৬১

الصف

সূরা আস্ সাফ্‌ফ

As-Saff

মাদানী ১৫ আয়াত ২ রুকু পারা ২৮

ইহা মদীনায় অবতীর্ণ, বিসমিল্লাহ্‌সহ ইহাতে ১৫ আয়াত এবং ২ রুকু আছে।

بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ ﴿۱﴾

১
আল্লাহ্‌র নামে, যিনি অযাচিত-অসীম দাতা, পরম দয়াময়।

سَبَّحَ لِلّٰہِ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَمَا فِی الۡاَرۡضِ ۚ وَہُوَ الۡعَزِیۡزُ الۡحَکِیۡمُ ﴿۲﴾

২
আকাশসমূহে যাহা কিছু আছে এবং পৃথিবীতে যাহা কিছু আছে সকলেই আল্লাহ্‌র তসবীহ (পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা) করে এবং তিনি মহাপরাক্রমশালী, পরম প্রজ্ঞাময়।

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لِمَ تَقُوۡلُوۡنَ مَا لَا تَفۡعَلُوۡنَ ﴿۳﴾

৩
হে যাহারা ঈমান আনিয়াছ! তোমরা কেন তাহা বল যাহা কর না?৩০৩৪
৩০৩৪। মুসলমানগণ কথায় ও কাজে এক। একজন মুসলমান যাহা বলে, তাহাই সে করে। বড় বড় বুলি আর শূন্য-আস্ফালন কোনই কাজে আসে না। এরূপ ঈমান যাহা কার্যে রূপান্তরিত হয় না,আর এরূপ প্রতিজ্ঞা যাহা বাস্তবায়িত করা হয় না, তাহাতো মোনাফেকী বা ভণ্ডামী ছাড়া কিছুই নয়।

کَبُرَ مَقۡتًا عِنۡدَ اللّٰہِ اَنۡ تَقُوۡلُوۡا مَا لَا تَفۡعَلُوۡنَ ﴿۴﴾

৪
আল্লাহ্‌র দৃষ্টিতে ইহা অত্যন্ত ঘৃণিত যে, তোমরা তাহা বল যাহা কর না।

اِنَّ اللّٰہَ یُحِبُّ الَّذِیۡنَ یُقَاتِلُوۡنَ فِیۡ سَبِیۡلِہٖ صَفًّا کَاَنَّہُمۡ بُنۡیَانٌ مَّرۡصُوۡصٌ ﴿۵﴾

৫
নিশ্চয় আল্লাহ্ তাহাদিগকে ভালবাসেন, যাহারা তাহার পথে সারিবদ্ধ হইয়া এমনভাবে যুদ্ধ করে৩০৩৫ যেন তাহারা সীসা-গলিত প্রাচীর।
৩০৩৫। মুসলমান হইতে ইহাই আশা করা হয় যে, তাহারা শত্রুদের হীন-চক্রান্তের মোকাবিলায় তাহাদের নেতার নেতৃত্বের অধীনে পূর্ণ ঐক্য ও অটল আনুগত্য সহকারে অভিযান চালাইবে। যাহারা শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ সম্প্রদায়রূপে গড়িয়া উঠিতে চায়, তাহাদের একই জীবনাদর্শ, একই জীবন-পদ্ধতি, একই নীতিমালা, একই উদ্দেশ্য এবং একই লক্ষ্য সহ একটি একক কর্মসূচীর অনুসারী হইতে হইবে। তবেই তাহারা লক্ষ্যে পৌঁছাইতে সমর্থ হইবে।

وَاِذۡ قَالَ مُوۡسٰی لِقَوۡمِہٖ یٰقَوۡمِ لِمَ تُؤۡذُوۡنَنِیۡ وَقَدۡ تَّعۡلَمُوۡنَ اَنِّیۡ رَسُوۡلُ اللّٰہِ اِلَیۡکُمۡ ؕ فَلَمَّا زَاغُوۡۤا اَزَاغَ اللّٰہُ قُلُوۡبَہُمۡ ؕ وَاللّٰہُ لَا یَہۡدِی الۡقَوۡمَ الۡفٰسِقِیۡنَ ﴿۶﴾

৬
এবং (স্মরণ কর) যখন মূসা তাহার জাতিকে বলিয়াছিল, ‘হে আমার জাতি! তোমরা কেন আমাকে যাতনা দিতেছ৩০৩৬ অথচ তোমরা জান যে, নিশ্চয় আমি তোমাদের প্রতি আল্লাহ্‌র রসূল?’ অতঃপর যখন তাহারা বক্রতা অবলম্বন করিল তখন আল্লাহ্‌ও তাহাদের হৃদয়গুলিকে বক্র করিয়া দিলেন; বস্তুতঃ আল্লাহ্ দুষ্কৃতিপরায়ণ জাতিকে হেদায়াত দান করেন না।
৩০৩৬। মূসা (আঃ) নিজের অনুসারীদের তরফ হইতে যে মানসিক কষ্ট ও বিপত্তি সহ্য করিয়াছেন, কোন নবীকেই হয়তঃ এমনটা করিতে হয় নাই। তাঁহার অনুসারীগণ স্বচক্ষে ফেরাউনের সলিল-সমাধি দেখিল, আল্লাহ্‌র মহাশক্তি প্রত্যক্ষ করিল। অথচ নিরাপদে সাগর পাড়ি দিবার পরেই তাহারা আল্লাহ্‌র কুদরতকে ভুলিয়া গিয়া পৌত্তলিকতার দিকে আকৃষ্ট হইয়া গেল এবং অন্য এক জাতিকে মূর্তি-পূজা করিতে দেখিয়া মূসা (আঃ)-কে বলিল, ‘‘আমাদের জন্য এরূপ উপাস্য তৈরী করিয়া দাও যেরূপ উপাস্য তাহাদের আছে’’ (৭ঃ১৩৯)। যখন মূসা (আঃ) তাহাদিগকে আল্লাহ্‌র প্রতিশ্রুত-ভূমি কেনান এলাকায় অভিযান চালাইবার জন্য তাহাদিগকে নির্দেশ দিলেন, তখন তাহারা অবহেলা ও তাচ্ছিল্যের সূরে জবাব দিল, ‘‘তুমি ও তোমার প্রভু যাও এবং তোমরা দুইজনেই যুদ্ধ কর, নিশ্চয় আমরা এখানেই বসিয়া থাকিব’’ (৫ঃ২৫)। পৌত্তলিক মনোভাবাপন্ন স্বজাতিকে মূসা (আঃ) মূর্তি-পূজা হইতে পুনরুদ্ধারের জন্য অবিরত চেষ্টা করিয়াছিলেন বটে, কিন্তু ফেরাউনের দাসত্ব হইতে উদ্ধারকৃত স্বজাতির নিকট হইতে কৃতজ্ঞতা-প্রাপ্তির চাইতে তিনি অবজ্ঞা,অবাধ্যতা ও ঔদ্ধত্য পাইয়াছেন বেশী। তাঁহার সৎ চেষ্টার প্রতি সহযোগিতা দানের পরিবর্তে তাঁহার অনুসারীরা বরং বাধা দান করিয়াছে বেশী। অথচ ফেরাউনের দাসত্ব হইতে মুসা (আঃ) তাহাদিকে মুক্ত না করিলে বনী ইসরাঈলী জাতির জাতি-সত্তাই লোপ পাইত। পৌত্তলিকতার অন্ধকার হইতে তওহীদের আলোর দিকে না আনিলে, সকল পারলৌকিক মঙ্গল হইতেও ঐ জাতি চিরবঞ্চিত থাকিত। এত বড় ইহলৌকিক ও পারলৌকিক মঙ্গলকারীর প্রতি অপমান, বিদ্বেষ, বদনাম ও কুখ্যাতি পর্যন্ত তাহারা ছড়াইয়াছে।

وَاِذۡ قَالَ عِیۡسَی ابۡنُ مَرۡیَمَ یٰبَنِیۡۤ اِسۡرَآءِیۡلَ اِنِّیۡ رَسُوۡلُ اللّٰہِ اِلَیۡکُمۡ مُّصَدِّقًا لِّمَا بَیۡنَ یَدَیَّ مِنَ التَّوۡرٰٮۃِ وَمُبَشِّرًۢا بِرَسُوۡلٍ یَّاۡتِیۡ مِنۡۢ بَعۡدِی اسۡمُہٗۤ اَحۡمَدُ ؕ فَلَمَّا جَآءَہُمۡ بِالۡبَیِّنٰتِ قَالُوۡا ہٰذَا سِحۡرٌ مُّبِیۡنٌ ﴿۷﴾

৭
এবং (স্মরণ কর) যখন মরিয়মের পুত্র ঈসা বলিয়াছিল, ‘হে বনী ইস্‌রাঈল! নিশ্চয় আমি তোমাদের প্রতি আল্লাহ্‌র রসূল, উহার (ভবিষ্যদ্বাণীর) সত্যায়নকারীরূপে যাহা তওরাত হইতে আমার সম্মুখে আছে, এবং এমন এক রসূলেরও সুসংবাদ দাতা রূপে যে আমার পরে আসিবে, যাহার নাম হইবে আহ্‌মদ।’৩০৩৭ অতঃপর যখন সে তাহাদের নিকট সুস্পষ্ট প্রমাণাদিসহ আসিল, তাহারা বলিল, ‘ইহাতো প্রকাশ্য যাদু।’
৩০৩৭। নবী করীম (সাঃ)-এর আগমন সম্বন্ধে হযরত ঈসা (আঃ) যে ভবিষ্যদ্বাণী করিয়াছিলেন, তাহা বাইবেলের, যোহন ১২ঃ১৩, ১৪ঃ১৬-১৭, ১৫ঃ২৬ ও ১৬ঃ৭ লিপিবদ্ধ রহিয়াছে। ভবিষ্যদ্বাণীতে মহানবী (সাঃ)-কে ‘প্যারাক্লিত’ বা ‘কমফর্টার’ বা ‘স্পিরিট অব ট্রুথ’ নামে অভিহিত দেখিতে পাওয়া যায়। এই নামটি ও আনুসাঙ্গিক বিষয়াদি বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যা করিলে ভবিষ্যদ্বাণীর মর্ম পরিষ্কার বুঝা যাইবেঃ (ক) ভবিষ্যদ্বাণীতে আছে যে, ঈসা (আঃ)-এর ইহলীলা ত্যাগের পর শান্তিদাতা (প্যারাক্লিট বা কমফর্টার ) বা সত্যের আত্মা (স্পিরিট অব ট্রুথ) আগমন করিবেন, (খ) তিনি (আগমনকারী) পৃথিবীর বুকে চিরস্থায়ী হইবেন। তিনি আসিয়া বহু বিষয়ে অনেক অনেক কথা বলিবেন, যাহা ঈসা (আঃ) স্বয়ং তখন বলিতে পারেন নাই, কেননা মানুষ ঐগুলির গুরুত্ব ও দায়িত্ব বহন করিবার উপযুক্ত শক্তি তখনও প্রাপ্ত হয় নাই, (গ) তিনি মানুষকে সাকল্য সত্যে পরিচালিত করিবেন, (ঘ) তিনি নিজ হইতে কিছুই বলিবেন না বরং যাহা যাহা তিনি শ্রবণ করিবেন, তাহা তাহাই তিনি বলিবেন, (ঙ) তিনি আসিয়া ঈসা (আঃ)-এর মর্যাদা উচ্চ করিবেন এবং তাঁহার সত্যতার সাক্ষ্য দিবেন। (শান্তিদাতা সত্যের আত্মা)-এর বর্ণনা, কুরআনে প্রদত্ত মহানবী (সাঃ)-এর গুণাবলী, মর্যাদা, আদর্শ ও লক্ষ্য সম্বন্ধীয় বর্ণনার সাথে হুবহু মিলিয়া যায়। ঈসা (আঃ)-এর ইহজগৎ ত্যাগের পরে মহানবী (সাঃ)-এর আবির্ভাব ঘটে, তিনি চিরস্থায়ী শরীয়াতসহ আগমন করেন, কুরআন বিশ্বমানবের জন্য সর্বশেষ ধর্মগ্রন্থ যাহা কেয়ামত পর্যন্ত বলবৎ থাকিবে (৫ঃ৪)। তিনি নিজ হইতে কিছু বলেন নাই, বরং আল্লাহ্‌র কাছ হইতে যাহা শুনিয়াছেন, তাহাই তিনি বলিয়াছেন (৫৩ঃ৪)। তিনি ঈসা (আঃ)-এর গুণ-কীর্তন করিয়াছেন (২ঃ২৫৪, ৩ঃ৫৬)। যোহনের সুসমাচারে বর্ণিত ভবিষ্যদ্বাণীর প্রতিটি কথা, কুরআনের এই আয়াতে প্রদত্ত ঈসা (আঃ)-এর ভবিষ্যদ্বাণী-যুক্ত কথাগুলির সাথে মিলিয়া যায়, কেবল প্যারাক্লিত নামটির স্থলে ‘আহমদ’ নাম ব্যবহৃত হইয়াছে। বাইবেলের ও কুরআনের বর্ণনার মধ্যে সামঞ্জস্য থাকা সত্বেও কেবল নামের বিভিন্নতার উপর ভিত্তি করিয়া, খৃষ্টান লেখকগণ কুরআনের বর্ণিত এই ভবিষ্যদ্বাণীকে, ঈসা (আঃ)-এর প্যারাক্লিত সম্পর্কিত ভবিষ্যদ্বাণী বলিয়া মানিয়া নিতে অস্বীকার করেন ও চ্যালেঞ্জ করেন। আসল কথা হইল, ঈসা (আঃ) ‘আরামাইক’ ও হিব্র-এই দুই ভাষায়ই কথা বলিতেন। আরামাইক ছিল তাঁহার মাতৃ-ভাষা আর হিব্রু ছিল তাহার ধর্মীয় ভাষা। বাইবেলের যে পঠন আমরা পাই, তাহা আরামাইক ও হিব্রু ভাষার বাইবেলের গ্রীক অনুবাদ। আরামাইক বা হিব্রু বাইবেলের অস্তিত্ব এখন নাই। তাই গ্রীক ভাষায় অনূদিত বাইবেল হইতে অন্যান্য ভাষায় বাইবেল অনূদিত হইয়া আসিয়াছে। স্বভাবতঃই অনুবাদ ‘আসলের’ পূর্ণ অর্থ প্রকাশ করিতে পারে না, কেননা প্রত্যেক ভাষারই সীমাবদ্ধতা রহিয়াছে। তাহা ছাড়া, প্রত্যেক ভাষা-ভাষী জাতিরও প্রকাশের সীমাবদ্ধতা থাকে। তাহাদের সেই সীমাবদ্ধতা তাহাদের লিখার মধ্যেও প্রকাশ পায়। গ্রীক ভাষায় ‘প্যারিকুটাস’ একটি শব্দ রহিয়াছে, যাহার অর্থ আরবী ভাষার ‘আহমদ’ শব্দের অর্থের অনুরূপ। খৃষ্ট-ধর্ম বিশারদ জেক ফিনেগান তাহার ‘দি আরকিওলজী অব রিলিজিওন’ পুস্তকে লিখিয়াছেন, “গ্রীকভাষায় ‘প্যারাক্লিটাস’ (শান্তি-দাতা) আর ‘প্যারিক্লুটাস’ একই ধরণের শব্দ দ্বিতীয় শব্দটির অর্থ দাঁড়ায় ‘আহমদ’ এবং মুহাম্মদ”। প্রাচীন কায়রো শহরের এয্‌রা সিনাগগে উণবিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে “দামাস্কাস ডকুমেন্ট” নামের একটি ধর্ম পুস্তকের দ্বিতীয় পৃষ্ঠায় দেখা যায়, ঈসা (আঃ) ভবিষ্যদ্বাণী করিয়াছেন যে ‘এমেদ’ নামে একজন পবিত্র আত্মার আগমন হইবেঃ “তিনি (সদাপ্রভু) তাঁহার মসীহের দ্বারা, তাহাদিগের কাছে তাঁহার (প্রেরিত) পবিত্র আত্মার পরিচয় ঘটাইলেন। কেননা তিনিই ‘এমেদ’ (অর্থ সত্যবাদী,আল আমীন)। এবং তাঁহার (সদাপ্রভুর) নামানুসারে … ‘এমেদ’ হিব্রু শব্দ, যাহার অর্থ হইল ‘সত্য’ অথবা ‘সত্যবাদী মহান ব্যক্তি যিনি নিরন্তর ভাল’ (ট্রাচানস ফোর্থ গসপেল, পৃঃ ১৪১)। ইহুদীরা এই শব্দটিকে ব্যাখ্যা করিয়াছে ‘আল্লাহ্‌র মোহর’ বলিয়া।যদিও ঈসা (আঃ) স্বয়ং ‘আহমদ’ শব্দটিই ব্যবহার করিয়াছিলেন তথাপি ‘আহমদ’ ও ‘এমেদ’ এই দুই শব্দের অর্থে ও উচ্চারণে সামঞ্জস্য থাকার কারণে পরবর্তী হিব্রু ভাষাভাষী লিখকগণ ‘আহমদ’ শব্দের স্থলে ‘এমেদ’ শব্দ ব্যবহার করিয়াছেন। অতএব এই আয়াতের ভবিষ্যদ্বাণীতে ব্যবহৃত ‘আহমদ’ শব্দটি মহানবী (সাঃ)-এর উদ্দেশ্যেই ব্যবহৃত হইয়াছে। এই যুক্তিধারার অনুসিদ্ধান্ত হিসাবে আহমদীয়া জামাতের প্রতিষ্ঠাতা প্রতিশ্রুত মসীহের উপরও এই ভবিষ্যদ্বাণী সমভাবে প্রযোজ্য। কেননা তাঁহাকেও আল্লাহ্‌তা’লা ওহীর মাধ্যমে ‘আহমদ’ নামে অভিহিত করিয়াছেন (বারাহীনে আহমদীয়া) এবং তাঁহার আগমনের মাধ্যমে মহানবী (সাঃ)-এর দ্বিতীয় প্রকাশ বা দ্বিতীয় আগমনের বাস্তবায়ন ঘটিয়াছে। মহানবী (সাঃ)-এর দ্বিতীয় প্রকাশ বা অভূদয়ের কথা সূরা জুমু’আর তৃতীয় আয়াতে সূক্ষ্ম ও স্পষ্টভাবে বলা হইয়াছে। এই প্রসঙ্গে উল্লেখ করা যাইতে পারে যে, ‘বার্নাবাসের সুসমাচারে’ মহানবী (সাঃ)-এর আগমনের ভবিষ্যদ্বাণী অত্যন্ত পরিষ্কারভাবে বর্ণিত হইয়াছে। খৃস্টান গীর্জা সাধারণভাবে বার্নাবাসের সুসমাচারকে সঠিক ও সন্দেহমুক্ত মনে করে না। তাহা সত্ত্বেও, এই সুসমাচারটিও অন্য চারটি সুসমাচারের মতই সমপর্যায়ের গুরুত্ব রাখে।

وَمَنۡ اَظۡلَمُ مِمَّنِ افۡتَرٰی عَلَی اللّٰہِ الۡکَذِبَ وَہُوَ یُدۡعٰۤی اِلَی الۡاِسۡلَامِ ؕ وَاللّٰہُ لَا یَہۡدِی الۡقَوۡمَ الظّٰلِمِیۡنَ ﴿۸﴾

৮
এবং ঐ ব্যক্তি অপেক্ষা বড় যালিম কে, যে আল্লাহ্‌র প্রতি মিথ্যা আরোপ করে, অথচ তাহাকে ইসলামের দিকে আহ্বান করা হয়,৩০৩৮ বস্তুতঃ আল্লাহ্‌ কখনও যালেম জাতিকে হেদায়াত দেন না।
৩০৩৮। এই আয়াতটি অবিশ্বাসীদের প্রতি আরোপ করা যায়। কারণ আহবানকারী যদি মহানবী (সাঃ) হন, তাহা হইলে অবিশ্বাসীরা হইবে আহূত ব্যক্তিগণ (২০ঃ১০৯ এবং ৩৩ঃ৪৭)। তাহা ছাড়া কুরআনে, অবিশ্বাসীগণকে, আল্লাহ্‌র প্রতি মিথ্যারোপকারী বলিয়া আখ্যায়িত করা হইয়াছে (৬ঃ১৩৮,১৪১)। তবে, ভবিষ্যদ্বাণীটিকে যদি প্রতিশ্রুত মসীহের প্রতি আরোপ করা হয়, সেক্ষেত্রে সাধারণ ও তথাকথিত ওলামাবৃন্দ প্রতিশ্রুত মসীহ্‌কে ইসলাম-বিচ্যুত ও ভ্রান্ত মনে করিয়া, তাঁহাকে ইসলামে ফিরিয়া আসার আহ্বান জানাইবে - তাহাদের মত মুসলমান হইয়া যাইবার জন্য। এই ক্ষেত্রে আহূত ব্যক্তি হইবেন ‘প্রতিশ্রুত মসীহ ও ইমাম মাহদী।

یُرِیۡدُوۡنَ لِیُطۡفِـُٔوۡا نُوۡرَ اللّٰہِ بِاَفۡوَاہِہِمۡ وَاللّٰہُ مُتِمُّ نُوۡرِہٖ وَلَوۡ کَرِہَ الۡکٰفِرُوۡنَ ﴿۹﴾

৯
তাহারা চাহে যেন তাহারা নিজেদের মুখের ফুৎকার দ্বারা আল্লাহ্‌র নূরকে৩০৩৯ নির্বাপিত করে, কিন্তু আল্লাহ্‌ তাঁহার নিজ নূরকে নিশ্চয় পূর্ণরূপে প্রকাশিত করিবেন, কাফেরগণ যত অসন্তুষ্টই হউক না কেন।
৩০৩৯। কুরআনে, নবী করীম (সাঃ)-কে বার বার ‘আল্লাহ্‌র নূর বা জ্যোতি’ বলা হইয়াছে (৪ঃ১৭৫; ৫ঃ১৭, ৬৪ঃ৯)।

ہُوَ الَّذِیۡۤ اَرۡسَلَ رَسُوۡلَہٗ بِالۡہُدٰی وَدِیۡنِ الۡحَقِّ لِیُظۡہِرَہٗ عَلَی الدِّیۡنِ کُلِّہٖ وَلَوۡ کَرِہَ الۡمُشۡرِکُوۡنَ ﴿٪۱۰﴾

১০
তিনিই তাঁহার রসূলকে হেদায়াত এবং সত্য ধর্ম সহকারে পাঠাইয়াছেন যেন তিনি ইহাকে সকল ধর্মের উপর জয়যুক্ত করিয়া দেন,৩০৪০ মোশরেক্‌গণ যত অসন্তুষ্টই হউক না কেন।
সূরা আস্ সাফ্‌ফ - রুকু ১
৩০৪০। তফসীরকারকগণের প্রায় সকলেই এই ঐক্যমত পোষণ করেন যে, এই আয়াতটি প্রতিশ্রুত মসীহের উপর প্রযোজ্য। কারণ তাঁহার সময়েই সকল ধর্ম নিজ নিজ প্রভাব-প্রতিপত্তি বিস্তারের জন্য আন্দোলন শুরু করিবে, এবং প্রতিশ্রুত মসীহের যুক্তির বলে ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব সারা বিশ্বে প্রতিষ্ঠিত হইবে।