الكهف
Al-Kahf
ইহা মক্কায় অবতীর্ণ, বিসমিল্লাহ্সহ ইহাতে ১১১ আয়াত এবং ১২ রুকু আছে।
অবতীর্ণ হওয়ার তারিখ এবং প্রসংগ
হযরত ইবনে আব্বাস এবং ইবনে যোবায়েরের মতে এই সূরার সম্পূর্ণ অংশ মক্কায় নাযিল হইয়াছে (মনসূর)। কুরআন শরীফের অধিকাংশ তফসীরকারক এই মতকে সমর্থন করেন। পাশ্চাত্যের পণ্ডিতবর্গ নবুওয়াতের ৬ষ্ঠ বছরে এই সূরা অবতীর্ণ হইয়াছে বলিয়া মত পোষণ করেন, কিন্তু খুব সম্ভব এই সূরাটি ৪র্থ কিংবা ৫ম বৎসরে অবতীর্ণ হইয়াছিল। হযরত আনাসের বর্ণনানুযায়ী এই সমগ্র সূরাটি একবারে নাযেল হয় এবং ৭০,০০০ (সত্তর হাজার) ফিরিশ্তা ইহার প্রহরী হিসাবে কাজ করে (মনসূর, ৪র্থ খণ্ড, পৃষ্ঠা-২১০)। সূরা নহলে ভবিষ্যদ্বাণী করা হইয়াছিল যে, ইহুদী এবং খৃষ্টান এই উভয় সম্প্রদায় হইতে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কঠোর বিরোধিতার সম্মুখীন হইবেন। এই বিষয়টি সূরা বনী ইসরাঈলে আরো বিশদভাবে উল্লেখ করিয়া বলা হইয়াছিল যে, তিনি অচিরেই এমন এলাকায় গমন করিবেন যেইখানে তাহাকে ইহুদীদের মধ্যে বসবাস করিতে হইবে। তিনি তাহাদের সংস্পর্শে আসিয়া নূতন করিয়া যোগাযোগের সূত্র স্থাপন করিবেন। পরিশেষে ইহুদী এবং খৃষ্টান উভয় সম্প্রদায় হইতেই তাহার সহিত তীব্র বিরোধিতা করা হইবে। কিন্তু পরিণামে তিনিই বিজয়ী হইবেন। সূরা বনী ইসরাঈলে হযরত রসূলুল্লাহ্ (সাঃ)-এর ইস্রা বা একটি আধ্যাত্মিক নৈশ ভ্রমণের ঘটনা বর্ণিত হইয়াছিল, যাহার মধ্যে এই ভবিষ্যদ্বাণী নিহিত ছিল যে, তিনি ইহুদীদের পবিত্রভূমি বিজয় করিবেন। প্রসঙ্গক্রমে আরো উল্লেখ করা হইয়াছিল যে, তওরাতের দ্বিতীয় বিবরণের ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী ইহুদীদের দুইবার জাতীয় বিপর্যয় সংঘটিত হইবে। ইহুদীদের প্রথম বিপর্যয় ঘটে হযরত দাউদ (আঃ)-এর পরবর্তী সময়ে, যাহার পরিণতিতে তাহারা তাহাদের মাতৃভূমি হইতে বিতাড়িত হয়। কিন্তু তাহারা তাহাদের অন্যায় কর্মের জন্য অনুশোচনা করিলে আল্লাহ্র অনুগ্রহে তাহারা আবার নিজ মাতৃভূমি ফিরিয়া পায়। পরে তাহারা আবার পাপকার্যে রত হয়, আল্লাহর বিধান অমান্য করে এবং হযরত ঈসা (আঃ)-এর সময় দ্বিতীয়বারের মত বিদ্রোহী হইয়া পড়ে। এই দ্বিতীয়বারের বিদ্রোহ তাহাদের জন্য অধিকতর আযাবের কারণ হয়, যাহার ফলে তাহাদের পবিত্র স্থানগুলি ধ্বংস করা হয় এবং তাহাদের প্রতিশ্রুত পবিত্র ভূমি হইতেও তাহাদেরকে বিতাড়িত করা হয়। এই ভবিষ্যদ্বাণীগুলিতে বনী ইসরাঈলদের প্রথম অংশ অর্থাৎ ইহুদীরা কি অবস্থার মধ্য দিয়া অতিবাহিত করিবে সেই বিষয়ের দুঃখজনক ইঙ্গিত রহিয়াছে। তাহাদের এই অবস্থা বিশ্লেষণে দুইটি প্রশ্ন উত্থাপিত হওয়া স্বাভাবিক। প্রথমতঃ খৃষ্টানরা, যাহারা মূসায়ী শরীয়াতের দ্বিতীয় অংশ, তাহারা যদি ইহুদীদের সদৃশ ঐশী আযাব হইতে বাঁচিয়া যায়, তাহা হইলে ইহা কি বুঝা যায় না যে, ইহুদীদের কাছে প্রতিশ্রুত ঐশী অনুকম্পার যোগ্য উত্তরসূরী হইতেছে তাহারাই অর্থাৎ খৃষ্টান সম্প্রদায়? আর দ্বিতীয়তঃ, মুসলমানদেরকে কেনই বা বারবার সতর্ক করা হইতেছে যে, তাহারা যেন ইহুদীদের অনুসরণ করিয়া ঐশী কোপগ্রস্ত হইয়া না পড়ে? এই সতর্কবাণীর পশ্চাতে কি পটভূমি রহিয়াছে বা তাহাদের জন্য ভবিষ্যতের গর্ভেই কি নিহিত রহিয়াছে তাহা অবশ্যই গভীর ভাবে অনুধাবন করার প্রয়োজন।
বিষয়বস্তু
উল্লেখিত দুইটি স্বাভাবিক ও প্রাসঙ্গিক প্রশ্নেরই জওয়াব সুন্দরভাবে এই সূরাতে দেওয়া হইয়াছে। সাথে সাথে মূসায়ী বিধানের দ্বিতীয় শাখা, অর্থাৎ খৃষ্টান সম্প্রদায়ের প্রারম্ভ এবং শেষ পরিণতি সম্পর্কেও সূরাটিতে আলোকপাত করা হইয়াছে। তৎসংগে মুসলমান জাতি ইহুদী জাতির সদৃশ পাপাচারে লিপ্ত হওয়ার ফলে কিভাবে আল্লাহ্তা’লার কোপগ্রস্ত হইবে তাহাও বলা হইয়াছে। তৎপর এই বিষয়গুলির সহিত সম্পর্কযুক্ত আরেকটি উল্লেখযোগ্য প্রশ্নের ভূমিকা পেশ করা হইয়াছে, এবং তাহা হইলঃ এই বিষয়গুলির সহিত আস্হাবে কাহ্ফের ঘটনা, যুল-কারনাইন, ইয়াজুজ-মাজুজ, দুইটি বাগিচার প্রসঙ্গ এবং হযরত মূসা (আঃ)-এর ‘ইস্রা’ বা আধ্যাত্মিক নৈশ-ভ্রমণের সম্পর্ক কি? উত্তরে জানা দরকার যে, রূপকভাবে এইসব ঘটনার উল্লেখ বা দৃষ্টান্ত পেশ করিয়া খৃষ্টান জাতির উত্থান-পতন, আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ এবং ইহার দরুন মুসলমানদের সহিত বিরোধিতা ও খৃষ্টান কর্তৃক মুসলমানদের উপর অত্যাচারের সুদূর-প্রসারী বিষয়ের বর্ণনা এই সূরার মধ্যে পেশ করা হইয়াছে।
বিষয়বস্তুর সম্প্রসারণ ও সহজ অনুধাবনের জন্য হযরত মূসা (আঃ)-এর ‘ইস্রা’ বা আধ্যাত্মিক নৈশ-ভ্রমণের ঘটনাটি দুইটি বাগানের দৃষ্টান্তের পরে উল্লেখ করা হইয়াছে। হযরত মূসা (আঃ)-এর আধ্যাত্মিক ভ্রমণের মাধ্যমে রূপকভাবে বুঝানো হইয়াছে যে, তাঁহার অনুসারীরাও বিপুল জাগতিক ও নৈতিক উন্নতি সাধন করিবে, যেইরূপে সূরা বনী ইসরাঈলে বর্ণিত হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর ইস্রার মাধ্যমে মুসলমানদের অনুরূপ জাগতিক ও পারত্রিক উন্নতি সম্বন্ধে অবহিত করা হইয়াছিল। অবশ্য মূসা (আঃ)-এর ইস্রার বিষয়টি বিস্তৃতভাবে বর্ণিত হইয়াছে, যেমন - কখন, কিভাবে এই যাত্রা শুরু হইবে, কোথায় গিয়া ইহা থামিবে এবং কখন বনী ইসরাঈল সম্প্রদায় ঐশী অনুগ্রহ হইতে বঞ্চিত হইবে এবং ইহা বনী ইসমা’ঈলের মধ্যে স্থানান্তরিত হইবে। অতঃপর, বলা হইয়াছে যে, বনী ইসরাঈলের মধ্যে ঐশী অনুগ্রহ স্থানান্তরিত করা হইলেও নিজেদের দোষে আল্লাহ্র বিধি-বিধান অমান্য করার ফলে তাহারা ঐশী অসন্তোষে পড়িবে ও ইয়া’জুজ-মা’জুজ কর্তৃক নিগৃহীত হইবে। তখন ইয়া’জুজ ও মা’জুজ সারা পৃথিবীতে ছড়াইয়া পড়িবে এবং সমগ্র পৃথিবীতে তাহাদের প্রাধান্য হইবে। সূরাটির শেষ দিকে যুল-কারনায়নের প্রসঙ্গ বর্ণিত হইয়াছে, যিনি ইয়া’জুজ-মা’জুজের দুনিয়াজোড়া প্রভাব বিস্তারকে রোধ করিবার জন্য দণ্ডায়মান হইবেন। কাজেই বুঝা যাইতেছে যে, সূরা কাহ্ফে খৃষ্টানদের প্রথম ও শেষ উভয় যুগের জাগতিক ও আধ্যাত্মিক অবস্থার কথা বলা হইয়াছে। আস্হাবে কাহ্ফ হইতেছে তাহাদের প্রাথমিক যুগের অবস্থার প্রতীকি বয়ান যখন তাহারা দুর্বল ছিল, আর ইয়া’জুজ-মা’জুজ হইতেছে আখেরী যামানায় তাহাদের পার্থিব উন্নতি ও রাজনৈতিক গৌরবের রূপ। সূরাটি ইসলামের অনুসারীদের এই আশ্বাসবাণী শুনাইয়া পরিসমাপ্তি টানিয়াছে যে, আল্লাহ্তা’লা শেষ যুগে ইয়া’জুজ-মা’জুজের অ-ধার্মিকতা ও বিপর্যয় রোধ করিবার লক্ষ্যে একজন দ্বিতীয় যুলকারনায়নের আবির্ভাব ঘটাইবেন। তিনি তৎকালীন মুসলমানদের ইয়া’জুজ-মা’জুজের আক্রমণ হইতে রক্ষা করিবেন। এই দ্বিতীয় যুলকারনায়ন হইতেছেন আহমদীয়া জামায়াতের প্রতিষ্ঠাতা, যিনি হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর উম্মতের অন্তর্ভুক্ত একজন পূর্ণ অনুগত ও অনুসারী।
সূরা কাহ্ফ যেহেতু একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ সূরা, তাই প্রসঙ্গতঃ ইহার বিষয়বস্তুর আরো কতিপয় দিকের উল্লেখ করা প্রয়োজন। ইহাতে বলা হইয়াছে যে, আল্লাহ্তা’লা তাঁহার বান্দার প্রতি পবিত্র কুরআন নাযেল করিয়াছেন, যাহাতে পূর্ববর্তী ঐশী গ্রন্থগুলিতে যে বক্রতা ঢুকিয়া পড়িয়াছে তাহা দূরীভূত করা যায়। ইহা তাহাদের জন্য এক ভীষণ শাস্তির সতর্কবাণী উচ্চারণ করে যাহারা বলে যে, আল্লাহ্ পুত্র গ্রহণ করিয়াছেন। এই সমস্ত লোক ইসলামকে ঘৃণা করে এবং তাহাদের প্রারম্ভ এবং বর্তমান অবস্থা এক নয়। শুরুতে তাহারা খুবই দুর্বল ছিল এবং তাহাদের বিরুদ্ধে তীব্র বিরোধিতা করা হইয়াছিল। আল্লাহ্তা’লা তাহাদের প্রতি কৃপা করেন, তাহাদের কষ্ট হইতে উদ্ধার করেন এবং উন্নতি ও স্বচ্ছলতা লাভের পর তাহারা আল্লাহ্ ছাড়া অপরকে উপাস্য বলিয়া গ্রহণ করে এবং আল্লাহ্মুখী না হইয়া তাহারা সম্পূর্ণভাবে পৃথিবীর দিকে ঝুঁকিয়া পড়ে। মুসলমানদেরকে সতর্ক করিয়া তাই বলা হইয়াছে যে, ইহা হইতে তাহারা যেন শিক্ষা গ্রহণ করে। তাহাদের গৌরব ও প্রতিপত্তির সময় যেন আল্লাহ্কে ভুলিয়া না যায়, বিশেষ করিয়া আল্লাহ্র ইবাদতে তাহারা যেন শিথিল হইয়া না পড়ে। তাহারা যেন পার্থিব সম্পদ, সুখ-সম্ভোগ এবং আরাম-আয়েশের প্রতি অধিক মাত্রায় লালায়িত না হয়। খৃষ্টান জাতির পার্থিব ঐশ্বর্য এবং ক্ষমতা অন্য দিকে মুসলমানদের দীন-হীন অবস্থার একটি তুলনামূলক চিত্র দুই ব্যক্তির সহিত উদাহরণ দিয়া বুঝানো হইয়াছে। ইহাদের মধ্যে একজন ধনী, অন্য জন দরিদ্র। ধনী লোকের দৃষ্টান্ত খৃষ্টান জাতি যাহারা তাহাদের ধন-সম্পদের জন্য গর্বিত, কিন্তু গরীব লোক অর্থাৎ মুসলমান সর্বাবস্থায় আল্লাহ্র প্রতি কৃতজ্ঞ। পরিশেষে দেখা গেল যে, ধনী লোকটির উদ্যান একদিন সত্য সত্যই আল্লাহ্র কোপে পড়িয়া ধংসপ্রাপ্ত হইয়াগিয়াছে। তখন তাহার আর পূর্বের গৌরব নাই এবং সে নিজেই আফসোস আর ঘাটতির মধ্যে আহাজারি করিতেছে। এই পরিবর্তন কোন মানবীয় শক্তিতে নয়, বরং আল্লাহ্ কর্তৃক সম্পন্ন হইবে। সূরাটিতে হযরত মূসা (আঃ) এর কাশ্ফে প্রদর্শিত একাধিক বিষয়ের রূপক বর্ণনায় বুঝানো হইয়াছে যে, মূসায়ী শরীয়াতের জ্ঞান, শিক্ষা ও সার্বিক উন্নতি পরবর্তী শরীয়াতের জ্ঞান ও শিক্ষার তুলনায় নিতান্তই অকিঞ্চিৎকর। এই পরবতী শরীয়াত হইতেছে ‘ইসলাম’ যাহার মাধ্যমে মূসায়ী শরীয়াতের অপূর্ণ শিক্ষা পূর্ণতাপ্রাপ্ত হইবে এবং ইহা অধঃপতিত এবং ক্ষয়িষ্ণু খৃষ্টান জাতির ভস্মস্তূপ হইতে বিজয়ীর বেশে উত্থিত হইবে। খৃষ্টান জাতির উত্থান-পতন এবং মুসলমানদের পুনর্জাগরণের এই ইঙ্গিত প্রদানের পর সূরাটিতে মুসলমানদের সাফল্য ও তৎপরবর্তী অবস্থা বর্ণনা করা হইয়াছে। বলা হইয়াছে যে, এক সময় আসিবে যখন মুসলমানরা সত্যকার ধর্ম থেকে মুখ ফিরাইয়া লইবে এবং শুধুমাত্র পার্থিব ঐশ্বর্য ও ক্ষমতার পিছনে সার্বিকভাবে ধাবিত হইবে। তাহাদের তৎকালীন হীন অবস্থার শাস্তি প্রদানার্থে আল্লাহ্তা’লা পুনরায় খৃষ্টান জাতিকে সাফল্য ও অগ্রগতি দান করিবেন, যাহারা কিছুকালের জন্য দক্ষিণ এবং পূর্বাঞ্চলসমূহে অগ্রসর হওয়া থেকে বিরত ছিল। সেই সময় পৃথিবীতে এক মহা বিপর্যয় উপস্থিত হইবে, পৃথিবীর বিভিন্ন জাতি দুইটি পরস্পর বিরোধী শিবিরে বিভক্ত হইয়া একে অপরের বিরুদ্ধে দণ্ডায়মান হইবে। পাপ এবং অনাচারে পৃথিবী ছাইয়া যাইবে এবং অন্যায় ও বিদ্রোহ দ্রুত বর্ধিত হইবে। অবস্থা যখন এইরূপ চরমে দাঁড়াইবে তখন আল্লাহ্তালা স্বীয় অনুগ্রহে এমন অবস্থার সৃষ্টি করিবেন যাহার ফলে এই বিরাট ধ্বংসযজ্ঞ শুভ পরিণতির দিকে মোড় নিবে। এই বিষয়টির প্রতি ইঙ্গিত করিয়া বলা হইয়াছে যে, সেই সব লোক যাহারা তখন ইয়া’জুজ-মা’জুজ এই বিপ্লব প্রতিরোধ করিয়া আল্লাহ্র যমীনে শান্তি স্থাপন করিবেন— তাহারা হইতেছে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর খাঁটি অনুসারী। (দি লারজার এডিশন অব দি কমেন্টারীর ১৪৭৪-১৪৮০ পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য)।
بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ ﴿۱﴾
اَلۡحَمۡدُ لِلّٰہِ الَّذِیۡۤ اَنۡزَلَ عَلٰی عَبۡدِہِ الۡکِتٰبَ وَلَمۡ یَجۡعَلۡ لَّہٗ عِوَجًا ؕ﴿ٜ۲﴾
قَیِّمًا لِّیُنۡذِرَ بَاۡسًا شَدِیۡدًا مِّنۡ لَّدُنۡہُ وَیُبَشِّرَ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ الَّذِیۡنَ یَعۡمَلُوۡنَ الصّٰلِحٰتِ اَنَّ لَہُمۡ اَجۡرًا حَسَنًا ۙ﴿۳﴾
وَّیُنۡذِرَ الَّذِیۡنَ قَالُوا اتَّخَذَ اللّٰہُ وَلَدًا ٭﴿۵﴾
مَا لَہُمۡ بِہٖ مِنۡ عِلۡمٍ وَّلَا لِاٰبَآئِہِمۡ ؕ کَبُرَتۡ کَلِمَۃً تَخۡرُجُ مِنۡ اَفۡوَاہِہِمۡ ؕ اِنۡ یَّقُوۡلُوۡنَ اِلَّا کَذِبًا ﴿۶﴾
فَلَعَلَّکَ بَاخِعٌ نَّفۡسَکَ عَلٰۤی اٰثَارِہِمۡ اِنۡ لَّمۡ یُؤۡمِنُوۡا بِہٰذَا الۡحَدِیۡثِ اَسَفًا ﴿۷﴾
اِنَّا جَعَلۡنَا مَا عَلَی الۡاَرۡضِ زِیۡنَۃً لَّہَا لِنَبۡلُوَہُمۡ اَیُّہُمۡ اَحۡسَنُ عَمَلًا ﴿۸﴾
وَاِنَّا لَجٰعِلُوۡنَ مَا عَلَیۡہَا صَعِیۡدًا جُرُزًا ؕ﴿۹﴾
اَمۡ حَسِبۡتَ اَنَّ اَصۡحٰبَ الۡکَہۡفِ وَالرَّقِیۡمِ ۙ کَانُوۡا مِنۡ اٰیٰتِنَا عَجَبًا ﴿۱۰﴾