২৩

المؤمنون

সূরা আল্‌ মো’মেনূন

Al-Mu'minun

মক্কী ১১৯ আয়াত ৬ রুকু পারা ১৮

ইহা মক্কায় অবতীর্ণ, বিসমিল্লাহ্‌সহ ইহাতে ১১৯ আয়াত এবং ৬ রুকু আছে।

بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ ﴿۱﴾

১
আল্লাহ্‌র নামে, যিনি অযাচিত-অসীম দাতা, পরম দয়াময়।

قَدۡ اَفۡلَحَ الۡمُؤۡمِنُوۡنَ ۙ﴿۲﴾

২
মো’মেনগণ নিশ্চয় সফলকাম হইয়াছে;১৯৭৮
১৯৭৮। এই আয়াত অতি উচ্চ মার্গের মো’মেনদের প্রতি ইশারা করিতেছে, যাহাদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য পরবর্তী আয়াতগুলিতে উল্লেখ করা হইয়াছে। এই সকল বিশ্বাসী কেবল নাজাতই (মুক্তি) লাভ করিবে না, উপরন্তু সফলতাও অর্জন করিবে। কারণ নাজাত-প্রাপ্তি অপেক্ষা ‘ফালাহ্’ (সফলতা) অর্জন অধিকতর আধ্যাত্মিক উচ্চ স্তর বা মর্যাদা বিশেষ।

الَّذِیۡنَ ہُمۡ فِیۡ صَلَاتِہِمۡ خٰشِعُوۡنَ ۙ﴿۳﴾

৩
যাহারা নিজেদের নামাযে বিনয় অবলম্বন করে;১৯৭৯
১৯৭৯। এই আয়াত হইতে সেই অভিপ্রেত অবস্থা বা পূর্ব শর্তের বর্ণনা শুরু হইয়াছে যাহা একজন মো’মেনকে জীবনের অভিষ্ট পরম কৃতকার্যতা লাভ করার জন্য আকাংখা করার পূর্বেই উক্ত অবস্থার মধ্য দিয়া অতিক্রম করিতে হয়, যেজন্য আল্লাহ্ তাহাকে সৃষ্টি করিয়াছেন। এই সমস্ত অবস্থা মানবের আধ্যাত্মিক উন্নতির বহু সোপান বা স্তররূপে বিবেচিত হইতে পারে। মানবাত্মার এই সফরে প্রথম স্তর বা ধাপ এই যে, একজন বিশ্বাসী সম্পূর্ণ বিনয়াবনত অবস্থায় ঐশী মহত্ত্ব ও মহিমার ভয়ে ভীত হয় এবং তাহার কৃত পাপের জন্য সে অনুতপ্ত হৃদয়ে তাহার অবনমিত ও নিরহংকার আত্মাকে আল্লাহ্‌তা’লার প্রতি রুজু ও প্রত্যাবর্তন করে।

وَالَّذِیۡنَ ہُمۡ عَنِ اللَّغۡوِ مُعۡرِضُوۡنَ ﴿ۙ۴﴾

৪
এবং যাহারা সকল বৃথা কার্যকলাপ হইতে মুখ ফিরাইয়া লয়;১৯৮০
১৯৮০। দ্বিতীয় স্তর গঠিত হয় অসার দম্ভ ও চিন্তা এবং বৃথা ও মূল্যহীন কর্মকাণ্ড ত্যাগের মাধ্যমে। জীবন এক কঠোর বাস্তব এবং একজন বিশ্বাসীর অবশ্যই জীবনকে এই রূপেই নেওয়া উচিৎ। তাহার জীবনের প্রতিটি মূহূর্ত কার্যকরভাবে নিয়োজিত করা আবশ্যক এবং সকল অসার ও অপ্রয়োজনীয় বস্তুর অনুসরণ বর্জন করা উচিৎ।

وَالَّذِیۡنَ ہُمۡ لِلزَّکٰوۃِ فٰعِلُوۡنَ ۙ﴿۵﴾

৫
এবং যাহারা যাকাত১৯৮১ প্রদানে তৎপর;
১৯৮১। চরম দুর্দশাগ্রস্ত লোকদিগকে সাহায্য প্রদান করা, অথবা অর্থনৈতিকভাবে জাতির অনগ্রসর ভাগ্য-বিড়ম্বিত জনগোষ্ঠীর মঙ্গলার্থে সাহায্য করাই কেবল যাকাতের উদ্দেশ্য নহে, অধিকন্তু অর্থ এবং সামগ্রী মওজুদ বা জমা করাকে নিরুৎসাহিত করাও যাকাতের মহৎ উদ্দেশ্য। এইরূপে উভয়ের দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করাও যাকাতের উদ্দেশ্য যাহার ফলে সুষ্ঠু ও সঠিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা চালু থাকে।

وَالَّذِیۡنَ ہُمۡ لِفُرُوۡجِہِمۡ حٰفِظُوۡنَ ۙ﴿۶﴾

৬
এবং যাহারা নিজেদের লজ্জাস্থানের হেফাযত করে -

اِلَّا عَلٰۤی اَزۡوَاجِہِمۡ اَوۡ مَا مَلَکَتۡ اَیۡمَانُہُمۡ فَاِنَّہُمۡ غَیۡرُ مَلُوۡمِیۡنَ ۚ﴿۷﴾

৭
কেবল নিজেদের স্ত্রীগণ অথবা তাহাদের দক্ষিণ হস্তের অধিকারভুক্তগণ১৯৮১-ক ব্যতীত, এই কারণে তাহারা আদৌ তিরস্কৃত হইবে না;
১৯৮১-ক। ৫৬১ টীকা দ্রষ্টব্য।

فَمَنِ ابۡتَغٰی وَرَآءَ ذٰلِکَ فَاُولٰٓئِکَ ہُمُ الۡعٰدُوۡنَ ۚ﴿۸﴾

৮
কিন্তু ইহা ব্যতীত যাহারা অন্য কিছুর কামনা করিবে তাহারা সীমালঙ্ঘনকারী হইবে—

وَالَّذِیۡنَ ہُمۡ لِاَمٰنٰتِہِمۡ وَعَہۡدِہِمۡ رٰعُوۡنَ ۙ﴿۹﴾

৯
এবং যাহারা নিজেদের আমানতসমূহের এবং অঙ্গীকার সমূহের প্রতি যত্নবান,

وَالَّذِیۡنَ ہُمۡ عَلٰی صَلَوٰتِہِمۡ یُحَافِظُوۡنَ ۘ﴿۱۰﴾

১০
এবং যাহারা সতত তাহাদের নামাযের হেফাযত করে;১৯৮২
১৯৮২। এই আয়াত আধ্যাত্মিক উন্নতির উচ্চতম এবং শেষ স্তর চিহ্নিত করিয়াছে, যে স্তরে আল্লাহ্‌র স্মরণ মানুষের দ্বিতীয় স্বভাবে বা অভ্যাসে পরিণত হয়, যাহা তাহার সত্তার এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হইয়া যায় ও তাহার আত্মা প্রশান্তি লাভ করে। এই স্তরে মো’মেন সমন্বিত ইবাদতের প্রতি বিশেষভাবে যত্নবান হয়, যাহার অন্তর্নিহিত অর্থ এই যে, জাতীয় হিতাকাংখা তাহার মধ্যে অত্যন্ত শক্তিশালী হইয়া উঠে এবং সে ব্যক্তিগত স্বার্থ অপেক্ষা দলীয় এবং জাতীয় স্বার্থকে ঊর্ধ্বে স্থান দেয়।