النصر
An-Nasr
ইহা মক্কায় অবতীর্ণ, বিসমিল্লাহ্সহ ইহাতে ৪ আয়াত এবং ১ রুকু আছে।
অবতরণের সময় প্রসঙ্গ
ইহা এই অর্থে একটি মাদানী সূরা যে, মদীনাতে হিজরতের বহু পরে ইহা অবতীর্ণ হইয়াছিল। কিন্তু ইহাকে অন্য অর্থে মক্কী সূরাও বলা যায়—এই হিসাবে যে, বিদায়-হজ্জের সময়, নবী করীম (সাঃ)-এর তিরোধানের মাত্র ৭০/৮০ দিন পূর্বে মক্কাতে ইহা অবতীর্ণ হইয়াছিল। সকল প্রকার ঐতিহাসিক তথ্য ও সহীহ্ হাদীস হইতে ইহার অবতরণের এই সময় নির্ধারিত হইয়াছে। নবী করীম (সাঃ)-এর নবুওয়াতের প্রথম দিকের প্রসিদ্ধ সাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমরও এই তারিখের সমর্থক। সম্পূর্ণ সূরারূপে অবতীর্ণ সূরাগুলির মধ্যে ইহাই সর্বশেষ সূরা, যদিও সূরা মায়েদার ৪ আয়াতই হইল কুরআনে অবতীর্ণ আয়াতের মধ্যে সর্বশেষ আয়াত। পূর্ববতী সূরাতে কাফেরদিগকে বলা হইয়াছিল যে, তাহাদের জীবনাদর্শ ও রীতি-নীতি, তাহাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদি, তাহাদের উপাস্য ও উপাসনা-পদ্ধতি যেহেতু বিশ্বাসীদের ঐগুলি হইতে একেবারে ভিন্ন, সেই কারণে এতদুভয়ের মধ্যে সমন্বয় সাধনের মোটেই সম্ভাবনা নাই। তাহাদের কর্মফল তাহারা ভোগ করিবে, আর মুসলমানগণও তাহাদের নিজেদের কর্মফল ভোগ করিবে। এই সূরাতে মো’মেনদিগকে বলা হইতেছে, তাহাদের জন্য প্রতিশ্রুত বিজয় তো ইতিমধ্যে আসিয়াই গিয়াছে যখন দলে দলে লোকজন ইসলাম গ্রহণ করিতে আরম্ভ করিয়াছে। অতএব, মুসলমানদের বিশেষ করিয়া বিশ্ব-নবী (সাঃ)-এর উচিত আল্লাহ্তা’লার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা, এবং তাঁহার প্রশংসা সহ পবিত্রতা ঘোষণাপূর্বক নব-দীক্ষিতদের নৈতিক ত্রুটি-বিচ্যুতি ও মানবিক দুর্বলতা হইতে বাঁচার জন্য আল্লাহ্র সাহায্য ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করা। কেননা, বিপুল সংখ্যক নব-দীক্ষিতরা যখন দলে দলে কোন নতুন ধর্মীয় আন্দোলনে যোগদান করে, তখন তাহাদিগকে সার্বিকভাবে শিক্ষিত ও সৎকর্মশীল করিয়া তুলিবার জন্য যেরূপ প্রচুর সংখ্যক শিক্ষক ও কর্মীর প্রয়োজন হয়, উহার অভাব দেখা দেয়। আর এই দোষ-ত্রুটিও তাহাদের সঙ্গে সমাজে প্রবিষ্ট হইয়া যায়।
بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ ﴿۱﴾
اِذَا جَآءَ نَصۡرُ اللّٰہِ وَالۡفَتۡحُ ۙ﴿۲﴾
وَرَاَیۡتَ النَّاسَ یَدۡخُلُوۡنَ فِیۡ دِیۡنِ اللّٰہِ اَفۡوَاجًا ۙ﴿۳﴾
فَسَبِّحۡ بِحَمۡدِ رَبِّکَ وَاسۡتَغۡفِرۡہُ ؕؔ اِنَّہٗ کَانَ تَوَّابًا ﴿٪۴﴾