মুখবন্ধ

‘কুরআন মজীদ’ মুসলমানদের ধর্মগ্রন্থ। এই পবিত্র গ্রন্থের প্রতিটি শব্দ আরবী ভাষায় অবতীর্ণ করিয়াছেন আল্লাহতা’লা তাঁহার বান্দা ও রসূল হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলায়হে ওয়া আলেহি ওয়া সাল্লামের প্রতি প্রায় চৌদ্দশত বৎসর পূর্বে। কুরআন শরীফ অবতীর্ণ হওয়া শুরু হয় ৬১০ খৃষ্টাব্দে, তখন রসূলে পাক(সাঃ)-এর বয়স ছিল ৪০ বৎসর এবং ইহা অবতীর্ণ হইয়াছিল অন্যূন ২৩ বৎসর কাল ধরিয়া। যদিও আরবদেশে লেখাপড়ার চর্চা খুব একটা ছিল না তথাপি, কুরআন শরীফ লিখিয়া রাখিবার কাজ প্রাথমিক কাল হইতেই সম্পাদিত হইয়া আসিতেছিল। এই কাজের জন্য বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ব্যক্তিকে নিয়োজিত করা হইয়াছিল, তন্মধ্যে প্রধান ছিলেনঃ

হযরত আবুবকর সিদ্দীক, হযরত আলী, হযরত যায়েদ বিন সাবেত এবং হযরত যুবায়ের ইবনে আওয়াম (রাযি আল্লাহতা’লা আনহুম)।

ইহা ছাড়া, হযরত রসূলে পাক (সাঃ)-এর সাহাবীগণের অনেকেই কুরআন শরীফ যেভাবে নাযেল হইত ঠিক সেইভাবেই মুখস্ত করিয়া রাখিতেন। সাহিত্যকর্মের বড় বড় গ্রন্থ মুখস্থ করিয়া রাখা আরবদের কাছে কোন নূতন ব্যাপার ছিল না। বরং তাহারা তাহাদের অসাধারণ স্মরণশক্তির জন্য গর্ববোধ করিত এবং ইহাতে তাহাদের সমকক্ষ কেহই ছিল না। বস্তুতঃ তাহাদের মধ্যে কাহারও কাহারও বিভিন্ন আরব কবির রচিত লক্ষাধিক শ্লোক মুখস্থ ছিল বলিয়া জানা যায়। কাজেই, কুরআন করীম সংরক্ষিত রাখার ব্যাপারে দুই প্রকারের ব্যবস্থাই কার্যকর ছিল প্রথম হইতে শেষ পর্যন্ত। ফলে, পবিত্র কুরআন সম্পূর্ণরূপে অপরিবর্তিত ও অবিকৃত অবস্থায় বিদ্যমান রহিয়াছে। ইহার বিপক্ষে চেষ্টা-প্রচেষ্টা চালাইয়াছিলেন পাশ্চাত্যের বহু পণ্ডিত। কিন্তু পরিণামে তাহারা সকলেই ব্যর্থকাম হইয়াছেন। সমালোচনার সমস্ত শাণিত অস্ত্র ব্যবহার করার পরেও তাহাদিগকে ইহা স্বীকার করিয়া লইতে হইয়াছে যে, পবিত্র কুরআনকে আজ আমরা যেরূপে পাই, ইহা ঠিক সেইরূপেই রসূলে পাক (সাঃ)-এর সাহাবীগণ তাঁহার নিকট হইতে আল্লাহ্‌র বাণীরূপে পাইয়াছিলেন।

স্যার উইলিয়াম মুইর তাহার রচিত ‘লাইফ অফ মাহোমেট’ পুস্তকের (লণ্ডন, ১৯১২) ১ম খণ্ডে, ২২-২৩ পৃষ্ঠাতে লিখিয়াছেনঃ

Contending and embittered factions, taking their rise in the murder of Othman himself within a quarter of a century of the death of Mahomet, have ever since rent the Mahometan world. Yet, but one Coran has been current amongst them; and the consentaneous use by them all in every age up to the present day of the same Scripture, is an irrefragable proof that we now have before us the very text prepared by command of the unfortunate Caliph. There is probably in the world no other work which has remained twelve centuries in so pure a text (Life of Mahomet)

অর্থঃ এক শতাব্দীর চতুর্থাংশ সময় অতিবাহিত হইতে না হইতেই উসমানের হত্যাকাণ্ড হইতে উদ্ভূত পরস্পরবিরোধী ও বিদ্বেষপরায়ণ বিভিন্ন দলে-উপদলে বিভক্ত হইয়া পড়িয়াছিল ‘মুহামেডান’ জগত। কিন্তু তথাপি, একই কুরআন প্রচলিত ছিল তাহাদের সকলের মধ্যে। তাহাদের সকলের দ্বারা সকল যুগে অদ্যাবধি একই ধর্মগ্রন্থ ব্যবহৃত হইয়া আসাটাই একটা অখণ্ডনীয় প্রমাণ যে, আজ আমাদের সম্মুখে কুরআনের সেই একই পাঠ (টেক্সট) বিরাজমান রহিয়াছে যাহা বিন্যস্ত করা হইয়াছিল সেই হতভাগ্য খলীফার হুকুমে। সম্ভবতঃ পৃথিবীর বুকে এরূপ আর একটিও রচনা নাই যাহার টেক্সট বিগত বার শতাব্দী কাল ধরিয়া এইরূপ অকৃত্রিম রহিয়াছে।

ই. এম. হুয়েরী তাহার ‘এ কম্প্রিহেনসিভ কমেন্টারী অব দি কুরআন’ (লণ্ডন, ১৮৯৬) গ্রন্থের, ১ম খণ্ডের ৩৪৯ পৃষ্ঠায় লিখিয়াছেনঃ

The text of the Qur’an is the purest of all works of a like antiquity. (A Compre hensive Commentary of the Qur’an)

অর্থঃ কুরআনের টেক্সট অপরাপর প্রাচীন ধর্ম গ্রন্থসমূহের মধ্যে সম্পূর্ণ অবিকৃতরূপে বিদ্যমান আছে।

লেন পুল তাহার ‘সিলেকশান্‌স ফ্রম দি কুরআন’ (টার্ণবার, লণ্ডন, ১৮৭৯, ভূমিকা, পৃঃ সি) গ্রন্থে লিখিয়াছেনঃ

It is an immense merit in the Kuran that there is no doubt as to its genuineness… That very word we can now read with full confidence that it has remained unchanged through nearly thirteen hundred years. (Selections from the Kuran)

অর্থঃ কুরআনের একটি অপরিসীম ঔৎকর্ষ হইতেছে যে, ইহার সঠিকত্ব সম্বন্ধে সন্দেহের কোনও অবকাশ নাই।– আমরা সেই একই শব্দ এখনও পূর্ণ আস্থা লইয়া পাঠ করিতে পারি যে, উহা বিগত প্রায় তের শতাব্দীকাল ধরিয়া অপরিবর্তিত রহিয়াছে।

বসওয়ার্থ স্মিথ তাহার ‘মুহাম্মদ এণ্ড মুহাম্মাদানিজম’ গ্রন্থের (লণ্ডন, ১৮৭৪) ২২ পৃষ্ঠায় লিখিয়াছেনঃ

In the Kuran we have beyond all reasonable doubt the exact words of Mohammad, without substraction and without addition. (Mohammad and Mohammedanism)

অর্থঃ কুরআনে, সম্ভাব্য সকল প্রকার সন্দেহের উর্ধ্বে, কোন সংযোজন অথবা বিয়োজন ছাড়াই, মুহাম্মদের সেই হুবহু শব্দসমূহই বিধৃত রহিয়াছে।

পরিশেষে, আমরা টি. ডব্লিউ. আরনল্ডের একটা উদ্ধৃতি দিতে চাই। তিনি তাহার ‘ইসলামিক ফেইথ’ (লণ্ডন) পুস্তকে (পৃঃ, ৯) লিখিয়াছেনঃ

The text of this recension substantially corresponds to the actual utterances of Muhammad himself. (Islamic Faith)

অর্থঃ এই সতর্ক গ্রন্থিত ‘টেক্স্‌ট’ হুবহু ঠিক তাহাই যাহা মুহাম্মদেরই মূল উচ্চারণ।

যদিও এই অলৌকিক গ্রন্থের প্রধান প্রধান সকল বৈশিষ্ট্যের আলোচনা করা সম্ভব নয়, তবু যেসব পাঠকের ইসলাম সম্পর্কিত জ্ঞান খুব সামান্য তাহাদের জন্য কয়েকটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বিষয়ের প্রতি আলোকপাত করা, বোধ করি, অসমীচীন হইবে না। এই বিষয়গুলি নিম্নরূপঃ

পবিত্র কুরআন শুধু আরবদেরকেই সম্বোধন করে না, বরং সমগ্র মানবজাতিকেই সম্বোধন করে এবং ঘোষণা করে যে, হযরত মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ (সাঃ) সারা জগতের জন্যই আল্লাহ্‌র প্রেরিত পুরুষ, এবং সেই সঙ্গে এই দাবীও করে যে, ইহাই ঐশী বিধানের সর্বশেষ বাণী এবং মানব জাতির হেদায়াতের বা সৎপথ প্রদর্শনের জন্য পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থ। পবিত্র কুরআনই একমাত্র ঐশী-গ্রন্থ, যাহা নবুওয়াতের বিষয়টিকে একটি সার্বজনীন বিষয়রূপে স্বীকৃতি দান করিয়াছে এবং বার বার ঘোষণা করিয়াছে যে, এই দুনিয়ার বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষেরা মানবেতিহাসের কোন না কোন সময়ে ঐশী-বাণী লাভ করিয়াছিল। এই ব্যাপারে কুরআন মজীদের ঘোষণা হইতেছেঃ

وَاِنۡ مِّنۡ اُمَّۃٍ اِلَّا خَلَا فِیۡہَا نَذِیۡرٌ(٢٥)

অর্থঃ “এমন কোন জাতি নাই যাহার নিকট সতর্ককারী আগমন করে নাই।” (৩৫ঃ২৫)

وَلَقَدۡ بَعَثۡنَا فِیۡ کُلِّ اُمَّۃٍ رَّسُوۡلًا اَنِ اعۡبُدُوا اللّٰہَ وَاجۡتَنِبُوا الطَّاغُوۡتَ ۚ

অর্থঃ “এবং নিশ্চয় আমরা প্রত্যেক উম্মতের মধ্যে কোন না কোন রসূল পাঠাইয়াছিলাম (এই শিক্ষা দিয়া) যে, তোমরা আল্লাহ্‌র ইবাদত কর এবং পুণ্যের পথে বাধা-সৃষ্টিকারী বিদ্রোহী শয়তান হইতে বাচিয়া চল।” (১৬ঃ৩৭)

অতএব, পবিত্র কুরআন এই দাবী প্রত্যাখ্যান করে যে, নবীর আগমন শুধু ‘পুরাতন নিয়মে’ (তওরাতে) ও ‘নতুন নিয়মে’ (ইনজীলে) যে সকল নবীর কথা বলা আছে মাত্র তাহাদের ধারাতেই সীমাবদ্ধ রাখা হইয়াছে। এবং ইহার মাধ্যমে কুরআন মজীদ এমন মহামহিমান্বিত সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী আল্লাহ্‌র ধারণা তুলিয়া ধরিয়াছে — যিনি ন্যায়বিচারক, পরম দয়াময় ও অতীব দানশীল এবং তাহার সকল সৃষ্টি — তাহারা যে কোন গোত্র বা গোষ্ঠী বা জাতির অন্তর্ভুক্ত হউক না কেন — তাহাদের সকলের প্রতি ব্যবহারে তিনি সমান ও অভিন্ন।

এই পবিত্র গ্রন্থে সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপ করা হইয়াছে যে বিষয়টির উপরে উহা হইতেছে – আল্লাহ্‌তা’লার একত্ব বা তওহীদ – যাহাকে না করা যায় ভাগ, না করা যায় গুণ। আল্লাহ্‌তা’লা এবং অন্যান্য যাবতীয় অস্তিত্বের মধ্যে পবিত্র কুরআন মাত্র একটি সম্পর্কই স্বীকার করে এবং উহা হইল—স্রষ্টার সাথে সৃষ্টির সম্পর্ক। অন্য কেহ কোনও ভাবেই আল্লাহর মর্যাদার অংশীদার নয়, কেহই তাহার চিরন্তনত্বের অংশীদার নয়। ত্রিত্ববাদের এবং পুত্রত্বের ধারণাকে কুরআন করীম সরাসরি প্রত্যাখ্যান করিয়াছে। আল্লাহ্‌র না আছে কোন স্ত্রী, না কোন সন্তান।

قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ ﴿٢﴾ اللَّهُ الصَّمَدُ ﴿٣﴾ لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ ﴿٤﴾ وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ ٥

অর্থঃ “তুমি বল, তিনিই আল্লাহ্ এক-অদ্বিতীয়। আল্লাহ্‌ স্বনির্ভর এবং সর্ব নির্ভরস্থল। তিনি কাহাকেও জন্ম দেন না, এবং তাঁহাকেও জন্ম দেওয়া হয় নাই এবং তাঁহার সমতুল্য কেহ নাই।” (১১২ঃ২-৫)।

পবিত্র কুরআন ছয়টি মৌলিক বিশ্বাসের কথা ঘোষণা করেঃ

  • (১) আল্লাহ্‌র প্রতি বিশ্বাস
  • (২) ফিরিশ্‌তাগণের প্রতি বিশ্বাস
  • (৩) ঐশী কিতাবসমূহের প্রতি বিশ্বাস
  • (৪) নবী-রসূলগণের প্রতি বিশ্বাস
  • (৫) পুনরুত্থান ও বিচার-দিবসের প্রতি বিশ্বাস এবং
  • (৬) আল্লাহ্‌র ভাল-মন্দ সমন্ধে নিয়ম-বিধান — যাহা সকল কিছুকেই বেষ্টন করিয়া আছে তৎপ্রতি বিশ্বাস।

পবিত্র কুরআন ‘ঔরস-সূত্রে প্রাপ্ত পাপ’-এর মতবাদ — ‘doctrine of inherited sin’ – প্রত্যাখ্যান করে এবং দাবী করে যে, প্রত্যেকেই জন্মগ্রহণ করে নিষ্পাপ ও পবিত্ররূপে — কোনরূপ আধ্যাত্মিক দূষণীয়তা ছাড়াই। আল্লাহ্‌তা’লা শুধু ন্যায়বিচারকই নহেন, তিনি পরম দয়াময়, দাতা ও ক্ষমাশীল। তিনি সবকিছুরই মালিক। তিনি যদি চাহেন এবং যখন চাহেন পাপ ক্ষমা করিয়া দিতে পারেন। পাপী তাহার পাপসমূহ যদি অনুতাপের অশ্রু দিয়া ধৌত করিয়া ফেলিতে পারে তাহা হইলে আল্লাহ্ তাহার সেই অনুতাপ বা তওবা কবুল করেন।

কুরআন করীমের মতে পরিত্রাণ বা নাজাত প্রতিটি মানুষের অনুতাপের বা তওবার মধ্যে নিহিত, তাহার নিজেকে সংশোধন করিবার সিদ্ধান্তের মধ্যে নিহিত এবং তাহার স্রষ্টার প্রতি সততার সাথে প্রত্যাবর্তনের মধ্যে নিহিত। এইরূপ সিদ্ধান্ত আল্লাহ্‌ যখন কবুল করেন, তখন মানুষ এক নবজন্ম লাভ করে, অতীতে সে যে কোন পাপই করিয়া থাকুক না কেন।

কুরআন করীম যীশু-খৃষ্টের তথা হযরত ঈসা (আঃ)-এর যে মর্যাদা দান করিয়াছে উহা হইল – এক অতি সম্মানিত নবীর মর্যাদা। পবিত্র কুরআন এই ধারণা প্রত্যাখ্যান করে যে, যীশু-খৃষ্ট খোদার পুত্র ছিলেন এবং তিনি মানব জাতির পরিত্রাণের জন্যে ক্রুশে বিদ্ধ হইয়া প্রাণ ত্যাগ করিয়াছেন। কুরআন মজীদ ইহুদী ও খৃষ্টানদের এই দাবীও সরাসরি নাকচ করে যে, যীশু ক্রুশে বিদ্ধ অবস্থাতেই প্রাণ ত্যাগ করিয়াছেন। কুরআন শরীফের মতে হযরত ঈসা (আঃ)-এর শত্রুরা তাঁহাকে ক্রুশে বিদ্ধ করিয়া হত্যা করিতে ব্যর্থ হইয়াছে। যখন তাঁহাকে ক্রুশ হইতে নামানো হইয়াছিল তখন তিনি মৃতবৎ অজ্ঞান অবস্থায় ছিলেন। সুতরাং ক্রুশের উপরেই তাঁহার মৃত্যু হওয়ার স্বপক্ষে যেসব ধারণা ও সংশয়ের সৃষ্টি হইয়াছিল উহা সবই বাতিল প্রমাণিত করিয়াছে কুরআন করীম। এই ব্যাপারে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হইল, ক্রুশের ঘটনার পরপরই গভর্নর পন্টিয়াস পীলাতের নিকট ইহুদীরা এই আবেদন জানাইয়া ছিল যে, যীশুর দেহ যেন তাহাদেরই হস্তে সমর্পণ করা হয়। তাহারা পীলাতের নিকট এই আশঙ্কা অত্যন্ত পরিষ্কার ভাষায় ব্যক্ত করিয়াছিল যে, যীশু তাহার ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার পর বাঁচিয়া যাইতে পারে এবং ঘোষণা করিতে পারে যে, সে মৃত অবস্থা হইতে জীবিত হইয়া উঠিয়াছে।

কুরআন মজীদ ঈসা (আঃ)-এর কুমারী মাতার গর্ভে জন্মগ্রহণ করার বিষয়টিকে সত্য সাব্যস্ত করে এবং মরিয়মের পবিত্রতার বিরুদ্ধে উত্থাপিত যাবতীয় অভিযোগ খণ্ডন করে।

সকল ধর্মীয় গ্রন্থসমূহের মধ্যে পবিত্র কুরআন অন্য আর সব ধর্মের প্রতি এক অনন্য দৃষ্টিভঙ্গী পোষণ করে। ইহা কেবল বাইবেলে বর্ণিত নবীগণেরই স্বীকৃতি দান করে না বরং মুসলমানদিগকে এই আদেশ দান করে যে, প্রত্যেক নবী – তিনি দেশকাল ভেদে যেখানেই আবির্ভূত হইয়া থাকুন না কেন – তাহার উপরে বিশ্বাস আনা ঈমানের একটি মৌলিক শর্ত।

فِیۡہَا کُتُبٌ قَیِّمَۃٌ ؕ(۴)

অর্থঃ “যাহার মধ্যে স্থায়ী আদেশাবলী সন্নিবেশিত আছে” (৯৮ঃ৪)।

কুরআন মজীদের মতে সকল ধর্মের কেন্দ্রীয় শিক্ষা মূলতঃ একই ছিল, অর্থাৎ এক আল্লাহ্‌র উপর ঈমান আনা, পূর্ণ সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে তাঁহার ইবাদত করা এবং তাঁহার সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে সৎপথে জীবন অতিবাহিত করা।

তবে, এই সব মূলনীতি প্রবর্তন ও প্রতিষ্ঠার জন্য যেসব নৈতিক ও সামাজিক শিক্ষার প্রয়োজন উহা পৃথিবীর বিভিন্ন অংশে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পরিবর্তনশীল অবস্থার সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর ক্ষেত্রে ভিন্নতর হইতে পারে। কিন্তু, মনে রাখিতে হইবে যে, পবিত্র কুরআন যদিও তাওরাত ও ইনজীল এবং অন্যান্য আরও অনেক গ্রন্থকে, আল্লাহ্‌তা’লার বাণী বলিয়াই স্বীকৃতি দান করিয়াছে, তবু এইকথা জোর দিয়া বলিয়াছে যে, ঐগুলি সম্পূর্ণ অকৃত্রিম অবস্থায় এখন বিদ্যমান নাই। কালের ব্যবধানে, খুব দুর্ভাগ্যজনক হইলেও, ঐসব গ্রন্থ, যাহা আদিতে ঐশী গ্রন্থই ছিল, উহা মানুষের দ্বারা প্রক্ষিপ্ত হইয়াছে, বিকৃত হইয়াছে। বহু গরমিল ও পরস্পর বিরোধিতা, যাহা আমরা আজ ঐসব ঐশী গ্রন্থের অবশিষ্ট অংশগুলিতে দেখিতে পাই এবং যাহা আজও পর্যন্ত প্রকাশিত আছে, উহাকে প্রক্ষেপ ও বিকৃতি বলিয়া সনাক্ত করিয়াছে কুরআন করীম এবং সেই সম্পর্কে ব্যাখ্যাও দিয়াছে।

মানব সৃষ্টির চূড়ান্ত উদ্দেশ্য হইতেছে – আল্লাহ্‌র ইবাদত করা। ইহার অর্থ — কুরআনের শিক্ষানুসারে, শুধু আল্লাহ্‌র নিকটে মাথা নত করা বা সেজদা করাই নয়, বরং সেই সঙ্গে আল্লাহ্‌র গুণাবলীও অর্জন করা, যাহাতে মানুষ দুনিয়ার বুকে তাঁহার প্রকৃত প্রতিনিধি বা খলীফা হইতে পারে এবং তাঁহার আলো ও তাঁহার মঙ্গলময়তা প্রকাশিত করিতে পারে।

মানুষ বিশ্ব-জগতের মাঝে আল্লাহ্‌তা’লার সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি এবং সে সকল সৃষ্টির উপরে সম্মান ও মর্যাদার এক উচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত। যদিও মানুষ বাদ বাকী সৃষ্টির তুলনায় একটি উন্নততর মর্যাদার অধিকারী, তবু মানুষে মানুষে পার্থক্যের যে ধারণা, শ্রেণী বা জাতিগত শ্রেষ্ঠত্ব ও কৌলিন্যের যে ধারণা, উহাকে সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাখ্যান করিয়াছে কুরআন করীম। মানুষ তাহার পদে ও মর্যাদায় তাহার স্রষ্টার দৃষ্টিতে তখনই শ্রেষ্ঠ বলিয়া বিবেচিত হইবে যখন সে তাহার সদগুণে ও সৎকর্মে অন্যদিগকে অতিক্রম করিয়া যাইবে।

কুরআন মজীদের শিক্ষার মধ্যে মানবজীবনের সকল প্রকারের স্বার্থ ও যাবতীয় কর্মকাণ্ড অন্তর্ভুক্ত রহিয়াছে যাহা একটি পূর্ণাঙ্গ ধর্মীয়, সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং নৈতিক ব্যবস্থা হিসাবে সার্বজনীনভাবে অনুসরণ করিয়া চলা সম্ভব। কুরআন দাবী করে যে, কোন ব্যবস্থাই, উহা যত উন্নতই হোক না কেন, নৈতিক মূল্যবোধের যথার্থ অনুসরণ ব্যতীত রীতি মত কার্যকরী হইতে পারে না। পবিত্র কুরআন সমাজের বিভিন্ন ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর অধিকার ও দায়িত্বের বিস্তারিত বিবরণ দিয়াছে যাহাতে মানুষে মানুষে ভেদাভেদের যাবতীয় দ্বন্দ্ব-সংঘাত নির্মল করিয়া সমাজ ব্যবস্থায় পূর্ণ সমন্বয় সাধন ও সম্প্রীতি স্থাপন করা যায়। সুতরাং ইহা শ্রেণী-সংগ্রামের এবং মানুষ কর্তৃক মানুষকে শোষণের কোনরূপ অবাঞ্ছিত অবস্থা উদ্ভবের অবকাশ রাখে না।

সকল ঐশী গ্রন্থের মধ্যে কুরআন মজীদের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হইতেছে, এই পবিত্র কিতাব নারী জাতিকে তাহাদের অধিকারসমূহ দান করিয়াছে এবং তাহাদেরকে মানবসমাজে গভীর শ্রদ্ধা ও সম্মানের মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করিয়াছে। তাহা ছাড়া কুরআনই হইতেছে একমাত্র ঐশী গ্রন্থ যাহা নারীকে সম্পত্তির উওরাধিকার দান করিয়াছে এবং নারীর সেই উত্তরাধিকার অক্ষুন্ন রাখার উদ্দেশ্যে যথোচিত উত্তরাধিকার আইন প্রবর্তন করিয়াছে।

কুরআনী শিক্ষার আরও একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হইতেছে – বিবেকের স্বাধীনতা দান। আল্লাহ্‌তা’লা মানুষকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়াছেন বিশ্বাস করার বা না করার এবং ধর্মের ব্যাপারে জবরদস্তি ও বল প্রয়োগ করার কোন প্রকার অনুমতি দেয় না আল্-কুরআন। কর্মের ব্যাপারে মানুষ সরাসরি আল্লাহ্‌তা’লার নিকটে দায়ী। মানুষের উপরে না কোন মতাদর্শ জোর-পূর্বক চাপানো যাইবে, না তাহার ধর্ম-বিশ্বাস জোর-পূর্বক পরিত্যাগ করানো যাইবে। যুক্তি ও প্রমাণের মাধ্যমে মতাদর্শের প্রচার-প্রবর্তনাই হইতেছে একমাত্র উপায় যাহার দ্বারা মানুষের চিন্তা-চেতনায় পরিবর্তন সাধনের অনুমতি দেওয়া হইয়াছে কুরআন করীমেঃ

لَاۤ اِکۡرَاہَ فِی الدِّیۡنِ

অর্থঃ “ধর্মের ব্যাপারে কোন বল প্রয়োগ নাই।” (২ঃ২৫৭)

لِّیَہۡلِکَ مَنۡ ہَلَکَ عَنۡۢ بَیِّنَۃٍ وَّیَحۡیٰی مَنۡ حَیَّ عَنۡۢ بَیِّنَۃٍ

অর্থঃ “যেন সেই ব্যক্তি ধ্বংস হয় যে দলীল-প্রমাণ দ্বারা ধ্বংস হইয়াছে এবং যেন সেই ব্যক্তি জীবিত হয় যে দলীল-প্রমাণ দ্বারা জীবন লাভ করিয়াছে।” (৮ঃ৪৩)

পবিত্র কুরআন এই শিক্ষা দান করে যে, মানবাত্মা মৃত্যুর পরে এক নব অস্তিত্ব লাভ করে। প্রতিটি মানুষের আত্মার ভাগ্য ও ভবিষ্যৎ নিরূপিত হয় তাহার নিজস্ব কর্ম ও স্বভাবের দ্বারা। প্রত্যেক ব্যক্তির ভাল কিংবা মন্দ কর্মসমূহ তাহার মৃত্যু-পরবর্তী সম্ভাবনাময় ভাবী জীবনের ফলাফল নির্ধারিত করে।

কুরআন মজীদ দাবী করে যে, ইসলাম হইতেছে আলোর বাণী যাহা সুদীর্ঘ সংগ্রামের পরে অন্ধকারকে চূড়ান্তরূপে পরাভূত করিবে। (পবিত্র কুরআনে এই ভবিষ্যদ্বাণী করা হইয়াছে যে, শেষ যামানায় ইসলাম অন্যান্য সকল ধর্ম ও মতবাদের উপরে জয়যুক্ত হইবে এবং ইহার মধ্য দিয়া সমগ্র মানব জাতির জন্য যাবতীয় ধর্মবিশ্বাস ও মতবাদের পরিবর্তে একটি মাত্র সার্বজনীন ধর্ম প্রতিষ্ঠার কাংখিত লক্ষ্য অর্জিত হইবে)। ইসলামের এই চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হইবে হযরত রসূলে পাক (সাঃ)-এর ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী তাহারই এক গোলামের দ্বারা যাহাকে আখ্যায়িত করা হইয়াছে ইমাম মাহদী ও মসীহ্ রূপে। আহমদী মুসলমানদের বিশ্বাস এই যে, বিগত হিজরী চতুর্দশ শতাব্দীর প্রারম্ভে (খৃষ্টীয় উনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে) হযরত রসূলে আকরাম (সাঃ)-এর ভবিষ্যদ্বাণীসমূহের পূর্ণতায় আল্লাহ্‌তা’লা হযরত মির্যা গোলাম আহমদ (আঃ)-কে ভারতের কাদিয়ান নামক স্থানে আবির্ভূত করিয়াছেন সংস্কারকরূপে, মসীহ্ ও মাহ্দীরূপে। তিনি ১৮৮৯ খৃষ্টাব্দে যে আধ্যাত্মিক আন্দোলন গড়িয়া তোলেন উহারই নাম ইসলামে আহমদীয়া আন্দোলন। এই আধ্যাত্মিক আন্দোলন ইহার প্রতিষ্ঠা লগ্ন হইতেই দুনিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে ইসলাম বিস্তারের দায়িত্ব পালন করিয়া আসিতেছে শান্তিপূর্ণ উপায়ে — যুক্তি, প্রজ্ঞা, তবলীগ ও মানবতার নিঃস্বার্থ সেবার মাধ্যমে। অদ্যাবধি, এই আন্দোলন আল্লাহ্‌তা’লার অসীম অনুগ্রহে পৃথিবীতে শতাধিক দেশে অসংখ্য মানব-সন্তানকে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত করিতে সক্ষম হইয়াছে এবং এই আন্দোলনের পরিধি দিনে দিনে প্রসারিত হইতেছে। ইসলাম বিস্তারের এই মহান লক্ষ্যেই বাংলা ভাষায় কুরআন মজীদের এই অনুবাদ ও ব্যাখ্যা (তফসীর) প্রকাশও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। আল্লাহ্ পাক এই প্রচেষ্টাকে আশীষমণ্ডিত করুন।

কুরআন মজীদের মূল-পাঠ (টেক্সট)-এর এবং সেই সঙ্গে ইহার ব্যাখ্যার এই বাংলা অনুবাদ করা হইয়াছে আহমদীয়া মুসলিম জামাতের তৃতীয় খলীফা হযরত মির্যা নাসের আহমদ (রাহঃ)-এর তত্বাবধানে প্রকাশিত (মালিক গোলাম ফরীদ কর্তৃক সম্পাদিত) ইংরেজী তরজমা ও তফসীরের অনুসরণে। এবং ইহাতে আহমদীয়া মুসলিম জামাতের দ্বিতীয় খলীফা হযরত মির্যা বশীর উদ্দীন মাহমুদ আহমদ (রাঃ) প্রণীত তফসীরে সগীরের সাহায্য নেওয়া হইয়াছে।

মূল পাঠের (টেক্সট্‌-এর) প্রাথমিক বঙ্গানুবাদ করিয়াছেন মৌলভী মোহাম্মদ সাহেব, প্রাক্তন ন্যাশনাল আমীর, আহমদীয়া মুসলিম জামাত, বাংলাদেশ এবং মাওলানা আবদুল আযীয সাদেক (শাহেদ, ডবল অনার্স ইন অ্যারাবিক, পাঞ্জাব ও পেশোয়ার ইউনিভার্সিটি), সদর মুরব্বী৷ জনাব মোজাফফর উদ্দীন চৌধুরীও (প্রাক্তন সম্পাদক, দি রিভিউ অব রিলিজিয়ন্‌স) সাহায্য করিয়াছেন।

হযরত মির্যা নাসের আহমদ, খলীফাতুল মসীহ সালেস (রাহঃ)-এর তত্ত্বাবধানে কৃত উল্লেখিত ইংরেজী তফসীর-এর ভাষ্য-টীকাসমূহের অনুবাদ করিয়াছেন জনাব মকবুল আহমদ খান, সদস্য মজলিসে আমেলা, আহমদীয়া মুসলিম জামাত, বাংলাদেশ ও ভূতপূর্ব আমীর, ঢাকা এবং জনাব এ. টি. এম. হক, সদস্য, মজলিসে আমেলা, আহমদীয়া মুসলিম জামাত, বাংলাদেশ।

সূরাসমূহের ইংরেজী ভূমিকাগুলির তরজমা করিয়াছেন অধ্যাপক আমীর হোসেন, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, এবং জনাব মকবুল আহমদ খান৷ জনাব খান বিষয়-নির্দেশিকা, শব্দ-নির্ঘন্ট ইত্যাদিরও অনুবাদ করিয়াছেন।

মূল-পাঠের (টেক্স্‌ট-এর) অনুবাদ আরবীর সহিত পুনরায় মিলাইয়া দেখিয়াছেন মাওলানা আহমদ সাদেক মাহমুদ, (শাহেদ, অনার্স ইন অ্যারাবিক, পাঞ্জাব ইউনিভার্সিটি), সদর মুরব্বী এবং মাওলানা সৈয়দ এজায আহমদ (অনার্স ইন অ্যারাবিক, পাঞ্জাব ইউনিভার্সিটি), অবসরপ্রাপ্ত সদর মুরব্বী, আহমদীয়া মুসলিম জামা’ত , বাংলাদেশ।

অনুবাদের কাজে নানাভাবে পরামর্শ ও সহায়তা দান করিয়াছেন জনাব মোহাম্মদ মোস্তফা আলী, ন্যাশনাল আমীর, আল্হাজ্জ ডাঃ আবদুস সামাদ খান চৌধুরী, নায়েব ন্যাশনাল আমীর – (১ম), অধ্যাপক শাহ্ মুস্তাফিজুর রহমান, সেক্রেটারী প্রণয়ন ও প্রকাশনা এবং আল্হাজ্জ আহমদ তৌফিক চৌধুরী, সেক্রেটারী দাওয়াত ইলাল্লাহ্, আহমদীয়া মুসলিম জামাত, বাংলাদেশ।

সম্পূর্ণ তরজমা ও তফ্‌সীরের বঙ্গানুবাদ দেখিয়া দিয়াছেন জনাব মোহাম্মদ খলিলুর রহমান, নায়েব ন্যাশনাল আমীর (২য়) এবং , আমীর, আহমদীয়া মুসলিম জামা’ত ঢাকা।

পুনর্লিখন, সংশোধন, প্রুফ রিডিং প্রভৃতি কাজের দায়িত্ব নিষ্ঠার সংগে সম্পাদন করিয়াছেন মাওলানা আব্দুল আযীয সাদেক এবং মৌলভী মোহাম্মদ মুতিউর রহমান, ইন্স্পেক্টর বায়তুল মাল, আহমদীয়া মুসলিম জামাত, বাংলাদেশ। আরও অনেক সুধী ব্যক্তি বিভিন্নভাবে মূল্যবান পরামর্শ দিয়া এই মহৎ কার্যকে সুসম্পন্ন করিতে সাহায্য করিয়াছেন।

কুরআন মজীদের এই বঙ্গানুবাদ প্রকাশের সমস্ত ব্যয়ভার বহন করিয়াছেন আহমদীয়া মুসলিম জামাত বাংলাদেশ-এর এক নিষ্ঠাবান ও নিবেদিত-প্রাণ পরিবার । আমাদের ঐকান্তিক প্রার্থনা এই যে, পরম করুণাময় আল্লাহ্তা’লা যেন এই পরিবারকে পর্যাপ্ত পুরস্কারে ভূষিত করেন এবং বংশানুক্রমে আহমদীয়াত তথা ইসলামের পথে কুরবানী করার তৌফিক দান করেন।

আল্লাহ্‌তা’লা সংশ্লিষ্ট সকলকে উত্তম পুরস্কারে ভূষিত করুন এবং তাঁহাদের খেদমতসমূহ কবুল করুন, ইহাই আমাদের আন্তরিক প্রার্থনা।

মুদ্রণ-জনিত কিছু বিচ্যুতি থাকিয়া গিয়াছে, তজ্জন্য আমরা দুঃখিত।

পরম পবিত্র এই মহাগ্রন্থের বঙ্গানুবাদ প্রকাশের সাথে সাথে আমরা সর্বশক্তিমান আল্লাহ্‌তা’লার কাছে এই আকুল প্রার্থনা করিতেছি যে, মহান আল্লাহ্‌র এই কালামে পাক — এই পবিত্র বাণী, যাহা তিনি অবতীর্ণ করিয়াছেন সৈয়্যদনা ও মাওলানা হযরত ‘খাতামান্নাবীয়ীন’ মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হে ওয়া আলেহি ওয়া সাল্লামের প্রতি সমগ্র মানবজাতির ইহলৌকিক ও পারলৌকিক কল্যাণ সাধনের জন্য, তাহার বঙ্গানুবাদ বাংলা ভাষাভাষী সকল মানুষের জন্য সৎপথ প্রদর্শনের, হেদায়াত লাভের এবং আল্লাহ্‌ পাকের নৈকট্য প্রাপ্তির উপায় হোক, অবলম্বন হোক। আল্লাহ্‌তা’লা আমাদের সবাইকে ক্ষমা করুন। আমীন।

বিনয়াবনত

প্রকাশক