৬৮

القلم

সূরা আল্ কালাম

Al-Qalam

মক্কী ৫৩ আয়াত ২ রুকু পারা ২৯

ইহা মক্কায় অবতীর্ণ, বিসমিল্লাহ্‌সহ ইহাতে ৫৩ আয়াত এবং ২ রুকু আছে।

بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ ﴿۱﴾

১
আল্লাহ্‌র নামে, যিনি অযাচিত-অসীম দাতা, পরম দয়াময়।

نٓ وَالۡقَلَمِ وَمَا یَسۡطُرُوۡنَ ۙ﴿۲﴾

২
দোয়াত ও কলমের এবং উহার কসম যাহা তাহারা লিখে;৩০৮৯
৩০৮৯। পরবর্তী তিনটি আয়াতে যে সত্য কথাগুলি বলা হইয়াছে, সেগুলির সমর্থনে ও প্রমাণার্থে কলম ও দোয়াতকে এবং ইহাদের দ্বারা সকল লিখিত রচনাকে সাক্ষ্যরূপে পেশ করা হইয়াছে।

مَاۤ اَنۡتَ بِنِعۡمَۃِ رَبِّکَ بِمَجۡنُوۡنٍ ۚ﴿۳﴾

৩
তুমি তোমার প্রতিপালকের নেয়ামতের দরুন উন্মাদ নহ।৩০৮৯-ক
৩০৮৯-ক। এই আয়াত ইহাই বলিতে চায় যে, জ্ঞান-বিজ্ঞান ও শিক্ষা-দীক্ষার যে কোন মানদণ্ড দ্বারা, রসূলে করীম (সাঃ)-এর নবুওয়াতের দাবীকে যে কোন ভাবে পরীক্ষা করা হউক না কেন, তাঁহাকে সর্বাপেক্ষা প্রজ্ঞাশীলই পাওয়া যাইবে। তাহা সত্বেও কাফেরগণ মহানবী (সাঃ)-কে পাগল বলে। পরবর্তী আয়াতে কাফেরদের এই অভিযোগ যে ভিত্তিহীন, যুক্তিহীন ও কাল্পনিক উহার প্রমাণ ও যুক্তি দেওয়া হইয়াছে।

وَاِنَّ لَکَ لَاَجۡرًا غَیۡرَ مَمۡنُوۡنٍ ۚ﴿۴﴾

৪
এবং নিশ্চয় তোমার জন্য অশেষ পুরস্কার নির্ধারিত আছে।৩০৯০
৩০৯০। এই আয়াত ও পরবর্তী আয়াতে রসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর প্রতি শত্রুদের আরোপিত ‘পাগল’ আখ্যার অসারতা অত্যন্ত দৃঢ়তার সহিত কার্যকরীভাবে প্রমাণিত হইয়াছে। যুক্তি দেখানো হইয়াছে যে, পাগলের কাজ-কর্ম কখনও কোন স্থায়ী ও চিরকল্যাণকর ফলোদয় সৃষ্টি করিতে পারে না, অথচ মহানবী (সাঃ)-এর আগমনের ঐশী উদ্দেশ্য অত্যন্ত সুন্দরভাবে, যোগ্যতার সহিত তিনি সম্পাদন করিয়া চলিয়াছেন এবং অধঃপতিত জাতির মধ্যে নব-জাগরণের এক অনন্য সাধারণ বিপ্লব সৃষ্টি করিয়াছেন। আর এই বিপ্লব তাঁহার (সাঃ) মৃত্যুর পরে পরেই শেষ হইয়া যাইবে না। ভবিষ্যতেও আল্লাহ্ তাঁহার (সাঃ) অনুসারীদের মধ্য হইতে সংস্কারকের উদ্ভব ঘটাইয়া তাহাদিগকে পুনরুজ্জীবিত করিবেন ও নবজীবন দান করিবেন। আর এই প্রক্রিয়া রোজ-কেয়ামত পর্যন্ত চলিতে থাকিবে।

وَاِنَّکَ لَعَلٰی خُلُقٍ عَظِیۡمٍ ﴿۵﴾

৫
এবং নিশ্চয় তুমি অতীব মহান চরিত্রের উপর অধিষ্ঠিত৩০৯১
৩০৯১। কাফের শত্রুগণের দ্বারা রসূলে করীম (সাঃ)-কে পাগল আখ্যায়িত করার বিরুদ্ধে এই আয়াত অত্যন্ত সোচ্চার কণ্ঠে ঘোষণা করিতেছে যে, তিনি পাগল তো নহেন, বরং তাঁহার মত উচ্চ গুণসম্পন্ন মহা পুণ্যবান চরিত্রের লোক পৃথিবীতে কদাচ জন্মায়। যে সকল পূত-পবিত্র ও নৈতিক গুণাবলীর উৎকৃষ্টতম প্রকাশ ও সমাবেশ একজন মহামানবকে আল্লাহ্‌র প্রতিচ্ছবিতে পরিণত করে, উহার সবটাই মহানবী (সাঃ)-এর মধ্যে সন্নিবিষ্ট ছিল। মানবের নৈতিক গুণাবলীর উচ্চতম স্তরে অধিষ্ঠিত হইয়া, তিনি সর্বপ্রকার সৎগুণাবলীর প্রতিভূ ও প্রতীকে পরিণত হইয়াছিলেন। একবার আয়েশা (রাঃ)-কে রসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর চরিত্র বর্ণনা করিতে অনুরোধ করা হইলে, সেই মহিয়সী মহিলা উত্তরে বলিয়াছিলেন, ‘উৎকৃষ্টতম নৈতিক গুণাবলী যেগুলি আল্লাহ্‌তা’লার সত্য বান্দার বিশেষ চিহ্ন বলিয়া কুরআনে বর্ণিত হইয়াছে, ইহাদের সবগুলিই মহানবী (সাঃ)-এর মধ্যে ছিল’ (বুখারী)।

فَسَتُبۡصِرُ وَیُبۡصِرُوۡنَ ۙ﴿۶﴾

৬
অতএব তুমি অচিরেই দেখিবে এবং তাহারাও দেখিবে,

بِاَٮیِّکُمُ الۡمَفۡتُوۡنُ ﴿۷﴾

৭
তোমাদের মধ্যে কে যে বিকারগ্রস্ত।৩০৯২
৩০৯২। এই আয়াত মহানবী (সাঃ)-এর দোষারোপ কারীদেরই উল্টা দোষারোপ করিয়া চ্যালেঞ্জের ভাষায় বলিতেছে যে, সময় প্রমাণ করিয়া দিবে, মহানবী (সাঃ) পাগল নহেন বরং তাহারাই পাগল। সময় ইহাও প্রমাণ করিবে যে, তাঁহার (সাঃ) রেসালতের দাবী কল্পনাপ্রসূত দাবী নহে এবং উত্তপ্ত মস্তিষ্কের প্রলাপও নহে, বরং যাহারা তাঁহাকে মন্দ বলে তাহারাই এমনভাবে চিত্তবিভ্রমে নিপতিত যে, তাহারা কালের নিদর্শনসমূহ পড়িতে পারিতেছে না। আর সেই কারণে তাঁহার (সাঃ) সত্যতা উপলব্ধি করিতে ব্যর্থ হইতেছে।

اِنَّ رَبَّکَ ہُوَ اَعۡلَمُ بِمَنۡ ضَلَّ عَنۡ سَبِیۡلِہٖ ۪ وَہُوَ اَعۡلَمُ بِالۡمُہۡتَدِیۡنَ ﴿۸﴾

৮
নিশ্চয় তোমার প্রতিপালক তাহাকেও সমধিক জানেন যে তাঁহার পথ হইতে বিচ্যুত হইয়া গিয়াছে, এবং তিনি হেদায়াত প্রাপ্তগণকেও সমধিক জানেন।

فَلَا تُطِعِ الۡمُکَذِّبِیۡنَ ﴿۹﴾

৯
অতএব তুমি মিথ্যা আরোপকারীদের আনুগত্য করিও না।

وَدُّوۡا لَوۡ تُدۡہِنُ فَیُدۡہِنُوۡنَ ﴿۱۰﴾

১০
বস্তুতঃ তাহারা চাহে, যদি তুমি নমনীয়৩০৯৩ হও তাহা হইলে তাহারাও নমনীয় হইবে।
৩০৯৩। মহানবী (সাঃ)-কে তাঁহার অভীষ্ট লক্ষ্য হইতে লোভ দেখাইয়া দূরে সরাইবার জন্য কুরায়শগণ নানাভাবে চেষ্টা করিয়াছে ও বিভিন্ন প্রস্তাব দিয়াছে। এই আয়াত সেই লোভনীয় প্রস্তাবাবলীর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করিতেছে বলিয়া মনে হয়। অথবা আয়াতটি সাধারণভাবেই প্রযোজ্য বলিয়া ঐসব প্রস্তাবের সঙ্গে সম্পর্কহীনও হইতে পারে। কারণ সত্য পর্বতের মত দৃঢ় ও অনড়। অপরদিকে মিথ্যাচারের তো ভিত্তিই নাই যাহার উপর উহা দাঁড়াইতে পারে। কাজেই চাপ ও লোভের কাছে নতি স্বীকার করতঃ ‘মিথ্যা’ যে কোন প্রস্তাবের ভিত্তিতে আপোষ করিতে পারে।