العاديات
Al-`Adiyat
ইহা মক্কায় অবতীর্ণ, বিসমিল্লাহ্সহ ইহাতে ১২ আয়াত এবং ১ রুকু আছে।
অবতরণের সময় ও প্রসঙ্গ
জাবির, ইকরিমা এবং ইবনে মাসউদ (রাঃ) এই অভিমত রাখেন যে, ইহা মক্কায় অবতীর্ণ প্রাথমিক সূরাগুলির অন্তগর্ত। ইবনে মাসউদ (রাঃ) ছিলেন মহানবী (সাঃ)-এর প্রাথমিক সাহাবীগণের মধ্যে অন্যতম এবং কুরআনের সূরাসমূহের অবতরণ-কাল সম্বন্ধে প্রতিভাবান বিশেষজ্ঞ। সময়ের দিক হইতে এই সূরার স্থান পূর্ববর্তী সূরার অব্যবহিত পরে। পূর্ববর্তী কয়েকটি সূরাতে, নবী করীম (সাঃ)-এর সময়কার অবস্থা এবং শেষ যুগের অবস্থা পাশাপাশি বর্ণিত হইয়াছে। সূরা যিলযাল, শেষ যুগে জ্ঞান-বিজ্ঞানের অসামান্য ও অভূতপূর্ব উন্নতির কথা, বিশেষতঃ ভূতত্ত্ব বিজ্ঞানের অসাধারণ অগ্রগতির কথা বলা হইয়াছে এবং ইহাও বলা হইয়াছে যে, রাষ্ট্রনীতি, সমাজনীতি ও অর্থনীতির ক্ষেত্রেও এক বিরাট বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধিত হইবে। বর্তমান আলোচ্য সূরাটিতে মহানবী (সাঃ)-এর সাহাবীগণের উৎসাহ-উদ্দীপনার কথা এবং কঠিন প্রতিকূল অবস্থায় আল্লাহ্র পথে যুদ্ধ করিয়া তাহাদের কুরবানী ও আত্ম-বিসর্জনের বিষয় বিবৃত হইয়াছে। সুফীগণের মধ্যে কেহ কেহ মনে করেন যে, এই সূরা ঐ সকল নিবেদিত প্রাণ ধর্মপরায়ণ বিশ্বাসীদের অবস্থা বর্ণনা করিতেছে যাহারা নিজের ইন্দ্রিয়াসক্তি ও বদভ্যাসসমূহ দমন করিবার জন্য ক্রমাগত আত্মসংযমের জিহাদ করিতে থাকেন, যাহার ফল স্বরূপ তাহারা আল্লাহ্র কাছ হইতে ঐশী জ্যোতিঃ লাভ করিয়া থাকেন।
بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ ﴿۱﴾
وَالۡعٰدِیٰتِ ضَبۡحًا ۙ﴿۲﴾
فَالۡمُوۡرِیٰتِ قَدۡحًا ۙ﴿۳﴾
فَالۡمُغِیۡرٰتِ صُبۡحًا ۙ﴿۴﴾
فَاَثَرۡنَ بِہٖ نَقۡعًا ۙ﴿۵﴾
فَوَسَطۡنَ بِہٖ جَمۡعًا ۙ﴿۶﴾
اِنَّ الۡاِنۡسَانَ لِرَبِّہٖ لَکَنُوۡدٌ ۚ﴿۷﴾
وَاِنَّہٗ عَلٰی ذٰلِکَ لَشَہِیۡدٌ ۚ﴿۸﴾
وَاِنَّہٗ لِحُبِّ الۡخَیۡرِ لَشَدِیۡدٌ ؕ﴿۹﴾
اَفَلَا یَعۡلَمُ اِذَا بُعۡثِرَ مَا فِی الۡقُبُوۡرِ ۙ﴿۱۰﴾