Author: admin

  • ৩৩৩৩

    ‘দশটি রাত্রি’ বলিতে, হিজরতের পূর্ববতী দুঃসহ যন্ত্রণার ও নির্যাতনের যে দশটি বৎসর মুসলমানেরা মক্কায় অতিবাহিত করিয়াছিলেন, সেই দশটি বৎসরকে বুঝাইতে পারে। অথবা, প্রতিশ্রুত মসীহ (আঃ)-এর আগমনের পূর্ববতী দশটি শতাব্দীকেও বুঝাইতে পারে যখন মুসলমানেরা ক্রমানবনতি ও অধঃপতনের দিকে অগ্রসর হইতেছিলেন। আধ্যাত্মিক ও রাজনৈতিক পতন-মূখী এই দশটি শতাব্দীর শেষে, ইসলামের পুনরুজ্জীবনের আশার আলো নিয়া নবীন প্রভাতের উদয় হইবে। কুরআন করীমের ৩২ঃ৬ আয়াতে প্রচ্ছন্নভাবে এই ‘দশ রাত্রি’ বা দশটি অবনতিশীল শতাব্দীর প্রতি ইঙ্গিত রহিয়াছে। ইসলামের অত্যুজ্জ্বল গৌরবময় প্রথম তিনশত বৎসরের পরে এই দশ শতাব্দীর (এক হাজার বৎসর) ক্রম-অবনতিকাল আসিয়াছিল। ইসলামের প্রথম তিনটি শতাব্দীকে স্বয়ং নবী করীম (সাঃ) ইসলামের শ্রেষ্ঠতম তিন শতাব্দী বলিয়াছেন (বুখারী, কিতাবুর রিকাক)। হিজরী তৃতীয় শতাব্দীর শেষ দিকে যখন স্পেনের উমাইয়া খলীফা, বাগদাদের আব্বাসীয় সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে খৃষ্টান ‘পোপ’-এর সহিত সন্ধি আঁটিলেন এবং অপরদিকে বাগদাদের খলীফা, উমাইয়া খলীফার বিরুদ্ধে রোম-সম্রাটের সহিত চুক্তিবদ্ধ হইলেন, তখন হইতেই ইসলামের পতনের কাল রাত্রিতুল্য ‘দশটি শতাব্দী’ শুরু হইয়া যায়।