نوح
Nooh
ইহা মক্কায় অবতীর্ণ, বিসমিল্লাহ্সহ ইহাতে ২৯ আয়াত এবং ২ রুকু আছে।
অবতীর্ণ হওয়ার সময়, প্রসঙ্গ ও বিষয়-বস্তু
সূরাটি আল্লাহ্র নবী নূহ (আঃ)-এর আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করিয়াছে বলিয়া যুক্তিযুক্তভাবেই ইহার নাম সূরা নূহ রাখা হইয়াছে। হোয়েরী বলেন, এই সূরা নবুওয়াতের ৭ম বৎসরে অবতীর্ণ হইয়াছিল, নলডিকি বলেন ৫ম বৎসরে। আর অন্যান্য তফসীরকারীরা বলেন, পূর্ববর্তী কয়েকটি সূরা যখন অবতীর্ণ হইয়াছিল, প্রায় সেই সময়েই এই সূরাটিও অবতীর্ণ হইয়াছিল। পূর্ববর্তী সূরাতে, শেষদিকে বলা হইয়াছিল যে, দুষ্ট লোকেরা অনিবার্যভাবেই ঐশী-বাণীকে প্রত্যাখ্যান করে। তাহারা আল্লাহ্র প্রেরিত পুরুষকে অত্যাচার করে এবং তাহার বিরোধিতায় তাহারা ক্লান্ত হয় না, যে পর্যন্ত না আল্লাহ্র শাস্তি আসিয়া তাহাদিগকে গ্রেফতার করে। আলোচ্য সূরাতে পুরাকালের শ্রেষ্ঠ নবীদের মধ্যে একজন নবী নূহ (আঃ)-এর প্রচার কার্যাবলীর সংক্ষিপ্ত ইতিবৃত্ত দেওয়া হইয়াছে। তাঁহাকে এইভাবে চিত্রিত করা হইয়াছে যে, তিনি তাঁহার স্রষ্টা ও প্রভুর কাছে অত্যন্ত মর্মস্পর্শী ভাষায় স্বীয় ব্যথা-বেদনা-ক্লিষ্ট হৃদয়ের আবেগ বর্ণনা করিতেছেন। তিনি দিবারাত্র তাহাদের মধ্যে প্রচার কার্য চালাইয়াছেন, জনসমক্ষে, সমবেত জনতার মাঝে এবং ব্যক্তিগতভাবে, প্রকাশ্যে ও নিভৃতে, তাহাদের কাছে কত রকমে ঐশী-বাণী পৌঁছাইয়াছেন! তাহাদের প্রতি আল্লাহ্তালার অশেষ কৃপা ও আশীর্বাদের কথা তাহাদিগকে কতভাবে বুঝাইয়াছেন। তাঁহার আনীত ঐশী-বাণীকে প্রত্যাখ্যান করার গুরুতর মন্দ পরিণতি সম্বন্ধে তাহাদিগকে নানাভাবে বারবার সতর্ক করিয়াছেন। কিন্তু তাঁহার সকল প্রচার কার্য, সকল হিতোপদেশ, সকল সতর্কবাণী, তাহাদের প্রতি তাঁহার আন্তরিক হিতৈষণা— এই সব কিছুর বদলে তিনি তাহাদের কাছ হইতে পাইলেন কেবল বিদ্রুপ, বিরোধিতা ও গালি-গালাজ। তাহাদের প্রতি তাঁহার অগাধ ভালবাসা থাকা সত্বেও তাহারা তাঁহাকে অনুসরণ না করিয়া, তাহারা ঐসব ভণ্ড নেতাদেরই অনুসরণ করিল যাহারা তাহাদিগকে ধ্বংসের দিকে লইয়া যাইতেছিল। যখন নূহ (আঃ)-এর জীবনব্যাপী সকল প্রাণঢালা উপদেশ ও প্রচারকার্য চরমভাবে অবহেলিত হইল, তখন তিনি আল্লাহ্র কাছে সত্যের শত্রুদেরকে ধ্বংস করার আবেদন জানাইলেন। সূরাটি এই আবেদন দ্বারাই সমাপ্ত হইয়াছে।
بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ ﴿۱﴾
اِنَّاۤ اَرۡسَلۡنَا نُوۡحًا اِلٰی قَوۡمِہٖۤ اَنۡ اَنۡذِرۡ قَوۡمَکَ مِنۡ قَبۡلِ اَنۡ یَّاۡتِیَہُمۡ عَذَابٌ اَلِیۡمٌ ﴿۲﴾
قَالَ یٰقَوۡمِ اِنِّیۡ لَکُمۡ نَذِیۡرٌ مُّبِیۡنٌ ۙ﴿۳﴾
اَنِ اعۡبُدُوا اللّٰہَ وَاتَّقُوۡہُ وَاَطِیۡعُوۡنِ ۙ﴿۴﴾
یَغۡفِرۡ لَکُمۡ مِّنۡ ذُنُوۡبِکُمۡ وَیُؤَخِّرۡکُمۡ اِلٰۤی اَجَلٍ مُّسَمًّی ؕ اِنَّ اَجَلَ اللّٰہِ اِذَا جَآءَ لَا یُؤَخَّرُ ۘ لَوۡ کُنۡتُمۡ تَعۡلَمُوۡنَ ﴿۵﴾
قَالَ رَبِّ اِنِّیۡ دَعَوۡتُ قَوۡمِیۡ لَیۡلًا وَّنَہَارًا ۙ﴿۶﴾
فَلَمۡ یَزِدۡہُمۡ دُعَآءِیۡۤ اِلَّا فِرَارًا ﴿۷﴾
وَاِنِّیۡ کُلَّمَا دَعَوۡتُہُمۡ لِتَغۡفِرَ لَہُمۡ جَعَلُوۡۤا اَصَابِعَہُمۡ فِیۡۤ اٰذَانِہِمۡ وَاسۡتَغۡشَوۡا ثِیَابَہُمۡ وَاَصَرُّوۡا وَاسۡتَکۡبَرُوا اسۡتِکۡبَارًا ۚ﴿۸﴾
ثُمَّ اِنِّیۡ دَعَوۡتُہُمۡ جِہَارًا ۙ﴿۹﴾
ثُمَّ اِنِّیۡۤ اَعۡلَنۡتُ لَہُمۡ وَاَسۡرَرۡتُ لَہُمۡ اِسۡرَارًا ۙ﴿۱۰﴾