৮৩

المطففين

সূরা আল্‌ মুতাফ্‌ফেফীন

Al-Mutaffifin

মক্কী ৩৭ আয়াত ১ রুকু পারা ৩০

ইহা মক্কায় অবতীর্ণ, বিসমিল্লাহ্‌সহ ইহাতে ৩৭ আয়াত এবং ১ রুকু আছে।

بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ ﴿۱﴾

১
আল্লাহ্‌র নামে, যিনি অযাচিত-অসীম দাতা, পরম দয়াময়।

وَیۡلٌ لِّلۡمُطَفِّفِیۡنَ ۙ﴿۲﴾

২
দুর্ভোগ তাহাদের জন্য যাহারা মাপে কম দেয়;

الَّذِیۡنَ اِذَا اکۡتَالُوۡا عَلَی النَّاسِ یَسۡتَوۡفُوۡنَ ۫﴿ۖ۳﴾

৩
যাহারা লোকদের নিকট হইতে যখন মাপিয়া গ্রহণ করে তখন পূর্ণ মাত্রায় গ্রহণ করে;

وَاِذَا کَالُوۡہُمۡ اَوۡ وَّزَنُوۡہُمۡ یُخۡسِرُوۡنَ ﴿ؕ۴﴾

৪
কিন্তু যখন তাহারা অন্যকে মাপিয়া দেয় অথবা তাহাদিগকে ওজন করিয়া দেয় তখন কম করিয়া দেয়।

اَلَا یَظُنُّ اُولٰٓئِکَ اَنَّہُمۡ مَّبۡعُوۡثُوۡنَ ۙ﴿۵﴾

৫
এই সকল লোক কি বিশ্বাস করে না যে, তাহাদিগকে পুনরুত্থিত করা হইবে,

لِیَوۡمٍ عَظِیۡمٍ ۙ﴿۶﴾

৬
এক মহা (বিচার) দিবসের জন্য?৩২৮৮
৩২৮৮। ইহজীবনের পরে মানবের জন্য একটি ‘হিসাব-দানের’ দিন অবশ্যই রহিয়াছে। ঐদিন মানবকে তাহাদের মালিক ও প্রভুর কাছে ইহকালীন জীবনের কার্যাবলীর হিসাব দিতে হইবে। কিন্তু, ইহকালেও জাতি বিশেষের জন্য ‘হিসাবের দিন’ আসিয়া যায়, যখন তাহাদের কুকর্ম সকল সীমা লঙঘন করিয়া ফেলে। তাহারা তখন ধ্বংসের কবলে নিপতিত হয়।

یَّوۡمَ یَقُوۡمُ النَّاسُ لِرَبِّ الۡعٰلَمِیۡنَ ؕ﴿۷﴾

৭
যেদিন সকল মানুষ জগতসমূহের প্রতিপালকের সমীপে দণ্ডায়মান হইবে।

کَلَّاۤ اِنَّ کِتٰبَ الۡفُجَّارِ لَفِیۡ سِجِّیۡنٍ ؕ﴿۸﴾

৮
কখনও নহে, নিশ্চয় দুষ্কৃতিপরায়ণদের আমল-নামা ‘সিজ্জীনে’৩২৮৯ থাকিবে।
৩২৮৯। ‘সিজ্জীন’ শব্দটি অনেক তফসীরকারকের মতে অনারবী শব্দ। কিন্তু ফার্‌রা, যাজ্জাজ, আবু উবায়দা এবং মুবাররাদ প্রমুখ খ্যাতনামা পণ্ডিতেরা বলেন, ইহা একটি আরবী শব্দ যাহা ‘সাজানা’ হইতে উৎপন্ন হইয়াছে। ‘লিসান’ এই শব্দটি ‘সিজ্‌ন’ (কারাগার)-এর সমার্থক মনে করেন। ‘সিজ্জীন’ একটি রেজিষ্টারী খাতা বা পুস্তক, যাহাতে পরকালের জন্য মন্দ লোকদের দুষ্কৃতির তালিকা সংরক্ষিত রাখা হয়। শব্দটির অন্যান্য অর্থ হইলঃ শক্ত বস্তু, কঠোর ও ভয়ঙ্কর, চলমান, স্থায়ী বা চিরস্থায়ী (লেইন)।

وَمَاۤ اَدۡرٰٮکَ مَا سِجِّیۡنٌ ؕ﴿۹﴾

৯
এবং তোমাকে কিসে অবহিত করিবে যে ‘সিজ্জীন’ কি?

کِتٰبٌ مَّرۡقُوۡمٌ ؕ﴿۱۰﴾

১০
উহা (আদি হইতে) এক লিখিত কিতাব।৩২৯০
৩২৯০। ‘সিজ্জীন’ শব্দটির তাৎপর্য হইল, দুষ্কৃতকারী অবিশ্বাসীরা ভয়ঙ্কর শাস্তি পাইবে, যাহা তাহারা সুদীর্ঘকাল ধরিয়া ভূগিতে থাকিবে। অথবা, আয়াতটি ইহাও বুঝাইতে পারেঃ দুষ্কৃতকারীগণকে অতিশয় অপমানজনক ঘৃণ্য স্থানে রাখা হইবে, যাহা দীর্ঘস্থায়ী হইবে। ইহাই তাহাদের ব্যাপারে অটল সিদ্ধান্ত। অথবা ‘সিজ্জীন’ ও ‘ইল্লীয়্যূন’ দুইটি শব্দ দ্বারা কুরআনের দুইটি অংশকে বুঝাইতে পারে। ‘সিজ্জীন’ কুরআনের ঐ অংশের নাম, যাহা ঐশী-বাণীর অস্বীকারকারীদের কীর্তিকলাপ ও শান্তিপূর্ণ পরিণতির বিষয়াদি বিরত করিয়াছে, আর ‘ইল্লীয়্যূন’ কুরআনের অপরাংশের নাম যাহা ধার্মিক বান্দাগণের সৎকার্যাদির বিবরণ ও তাহাদের জন্য নির্ধারিত পুরস্কারাদির বর্ণনা প্রদান করিয়াছে। এই হিসাবে এই আয়াতের অর্থ হইবে, যে সব সিদ্ধান্ত কুরআনের এই দুইটি অংশে বিবৃত হইয়াছে তাহা অটল ও অপরিবর্তনীয় থাকিবে।