৩৩৭৭

‘যাল্লা’ (ভালবাসায় আত্মহারা) অর্থঃ তিনি কিংকর্তব্যবিমূঢ় অবস্থায় পথ পাইতেছিলেন না, তিনি ভালবাসায় আত্মহারা হইয়া কি যেন খুঁজিতেছিলেন এবং বিরামহীনভাবে খুঁজিতেছিলেন (লেইন)। ‘যাল্লা’ শব্দের বিভিন্ন অর্থের প্রেক্ষিতে আলোচ্য আয়াতের অর্থ হইতে পারেঃ (১) মহানবী (সাঃ) সৃষ্টিকর্তার সন্ধানে পথ খুঁজিয়া বেড়াইতেছিলেন, তখন আল্লাহ্ তাঁহার কাছে শরীয়াত অবতীর্ণ করিয়া আল্লাহ্‌কে পাওয়ার পথ দেখাইয়াছিলেন; (২) তিনি হতবুদ্ধি অবস্থায় তাঁহার লক্ষ্যে পৌঁছাইবার পথ পাইতেছিলেন না—আল্লাহ্ তাঁহাকে পথ দেখাইলেন; (৩) তিনি তাঁহার হতভাগা জাতির ভালবাসায় আত্মহারা হইয়া তাহাদের মঙ্গলের পথ খুঁজিতেছিলেন- আল্লাহ্ তাহাদের জন্য সর্বোত্তম পথ দেখাইয়াছিলেন; (৪) তিনি বিশ্ববাসীর আগোচরে ছিলেন, আল্লাহ্ তাহাকে দেখিলেন এবং মাবনজাতিকে আল্লাহ্‌র কাছে পৌঁছাইবার জন্য তাঁহাকে মনোনীত করিলেন। অতএব ‘যাল্লা’ শব্দটি নবী করীম (সাঃ)-এর জন্য নিন্দাসূচক না হইয়া প্রশংসাসূচকভাবে ব্যবহৃত হইয়াছে। পথভ্রান্ত বা পথভ্রষ্ট অর্থে এই শব্দটি মহানবী (সাঃ)-এর জন্য ব্যবহৃত হইতেই পারে না, কারণ কুরআনের অনত্র (৫৩ঃ৩) তাঁহাকে ভ্রান্তিমুক্ত ও প্রথভ্রষ্টতা-মুক্ত বলিয়া বর্ণনা করা হইয়াছে। অধিকন্তু, সূরার শেষ ছয়টি আয়াত পরস্পর সম্পর্কযুক্ত অর্থাৎ আয়াত ৭, ৮, ৯-এর সহিত আয়াত ১০, ১১, ১২ ক্রমিকভাবে সম্পর্কযুক্ত। আয়াত ৮ এর ‘যাল্লা’, আয়াত ১১ এর ‘সায়েল’ শব্দের সাথে সম্পর্কিত হইয়া ‘যাল্লার’ অর্থকে পরিষ্কার করিয়া দিয়াছেঃ ‘যে জন আল্লাহ্‌র সাহায্য চাহিয়াছে আল্লাহ্‌র কাছে যাইবার পথ পাইবার জন্য; যে ব্যক্তি সঠিক পথ পাইবার উদ্দেশ্যে সাহায্য চাহিয়াছে। আয়াতটির অন্য অর্থঃ ‘আল্লাহ্‌ তোমাকে তাঁহারই অন্বেষণরত অবস্থায় পাইলেন এবং তোমাকে তাঁহার কোলে (সান্নিধ্যে) তুলিয়া লইলেন।’

Visitor Edits

January 27, 2026 5:28 pmPending Review
‘যাল্লা’ (ভালবাসায় আত্মহারা) অর্থঃ তিনি কিংকর্তব্যবিমূঢ় অবস্থায় পথ পাইতেছিলেন না, তিনি ভালবাসায় আত্মহারা হইয়া কি যেন খুঁজিতেছিলেন এবং বিরামহীনভাবে খুঁজিতেছিলেন (লেইন)। ‘যাল্লা’ শব্দের বিভিন্ন অর্থের প্রেক্ষিতে আলোচ্য আয়াতের অর্থ হইতে পারেঃ (১) মহানবী (সাঃ) সৃষ্টিকর্তার সন্ধানে পথ খুঁজিয়া বেড়াইতেছিলেন, তখন আল্লাহ্ তাঁহার কাছে শরীয়াত অবতীর্ণ করিয়া আল্লাহ্‌কে পাওয়ার পথ দেখাইয়াছিলেন; (২) তিনি হতবুদ্ধি অবস্থায় তাঁহার লক্ষ্যে পৌঁছাইবার পথ পাইতেছিলেন না—আল্লাহ্ তাঁহাকে পথ দেখাইলেন; (৩) তিনি তাঁহার হতভাগা জাতির ভালবাসায় আত্মহারা হইয়া তাহাদের মঙ্গলের পথ খুঁজিতেছিলেন- আল্লাহ্ তাহাদের জন্য সর্বোত্তম পথ দেখাইয়াছিলেন; (৪) তিনি বিশ্ববাসীর আগোচরে ছিলেন, আল্লাহ্ তাঁহাকে দেখিলেন এবং মাবনজাতিকে আল্লাহ্‌র কাছে পৌঁছাইবার জন্য তাঁহাকে মনোনীত করিলেন। অতএব ‘যাল্লা’ শব্দটি নবী করীম (সাঃ)-এর জন্য নিন্দাসূচক না হইয়া প্রশংসাসূচকভাবে ব্যবহৃত হইয়াছে। পথভ্রান্ত বা পথভ্রষ্ট অর্থে এই শব্দটি মহানবী (সাঃ)-এর জন্য ব্যবহৃত হইতেই পারে না, কারণ কুরআনের অন্যত্র (৫৩ঃ৩) তাঁহাকে ভ্রান্তিমুক্ত ও প্রথভ্রষ্টতা-মুক্ত বলিয়া বর্ণনা করা হইয়াছে। অধিকন্তু, সূরার শেষ ছয়টি আয়াত পরস্পর সম্পর্কযুক্ত অর্থাৎ আয়াত ৭, ৮, ৯-এর সহিত আয়াত ১০, ১১, ১২, ক্রমিকভাবে সম্পর্কযুক্ত। আয়াত ৮ এর ‘যাল্লা’, আয়াত ১১ এর ‘সায়েল’ শব্দের সাথে সম্পর্কিত হইয়া ‘যাল্লার’ অর্থকে পরিষ্কার করিয়া দিয়াছেঃ ‘যে জন আল্লাহ্‌র সাহায্য চাহিয়াছে আল্লাহ্‌র কাছে যাইবার পথ পাইবার জন্য; যে ব্যক্তি সঠিক পথ পাইবার উদ্দেশ্যে সাহায্য চাহিয়াছে। আয়াতটির অন্য অর্থঃ ‘আল্লাহ্‌ তোমাকে তাঁহারই অন্বেষণরত অবস্থায় পাইলেন এবং তোমাকে তাঁহার কোলে (সান্নিধ্যে) তুলিয়া লইলেন।’