৯৭

القدر

সূরা আল্‌‌‌‌ কাদ্‌র

Al-Qadr

মক্কী ৬ আয়াত ১ রুকু পারা ৩০

ইহা মক্কায় অবতীর্ণ, বিসমিল্লাহ্‌সহ ইহাতে ৬ আয়াত এবং ১ রুকু আছে।

بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ ﴿۱﴾

১
আল্লাহ্‌র নামে, যিনি অযাচিত-অসীম দাতা, পরম দয়াময়।

اِنَّاۤ اَنۡزَلۡنٰہُ فِیۡ لَیۡلَۃِ الۡقَدۡرِ ۚ﴿ۖ۲﴾

২
নিশ্চয় আমরা ইহাকে ‘লায়লাতুল৩৩৯৩ কাদ্‌রে’৩৩৯৪ (ফয়সালার রাত্রিতে) নাযেল করিয়াছি।
৩৩৯৩। ‘লায়্‌ল’ এবং ‘লায়্‌লাহ’ দুইটি শব্দই সাধারণভাবে রাত্রি অর্থে ব্যবহৃত হয়। বিখ্যাত অভিধান-বিশারদ মারযুকীর মতে ‘লায়্‌ল’ হইল দিনের (নাহারের) বিপরীত শব্দ। আল্ ‘লায়্‌লাহ’ হইল রাত্রিকাল যাহা দিবাকালের বিপরীত শব্দ। ‘লায়লাহ্’ বলিতে বিস্তীর্ণ সময়কে বুঝায়, যেমন ‘ইয়াওম’ বলিতে বিস্তীর্ণ সময়কে বুঝাইয়া থাকে। ‘লায়্‌ল’ ও ‘নাহার’ শব্দের মধ্যে তেমন ব্যাপকতা নাই। কুরআনে ‘লায়্‌লাহ’ শব্দটি আটবার ব্যবহৃত হইয়াছে (২ঃ৫২; ২ঃ১৮৮; ৪৪ঃ৪; ৭ঃ১৪৩ এ দুইবার; আলোচ্য আয়াতে তিনবার) এবং প্রত্যেক ক্ষেত্রেই ইহা কুরআনের নুযূল বা অবতরণ সম্পর্কিত কিংবা তদনুরূপ বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত হইয়া ব্যবহৃত হইয়াছে। অতএব, এই শব্দটি কুরআন নাযেলের রাত্রিসমূহের উচ্চতম মর্যাদা, মহিমা ও মাহাত্ম্য ঘোষণা করিতেছে।
৩৩৯৪। ‘কদর’ অর্থ মূল্য, প্রাচুর্য, মর্যাদা, অনুশাসন, ভাগ্য, ক্ষমতা, সঠিক অনুমান করা, অবধারিত ও ফয়সালা করা (মুফরাদাত ও লেইন)। ‘কদর’ ও লায়্‌লাহ্ শব্দদ্বয়ের বিভিন্ন অর্থের প্রেক্ষিতে, আয়াতটির অর্থ হইতে পারেঃ কুরআন এমনি একটি রাত্রে অবতীর্ণ হইয়াছিল যে রাত্রটিকে বিশেষ ঐশী শক্তি প্রকাশ করিবার জন্য, পূর্ব হইতেই নিদিষ্ট করিয়া রাখা হইয়াছিল। অথবা ইহা এমনই একটা রাত্রি যাহার মূল্য সমবেত অন্যান্য সকল রাত্রির একত্রীভূত মূল্যের সমান, অথবা ইহা এমনই একটি রাত্রি যাহার মান-মর্যাদা, সম্মান-সম্ভ্রম ও মাহাত্ম্য-মহিমা তুলনাহীন। অথবা ইহা এমনই রাত্রি যাহা সর্ব প্রকারের প্রাচুর্যে ভরপুর— মানুষের নৈতিক ও আধ্যাত্মিক প্রয়োজন মিটানোর সব কিছুই ইহাতে প্রচুর পরিমাণে মওজুদ রহিয়াছে।

وَمَاۤ اَدۡرٰٮکَ مَا لَیۡلَۃُ الۡقَدۡرِ ؕ﴿۳﴾

৩
এবং তোমাকে কিসে অবহিত করিবে যে ‘লায়লাতুল কাদ্‌র’ কি?৩৩৯৫
৩৩৯৫। এই লায়লাতুল কদরের আশীর্বাদসমূহ গণনাতীত।

لَیۡلَۃُ الۡقَدۡرِ ۬ۙ خَیۡرٌ مِّنۡ اَلۡفِ شَہۡرٍ ؕ﴿ؔ۴﴾

৪
‘লায়লাতুল কাদ্‌র’ হাজার মাস অপেক্ষা উৎকৃষ্টতর।৩৩৯৬
৩৩৯৬। ‘আল্‌ফ’ (হাজার) আরবী গণনার উচ্চতম সংখ্যা। অসংখ্য বা গণনাতীত বুঝাইতেও ‘আল্‌ফ’ শব্দ ব্যবহৃত হয়। এই হিসাবে আয়াতটির অর্থ দাঁড়ায়ঃ এই ফয়সালার মর্যাদাপূর্ণ বা সৌভাগ্য-রজনী অসংখ্য মাসের চাইতে উত্তম। অর্থাৎ নবী করীম (সাঃ)-এর যুগ অন্যান্য সকল যুগের চাইতেও বহুগুণে শ্রেষ্ঠ। ইহাতে এই কথার প্রতি ইঙ্গিত রহিয়াছে যে, যখনই মুসলমানদের প্রয়োজন হইবে, তখনই তাহাদের মধ্যে ঐশী সংস্কারকের আবির্ভাব ঘটিবে। এক হাজার মাস প্রায় এক শতাব্দীর কাছাকাছি সময় এবং মহানবী (সাঃ) বলিয়াছেন, প্রতি শতাব্দীর শিরোভাগে তাঁহার উম্মতের মধ্যে আল্লাহ্‌তা’লা একজন সংস্কারকের আবিভাব ঘটাইতে থাকিবেন, যিনি ইসলামের সংস্কার সাধন করিবেন এবং ইহাতে নবজীবন ও নবজাগরণের সঞ্চার করিবেন (আবু দাউদ, কিতাবুল মোলাহেম)।

تَنَزَّلُ الۡمَلٰٓئِکَۃُ وَالرُّوۡحُ فِیۡہَا بِاِذۡنِ رَبِّہِمۡ ۚ مِنۡ کُلِّ اَمۡرٍ ۙ﴿ۛ۵﴾

৫
ইহাতে ফিরিশ্‌তাগণ এবং কামেল রূহ৩৩৯৭ তাহাদের প্রতিপালকের হুকুম অনুযায়ী যাবতীয় বিষয়সহ নাযেল হয়।
৩৩৯৭। ‘রূহ্’ অর্থ নূতন-চেতনা, নবজাগরণ, উৎসাহ-উদ্দীপনা, নব-সংকল্প। ফয়সালার মর্যাদাপূর্ণ রাত্রিতে আল্লাহ্‌র ফিরিশ্‌তাগণ আল্লাহ্‌র মা’মূর বা সংস্কারককে সত্যের বাণী প্রতিষ্ঠিত করার কাজে সাহায্য করিতে নামিয়া আসেন এবং তাঁহার অনুসারীগণ নূতন অনুপ্রেরণায় উদ্বুদ্ধ হইয়া নবজাগরণের ডাকে সাড়া দিয়া ঐশী-বাণীকে প্রচার করার ও প্রসার-দানের কাজে লাগিয়া যান।

سَلٰمٌ ۟ۛ ہِیَ حَتّٰی مَطۡلَعِ الۡفَجۡرِ ﴿٪۶﴾

৬
(তখন) পূর্ণ শান্তি৩৩৯৮ বিরাজমান হয়, ইহা বিরাজমান থাকে যে পর্যন্ত না ফজরের (ঊষার) উদয় হয়।৩৩৯৮-ক
সূরা আল্‌‌‌‌ কাদ্‌র - রুকু ১
৩৩৯৮। নবী-রসূল বা সংস্কারকের আবির্ভাবের সময়ে বিশ্বাসীদের শত দুঃখ-কষ্ট ও নির্যাতন সহ্য করিতে হয়, কিন্তু তাহাদের মনে এমন অদ্ভূত ও অনির্বচনীয় এক প্রশান্তি নামিয়া আসে যাহা সকল পার্থিব সুখ-দুঃখকে ভুলাইয়া দিয়া তাহাদিগকে ঐশী অনুপ্রেরণায় অনুপ্রাণিত করিতে থাকে।
৩৩৯৮-ক। “ফজরের উদয়” দ্বারা দুঃখ-কষ্ট ও অত্যাচার-নিপীড়ণের আঁধার রজনীর অবসান ও সত্যের প্রতিষ্ঠা ও প্রভাব-বৃদ্ধির উষা বা শুভ লগ্নকে বুঝায়।