। কেবল এরূপ সংগ্রামের দ্বারা তারা আল্লাহ তা’লার সন্তুষ্টি অর্জন করতে সমর্থ হবে এবং এমন মহামর্যাদার স্থান (অর্থাৎ জান্নাত) লাভ করবে যার ভেতর দিয়ে স্রোতস্বিনী প্রবাহিত থাকবে। মুসলমানদেরকে এ উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে সূরাটি শেষ হয়েছে, তারা যেন আল্লাহর পথে সর্বপ্রকারের দুঃখকষ্ট বরণ করে ও আত্মত্যাগ করে যেমনটা করেছিলেন হযরত ঈসা (আ.)-এর সত্যিকার অনুসারীরা।
** এ সূরায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) সম্পর্কে হযরত ঈসা (আ.)-এর ভবিষ্যদ্বাণীরও উল্লেখ আছে যেখানে হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দ্বিতীয় নাম অর্থাৎ ‘আহমদ’ নামের উল্লেখ করা হয়েছে যেটি মূলত তাঁর (সা.) জামালী তথা সৌন্দর্যময় বহিঃপ্রকাশ। আহমদ সম্পর্কিত পরবর্তী বর্ণনা থেকে স্পষ্ট বুঝা যায়, মহানবী (সা.)-এর জামালী এক প্রতিচ্ছবি শেষ যুগে আবির্ভূত হবে। তখন তাঁর এবং তাঁর অনুসারীদের ইসলামের জামালী দিকটির সেবা করার সৌভাগ্য লাভ হবে আর এই চিত্র স্পষ্টভাবে প্রকাশ করছে যে, এটি ভবিষ্যতের কথা। এই সূরার শেষ অংশে যেহেতু হযরত ঈসা (আ.) এবং তাঁর ভবিষ্যদ্বাণীগুলোর উল্লেখ অব্যাহত আছে, তাই তিনি (আ.) যেভাবে এই ঘোষণা দিয়েছিলেন, কে আছে যে আল্লাহর পথে আমার সাহায্যকারী হবে? তেমনই শেষ যুগেও যখন পুনরায় এই ঘোষণা আসবে, তখন সকল মুসলমান- যারা আন্তরিকতার সাথে এই ভবিষ্যদ্বাণীসমূহে বিশ্বাস রাখে, তারা মুহাম্মদী মসীহর পতাকাতলে একত্রিত হয়ে বলবে, ‘আমরা সর্বতোভাবে মহানবী (সা.)-এর ধর্মের সাহায্যকল্পে মুহাম্মদী মসীহর ধর্মসেবার কাজে সাহায্যকারী হবো।’*
* হযরত খলীফাতুল মসীহ রাবে (রাহে.) কর্তৃক উর্দুতে অনূদিত কুরআন করীমে প্রদত্ত সূরার ভূমিকা দ্রষ্টব্য।
بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ ﴿۱﴾
سَبَّحَ لِلّٰہِ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَمَا فِی الۡاَرۡضِ ۚ وَہُوَ الۡعَزِیۡزُ الۡحَکِیۡمُ ﴿۲﴾
یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لِمَ تَقُوۡلُوۡنَ مَا لَا تَفۡعَلُوۡنَ ﴿۳﴾
کَبُرَ مَقۡتًا عِنۡدَ اللّٰہِ اَنۡ تَقُوۡلُوۡا مَا لَا تَفۡعَلُوۡنَ ﴿۴﴾
اِنَّ اللّٰہَ یُحِبُّ الَّذِیۡنَ یُقَاتِلُوۡنَ فِیۡ سَبِیۡلِہٖ صَفًّا کَاَنَّہُمۡ بُنۡیَانٌ مَّرۡصُوۡصٌ ﴿۵﴾
وَاِذۡ قَالَ مُوۡسٰی لِقَوۡمِہٖ یٰقَوۡمِ لِمَ تُؤۡذُوۡنَنِیۡ وَقَدۡ تَّعۡلَمُوۡنَ اَنِّیۡ رَسُوۡلُ اللّٰہِ اِلَیۡکُمۡ ؕ فَلَمَّا زَاغُوۡۤا اَزَاغَ اللّٰہُ قُلُوۡبَہُمۡ ؕ وَاللّٰہُ لَا یَہۡدِی الۡقَوۡمَ الۡفٰسِقِیۡنَ ﴿۶﴾
وَاِذۡ قَالَ عِیۡسَی ابۡنُ مَرۡیَمَ یٰبَنِیۡۤ اِسۡرَآءِیۡلَ اِنِّیۡ رَسُوۡلُ اللّٰہِ اِلَیۡکُمۡ مُّصَدِّقًا لِّمَا بَیۡنَ یَدَیَّ مِنَ التَّوۡرٰٮۃِ وَمُبَشِّرًۢا بِرَسُوۡلٍ یَّاۡتِیۡ مِنۡۢ بَعۡدِی اسۡمُہٗۤ اَحۡمَدُ ؕ فَلَمَّا جَآءَہُمۡ بِالۡبَیِّنٰتِ قَالُوۡا ہٰذَا سِحۡرٌ مُّبِیۡنٌ ﴿۷﴾
وَمَنۡ اَظۡلَمُ مِمَّنِ افۡتَرٰی عَلَی اللّٰہِ الۡکَذِبَ وَہُوَ یُدۡعٰۤی اِلَی الۡاِسۡلَامِ ؕ وَاللّٰہُ لَا یَہۡدِی الۡقَوۡمَ الظّٰلِمِیۡنَ ﴿۸﴾
یُرِیۡدُوۡنَ لِیُطۡفِـُٔوۡا نُوۡرَ اللّٰہِ بِاَفۡوَاہِہِمۡ وَاللّٰہُ مُتِمُّ نُوۡرِہٖ وَلَوۡ کَرِہَ الۡکٰفِرُوۡنَ ﴿۹﴾
ہُوَ الَّذِیۡۤ اَرۡسَلَ رَسُوۡلَہٗ بِالۡہُدٰی وَدِیۡنِ الۡحَقِّ لِیُظۡہِرَہٗ عَلَی الدِّیۡنِ کُلِّہٖ وَلَوۡ کَرِہَ الۡمُشۡرِکُوۡنَ ﴿٪۱۰﴾