المجادلة
Al-Mujadalah
ইহা মদীনায় অবতীর্ণ, বিসমিল্লাহ্সহ ইহাতে ২৩ আয়াত এবং ৩ রুকু আছে।
অবতীর্ণ হওয়ার সময় ও প্রসঙ্গ
কুরআনের মাদানী সূরার শেষ সপ্ত-সূরার মধ্যে ইহা দ্বিতীয় সূরা। ইহাতে ‘যিহার’-প্রথার কিছুটা বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া হইয়াছে। নিজের স্ত্রীকে ‘মা’ ডাকিয়া বিবাহ-বিচ্ছেদ ঘটানোর প্রথাকে ‘যিহার’ বলে। সূরা আহযাবেও এই যিহার সম্বন্ধে সামান্য আলোচনা আছে। ইহাতে বুঝা যায় যে, সূরা আহযাবের পূর্বে এই সূরা অবতীর্ণ হইয়াছিল। সূরা আহযাব নাযেল হইয়াছিল ৫ম ও ৭ম হিজরীর মধ্যবর্তী সময়ে। অতএব, এই সূরা উহার পূর্বেই অবতীর্ণ হইয়াছিল, খুব সম্ভবতঃ তৃতীয় ও চতুর্থ হিজরীর মধ্যবর্তী সময়ে। ইহার পূর্ববতী সূরা হাদীদে আহলে কিতাবগণকে শক্তভাবে বলা হইয়াছিল যে, আল্লাহ্তা’লার অনুগ্রহ একমাত্র তাহাদেরই প্রাপ্য বলিয়া তাহারা যে ধারণা রাখে তাহা ঠিক নয়। বরং যেহেতু তাহারা বারবার আল্লাহ্ প্রেরিত পুরুষগণকে প্রত্যাখ্যান করিয়াছে এবং বিরোধিতাসহ অত্যাচার করিয়াছে, সেইহেতু আল্লাহ্তা’লার অনুগ্রহ এখন হইতে চিরদিনের জন্য বনী ইসমাঈল বংশে চলিয়া যাইবে। বর্তমান সূরাতে মুসলিম উম্মতকে সাবধান করা হইতেছে যে, তাহাদের পার্থিব উন্নতি বহিঃশত্রু ও অভ্যন্তরীণ শত্রু উভয়ের চক্ষুশূল হইবে। অতএব, তাহারা যেন শত্রুদের অসদুদ্দেশ্য ও ষড়যন্ত্র হইতে আত্মরক্ষার জন্য সজাগ থাকে। কুরআনের একটি অপরিবর্তনীয় নীতি এই যে, যখনই শত্রুর ষড়যন্ত্রের বিষয় আলোচনায় আসে, তখনই কতকগুলি সামাজিক কদাচারের কথাও আলোচনায় আসিয়া যায়। এই পদ্ধতিটি সূরা নূর, সূরা আহযাব ও বর্তমান সূরাতে বিদ্যমান দেখা যায়।
বিষয়বস্তু
সূরাটি আরম্ভ হইয়াছে যিহার প্রথার ঘৃণা প্রকাশ করিয়া। খাওলা নাম্নী এক মুসলিম মহিলার ঘটনা উল্লেখ পূর্বক একটি আইন জারী করা হইল যে, যদি কেহ নিজের স্ত্রীকে ‘মা’ বলিয়া সম্বোধন করে তাহা হইলে এই ঘৃণ্য নৈতিক অপরাধের অনুশোচনা স্বরূপ তাহাকে তাহার কৃতদাসদের মধ্য হইতে একজনকে মুক্তিদান করিতে হইবে, অথবা দুইমাস পর্যন্ত একাধারে রোযা রাখিতে হইবে, আর যদি তাহাও না পারে তাহা হইলে ষাট জন দরিদ্রকে খাওয়াইতে হইবে। অতঃপর সূরাতে ইসলামের ভিতরকার শত্রুদের নষ্টামী ও ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ পূর্বক, গোপন-আড্ডা গঠন এবং গোপন সভা আহ্বান ইত্যাদি নাশকতামূলক কাজ-কর্মের নিন্দা করা হইয়াছে। অতঃপর যুক্তিসঙ্গতভাবেই সামাজিক মিলনের ও সভাসমিতির ব্যাপারে কতকগুলি নিয়ম-কানুন বাধিয়া দেওয়া হয়। শেষ দিকে এই সূরা ইসলামের শত্রুদের প্রতি শক্ত হুশিয়ারি উচ্চারণ করিয়া বলিতেছে যে, ইসলামের বিরোধিতা করিয়া তাহারা কেবল আল্লাহ্তা’লার ক্রোধ-ভাজনই হইবে, ইসলামের প্রগতি ও উন্নতিতে কোন বিঘ্ন সৃষ্টি করিতে পারিবে না। অবিশ্বাসীর প্রতি হুশিয়ারীর সাথে সাথে মো’মেনগণকেও সমভাবে সাবধান করা হইয়াছে যে, তাহারা যেন তাহাদের ধর্মের শত্রুদের সাথে কোন অবস্থাতেই বন্ধুত্ব না পাতায়। তাহাদের সাথে আত্মীয়তার সম্পর্ক থাকিলেও, ইসলামের বিরোধিতা ও শত্রুতা করিয়া তাহারা আল্লাহ্র সাথে সত্যি সত্যি যুদ্ধে প্রবৃত্ত হইয়াছে। আল্লাহ্র সহিত যুদ্ধরত শত্রুর প্রতি বন্ধুত্ব সত্যিকার ঈমানের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ।
بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ ﴿۱﴾
قَدۡ سَمِعَ اللّٰہُ قَوۡلَ الَّتِیۡ تُجَادِلُکَ فِیۡ زَوۡجِہَا وَتَشۡتَکِیۡۤ اِلَی اللّٰہِ ٭ۖ وَاللّٰہُ یَسۡمَعُ تَحَاوُرَکُمَا ؕ اِنَّ اللّٰہَ سَمِیۡعٌۢ بَصِیۡرٌ ﴿۲﴾
اَلَّذِیۡنَ یُظٰہِرُوۡنَ مِنۡکُمۡ مِّنۡ نِّسَآئِہِمۡ مَّا ہُنَّ اُمَّہٰتِہِمۡ ؕ اِنۡ اُمَّہٰتُہُمۡ اِلَّا الّٰٓئِیۡ وَلَدۡنَہُمۡ ؕ وَاِنَّہُمۡ لَیَقُوۡلُوۡنَ مُنۡکَرًا مِّنَ الۡقَوۡلِ وَزُوۡرًا ؕ وَاِنَّ اللّٰہَ لَعَفُوٌّ غَفُوۡرٌ ﴿۳﴾
وَالَّذِیۡنَ یُظٰہِرُوۡنَ مِنۡ نِّسَآئِہِمۡ ثُمَّ یَعُوۡدُوۡنَ لِمَا قَالُوۡا فَتَحۡرِیۡرُ رَقَبَۃٍ مِّنۡ قَبۡلِ اَنۡ یَّتَمَآسَّا ؕ ذٰلِکُمۡ تُوۡعَظُوۡنَ بِہٖ ؕ وَاللّٰہُ بِمَا تَعۡمَلُوۡنَ خَبِیۡرٌ ﴿۴﴾
فَمَنۡ لَّمۡ یَجِدۡ فَصِیَامُ شَہۡرَیۡنِ مُتَتَابِعَیۡنِ مِنۡ قَبۡلِ اَنۡ یَّتَمَآسَّا ۚ فَمَنۡ لَّمۡ یَسۡتَطِعۡ فَاِطۡعَامُ سِتِّیۡنَ مِسۡکِیۡنًا ؕ ذٰلِکَ لِتُؤۡمِنُوۡا بِاللّٰہِ وَرَسُوۡلِہٖ ؕ وَتِلۡکَ حُدُوۡدُ اللّٰہِ ؕ وَلِلۡکٰفِرِیۡنَ عَذَابٌ اَلِیۡمٌ ﴿۵﴾
اِنَّ الَّذِیۡنَ یُحَآدُّوۡنَ اللّٰہَ وَرَسُوۡلَہٗ کُبِتُوۡا کَمَا کُبِتَ الَّذِیۡنَ مِنۡ قَبۡلِہِمۡ وَقَدۡ اَنۡزَلۡنَاۤ اٰیٰتٍۭ بَیِّنٰتٍ ؕ وَلِلۡکٰفِرِیۡنَ عَذَابٌ مُّہِیۡنٌ ۚ﴿۶﴾
یَوۡمَ یَبۡعَثُہُمُ اللّٰہُ جَمِیۡعًا فَیُنَبِّئُہُمۡ بِمَا عَمِلُوۡا ؕ اَحۡصٰہُ اللّٰہُ وَنَسُوۡہُ ؕ وَاللّٰہُ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ شَہِیۡدٌ ﴿٪۷﴾
اَلَمۡ تَرَ اَنَّ اللّٰہَ یَعۡلَمُ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَمَا فِی الۡاَرۡضِ ؕ مَا یَکُوۡنُ مِنۡ نَّجۡوٰی ثَلٰثَۃٍ اِلَّا ہُوَ رَابِعُہُمۡ وَلَا خَمۡسَۃٍ اِلَّا ہُوَ سَادِسُہُمۡ وَلَاۤ اَدۡنٰی مِنۡ ذٰلِکَ وَلَاۤ اَکۡثَرَ اِلَّا ہُوَ مَعَہُمۡ اَیۡنَ مَا کَانُوۡا ۚ ثُمَّ یُنَبِّئُہُمۡ بِمَا عَمِلُوۡا یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ ؕ اِنَّ اللّٰہَ بِکُلِّ شَیۡءٍ عَلِیۡمٌ ﴿۸﴾
اَلَمۡ تَرَ اِلَی الَّذِیۡنَ نُہُوۡا عَنِ النَّجۡوٰی ثُمَّ یَعُوۡدُوۡنَ لِمَا نُہُوۡا عَنۡہُ وَیَتَنٰجَوۡنَ بِالۡاِثۡمِ وَالۡعُدۡوَانِ وَمَعۡصِیَتِ الرَّسُوۡلِ ۫ وَاِذَا جَآءُوۡکَ حَیَّوۡکَ بِمَا لَمۡ یُحَیِّکَ بِہِ اللّٰہُ ۙ وَیَقُوۡلُوۡنَ فِیۡۤ اَنۡفُسِہِمۡ لَوۡلَا یُعَذِّبُنَا اللّٰہُ بِمَا نَقُوۡلُ ؕ حَسۡبُہُمۡ جَہَنَّمُ ۚ یَصۡلَوۡنَہَا ۚ فَبِئۡسَ الۡمَصِیۡرُ ﴿۹﴾
یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡۤا اِذَا تَنَاجَیۡتُمۡ فَلَا تَتَنَاجَوۡا بِالۡاِثۡمِ وَالۡعُدۡوَانِ وَمَعۡصِیَتِ الرَّسُوۡلِ وَتَنَاجَوۡا بِالۡبِرِّ وَالتَّقۡوٰی ؕ وَاتَّقُوا اللّٰہَ الَّذِیۡۤ اِلَیۡہِ تُحۡشَرُوۡنَ ﴿۱۰﴾