الطلاق
At-Talaq
ইহা মদীনায় অবতীর্ণ, বিসমিল্লাহ্সহ ইহাতে ১৩ আয়াত এবং ২ রুকু আছে।
অবর্তীর্ণ হওয়ার সময় ও প্রসঙ্গ
এই সূরা পঞ্চম বা ষষ্ঠ হিজরী সালে মদীনায় অবতীর্ণ হইয়াছিল। আব্দুল্লাহ্ বিন উমর তাঁহার স্ত্রীকে ঋতুবতী অবস্থায় তালাক দেওয়াতে ইহাকে অবলম্বন করিয়া এই সূরা অবতীর্ণ হয়। তালাক দানের সঠিক রীতি-নীতি বিবৃত করিয়া, যদৃচ্ছা তালাক দান নিষিদ্ধ করাই এই সূরাটির উদ্দেশ্য। পূর্ববর্তী সূরাতে এক ধরণের স্ত্রী ও সন্তানাদি সম্বন্ধে মানুষকে সাবধানতা অবলম্বনের উপদেশ দেওয়া হইয়াছে, কেননা তাহারা আল্লাহ্র পথে ও সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য ধন-সম্পদ ও অর্থ-কড়ি ব্যয় করিতে উদ্যত মো’মেন স্বামী ও পিতাকে বাধা দান করিয়া থাকে। ইহাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্যের সৃষ্টি হইয়া তালাকের পর্যায়ে পৌঁছিয়া যায়। একে অপরের মেযাজের তারতম্য ও ভারসাম্যহীনতা এবং অন্যান্য কারণেও অবশ্য ‘তালাক’ (স্ত্রী-বিচ্ছেদ) ঘটিয়া থাকে। অতএব ‘তালাক’ সম্বন্ধে কিছু ন্যায়-সঙ্গত বিধি ও নিয়মাবলী বর্ণনা করা প্রয়োজন ছিল। এই বিষয়টাই পূর্ববর্তী সূরার সহিত এই সূরার নিকট-সম্পর্কের কারণ। কিন্তু, সাকল্যভাবে, কুরআনের বিষয়-বস্তুসমূহের মধ্যে একটি গভীরতর সম্পর্কও পরিব্যাপ্ত রহিয়াছে। কুরআনের ইহা একটি স্বকীয় বৈশিষ্ট্য যে, কুরআনের কোন সূরা যখন কোন নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর শুরুতেই বক্তব্য রাখে, তখন ঐ বিষয়টির উপর জোর দিবার জন্য সূরার শেষ দিকে, সংক্ষেপে অথচ সুতীক্ষ্মভাবে সেই বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করে। একই নিয়মে, হিজরতের প্রথমদিকে মদীনায় অবতীর্ণ সূরাগুলিতে যে যে বিষয়াদি বিরত হইয়াছে, শেষদিকে অবতীর্ণ মাদানী সূরাগুলিতে সে সে বিষয়ে সংক্ষেপে পুনরায় আলোক-সম্পাত করা হইয়াছে। তাই দেখা যায় যে, মদীনায় প্রথম পর্যায়ে অবতীর্ণ সূরাগুলিতে, যথা সূরা বাকারা, সূরা আলে ইমরান ও সূরা নিসাতে যে সকল সামাজিক, রাজনৈতিক, আর্থিক ও রাষ্ট্রনৈতিক বিষয়াদি বিষদভাবে বর্ণিত হইয়াছে, সেই বিষয়গুলি শেষ দশটি মাদানী সূরাতেও অতি সংক্ষিপ্তভাবে পুনরায় স্থান পাইয়াছে। তালাকের বিষয়টি এই সূরায় অতি সংক্ষেপে স্থান পাইয়াছে, যেহেতু সূরা বাকারাতে পূর্বেই এই বিষয়ে বিস্তারিত বর্ণনা সন্নিবেশিত হইয়াছে।
বিষয়-বস্তু
কোন ব্যক্তি বিবাহ-বিচ্ছেদ করিতে ইচ্ছুক হইলে তাহাকে কি কি পদ্ধতি অবলম্বন করিতে হইবে এবং বিবাহ-বিচ্ছেদ ঘোষণা করার পর হইতে স্ত্রীর ইদ্দৎকাল (অপেক্ষা কাল) অতিক্রম না করা পর্যন্ত স্ত্রীর সহিত কিরূপ আচার-আচরণ করিবে–এই বিষয় আলোচনার মাধ্যমে সুরাটি আরম্ভ হইয়াছে। ইহা বাধ্যতামূলক করা হইয়াছে যে, স্ত্রীর ইদ্দৎ-কাল পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত, স্ত্রীর ভরণ-পোষণ যথারীতি স্বামীকে যোগাইতে হইবে। ইহা লক্ষ্যণীয়-ও তাৎপর্যপূর্ণ ব্যাপার যে, সূরার তেরটি আয়াতের মধ্যে, পাঁচটি সংক্ষিপ্ত আয়াতে চারবার ন্যায়-বিচার ও ন্যায়ানুগ ব্যবহারের উপদেশ দেওয়া হইয়াছে। বিবাহ-বিচ্ছেদ কালে, স্বামীরা সাধারণতঃ পরিত্যক্তা স্ত্রীর প্রতি অন্যায় বা দুর্ব্যবহারের জন্য উদ্যত হইতে পারে। তাই বার বার আল্লাহ্তা’লাকে ভয় করার দিকে মনোযোগ আকর্ষণ করা হইয়াছে।
بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ ﴿۱﴾
یٰۤاَیُّہَا النَّبِیُّ اِذَا طَلَّقۡتُمُ النِّسَآءَ فَطَلِّقُوۡہُنَّ لِعِدَّتِہِنَّ وَاَحۡصُوا الۡعِدَّۃَ ۚ وَاتَّقُوا اللّٰہَ رَبَّکُمۡ ۚ لَا تُخۡرِجُوۡہُنَّ مِنۡۢ بُیُوۡتِہِنَّ وَلَا یَخۡرُجۡنَ اِلَّاۤ اَنۡ یَّاۡتِیۡنَ بِفَاحِشَۃٍ مُّبَیِّنَۃٍ ؕ وَتِلۡکَ حُدُوۡدُ اللّٰہِ ؕ وَمَنۡ یَّتَعَدَّ حُدُوۡدَ اللّٰہِ فَقَدۡ ظَلَمَ نَفۡسَہٗ ؕ لَا تَدۡرِیۡ لَعَلَّ اللّٰہَ یُحۡدِثُ بَعۡدَ ذٰلِکَ اَمۡرًا ﴿۲﴾
فَاِذَا بَلَغۡنَ اَجَلَہُنَّ فَاَمۡسِکُوۡہُنَّ بِمَعۡرُوۡفٍ اَوۡ فَارِقُوۡہُنَّ بِمَعۡرُوۡفٍ وَّاَشۡہِدُوۡا ذَوَیۡ عَدۡلٍ مِّنۡکُمۡ وَاَقِیۡمُوا الشَّہَادَۃَ لِلّٰہِ ؕ ذٰلِکُمۡ یُوۡعَظُ بِہٖ مَنۡ کَانَ یُؤۡمِنُ بِاللّٰہِ وَالۡیَوۡمِ الۡاٰخِرِ ۬ؕ وَمَنۡ یَّتَّقِ اللّٰہَ یَجۡعَلۡ لَّہٗ مَخۡرَجًا ۙ﴿۳﴾
وَّیَرۡزُقۡہُ مِنۡ حَیۡثُ لَا یَحۡتَسِبُ ؕ وَمَنۡ یَّتَوَکَّلۡ عَلَی اللّٰہِ فَہُوَ حَسۡبُہٗ ؕ اِنَّ اللّٰہَ بَالِغُ اَمۡرِہٖ ؕ قَدۡ جَعَلَ اللّٰہُ لِکُلِّ شَیۡءٍ قَدۡرًا ﴿۴﴾
وَالّٰٓئِیۡ یَئِسۡنَ مِنَ الۡمَحِیۡضِ مِنۡ نِّسَآئِکُمۡ اِنِ ارۡتَبۡتُمۡ فَعِدَّتُہُنَّ ثَلٰثَۃُ اَشۡہُرٍ ۙ وَّالّٰٓئِیۡ لَمۡ یَحِضۡنَ ؕ وَاُولَاتُ الۡاَحۡمَالِ اَجَلُہُنَّ اَنۡ یَّضَعۡنَ حَمۡلَہُنَّ ؕ وَمَنۡ یَّتَّقِ اللّٰہَ یَجۡعَلۡ لَّہٗ مِنۡ اَمۡرِہٖ یُسۡرًا ﴿۵﴾
ذٰلِکَ اَمۡرُ اللّٰہِ اَنۡزَلَہٗۤ اِلَیۡکُمۡ ؕ وَمَنۡ یَّتَّقِ اللّٰہَ یُکَفِّرۡ عَنۡہُ سَیِّاٰتِہٖ وَیُعۡظِمۡ لَہٗۤ اَجۡرًا ﴿۶﴾
اَسۡکِنُوۡہُنَّ مِنۡ حَیۡثُ سَکَنۡتُمۡ مِّنۡ وُّجۡدِکُمۡ وَلَا تُضَآرُّوۡہُنَّ لِتُضَیِّقُوۡا عَلَیۡہِنَّ ؕ وَاِنۡ کُنَّ اُولَاتِ حَمۡلٍ فَاَنۡفِقُوۡا عَلَیۡہِنَّ حَتّٰی یَضَعۡنَ حَمۡلَہُنَّ ۚ فَاِنۡ اَرۡضَعۡنَ لَکُمۡ فَاٰتُوۡہُنَّ اُجُوۡرَہُنَّ ۚ وَاۡتَمِرُوۡا بَیۡنَکُمۡ بِمَعۡرُوۡفٍ ۚ وَاِنۡ تَعَاسَرۡتُمۡ فَسَتُرۡضِعُ لَہٗۤ اُخۡرٰی ؕ﴿۷﴾
لِیُنۡفِقۡ ذُوۡ سَعَۃٍ مِّنۡ سَعَتِہٖ ؕ وَمَنۡ قُدِرَ عَلَیۡہِ رِزۡقُہٗ فَلۡیُنۡفِقۡ مِمَّاۤ اٰتٰٮہُ اللّٰہُ ؕ لَا یُکَلِّفُ اللّٰہُ نَفۡسًا اِلَّا مَاۤ اٰتٰٮہَا ؕ سَیَجۡعَلُ اللّٰہُ بَعۡدَ عُسۡرٍ یُّسۡرًا ﴿٪۸﴾
وَکَاَیِّنۡ مِّنۡ قَرۡیَۃٍ عَتَتۡ عَنۡ اَمۡرِ رَبِّہَا وَرُسُلِہٖ فَحَاسَبۡنٰہَا حِسَابًا شَدِیۡدًا ۙ وَّعَذَّبۡنٰہَا عَذَابًا نُّکۡرًا ﴿۹﴾