১৮

الكهف

সূরা আল্‌ কাহ্‌ফ

Al-Kahf

মক্কী ১১১ আয়াত ১২ রুকু পারা ১৫–১৬

ইহা মক্কায় অবতীর্ণ, বিসমিল্লাহ্‌সহ ইহাতে ১১১ আয়াত এবং ১২ রুকু আছে।

اِنَّ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ اِنَّا لَا نُضِیۡعُ اَجۡرَ مَنۡ اَحۡسَنَ عَمَلًا ﴿ۚ۳۱﴾

৩১
নিশ্চয় যাহারা ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে (তাহাদের জন্য পুরস্কার অবধারিত), যাহারা উত্তম কর্ম করে, আমরা কখনও তাহাদের প্রতিদান নষ্ট করিব না;

اُولٰٓئِکَ لَہُمۡ جَنّٰتُ عَدۡنٍ تَجۡرِیۡ مِنۡ تَحۡتِہِمُ الۡاَنۡہٰرُ یُحَلَّوۡنَ فِیۡہَا مِنۡ اَسَاوِرَ مِنۡ ذَہَبٍ وَّیَلۡبَسُوۡنَ ثِیَابًا خُضۡرًا مِّنۡ سُنۡدُسٍ وَّاِسۡتَبۡرَقٍ مُّتَّکِئِیۡنَ فِیۡہَا عَلَی الۡاَرَآئِکِ ؕ نِعۡمَ الثَّوَابُ ؕ وَحَسُنَتۡ مُرۡتَفَقًا ﴿٪۳۲﴾

৩২
ইহারাই এমন লোক, যাহাদের জন্য চিরস্থায়ী বাগানসমূহ (নির্ধারিত) আছে, যাহাদের তলদেশ দিয়া নহরসমূহ প্রবহমান থাকিবে, উহাতে তাহাদিগকে সোনার কাঁকন দ্বারা অলংকৃত করা হইবে, এবং তাহারা চিকণ ও মোটা রেশমের সবুজ বস্ত্রসমূহ পরিধান করিবে, তথায় তাহারা সুসজ্জিত পালঙ্কসমূহের উপর (তাকিয়ায়) হেলান দিয়া উপবিষ্ট থাকিবে,১৬৮৮ ইহা কত উত্তম পুরস্কার এবং কত মনোরম বিশ্রামস্থল!
সূরা আল্‌ কাহ্‌ফ - রুকু ৪
১৬৮৮। সোনার কাঁকন রাজপদের প্রতীক। তাই তফসীরাধীন আয়াতের মর্ম ইহাই হইতে পারে যে, মুসলমানগণ বিশাল এবং প্রতাপশালী সাম্রাজের শাসকরূপে প্রতিষ্ঠিত হইবে এবং অপরিমিত ক্ষমতা, সম্মান ও মর্যাদার অধিকারী হইবে, এবং তাহাদের স্ত্রীলোকগণ সোনালী জরি ও বুটিদার সুন্দর রেশমী ভূষণ পরিধান করিবে। এই ভবিষ্যদ্বাণী তখন পূর্ণ হইয়াছিল যখন পারশ্য ও রোম সাম্রাজ্যের রাজ-ভাণ্ডার সেই সকল মুসলমানদের পদতলে সমর্পিত হইয়াছিল যাহারা এক সময় পশুর মোটা চামড়া ও লোম দ্বারা নির্মিত বস্ত্র পরিধান করিত।

وَاضۡرِبۡ لَہُمۡ مَّثَلًا رَّجُلَیۡنِ جَعَلۡنَا لِاَحَدِہِمَا جَنَّتَیۡنِ مِنۡ اَعۡنَابٍ وَّحَفَفۡنٰہُمَا بِنَخۡلٍ وَّجَعَلۡنَا بَیۡنَہُمَا زَرۡعًا ﴿ؕ۳۳﴾

৩৩
এবং তুমি তাহাদের সম্মুখে সেই দুই ব্যক্তির উপমা বর্ণনা কর, যাহাদের মধ্য হইতে একজনের জন্য আমরা দুইটি আঙ্গুরের বাগান প্রস্তুত করিয়াছিলাম এবং উভয় বাগানকে আমরা খর্জূর বৃক্ষ দ্বারা (চারিদিক দিয়া) ঘিরিয়া রাখিয়াছিলাম এবং উভয়ের মধ্যে আমরা শস্য-ক্ষেত্র প্রস্তুত করিয়াছিলাম।১৬৮৯
১৬৮৯। এই আয়াতে খৃষ্টান এবং মুসলমান দুইটি জাতির অবস্থা রূপক কাহিনীরূপে আরম্ভ হইয়াছে। ‘দুইটি লোক’ দুইটি জাতিকে উপস্থাপন করিতেছে এবং ‘দুইটি বাগান’ খৃষ্টান জাতিসমূহের দুইটি উত্থানকালের প্রতিরূপ বর্ণনা করিতেছে। এই আয়াত চিহ্নিত করিয়া দেয় যে, খৃষ্টান জাতিগুলি তাহাদের বৈচিত্রময় ইতিহাসের মধ্যে ‘দুইবার’ প্রবল পরাক্রান্ত শক্তিতে উত্থিত হইবে। প্রথমবার ইসলামের আবির্ভাবের পূর্বে এবং দ্বিতীয় উত্থান হইয়াছিল সপ্তদশ খৃষ্টীয় শতাব্দীর গোড়ার দিকে যখন ইউরোপের খৃষ্টান জাতিসমূহ গুরত্বপূর্ণ উন্নতি করিতে আরম্ভ করিয়াছিল। তাহারা অভাবনীয় ক্ষমতা ও মর্যাদা অর্জন করিল যাহা উনবিংশ শতাব্দীতে সবোচ্চ শিখরে পৌঁছিয়াছিল।

کِلۡتَا الۡجَنَّتَیۡنِ اٰتَتۡ اُکُلَہَا وَلَمۡ تَظۡلِمۡ مِّنۡہُ شَیۡئًا ۙ وَّفَجَّرۡنَا خِلٰلَہُمَا نَہَرًا ﴿ۙ۳۴﴾

৩৪
বাগান দুইটির প্রত্যেকটি (প্রচুর পরিমাণে) নিজ নিজ ফল উৎপাদন করিত এবং ইহাতে (উৎপাদন) কিছুই কম করিত না। এবং উহাদের মধ্যে আমরা এক নহর১৬৯০ প্রবাহিত করিয়াছিলাম।
১৬৯০। ‘নহর’ শব্দ হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর যামানাকে চিহ্নিত করে, যাহার মাধ্যমে হযরত মূসা (আঃ) ও হযরত ঈসা (আঃ)-এর প্রকৃত শিক্ষার অংশসমূহ সংরক্ষিত হইয়াছিল।

وَّکَانَ لَہٗ ثَمَرٌ ۚ فَقَالَ لِصَاحِبِہٖ وَہُوَ یُحَاوِرُہٗۤ اَنَا اَکۡثَرُ مِنۡکَ مَالًا وَّاَعَزُّ نَفَرًا ﴿۳۵﴾

৩৫
এইভাবে তাহার (প্রচুর) ফল লাভ হইত। এইজন্য সে তাহার সঙ্গীকে তাহার সহিত আলোচনাকালে (গর্ব করিয়া) বলিল, ‘তোমা অপেক্ষা আমি ধন-সম্পদে অধিকতর প্রাচুর্যশালী এবং জনবলে অধিকতর শক্তিশালী।’১৬৯০-ক
১৬৯০-ক। দরিদ্র এবং ক্ষমতাবিহীন মুসলমানদিগকে তাহাদের দারিদ্র্য ও পার্থিব উপায় উপকরণের অভাবের প্রতি ক্ষমতাশালী এবং উন্নত খৃষ্টান জাতিগুলি উপহাস করিবে এবং ঘৃণা করিবে।

وَدَخَلَ جَنَّتَہٗ وَہُوَ ظَالِمٌ لِّنَفۡسِہٖ ۚ قَالَ مَاۤ اَظُنُّ اَنۡ تَبِیۡدَ ہٰذِہٖۤ اَبَدًا ﴿ۙ۳۶﴾

৩৬
এবং সে নিজের আত্মার উপর যুলুমকারী অবস্থায় নিজ বাগানে প্রবেশ করিল। সে বলিল, “আমি মনে করি না যে ইহা কখনও ধ্বংস হইবে;”১৬৯১
১৬৯১। পার্থিব উন্নতিতে অহংকারমত্ত হইয়া পাশ্চাত্যের ধৃষ্টান জাতিগুলি অঢেল আরাম এবং বিলাসপূর্ণ জীবনে গা ঢালিয়া দিবে এবং অতিশয় আত্মগর্ব ও ঔদ্ধত্যে এই ভুল ধারণা করিবে যে, তাহাদের ক্ষমতা, অগ্রগতি ও উন্নতি চিরস্থায়ী হইয়া থাকিবে এবং নিরাপত্তা ও আত্ম প্রসাদের মিথ্যা ধারণার বশবর্তী হইয়া তাহারা অপরাধ বৃত্তি ও পাপাচারে ডুবিয়া যাইবে।

وَّمَاۤ اَظُنُّ السَّاعَۃَ قَآئِمَۃً ۙ وَّلَئِنۡ رُّدِدۡتُّ اِلٰی رَبِّیۡ لَاَجِدَنَّ خَیۡرًا مِّنۡہَا مُنۡقَلَبًا ﴿۳۷﴾

৩৭
এবং আমি মনে করি না যে, সেই নির্ধারিত (ধ্বংসের) সময় কখনও আসিবে। আর যদি আমাকে আমার প্রতিপালকের নিকট ফিরাইয়া লইয়া যাওয়া হয় তাহা হইলে আমি নিশ্চয় ইহা অপেক্ষা উত্তম প্রত্যাবর্তন-স্থান পাইব।’

قَالَ لَہٗ صَاحِبُہٗ وَہُوَ یُحَاوِرُہٗۤ اَکَفَرۡتَ بِالَّذِیۡ خَلَقَکَ مِنۡ تُرَابٍ ثُمَّ مِنۡ نُّطۡفَۃٍ ثُمَّ سَوّٰٮکَ رَجُلًا ﴿ؕ۳۸﴾

৩৮
তাহার সঙ্গী, যখন সে তাহার সহিত বিতর্ক করিতেছিল, তাহাকে বলিল, ‘তুমি কি তাঁহাকে অস্বীকার করিয়াছ যিনি তোমাকে (প্রথমে) মাটি হইতে, অতঃপর শুক্র-বীর্য হইতে সৃষ্টি করিয়াছেন, ইহার পর তিনি তোমাকে মানুষের আকারে পুর্ণাঙ্গ করিয়াছেন?’

لٰکِنَّا۠ ہُوَ اللّٰہُ رَبِّیۡ وَلَاۤ اُشۡرِکُ بِرَبِّیۡۤ اَحَدًا ﴿۳۹﴾

৩৯
কিন্তু (আমি বিশ্বাস করি) আল্লাহ্‌ই আমার প্রতিপালক এবং আমি কাহাকেও আমার প্রতিপালকের সহিত শরীক করি না;

وَلَوۡلَاۤ اِذۡ دَخَلۡتَ جَنَّتَکَ قُلۡتَ مَا شَآءَ اللّٰہُ ۙ لَا قُوَّۃَ اِلَّا بِاللّٰہِ ۚ اِنۡ تَرَنِ اَنَا اَقَلَّ مِنۡکَ مَالًا وَّوَلَدًا ﴿ۚ۴۰﴾

৪০
এবং যখন তুমি তোমার বাগানে প্রবেশ করিয়াছিলে তখন তুমি কেন বলিলে না (যে উহাই হইবে) যাহা আল্লাহ্ চাহিবেন, (কারণ) আল্লাহ্‌র সহায়তা ব্যতিরেকে কোন শক্তি (অর্জিত) হইতে পারে না; যদিও আমাকে তুমি ধনে ও সন্তান-সন্ততিতে তোমা আপেক্ষা কম দেখ;