১০০

العاديات

সূরা আল্‌‌‌‌‌‌ আদিয়াত

Al-`Adiyat

মক্কী ১২ আয়াত ১ রুকু পারা ৩০

ইহা মক্কায় অবতীর্ণ, বিসমিল্লাহ্‌সহ ইহাতে ১২ আয়াত এবং ১ রুকু আছে।

بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ ﴿۱﴾

১
আল্লাহ্‌র নামে, যিনি অযাচিত-অসীম দাতা, পরম দয়াময়।

وَالۡعٰدِیٰتِ ضَبۡحًا ۙ﴿۲﴾

২
কসম উর্দ্ধশ্বাসে ধাবমান অশ্বারোহী দলসমূহের,৩৪১০
৩৪১০। যাঁহারা অশুভ চক্র ও শয়তানী শক্তির বিরুদ্ধে কঠোর সংগ্রাম করার ব্রত অবলম্বন করে, আল্লাহ্ তাহাদিগকে কতইনা ভালবাসেন! এমনকি আল্লাহ্ ঐ যোদ্ধাগণের সাজ-সরঞ্জামকে পর্যন্ত ভালবাসিয়া থাকেন। ইহার প্রমাণ এই যে, আল্লাহ্‌তা’লা সেই সব মহান যোদ্ধাদের নামে, এমনকি তাহাদের বাহন অশ্বগুলির নামে পর্যন্ত শপথ গ্রহণ করিতেছেন। আদিয়াত অর্থ যোদ্ধারদল ও তাহাদের অশ্বগুলি। আয়াতটি সাহাবীগণের পর্যাপ্ত প্রশংসাপূর্ণ বর্ণনা প্রদান করিতেছে যাহারা আল্লাহ্‌র রাস্তায় প্রাণপণ যুদ্ধ করিয়া সহাস্য বদনে শাহাদত বরণ করিতে বিন্দুমাত্র কুন্ঠিত হন না। আয়াতটি বলিতেছে যে, তাঁহারা অসীম সাহস, উৎসাহ ও প্রেরণা নিয়া যুদ্ধক্ষেত্রের দিকে বীরবিক্রমে অগ্রসর হন। তাঁহারা এই প্রতিজ্ঞায় অটল থাকেন যে, হয় জয়ী হইবেন নতুবা আল্লাহ্‌র পথে শাহাদত বরণ করিবেন। আয়াতটি তাহাদের অশ্বের ক্ষিপ্রগতি ও তাহাদের আক্রমণের অপ্রতিরোধ্য তীব্রতার প্রশংসা করিতেছে। এই সব ঐশী-বাণী ঐ সময়ে মক্কায় অবতীর্ণ হইয়াছিল, যখন মুসলমানদের কাছে কোন ঘোড়া ছিল না। বদরের যুদ্ধে মুসলিম সৈন্যের কাছে মাত্র দুইটি ঘোড়া ছিল, একটি ছিল হযরত মিকদাদের আর অপরটি ছিল হযরত যুবায়রের। আয়াতটি মূলতঃ একটি ভবিষ্যদ্বাণী যে, মুসলমানেরা শীঘ্রই অশ্বাধিকারী সেনা শক্তিতে পরিণত হইতে যাইতেছে। ‘আদিয়াত’ ‘মূরিয়াত’ ও ‘মুগীরাত’ শব্দত্রয়কে বিভিন্ন বুযূর্গ বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করিয়াছেন। হযরত ইব্‌নে আব্বাসের মতে এই শব্দগুলি হজ্জের সময়ে যে উটের সারি মক্কাভিমুখী হইয়া দৌঁড়াইতে থাকে, উহাকে বুঝাইয়াছে। ‘রূহুল মায়ানী’ নামক গ্রন্থের রচয়িতার মতে এই শব্দগুলি মুসলিম অশ্বারোহী যোদ্ধাগণ ও তাহাদের অশ্বগুলিকে বুঝাইয়াছে। সুফী শ্রেণীর অনেকে বলিয়াছেন, এইগুলি হইল আধ্যাত্মিক পথের যাত্রীগণের দ্রুতগতিতে তাহাদের স্রষ্টা ও প্রভুর সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে ধাবিত হওয়ার বিবরণ বিশেষ।

فَالۡمُوۡرِیٰتِ قَدۡحًا ۙ﴿۳﴾

৩
অতঃপর যাহারা ক্ষুরের আঘাতে অগ্নি স্ফুলিংগ বাহির করে,৩৪১১
৩৪১১। মুসলিম যোদ্ধাদের ঘোড়াগুলি বিদ্যুৎ বেগে ধাবিত হয়, তাহাদের ক্ষুরের আঘাতে অগ্নিস্ফুলিঙ্গ নির্গত হয়। ইহা আল্লাহ্‌র রাস্তায় মুসলমানদের যুদ্ধ করার জন্য আগ্রহাতিশয্য ও উদ্দীপনাকে বুঝাইতেছে।

فَالۡمُغِیۡرٰتِ صُبۡحًا ۙ﴿۴﴾

৪
এবং যাহারা প্রভাত কালে আক্রমণ করে,৩৪১২
৩৪১২। বীর যোদ্ধা মুসলমানগণ শত্রুর অসাবধানতার সুযোগে চুপিসারে আক্রমণ করিয়া বাজিমাৎ করিতে চায় না। বরং তাহারা বীরের মত সম্মুখ সমরে লিপ্ত হইতে চায়। সেই বীর পুরুষগণ রাত্রির অসাবধানতার সুযোগ সন্ধান না করিয়া, সকাল বেলায় উজ্জ্বল আলোতে যুদ্ধে নামে এবং ছলনা ও চাতুরী পরিহার করিয়া সাহসিকতার সহিত যথার্থভাবে যুদ্ধ করে।

فَاَثَرۡنَ بِہٖ نَقۡعًا ۙ﴿۵﴾

৫
অতঃপর উহার দ্বারা যাহারা ধুলি-মেঘ উড়ায়,৩৪১৩
৩৪১৩। মুসলিম সেনাদলের আক্রমণ এতই তীব্র ও অপ্রতিরোধ্য যে, তাহাদের অশ্বের ক্ষিপ্ত পদাঘাতে উত্থিত ধূলাবালু দিগন্ত পর্যন্ত ছাইয়া ফেলে।

فَوَسَطۡنَ بِہٖ جَمۡعًا ۙ﴿۶﴾

৬
এবং এতদ্‌সঙ্গে তাহারা সৈন্যব্যূহে ঢুকিয়া পড়ে।৩৪১৪
৩৪১৪। মুসলিম যোদ্ধারা ব্যক্তিবিশেষকে কিংবা দুর্বল স্ত্রীলোক, শিশু ও বৃদ্ধদিগকে আক্রমণ করে না। তাহারা সম্মিলিতভাবে শত্রুর সম্মিলিত বাহিনীকে আক্রমণ করিয়া তাহাদের মধ্যে এমনভাবে ঢুকিয়া পড়ে যে, শত্রু-সেনার কেন্দ্রস্থলে তাহারা আঘাত হানে।

اِنَّ الۡاِنۡسَانَ لِرَبِّہٖ لَکَنُوۡدٌ ۚ﴿۷﴾

৭
নিশ্চয় ইনসান তাহার প্রতিপালকের প্রতি বড়ই অকৃতজ্ঞ।

وَاِنَّہٗ عَلٰی ذٰلِکَ لَشَہِیۡدٌ ۚ﴿۸﴾

৮
এবং নিশ্চয়ই সে (নিজ আচরণ দ্বারা) ইহার উপর সাক্ষী।

وَاِنَّہٗ لِحُبِّ الۡخَیۡرِ لَشَدِیۡدٌ ؕ﴿۹﴾

৯
এবং নিশ্চয়ই সে ধন-সম্পদের মহব্বতে অতি মাত্রায় আসক্ত।

اَفَلَا یَعۡلَمُ اِذَا بُعۡثِرَ مَا فِی الۡقُبُوۡرِ ۙ﴿۱۰﴾

১০
তবে সে কি জানে না যে, কবরে যাহা আছে তাহা যখন উত্থিত করা হইবে,৩৪১৫
৩৪১৫। কাফেরদের মাঝে জীবনের স্পন্দন আছে বলিয়া মনে হয় না। তাহারা সকলে তাহাদের গৃহরূপী কবরে শায়িত রহিয়াছে। কিন্তু অচিরেই তাহারা ইসলামের বিরোধিতায় জাগিয়া উঠিবে এবং মহানবী (সাঃ)-কে আক্রমণ করার জন্য বহু মাইল দূরবর্তী মদীনা পর্যন্ত গমন করিবে।