৩৯

الزمر

সূরা আয্‌ যুমার

Az-Zumar

মক্কী ৭৬ আয়াত ৮ রুকু পারা ২৩–২৪

ইহা মক্কায় অবতীর্ণ, বিসমিল্লাহ্‌সহ ইহাতে ৭৬ আয়াত এবং ৮ রুকু আছে।

قَدۡ قَالَہَا الَّذِیۡنَ مِنۡ قَبۡلِہِمۡ فَمَاۤ اَغۡنٰی عَنۡہُمۡ مَّا کَانُوۡا یَکۡسِبُوۡنَ ﴿۵۱﴾

৫১
তাহাদের পূর্ববর্তীগণও এইরূপ বলিত; কিন্তু তাহাদের অর্জিত সম্পদ তাহাদের কোন উপকারে আসে নাই।

فَاَصَابَہُمۡ سَیِّاٰتُ مَا کَسَبُوۡا ؕ وَالَّذِیۡنَ ظَلَمُوۡا مِنۡ ہٰۤؤُلَآءِ سَیُصِیۡبُہُمۡ سَیِّاٰتُ مَا کَسَبُوۡا ۙ وَمَا ہُمۡ بِمُعۡجِزِیۡنَ ﴿۵۲﴾

৫২
সুতরাং তাহাদের অপকর্মের মন্দ ফল তাহাদের উপর আপতিত হইল; এই সকল লোকের মধ্য হইতেও যাহারা যুলুম করিয়াছে তাহাদের উপর তাহাদের অপকর্মের মন্দ ফল অবশ্যই আপতিত হইবে; এবং তাহারা (আল্লাহ্‌কে) অক্ষম করিতে পারিবে না।

اَوَلَمۡ یَعۡلَمُوۡۤا اَنَّ اللّٰہَ یَبۡسُطُ الرِّزۡقَ لِمَنۡ یَّشَآءُ وَیَقۡدِرُ ؕ اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَاٰیٰتٍ لِّقَوۡمٍ یُّؤۡمِنُوۡنَ ﴿٪۵۳﴾

৫৩
তাহারা কি জানে না যে, আল্লাহ্ যাহার জন্য চাহেন রিয্‌ককে প্রশস্ত করিয়া দেন এবং যাহার জন্য চাহেন সংকীর্ণ করিয়া দেন? নিশ্চয় ইহার মধ্যে মো’মেন জাতির জন্য অনেক নিদর্শন আছে।
সূরা আয্‌ যুমার - রুকু ৫

قُلۡ یٰعِبَادِیَ الَّذِیۡنَ اَسۡرَفُوۡا عَلٰۤی اَنۡفُسِہِمۡ لَا تَقۡنَطُوۡا مِنۡ رَّحۡمَۃِ اللّٰہِ ؕ اِنَّ اللّٰہَ یَغۡفِرُ الذُّنُوۡبَ جَمِیۡعًا ؕ اِنَّہٗ ہُوَ الۡغَفُوۡرُ الرَّحِیۡمُ ﴿۵۴﴾

৫৪
তুমি বল, ‘হে আমার বান্দাগণ! যাহারা নিজেদের প্রাণের উপর অবিচার করিয়াছ, তোমরা আল্লাহ্‌র রহমত হইতে নিরাশ হইও না,২৫৮৪ নিশ্চয় আল্লাহ্‌ সকল পাপ ক্ষমা করেন। নিশ্চয় তিনি অতীব ক্ষমাশীল, পরম দয়াময়;
২৫৮৪। এই আয়াতে পাপীদের জন্য আশা ও আনন্দের বাণী রহিয়াছে। হতাশা ও নৈরাশ্যবাদকে দূরে সরাইয়া, আশার বাণী শুনানো হইয়াছে। এই আয়াতে অশুভ চিন্তা, দুঃখবাদ ও মন্দবাদকে নিন্দনীয় ঘোষণা করা হইয়াছে, কেননা এইগুলি পাপকে লালন করে ও অকৃতকার্যতার জন্ম দেয়। কুরআনে বারংবার ঐশী করুণা ও ক্ষমার আশ্বাস দেওয়া হইয়াছে (৬ঃ৫৫, ৭ঃ১৫৭, ১২ঃ৮৮, ১৫ঃ৫৭, ১৮ঃ৫৯)। দুঃখিত ও ভারাক্রান্তদের জন্য ইহা অপেক্ষা বড় শান্তি ও সান্ত্বনার বাণী আর কি হইতে পারে!

وَاَنِیۡبُوۡۤا اِلٰی رَبِّکُمۡ وَاَسۡلِمُوۡا لَہٗ مِنۡ قَبۡلِ اَنۡ یَّاۡتِیَکُمُ الۡعَذَابُ ثُمَّ لَا تُنۡصَرُوۡنَ ﴿۵۵﴾

৫৫
এবং তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের প্রতি ঝোঁক এবং তাহার নিকট আত্মসমর্পণ কর২৫৮৫ তোমাদের উপর সেই আযাব আসিবার পূর্বে যাহা আসিবার পর তোমাদের কোন সাহায্য করা হইবে না;
২৫৮৫। পূর্ববর্তী আয়াতে পাপীগণকে আশা ও আনন্দের বাণী শুনানো হইয়াছে বটে, কিন্তু এই আয়াতে তাহাদিগকে সতর্ক করিয়া লক্ষ্য অর্জনের পথ ও পদ্ধতি বলিয়া দেওয়া হইয়াছে যে, সেই আশ্বাস-বাণীর সুফল লাভ করিতে হইলে তাহাদিগকে ঐশী আইন (শরীয়াত) অনুসরণ করিয়া নিজেদের সৌভাগ্য নিজেদেরকেই রচনা করিতে হইবে।

وَاتَّبِعُوۡۤا اَحۡسَنَ مَاۤ اُنۡزِلَ اِلَیۡکُمۡ مِّنۡ رَّبِّکُمۡ مِّنۡ قَبۡلِ اَنۡ یَّاۡتِیَکُمُ الۡعَذَابُ بَغۡتَۃً وَّاَنۡتُمۡ لَا تَشۡعُرُوۡنَ ﴿ۙ۵۶﴾

৫৬
এবং তোমরা সর্বোত্তম শিক্ষার অনুসরণ কর যাহা তোমাদের প্রতি তোমাদের প্রতিপালকের তরফ হইতে নাযেল করা হইয়াছে, তোমাদের উপর অকস্মাৎ আযাব আসিবার পূর্বেই এমতাবস্থায় যে তোমরা বুঝিতে পারিবে না,’

اَنۡ تَقُوۡلَ نَفۡسٌ یّٰحَسۡرَتٰی عَلٰی مَا فَرَّطۡتُّ فِیۡ جَنۡۢبِ اللّٰہِ وَاِنۡ کُنۡتُ لَمِنَ السّٰخِرِیۡنَ ﴿ۙ۵۷﴾

৫৭
পাছে যেন কোন ব্যক্তি এইরূপ না বলে যে, ‘আল্লাহ্ সম্বন্ধে আমি যে অবহেলা করিয়াছি উহার জন্য পরিতাপ! বস্তুতঃ আমি উপহাসকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম,’

اَوۡ تَقُوۡلَ لَوۡ اَنَّ اللّٰہَ ہَدٰٮنِیۡ لَکُنۡتُ مِنَ الۡمُتَّقِیۡنَ ﴿ۙ۵۸﴾

৫৮
অথবা পাছে কোন ব্যক্তি যেন না বলে যে, ‘যদি আল্লাহ্‌ আমাকে হেদায়াত দিতেন তাহা হইলে নিশ্চয় আমি মুত্তাকীগণের অন্তর্ভুক্ত হইতাম;

اَوۡ تَقُوۡلَ حِیۡنَ تَرَی الۡعَذَابَ لَوۡ اَنَّ لِیۡ کَرَّۃً فَاَکُوۡنَ مِنَ الۡمُحۡسِنِیۡنَ ﴿۵۹﴾

৫৯
অথবা যখন আযাবকে দেখিবে তখন যেন সে এইরূপ না বলে যে, ‘যদি আমার জন্য (দুনিয়াতে) ফিরিয়া যাওয়া সম্ভব হইত, তাহা হইলে আমি সৎকর্মশীলগণের অন্তর্ভুক্ত হইতাম।’

بَلٰی قَدۡ جَآءَتۡکَ اٰیٰتِیۡ فَکَذَّبۡتَ بِہَا وَاسۡتَکۡبَرۡتَ وَکُنۡتَ مِنَ الۡکٰفِرِیۡنَ ﴿۶۰﴾

৬০
(তখন তাহাকে বলা হইবে) ‘নহে, বরং তোমার নিকট আমার নিদর্শনসমূহ আসিয়াছিল—তখন তুমি ঐগুলিকে মিথ্যা বলিয়া প্রত্যাখ্যান করিয়াছিলে এবং অহংকার করিয়াছিলে এবং কাফেরদের মধ্যে শামিল হইয়াছিলে’২৫৮৬
২৫৮৬। পাপাসক্ত লোককে অনুতাপ করিবার ও আত্মসংশোধনের অনেক সুযোগ দেওয়া হইয়া থাকে। কিন্তু যখন সে ইচ্ছা পূর্বক বারংবার সত্যকে প্রত্যাখ্যান করে, যখন তাহার পাপ-কর্ম ও অমিতাচার সকল সীমা ছাড়াইয়া যায় এবং তাহার হিসাব দিবার দিন সমুপস্থিত হইয়া পড়ে, তখন তাহার অনুতাপ ও আক্ষেপ আর কোন কাজে আসে না।