৭৩

المزمل

সূরা আল্ মুয্‌যাম্মেল

Al-Muzzammil

মক্কী ২১ আয়াত ২ রুকু পারা ২৯

ইহা মক্কায় অবতীর্ণ, বিসমিল্লাহ্‌সহ ইহাতে ২১ আয়াত এবং ২ রুকু আছে।

اِنَّ رَبَّکَ یَعۡلَمُ اَنَّکَ تَقُوۡمُ اَدۡنٰی مِنۡ ثُلُثَیِ الَّیۡلِ وَنِصۡفَہٗ وَثُلُثَہٗ وَطَآئِفَۃٌ مِّنَ الَّذِیۡنَ مَعَکَ ؕ وَاللّٰہُ یُقَدِّرُ الَّیۡلَ وَالنَّہَارَ ؕ عَلِمَ اَنۡ لَّنۡ تُحۡصُوۡہُ فَتَابَ عَلَیۡکُمۡ فَاقۡرَءُوۡا مَا تَیَسَّرَ مِنَ الۡقُرۡاٰنِ ؕ عَلِمَ اَنۡ سَیَکُوۡنُ مِنۡکُمۡ مَّرۡضٰی ۙ وَاٰخَرُوۡنَ یَضۡرِبُوۡنَ فِی الۡاَرۡضِ یَبۡتَغُوۡنَ مِنۡ فَضۡلِ اللّٰہِ ۙ وَاٰخَرُوۡنَ یُقَاتِلُوۡنَ فِیۡ سَبِیۡلِ اللّٰہِ ۫ۖ فَاقۡرَءُوۡا مَا تَیَسَّرَ مِنۡہُ ۙ وَاَقِیۡمُوا الصَّلٰوۃَ وَاٰتُوا الزَّکٰوۃَ وَاَقۡرِضُوا اللّٰہَ قَرۡضًا حَسَنًا ؕ وَمَا تُقَدِّمُوۡا لِاَنۡفُسِکُمۡ مِّنۡ خَیۡرٍ تَجِدُوۡہُ عِنۡدَ اللّٰہِ ہُوَ خَیۡرًا وَّاَعۡظَمَ اَجۡرًا ؕ وَاسۡتَغۡفِرُوا اللّٰہَ ؕ اِنَّ اللّٰہَ غَفُوۡرٌ رَّحِیۡمٌ ﴿٪۲۱﴾

২১
নিশ্চয় তোমার প্রতিপালক জানেন যে, তুমি দণ্ডায়মান হও রাত্রের দুই-তৃতীয়াংশের কিছু কম এবং কখনও অর্ধেকাংশ এবং কখনও বা এক-তৃতীয়াংশ, এবং (দণ্ডায়মান হয়) তাহাদের মধ্য হইতে একদলও যাহারা তোমার সঙ্গে রহিয়াছে।৩১৫৭ বস্তুতঃ আল্লাহ্ রাত্রি ও দিবসের পরিমাণকে নির্ধারণ করেন।৩১৫৮ তিনি জানেন যে, তোমরা কখনও (নামাযের) সময় গণনা করিতে পারিবে না, সুতরাং তিনি তোমাদের প্রতি সদয় দৃষ্টিপাত করিলেন। অতএব তোমরা কুরআন হইতে যতটুকু সহজসাধ্য হয় ততটুকু আবৃত্তি কর। তিনি ইহাও জানেন যে, তোমাদের মধ্যে কতক অসুস্থ হইবে এবং অন্য কতক আল্লাহ্‌র অনুগ্রহ অন্বেষণ করিয়া ভূপৃষ্ঠে ভ্রমণ করিবে এবং অন্য কতক আল্লাহ্‌র পথে জিহাদ করিবে। সুতরাং উহা হইতে যতটুকু সহজসাধ্য হয় তোমরা ততটুকু আবৃত্তি কর; এবং তোমরা নামায কায়েম কর এবং যাকাত দাও এবং উত্তম ভাবে আল্লাহ্‌কে ঋণ দান কর। এবং তোমরা যে কোন সৎকর্ম নিজেদের কল্যাণের জন্য আগে পাঠাইবে, আল্লাহ্‌র নিকট তোমরা উহা পাইবে। উহা অতি উত্তম এবং পুরস্কার হিসাবে অতি মহৎ হইবে; এবং তোমরা আল্লাহ্‌র নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর, নিশ্চয় আল্লাহ্‌ অতীব ক্ষমাশীল, পরম দয়াময়।
সূরা আল্ মুয্‌যাম্মেল - রুকু ২
৩১৫৭। এই সুরার উদ্বোধনী আয়াতে নবী করীম (সাঃ)-কে তাগিদ করা হইয়াছে, তিনি যেন রাত্রিতে মনে প্রাণে দোয়াতে মশগুল থাকেন। ঐশী-বাণী প্রচারের যে গুরুতর ও গুরু-গম্ভীর দায়িত্ব শীঘ্রই তাঁহার স্কন্ধে বর্তাইবে, তাহা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার সামর্থ্য অর্জনের জন্য এই নিশীথ প্রার্থনা বিশেষভাবে কার্যকরী প্রতিপন্ন হইবে। এই আয়াতে, আল্লাহ্‌তা’লা তাঁহাকে স্বীয় সন্তুষ্টির নিশ্চয়তা দিতেছেন এবং তিনি যে নিশীথ-প্রার্থনার ব্যাপারে আল্লাহ্‌র নির্দেশকে পুরাপুরি বিশ্বস্ততার সহিত পালন করিয়াছেন— কেবল তিনিই নহেন বরং তাঁহার অনুগামী বিশ্বাসীরাও যে তাহা পালন করিয়াছেন— আল্লাহ্‌তা’লা সন্তুষ্টির সহিত তাহা উল্লেখ করিতেছেন। নিশীথ রাতের প্রার্থনার আদেশটি মহানবী (সাঃ)-এর অনুসারীদের উপর সুনির্দিষ্টভাবে প্রযোজ্য ছিল না, কিন্তু মহানবী (সাঃ)-কে পদে পদে অনুসরণ করার বাসনা সাহাবীদের মধ্যে এতই প্রবল ছিল যে, নিশীথ-প্রার্থনার ব্যাপারেও তাহারা মহানবী (সাঃ)-এর দৃষ্টান্ত অনুসরণ করিয়াছিলেন।
৩১৫৮। “আল্লাহ্ রাত্রি ও দিবসের পরিশ্রমকে নির্ধারণ করেন” বাক্যটির তাৎপর্য হইল কখনও দিন হইতে রাত্রি দীর্ঘ হয় এবং কখনও রাত্রি হইতে দিন দীর্ঘ হয়। আবার কখনও কখনও দিবা-রাত্রি সমান-সমান হইয়া থাকে। ‘তোমরা কখনও সময় নির্ভুলরূপে গণনা করিতে পারিবে না’ কথাটি সাধারণ মুসলমানদের জন্য প্রযোজ্য। তাহাদিগকে বলা হইতেছে যে, তাহারা সকলেই নিয়মিতভাবে ও সময়মত এই নিশীথ-প্রার্থনা আদায় করিবার সামর্থ্য রাখেন না।