৫৮

المجادلة

সূরা আল্ মুজাদেলা

Al-Mujadalah

মাদানী ২৩ আয়াত ৩ রুকু পারা ২৭–২৮

ইহা মদীনায় অবতীর্ণ, বিসমিল্লাহ্‌সহ ইহাতে ২৩ আয়াত এবং ৩ রুকু আছে।

بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ ﴿۱﴾

১
আল্লাহ্‌র নামে, যিনি অযাচিত-অসীম দাতা, পরম দয়াময়।

قَدۡ سَمِعَ اللّٰہُ قَوۡلَ الَّتِیۡ تُجَادِلُکَ فِیۡ زَوۡجِہَا وَتَشۡتَکِیۡۤ اِلَی اللّٰہِ ٭ۖ وَاللّٰہُ یَسۡمَعُ تَحَاوُرَکُمَا ؕ اِنَّ اللّٰہَ سَمِیۡعٌۢ بَصِیۡرٌ ﴿۲﴾

২
আল্লাহ্ অবশ্য সেই মহিলার কথা শুনিয়াছেন, যে তাহার স্বামীর সম্বন্ধে তোমার সহিত বিতর্ক করিতেছিল এবং আল্লাহ্‌র নিকট অভিযোগ করিতেছিল। এবং আল্লাহ্ তোমাদের উভয়ের বাক্যালাপ শুনিতেছিলেন।৩০০১ নিশ্চয় আল্লাহ্ সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।
৩০০১। সা’লাবার কন্যা এবং আউস বিন সামিতের স্ত্রী খাওলা স্বামী কর্তৃক বিচ্ছিন্নতার বিরহে পতিত হন। কেননা তাহার স্বামী তাহাকে ‘মা’ ডাকিয়া এই বিপদে ফেলে। ‘তুমি আমার মায়ের পিঠ সদৃশ্য’ এই কথা উচ্চারণ করিয়া স্বামী-স্ত্রীকে পুরাতন আরব প্রথা অনুসারে একটা ঝুলন্ত অবস্থায় নিপতিত করিতে পারিত। এই প্রথার নাম ছিল ‘যিহার’। আউস এই প্রথার সুযোগ নিয়া খাওলাকে ঝুলন্ত রাখিল অর্থাৎ স্বামী-স্ত্রী রূপে মিলামিশা হইতে বঞ্চিত রাখিয়া অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলিয়া দিল। হতভাগা স্ত্রী না বিবাহ-বিচ্ছেদের দাবী করিতে পারে, না দ্বিতীয় বিবাহ করিতে পারে, না বর্তমান স্বামীর উপর স্ত্রী-হিসাবে কোন দাবী খাটাইতে পারে। খাওলা অনিশ্চিত ঝুলন্ত অবস্থায় পতিত হইলেন। তিনি মহানবী (সাঃ)-এর কাছে আসিয়া তাহার দুর্দশার কাহিনী বর্ণনা করিলেন এবং তাঁহার পরামর্শ ও সাহায্য চাহিলেন। মহানবী (সাঃ) তাহার প্রতি সহানুভূতি দেখাইলেন বটে, কিন্তু তিনি এ ব্যাপারে কিছু করিতে অপারগতা প্রকাশ করিলেন। কেননা এই ধরণের বিষয়াদির ব্যাপারে, ওহী-ইলহামের মাধ্যমে অবগত না হইয়া তিনি সাধারণতঃ কোনও সিদ্ধান্ত দিতেন না। অবশ্য আল্লাহ্‌র তরফ হইতে ওহী আসিল এবং ‘যিহার’ প্রথা বেআইনী বলিয়া ঘোষিত হইল।

اَلَّذِیۡنَ یُظٰہِرُوۡنَ مِنۡکُمۡ مِّنۡ نِّسَآئِہِمۡ مَّا ہُنَّ اُمَّہٰتِہِمۡ ؕ اِنۡ اُمَّہٰتُہُمۡ اِلَّا الّٰٓئِیۡ وَلَدۡنَہُمۡ ؕ وَاِنَّہُمۡ لَیَقُوۡلُوۡنَ مُنۡکَرًا مِّنَ الۡقَوۡلِ وَزُوۡرًا ؕ وَاِنَّ اللّٰہَ لَعَفُوٌّ غَفُوۡرٌ ﴿۳﴾

৩
তোমাদের মধ্যে যাহারা নিজেদের স্ত্রীগণের সহিত ‘যিহার’ করে (অর্থাৎ ‘মা’ বলিয়া ফেলে, তাহাদের এইরূপ বলাতে), তাহারা তাহাদের ‘মা’ হয় না; তাহাদের মা কেবল উহারা যাহারা তাহাদিগকে প্রসব করিয়াছে। এবং নিশ্চয় তাহারা নিন্দনীয় এবং মিথ্যা কথা বলে, এবং নিশ্চয়ই আল্লাহ্ মার্জনাকারী, ক্ষমাশীল।

وَالَّذِیۡنَ یُظٰہِرُوۡنَ مِنۡ نِّسَآئِہِمۡ ثُمَّ یَعُوۡدُوۡنَ لِمَا قَالُوۡا فَتَحۡرِیۡرُ رَقَبَۃٍ مِّنۡ قَبۡلِ اَنۡ یَّتَمَآسَّا ؕ ذٰلِکُمۡ تُوۡعَظُوۡنَ بِہٖ ؕ وَاللّٰہُ بِمَا تَعۡمَلُوۡنَ خَبِیۡرٌ ﴿۴﴾

৪
এবং যাহারা নিজেদের স্ত্রীদের সহিত ‘যিহার’ করে অতঃপর তাহারা যাহা বলিয়াছে উহাতে ফিরিয়া আসে,৩০০২ তাহা হইলে তাহারা পরস্পরকে স্পর্শ করিবার পূর্বে তাহাদিগকে অবশ্যই একটি গোলামকে আযাদ করিয়া দিতে হইবে। ইহাই সেই বিষয় যে সম্বন্ধে তোমাদিগকে উপদেশ দেওয়া যাইতেছে। এবং তোমরা যে কর্মই কর উহার সম্বন্ধে আল্লাহ্ সবিশেষ খবর রাখেন।
৩০০২। “সুম্মা ইয়ায়ূদূনা লেমা কালূ” এই আরবী বাক্য দুই রকমের অর্থ বুঝাইতে পারেঃ— (ক) তাহারা যাহা বলিয়াছে উহা হইতে ফিরিয়া আসে অর্থাৎ তাহারা স্ত্রীকে ‘মা’ ডাকিয়া তাহাদের সহিত আবার সহবাস করিতে চাহে; (খ) তাহারা তাহাদের ঐ কথা নিষেধাজ্ঞা আসার পরও পুনর্বার বলে। এই ঘৃণ্য কথা পুনরায় উচ্চারণ করাকে অপরাধ গণ্য করা হইবে এবং এই অপরাধের জন্য উচ্চারণকারীকে যে শাস্তি গ্রহণ করিতে হইবে, তাহাই এই আয়াতে ও পরবর্তী আয়াতে বর্ণিত হইয়াছে।

فَمَنۡ لَّمۡ یَجِدۡ فَصِیَامُ شَہۡرَیۡنِ مُتَتَابِعَیۡنِ مِنۡ قَبۡلِ اَنۡ یَّتَمَآسَّا ۚ فَمَنۡ لَّمۡ یَسۡتَطِعۡ فَاِطۡعَامُ سِتِّیۡنَ مِسۡکِیۡنًا ؕ ذٰلِکَ لِتُؤۡمِنُوۡا بِاللّٰہِ وَرَسُوۡلِہٖ ؕ وَتِلۡکَ حُدُوۡدُ اللّٰہِ ؕ وَلِلۡکٰفِرِیۡنَ عَذَابٌ اَلِیۡمٌ ﴿۵﴾

৫
কিন্তু যে (গোলাম) না পায়, তাহা হইলে তাহারা পরস্পর স্পর্শ করিবার পূর্বে তাহাকে একাদিক্রমে দুই মাস রোযা রাখিতে হইবে। কিন্তু সে যদি ইহাতে অসমর্থ হয় তাহা হইলে তাহাকে ষাট জন মিসকীনকে৩০০৩ আহার্য্য দিতে হইবে। ইহা এই জন্য যেন তোমরা আল্লাহ্‌র উপর এবং তাঁহার রসূলের উপর ঈমান আনিতে পার। এবং এইগুলি আল্লাহ্‌র (নির্ধারিত) সীমারেখা; এবং কাফেরদের জন্য রহিয়াছে যন্ত্রণাদায়ক আযাব।
৩০০৩। এই আয়াতগুলিতে শাস্তির কঠোরতা দেখিয়া বুঝিতে পারা যায় যে, স্ত্রীকে ‘মা’ ডাকিয়া ফেলা কত বড় গুরুতর অপরাধ। ‘মা’ এর সহিত সম্পর্ক এতই পবিত্র যে, ইহাকে ছোট করিয়া দেখার নুন্যতম অবকাশ নাই।

اِنَّ الَّذِیۡنَ یُحَآدُّوۡنَ اللّٰہَ وَرَسُوۡلَہٗ کُبِتُوۡا کَمَا کُبِتَ الَّذِیۡنَ مِنۡ قَبۡلِہِمۡ وَقَدۡ اَنۡزَلۡنَاۤ اٰیٰتٍۭ بَیِّنٰتٍ ؕ وَلِلۡکٰفِرِیۡنَ عَذَابٌ مُّہِیۡنٌ ۚ﴿۶﴾

৬
নিশ্চয় যাহারা আল্লাহ্‌ এবং তাঁহার রসূলের বিরোধিতা করে,৩০০৪ তাহাদিগকে অপদস্থ করা হইবে যেভাবে তাহাদের পূর্ববর্তীদিগকে অপদস্থ করা হইয়াছিল, এবং আমরা অবশ্যই সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী নাযেল করিয়াছি। এবং কাফেরদের জন্য অপমানজনক শাস্তি অবধারিত আছে।
৩০০৪। স্ত্রীকে ‘মা’ ডাকা, আর আল্লাহ্‌তা’লার বিরোধিতা করা, একই পর্যায়ের অপরাধ। যুক্তিসঙ্গতভাবেই আল্লাহ্‌র বিরোধিতাকারী ইহুদী ও মোনাফেকদের কথাও এই আয়াতে প্রসঙ্গতঃ আসিয়া গিয়াছে।

یَوۡمَ یَبۡعَثُہُمُ اللّٰہُ جَمِیۡعًا فَیُنَبِّئُہُمۡ بِمَا عَمِلُوۡا ؕ اَحۡصٰہُ اللّٰہُ وَنَسُوۡہُ ؕ وَاللّٰہُ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ شَہِیۡدٌ ﴿٪۷﴾

৭
যেদিন আল্লাহ্ তাহাদের সকলকে পুনরুত্থিত করিবেন এবং তিনি তাহাদের কৃত-কর্ম সম্বন্ধে অবহিত করিবেন। আল্লাহ্ ইহা হিসাব করিয়া রাখিয়াছেন কিন্তু তাহারা উহা ভুলিয়া গিয়াছে। বস্তুতঃ আল্লাহ্‌ সকল বিষয়ের উপর সাক্ষী।
সূরা আল্ মুজাদেলা - রুকু ১

اَلَمۡ تَرَ اَنَّ اللّٰہَ یَعۡلَمُ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَمَا فِی الۡاَرۡضِ ؕ مَا یَکُوۡنُ مِنۡ نَّجۡوٰی ثَلٰثَۃٍ اِلَّا ہُوَ رَابِعُہُمۡ وَلَا خَمۡسَۃٍ اِلَّا ہُوَ سَادِسُہُمۡ وَلَاۤ اَدۡنٰی مِنۡ ذٰلِکَ وَلَاۤ اَکۡثَرَ اِلَّا ہُوَ مَعَہُمۡ اَیۡنَ مَا کَانُوۡا ۚ ثُمَّ یُنَبِّئُہُمۡ بِمَا عَمِلُوۡا یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ ؕ اِنَّ اللّٰہَ بِکُلِّ شَیۡءٍ عَلِیۡمٌ ﴿۸﴾

৮
তুমি কি চিন্তা করিয়া দেখ না যে, যাহা কিছু আকাশসমূহে আছে এবং যাহা কিছু পৃথিবীতে আছে আল্লাহ্ সব জানেন? তিন জনের এমন কোন গোপন পরামর্শ হয় না যাহাতে তিনি তাহাদের চতুর্থজন না হন; এবং না পাঁচ জনের হয় যাহাতে তিনি তাহাদের ষষ্ঠজন না হন, এবং (সংখ্যায়) ইহার অপেক্ষা অল্প হউক অথবা অধিক হউক তিনি আবশ্যই তাহাদের সঙ্গে থাকেন— তাহারা যেখানেই থাকুক না কেনো। অতঃপর কিয়ামতের দিন তিনি তাহাদিগকে তাহাদের কৃত-কর্ম সম্বন্ধে অবহিত করিবেন। নিশ্চয় আল্লাহ্‌ সর্ব বিষয়ে সর্বজ্ঞানী।

اَلَمۡ تَرَ اِلَی الَّذِیۡنَ نُہُوۡا عَنِ النَّجۡوٰی ثُمَّ یَعُوۡدُوۡنَ لِمَا نُہُوۡا عَنۡہُ وَیَتَنٰجَوۡنَ بِالۡاِثۡمِ وَالۡعُدۡوَانِ وَمَعۡصِیَتِ الرَّسُوۡلِ ۫ وَاِذَا جَآءُوۡکَ حَیَّوۡکَ بِمَا لَمۡ یُحَیِّکَ بِہِ اللّٰہُ ۙ وَیَقُوۡلُوۡنَ فِیۡۤ اَنۡفُسِہِمۡ لَوۡلَا یُعَذِّبُنَا اللّٰہُ بِمَا نَقُوۡلُ ؕ حَسۡبُہُمۡ جَہَنَّمُ ۚ یَصۡلَوۡنَہَا ۚ فَبِئۡسَ الۡمَصِیۡرُ ﴿۹﴾

৯
তুমি কি তাহাদিগকে দেখ নাই যাহাদিগকে গোপন পরামর্শ করিতে নিষেধ করা হইয়াছে, অতঃপর তাহারা পুনরায় সেই কাজই করে যাহা হইতে তাহাদিগকে নিষেধ করা হইয়াছিল, এবং তাহারা পাপ কার্য, সীমালংঘন এবং রসূলের অবাধ্যতা করিবার৩০০৫ জন্য গোপন পরামর্শ করে? এবং যখন তাহারা তোমার নিকট আসে তখন তাহারা তোমাকে এমনভাবে অভিবাদন করে যেভাবে আল্লাহ্‌ও তোমাকে অভিবাদন করেন নাই,৩০০৬ এবং তাহারা নিজেদের মধ্যে বলে, ‘আমরা যাহা বলি তজ্জন্য আল্লাহ্ আমাদিগকে আযাব দেন না কেন?’ তাহাদের জন্য জাহান্নাম যথেষ্ট, উহাতে তাহারা প্রবেশ করিবে, এবং উহা কতই না মন্দ প্রত্যাবর্তনস্থল!
৩০০৫। মদীনার ইহুদীরা এবং মোনাফেকরা ইসলামের বিরুদ্ধে যে সব গোপন শত্রুতা ও ষড়যন্ত্র করিত, এই আয়াতে সেইগুলির উল্লেখপূর্বক, এইরূপ কার্যকলাপকে ঘৃণা ও জঘন্য বলিয়া বর্ণনা করা হইয়াছে। বারংবার চুক্তিভঙ্গ, বিশ্বাসঘাতকতা ও গোপন ষড়যন্ত্র দ্বারা অনিষ্ট সাধনের ও মহানবী (সাঃ)-এর জীবন-নাশের অবিরাম প্রচেষ্টার অপরাধে, আত্মরক্ষার খাতিরে বাধ্য হইয়া তিনটি ইহুদী গোত্রকে মদীনা হইতে নির্বাসন দেওয়া হইয়াছিল।
৩০০৬। এই বাক্যটির তাৎপর্য এই যে, তাহারা তোমাকে তোমার উপস্থিতিতে সীমা ছাড়াইয়া, কপটভাবে প্রশংসা করে। অন্য অর্থ ইহাও হয় যে, তাহারা তোমাদের মৃত্যু ও ধ্বংসের জন্য বদ্‌দোয়া করে। বাক্যটি মদীনার কিছু সংখ্যক ইহুদীর দুষ্কর্মের কথা স্মরণ করাইয়া দেয়। তাহারা মহানবী (সাঃ)-এর সমীপে আসিয়া বিদ্রূপাত্মক সালাম দিত এবং ‘আস্‌সালামু আলায়কা’না বলিয়া বরং জিহ্বা ঘুরাইয়া বলিত, ‘আস্‌সামু আলায়কা’ যাহার অর্থঃ (নাউযুবিল্লাহ) তোমার মৃত্যু হউক (বুখারী)।

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡۤا اِذَا تَنَاجَیۡتُمۡ فَلَا تَتَنَاجَوۡا بِالۡاِثۡمِ وَالۡعُدۡوَانِ وَمَعۡصِیَتِ الرَّسُوۡلِ وَتَنَاجَوۡا بِالۡبِرِّ وَالتَّقۡوٰی ؕ وَاتَّقُوا اللّٰہَ الَّذِیۡۤ اِلَیۡہِ تُحۡشَرُوۡنَ ﴿۱۰﴾

১০
হে যাহারা ঈমান আনিয়াছ! যখন তোমরা পরস্পরের মধ্যে গোপন পরামর্শ কর, তখন পাপ কার্য, সীমালংঘন এবং রসূলের অবাধ্যতা সম্পর্কে গোপন পরামর্শ করিও না; বরং পুণ্য কাজ এবং তাক্‌ওয়া সম্বন্ধে পরামর্শ কর,৩০০৭ এবং তাক্‌ওয়া অবলম্বন কর আল্লাহ্‌র যাহার নিকট তোমাদিগকে সমবেত করা হইবে।
৩০০৭। এই আয়াত এবং পূর্ববর্তী দুইটি আয়াতে গোপন সংস্থা ও গোপন বৈঠকের নিন্দা করা হইয়াছে, তবে এই নিন্দাবাদ শর্ত সাপেক্ষ। সৎ উদ্দেশ্য ও মঙ্গল বিস্তারের জন্য মুসলমানের গোপনে মিলনকে নিষেধ করা হয় নাই।