১৪০৭

হযরত ইউসুফ (আঃ) তাঁহার ভাইদিগকে অনিশ্চয়তায় ঝুলাইয়া না রাখিয়া তাহাদের প্রতি তাঁহার ব্যবহার কিরূপ হইবে এই সম্বন্ধে তাহাদিগকে ভীতি ও আশংকা মুক্ত করিয়া বলিলেন যে, তাঁহার ক্ষমা শর্তবিহীন এবং অকপট। এইরূপ বিরাট অন্তঃকরণের অতুলনীয় মহৎ দয়াপূর্ণ ক্ষমা যাহা ইউসুফ (আঃ) তাঁহার ভাইদের প্রতি দেখাইয়াছিলেন উহার সাদৃশ্য কেবল নবী করীম (সাঃ)-এর মধ্যেই পরিলক্ষিত হয়। ইউসুফ (আঃ)-এর মত আমাদের নবী করীম (সাঃ) মদিনায় দেশান্তরী হওয়ার পর সম্মান ও ক্ষমতার অধিকারী হইয়াছিলেন; এবং বেশ কয়েক বছর পর দশ হাজার সাহাবীর নেতারূপে যখন তাঁহার মাতৃভূমির শহরে বিজয়ীর বেশে প্রবেশ করিয়াছিলেন এবং যখন মক্কার কাফেরগণ তাঁহার পদতলে পতিত হইয়াছিল তখন নবী করীম (সাঃ) মক্কাবাসীদিগকে এই কথাই জিজ্ঞাসা করিয়াছিলেন যে, তাহারা তাঁহার নিকট কেমন ব্যবহার প্রত্যাশা করে। উত্তরে মক্কাবাসীগণও এইরূপ বলিয়াছিল, “হযরত ইউসুফ (আঃ) তাঁহার ভাইদের প্রতি যেইরূপ ব্যবহার করিয়াছিলেন।” তৎক্ষণাৎ রসূল করীম (সাঃ) ঘোষণা করিলেন, “আজ তোমাদের উপর কোন প্রতিশোধ গ্রহণ করা হইবে না।” পূর্বেকার রক্তপিপাসু জাত-শত্রু মক্কার কুরায়শগণ, যাহারা নবী করীম (সাঃ)-এর জীবন নাশের এবং ইসলাম ধর্মের বিনাশ সাধনের জন্য কোন চেষ্টারই ত্রুটি করে নাই, আজ তাহাদেরই প্রতি মহানবীর এইরূপ ক্ষমা-সুন্দর উন্নত চরিত্র ও আদর্শ ব্যবহার বিশ্বমানব জাতির ইতিহাসে অদ্বিতীয় ও অনুপম।

Visitor Edits

December 30, 2025 2:05 pmApproved
হযরত ইউসুফ (আঃ) তাঁহার ভাইদিগকে অনিশ্চয়তায় ঝুলাইয়া না রাখিয়া তাহাদের প্রতি তাঁহার ব্যবহার কিরূপ হইবে এই সম্বন্ধে তাহাদিগকে ভীতি ও আশংকা মুক্ত করিয়া বলিলেন যে, তাঁহার ক্ষমা শর্তবিহীন এবং অকপট। এইরূপ বিরাট অন্তঃকরণের অতুলনীয় মহৎ দয়াপূর্ণ ক্ষমা যাহা ইউসুফ (আঃ) তাঁহার ভাইদের প্রতি দেখাইয়াছিলেন উহার সাদৃশ্য কেবল নবী করীম (সাঃ)-এর মধ্যেই পরিলক্ষিত হয়। ইউসুফ (আঃ)-এর মত আমাদের নবী করীম (সাঃ) মদিনায় দেশান্তরী হওয়ার পর সম্মান ও ক্ষমতার অধিকারী হইয়াছিলেন; এবং বেশ কয়েক বছর পর দশ হাজার সাহাবীর নেতারূপে যখন তাঁহার মাতৃভূমির শহরে বিজয়ীর বেশে প্রবেশ করিয়াছিলেন এবং যখন মক্কার কাফেরগণ তাঁহার পদতলে পতিত হইয়াছিল তখন নবী করীম (সাঃ) মক্কাবাসীদিগকে এই কথাই জিজ্ঞাসা করিয়াছিলেন যে, তাহারা তাঁহার নিকট কেমন ব্যবহার প্রত্যাশা করে। উত্তরে মক্কাবাসীগণও এইরূপ বলিয়াছিল, “হযরত ইউসুফ (আঃ) তাঁহার ভাইদের প্রতি যেইরূপ ব্যবহার করিয়াছিলেন।” তৎক্ষণাৎ রসূল করীম (সাঃ) ঘোষণা করিলেন, “আজ তোমাদের উপর কোন প্রতিশোধ গ্রহণ করা হইবে না।” পূর্বেকার রক্তপিপাসু জাত-শত্রু মক্কার কুরায়শগণ, যাহারা নবী করীম (সাঃ)-এর জীবন নাশের এবং ইসলাম ধর্মের বিনাশ সাধনের জন্য কোন চেষ্টারই ত্রুটি করে নাই, আজ তাহাদেরই প্রতি মহানবীর এইরূপ ক্ষমা-সুন্দর উন্নত চরিত্র ও আদর্শ ব্যবহার বিশ্বমানব জাতির ইতিহাসে অদ্বিতীয় ও অনুপম।