البلد
Al-Balad
ইহা মক্কায় অবতীর্ণ, বিসমিল্লাহ্সহ ইহাতে ২১ আয়াত এবং ১ রুকু আছে।
অবতীর্ণ হওয়ার সময় ও প্রসঙ্গ
এই সূরাটি মক্কায় অবতীর্ণ প্রাথমিক সূরাগুলির অন্যতম। খৃষ্টান লিখকদলের মতে সূরাটি নবুওয়াতের প্রথম বৎসরেই নাযেল হইয়াছিল। এতটা প্রাথমিক পর্যায়ের না হইলেও ইহা যে তৃতীয় বৎসরের শেষ দিকে কিংবা চতুর্থ বৎসরের প্রথম দিকে অবতীর্ণ হইয়াছিল, তাহা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়। সূরা ফাজরে বলা হইয়াছিল যে, নবুওয়াতের প্রথম তিন বৎসর নবী করীম (সাঃ)-কে অবিশ্বাসীরা কেবল বিদ্রুপ, গাল-মন্দ ও হাসি-ঠাট্টা করিয়াই ছাড়িয়া দিয়াছে। এখন হইতে তাহারা সকলে সম্মিলিত হইয়া তাহার উপর বিরামহীন অত্যাচার, সঙ্কল্পবদ্ধ বিরোধিতা ও কঠোর নির্যাতন চালাইবার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হইয়াছে। আল্লাহ্তা’লা রূপকের ভাষায় জানাইয়াছেন যে, এই নির্যাতন-নিপীড়ন মুসলমানগণকে দশটি বৎসর পর্যন্ত সহ্য করিয়া যাইতে হইবে (এই বৎসরকে দশটি রাত্রির সহিত উপমা দেওয়া হইয়াছে)। আলোচ্য সূরাতে নবী করীম (সাঃ)-কে বলা হইয়াছে, তাঁহার প্রিয় জন্ম-নগরীতে, তাঁহারই আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশী বন্ধু-বান্ধব তাঁহার উপর ও তাঁহার অনুসারীদের উপর দীর্ঘকাল ধরিয়া অমানুষিক নির্যাতন চালাইবে। এই প্রসঙ্গে ইঙ্গিত দেওয়া হইল যে, শত শত বৎসর পূর্বে আল্লাহ্তা’লার আদেশে, নবী-কুল-পিতা ইব্রাহীম (আঃ) ও তাঁহার পুত্র ইসমাঈল (আঃ) মক্কা নগরীর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করিতে গিয়া প্রার্থনা করিয়াছিলেন, আল্লাহ্ যেন এই নগরীকে এমন একটি বিরাট কেন্দ্রীয় নগরীতে পরিণত করেন, যেখান হইতে ঐশী আলোক বিচ্ছুরিত হইয়া বিশ্বকে আলোক-মালায় উদ্ভাসিত করিয়া তোলে। পিতা ও পুত্র উভয়েই আল্লাহ্র আদেশ পালনের জন্য চরম ত্যাগ স্বীকার করিয়াছিলেন। ইব্রাহীম (আঃ)-এর প্রার্থনা কবুল করা হইল এবং যখন সময় আসিল, তখন ঐ প্রার্থনার ফল স্বরূপ মহানবী (সাঃ) আগমন করিলেন এবং বিশ্ব-বাসীর চির-কল্যাণের জন্য, আলোকরশিতে পরিপূর্ণ শিক্ষামালা ও হেদায়াত-সম্বলিত মহাগ্রন্থ কুরআন দান করিলেন। অতঃপর সূরাটিতে বলা হইয়াছে যে, মানুষ কেবল সহজ ও বাধাহীন পথে চলিতে চায়, জীবনের উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য উধ্বগামী যে কঠিন পথ রহিয়াছে, সে পথে কেহ চলিতে চায় না। সূরাটি উপসংহারে বলিতেছে যে, যাহারা নিজের সম্মুখে উচ্চ আদর্শ রাখিয়া সেই অনুযায়ী জীবন যাপন করে তাহারাই সঠিক গন্তব্যে পৌঁছায়। আর যাহারা মহান আদর্শ সামনে না রাখিয়াই গতানুগতিক পথে চলে এবং উচ্চাদর্শের জন্য কোন কুরবানী বা ত্যাগ পেশ করে না, তাহারা জীবনে বিফলতা ও ব্যর্থতা বরণ করিতে বাধ্য হয়।
بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ ﴿۱﴾
لَاۤ اُقۡسِمُ بِہٰذَا الۡبَلَدِ ۙ﴿۲﴾
وَاَنۡتَ حِلٌّۢ بِہٰذَا الۡبَلَدِ ۙ﴿۳﴾
وَوَالِدٍ وَّمَا وَلَدَ ۙ﴿۴﴾
لَقَدۡ خَلَقۡنَا الۡاِنۡسَانَ فِیۡ کَبَدٍ ؕ﴿۵﴾
اَیَحۡسَبُ اَنۡ لَّنۡ یَّقۡدِرَ عَلَیۡہِ اَحَدٌ ۘ﴿۶﴾
یَقُوۡلُ اَہۡلَکۡتُ مَالًا لُّبَدًا ؕ﴿۷﴾