الغاشية
Al-Ghashiyah
ইহা মক্কায় অবতীর্ণ, বিসমিল্লাহ্সহ ইহাতে ২৭ আয়াত এবং ১ রুকু আছে।
অবতীর্ণ হওয়ার সময় ও প্রসঙ্গ
এই সূরাটি পূর্ববর্তী সূরাটির মতই নবুওয়াতের প্রথমদিকে মক্কায় নাযেল হইয়াছিল। প্রাথমিক যুগের মুসলিম মনীষী হযরত ইবনে আব্বাস ও হযরত ইবনে যুবায়ের (রাঃ)-এর ইহাই অভিমত। প্রসিদ্ধ জার্মান প্রাচ্যবিদ নলডিকি বলেন, ইহা নবুওয়াতের চতুর্থ বৎসরে অবতীর্ণ হইয়াছিল। এই সূরা ও পূর্ববর্তী কয়েকটি সূরা, নবী করীম (সাঃ)-এর সময়কার এবং আখেরী যামানার মুসলিম সম্প্রদায়ের সামগ্রিক জীবন চিত্রিত করিয়াছে। এই কারণেই নবী করীম (সাঃ) ইহাকে জুমু’আর নামায ও ঈদের নামাযে তেলাওয়াত করিতেন। পূর্ববর্তী সূরার কয়েকটিতে এই কথাই বলা হইয়াছে যে, কেবল জাগতিক ও বস্তুগত উপায়-উপকরণের ব্যবহার দ্বারাই ইসলাম জয়যুক্ত ও উন্নত হইতে পারিবে না। যখন মুসলমানগণের অধঃপতন হইবে এবং মুসলমানদের ধর্মীয় দৈন্যদশা এমন হইবে যে, কুরআন যেন আকাশে চলিয়া গিয়াছে, তখন একজন ঐশী সংস্কারক আগমন করিবেন যিনি কুরআনকে ধরার বুকে ফিরাইয়া আনিবেন এবং ইহার শিক্ষা, আদর্শ ও নীতিমালাকে উজ্জ্বল দীপ্তির ন্যায় পুনঃ প্রতিষ্ঠিত করিবেন। এই কথাও সূরাগুলিতে বলা হইয়াছে যে, প্রত্যেক শতাব্দীতে নবী করীম (সাঃ)-এর অনুসারীগণের মধ্য হইতে বিশেষ মর্যাদা-সম্পন্ন ভক্তব্যক্তিবর্গের আগমন হইবে, যাহারা ইসলামের আদর্শকে সমুন্নত রাখতে ও প্রচার করিতে মনে প্রাণে চেষ্টা করিয়া যাইবেন। আরো বলা হইয়াছে যে, অন্যান্য অজানা অবস্থাদিরও উদ্ভব হইবে, যাহা ইসলামের উন্নতিতে সাহায্য করিবে। এই সূরাতে বলা হইয়াছে যে, মুসলমানগণকে ভীষণ বিরোধিতা ও নির্যাতনের শিকারে পরিণত করা হইবে। এই অসহনীয় অত্যাচার ও নির্যাতনের মহা দুর্দিনে ত্যাগ-তিতিক্ষা ও ধৈর্য-স্থৈর্যের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হইবার পরেই মুসলমানদের সুদিন ও কৃতকার্যতা আসিবে। যদিও সূরাটি প্রধানতঃ মুসলমানদের ইহজাগতিক ভাগ্য পরিবর্তনের কথা আলোচনা করিয়াছে, তথাপি ইহাতে মহাপ্রলয়ের দিনের কথাও যে রহিয়াছে, তাহা এই সূরার নামকরণ হইতেই বুঝা যায়। ‘হিসাব-নিকাশের দিন’—তাহা এই জগতেই হউক আর পরজগতেই হউক —এমন একটি দিন যখন মাপের পাল্লা টাঙ্গানো হয়, তখন কতক লোক অপমান ও ঘৃণার পাত্র হওয়ার কারণে মাথা হেঁট করিয়া থাকে, আর অন্যেরা তাহাদের সৎকর্মের ও পরিশ্রমের পারিতোষিক লাভ করিয়া আনন্দোজ্জ্বল হইয়া উঠে।
بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ ﴿۱﴾
ہَلۡ اَتٰٮکَ حَدِیۡثُ الۡغَاشِیَۃِ ؕ﴿۲﴾
لَیۡسَ لَہُمۡ طَعَامٌ اِلَّا مِنۡ ضَرِیۡعٍ ۙ﴿۷﴾
لَّا یُسۡمِنُ وَلَا یُغۡنِیۡ مِنۡ جُوۡعٍ ؕ﴿۸﴾