القلم
Al-Qalam
ইহা মক্কায় অবতীর্ণ, বিসমিল্লাহ্সহ ইহাতে ৫৩ আয়াত এবং ২ রুকু আছে।
সময়, প্রসঙ্গ ও বিষয়-বস্তু
নবুওয়াতের প্রথম পর্যায়ের দিকে যে চার-পাঁচটি সূরা নাযিল হইয়াছিল, ইহা উহাদেরই একটি। কোন কোন কুরআন-বিশারদের মতে এই সূরা ‘আল্ আলাকের’ পরে পরেই অবতীর্ণ হইয়াছিল। কিন্তু অন্যান্যরা এই সূরাকে, সূরা মুয্যাম্মেল ও সূরা মুদ্দাস্সের এর পরবর্তী সূরা (অর্থাৎ ৪র্থ অবতীর্ণ সূরা) বলিয়া মনে করেন। তবে, এই বিষয়ে মোটেই কোন সন্দেহ নাই যে, এই কয়েকটি সূরাই একের পর এক অবতীর্ণ হইয়াছিল এবং ইহাদের বিষয়-বস্তুর মধ্যেও মিল রহিয়াছে। সূরা ‘কলম’ প্রধানতঃ রসূলে আকরাম (সাঃ)-এর নবুওয়াতের দাবীকে জগৎ-সমক্ষে পেশ করিয়াছে। মক্কী সূরাগুলির সাধারণ একটি বৈশিষ্ট্য ইহাই যে, ঐগুলির মধ্যে ধর্মীয় বিশ্বাস ও আকায়েদ ব্যাখ্যা করা হইয়াছে। এই সূরাতেও মহানবী (সাঃ)-এর দাবীর সত্যতাকে তুলিয়া ধরা হইয়াছে এবং এই দাবীর সত্যতার স্বপক্ষে নির্ভুল ও সুদৃঢ় যুক্তি প্রদান করা হইয়াছে। অবশ্য এই সূরার একটা বড় অংশ সত্যের বিরুদ্ধে কাফেরগণের যুদ্ধ-সংগ্রামের কথা আলোচিত হইয়াছে এবং বলা হইয়াছে যে, পরিণামে কাফেরগণই ব্যর্থতা বরণ করিবে। তাহারা সত্যের বিরোধিতা করে ও ইহাকে নির্মূল করার প্রচেষ্টায় লাগিয়া যায় এবং যখন তাহাদের চেষ্টা ফলবতী হইতে চলিয়াছে বলিয়া মনে করে তখন তাহাদিগকে সম্পূর্ণ বিফলতার মুখ দেখিতে হয়। যে সত্য ডুবিয়া যাইতেছে বলিয়া মনে হইতেছিল তাহা উপরে আসিয়া যায়, উন্নতি করে, প্রভাবশালী হয় ও প্রাধান্য বিস্তার করিতে থাকে। সূরার শেষদিকে নবী করীম (সাঃ)-কে নির্দেশ দান করা হইতেছে যে, তিনি যেন অকাতরে, ধৈর্য সহকারে ও সহিষ্ণুতার সহিত বিরুদ্ধবাদী কাফেরদের অত্যাচার-অনাচার, ঠাট্টা-বিদ্রুপ ও শত্রুতার আচরণকে সহ্য করিয়া নেন। কেননা, পরিণামে তাঁহার (সাঃ) উদ্দেশ্যই সফল ও কৃতকার্য হইবে।
بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ ﴿۱﴾
نٓ وَالۡقَلَمِ وَمَا یَسۡطُرُوۡنَ ۙ﴿۲﴾
مَاۤ اَنۡتَ بِنِعۡمَۃِ رَبِّکَ بِمَجۡنُوۡنٍ ۚ﴿۳﴾
وَاِنَّ لَکَ لَاَجۡرًا غَیۡرَ مَمۡنُوۡنٍ ۚ﴿۴﴾
وَاِنَّکَ لَعَلٰی خُلُقٍ عَظِیۡمٍ ﴿۵﴾
بِاَٮیِّکُمُ الۡمَفۡتُوۡنُ ﴿۷﴾
اِنَّ رَبَّکَ ہُوَ اَعۡلَمُ بِمَنۡ ضَلَّ عَنۡ سَبِیۡلِہٖ ۪ وَہُوَ اَعۡلَمُ بِالۡمُہۡتَدِیۡنَ ﴿۸﴾
وَدُّوۡا لَوۡ تُدۡہِنُ فَیُدۡہِنُوۡنَ ﴿۱۰﴾