التغابن
At-Taghabun
ইহা মদীনায় অবতীর্ণ, বিসমিল্লাহ্সহ ইহাতে ১৯ আয়াত এবং ২ রুকু আছে।
ভূমিকা
এই সূরা মদীনায় নাযেল হইয়াছিল। পূর্ববর্তী সূরাটি মো’মেনগণকে এই উপদেশ ও নির্দেশ দিয়া উপসংহার টানিয়াছিল যে, তাহারা যেন আল্লাহ্র কাছে নিজ নিজ কাজের হিসাব দিবার দিন আসিবার পূর্বেই সত্যের প্রতিষ্ঠাকল্পে বদান্যতার সহিত অর্থ, বিত্ত, শক্তি-সামর্থ্য সব কিছু খরচ করে। এই সূরাতে সেই ভয়াবহ দিনের কিছু বর্ণনা দেওয়া হইয়াছে, যে দিনটিকে “লাভ-লোকসানের দিন” বলিয়া অভিহিত করা হয়। মো’মেনদিগকে এই সূরাতেও পুনরায় বিশেষভাবে উৎসাহিত করা হইয়াছে যাহাতে তাহারা আল্লাহ্র পথে নিজেদের ধন-সম্পদ খরচ করার ব্যাপারে মুক্ত-হস্ত হয় এবং দৃঢ়-সংকল্প থাকে। পরিবার-পরিজন, স্ত্রী-পুত্র ও আত্মীয়-স্বজনের বন্ধন ইত্যাদি কিছুই যেন এই পথে অন্তরায় হইয়া না দাঁড়ায়। অতঃপর সূরাটিতে বলা হইয়াছে যে, সমগ্র মহাবিশ্বকে আল্লাহ্তা’লা মানুষের সেবায় নিয়োজিত থাকার জন্য সৃষ্টি করিয়াছেন এবং মানুষকে এমন বিরাট প্রাকৃতিক শক্তিনিচয় দ্বারা ভূষিত করিয়াছেন যাহাতে সে নিজের জীবনের উদ্দেশ্যকে সঠিকভাবে পূর্ণ করিতে পারে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, অকৃতজ্ঞ মানব আল্লাহ্র নির্দেশকে অমান্য করে। তাই তাহাদিগকে সতর্ক করা হইয়াছে যে, তাহারা যেন ঐ দিনের জন্য প্রস্তুত থাকে, যেদিন তাহারা সঠিকভাবে বুঝিতে পারিবে যে, আল্লাহ্র প্রেরিত পুরুষগণের অবাধ্যতা করিয়া তাহারা কত বিরাট ক্ষতির মধ্যে নিপতিত হইয়াছে। সূরার শেষের দিকে বিশ্বাসীগণকে আশ্বাস দেওয়া হইয়াছে যে, তাহারা আল্লাহ্র প্রতি ও মানবের প্রতি নিজ নিজ দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে যদি ভুল-ভ্রান্তি ও অবহেলা করিয়া থাকে তাহা হইলে ঐ ত্রুটি-বিচ্যুতি ও অপরাধ হইতে মুক্তি পাওয়ার জন্য তাহারা যেন আল্লাহ্র আদেশ-নিষেধের প্রতি অভিনিবেশ সহকারে মনোযোগী হয় এবং সেগুলি পালন করে। সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহ্র পথে ও সত্যের প্রতিষ্ঠায় তাহারা যেন মুক্ত হস্তে খরচ করে।
بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ ﴿۱﴾
یُسَبِّحُ لِلّٰہِ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَمَا فِی الۡاَرۡضِ ۚ لَہُ الۡمُلۡکُ وَلَہُ الۡحَمۡدُ ۫ وَہُوَ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ قَدِیۡرٌ ﴿۲﴾
ہُوَ الَّذِیۡ خَلَقَکُمۡ فَمِنۡکُمۡ کَافِرٌ وَّمِنۡکُمۡ مُّؤۡمِنٌ ؕ وَاللّٰہُ بِمَا تَعۡمَلُوۡنَ بَصِیۡرٌ ﴿۳﴾
خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضَ بِالۡحَقِّ وَصَوَّرَکُمۡ فَاَحۡسَنَ صُوَرَکُمۡ ۚ وَاِلَیۡہِ الۡمَصِیۡرُ ﴿۴﴾
یَعۡلَمُ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ وَیَعۡلَمُ مَا تُسِرُّوۡنَ وَمَا تُعۡلِنُوۡنَ ؕ وَاللّٰہُ عَلِیۡمٌۢ بِذَاتِ الصُّدُوۡرِ ﴿۵﴾
اَلَمۡ یَاۡتِکُمۡ نَبَؤُا الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا مِنۡ قَبۡلُ ۫ فَذَاقُوۡا وَبَالَ اَمۡرِہِمۡ وَلَہُمۡ عَذَابٌ اَلِیۡمٌ ﴿۶﴾
ذٰلِکَ بِاَنَّہٗ کَانَتۡ تَّاۡتِیۡہِمۡ رُسُلُہُمۡ بِالۡبَیِّنٰتِ فَقَالُوۡۤا اَبَشَرٌ یَّہۡدُوۡنَنَا ۫ فَکَفَرُوۡا وَتَوَلَّوۡا وَّاسۡتَغۡنَی اللّٰہُ ؕ وَاللّٰہُ غَنِیٌّ حَمِیۡدٌ ﴿۷﴾
زَعَمَ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡۤا اَنۡ لَّنۡ یُّبۡعَثُوۡا ؕ قُلۡ بَلٰی وَرَبِّیۡ لَتُبۡعَثُنَّ ثُمَّ لَتُنَبَّؤُنَّ بِمَا عَمِلۡتُمۡ ؕ وَذٰلِکَ عَلَی اللّٰہِ یَسِیۡرٌ ﴿۸﴾
فَاٰمِنُوۡا بِاللّٰہِ وَرَسُوۡلِہٖ وَالنُّوۡرِ الَّذِیۡۤ اَنۡزَلۡنَا ؕ وَاللّٰہُ بِمَا تَعۡمَلُوۡنَ خَبِیۡرٌ ﴿۹﴾
یَوۡمَ یَجۡمَعُکُمۡ لِیَوۡمِ الۡجَمۡعِ ذٰلِکَ یَوۡمُ التَّغَابُنِ ؕ وَمَنۡ یُّؤۡمِنۡۢ بِاللّٰہِ وَیَعۡمَلۡ صَالِحًا یُّکَفِّرۡ عَنۡہُ سَیِّاٰتِہٖ وَیُدۡخِلۡہُ جَنّٰتٍ تَجۡرِیۡ مِنۡ تَحۡتِہَا الۡاَنۡہٰرُ خٰلِدِیۡنَ فِیۡہَاۤ اَبَدًا ؕ ذٰلِکَ الۡفَوۡزُ الۡعَظِیۡمُ ﴿۱۰﴾