৫৫

الرحمن

সূরা আর্‌ রাহ্‌মান

Ar-Rahman

মক্কী ৭৯ আয়াত ৩ রুকু পারা ২৭

ইহা মক্কায় অবতীর্ণ, বিসমিল্লাহ্‌সহ ইহাতে ৭৯ আয়াত এবং ৩ রুকু আছে।

بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ ﴿۱﴾

১
আল্লাহ্‌র নামে, যিনি অযাচিত-অসীম দাতা, পরম দয়াময়।

اَلرَّحۡمٰنُ ۙ﴿۲﴾

২
তিনি অযাচিত-অসীম দাতা (আল্লাহ্),

عَلَّمَ الۡقُرۡاٰنَ ؕ﴿۳﴾

৩
যিনি কুরআন শিক্ষা দিয়াছেন।২৯১৮
২৯১৮। নবী-রসূলগণের মাধ্যমে আল্লাহ্‌তা’লা নিজেকে প্রকাশ করিয়া থাকেন এবং এই উদ্দেশ্যে আপন বাক্য দ্বারা নবীগণকে সম্মানিত করিয়া থাকেন। কুরআনে আল্লাহ্‌র বাণী চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছিয়াছে। নিজের বাক্যের মাধ্যমে আল্লাহ্‌তা’লার আত্মপ্রকাশ, প্রথম হইতেই মানুষের মধ্যে চলিয়া আসিয়াছে। তবে, ইহা মানুষের কোন পুণ্যকর্মের ফল রূপে নহে। বরং স্বীয় করুণা ও মঙ্গলকামিতার তাগিদে, তিনি মানুষকে দান স্বরূপ আপন বাক্য শুনাইয়াছেন। ঐশী-বাণী বা ওহী-ইলহামের অবতরণ মানবের উপর আল্লাহ্‌তা’লার শ্রেষ্ঠ দান।

خَلَقَ الۡاِنۡسَانَ ۙ﴿۴﴾

৪
তিনি মানুষ সৃষ্টি করিয়াছেন,২৯১৯
২৯১৯। ‘মানুষ’ শব্দটি ইহার সাধারণ অর্থ-ছাড়াও এখানে ‘পূর্ণ মানব’ অর্থাৎ মহানবী (সাঃ)-কেও বুঝাইতে পারে, কেননা তাঁহার মাধ্যমে আল্লাহ্‌তা’লার গুণাবলীর পূর্ণতম ও চরমতম প্রকাশ ঘটিয়াছিল। এই হিসেবে দেখিলে, আয়াতটির অর্থ দাঁড়াইবে আল্লাহ্‌তা’লার দয়া মানব-সৃষ্টির মূলে কাজ করিতেছে মানব-হিতৈষণার উদ্দেশ্যে যাহাতে মানুষ উন্নতি করিতে করিতে,আধ্যাত্মিক উন্নতির চরম শিখরে আরোহণ করিয়া, নিজের মধ্যেও স্রষ্টার গুণাবলীর প্রতিফলন ঘটাইতে পারে।

عَلَّمَہُ الۡبَیَانَ ﴿۵﴾

৫
(এবং) তাহাকে স্পষ্টভাবে কথা বলিতে শিক্ষা দিয়াছেন।

اَلشَّمۡسُ وَالۡقَمَرُ بِحُسۡبَانٍ ﴿۪۶﴾

৬
সূর্য ও চন্দ্র হিসাব মোতাবেক (নিজ নিজ কক্ষপথে বিচরণশীল) রহিয়াছে।

وَّالنَّجۡمُ وَالشَّجَرُ یَسۡجُدٰنِ ﴿۷﴾

৭
এবং গুল্মলতা ও বৃক্ষরাজি (তাঁহার ইচ্ছানুযায়ী) সেজদা করিতেছে।২৯২০
২৯২০। পূর্ববর্তী আয়াতের সহিত এই আয়াতটি একত্রে মিলিয়া, ইহাই প্রকাশ করে যে, মহাকাশের সর্ববৃহৎ বস্তুই বল, আর কাণ্ড-বিহীন ছোট গুল্মই বল, সব কিছুই কতকগুলি বিধান অনুযায়ী চলে এবং তাহাদের জন্য নিদ্ধারিত কর্তব্য নিষ্ঠার সহিত, নির্ভুলভাবে, সময় মত সম্পন্ন করিয়া থাকে। এই যে বৃহৎ সৌর-জগৎ যাহার মত কোটি কোটি জগৎ রহিয়াছে ইহার প্রতিটি গ্রহ-উপগ্রহ আপন আপন কক্ষের উপর চলিয়া, আপন আপন গন্তব্যের দিকে নিরাপদে-নির্বিঘ্নে নির্দিষ্ট পথ অতিক্রম করে, কখনও কক্ষ-চ্যুত হয় না।

وَالسَّمَآءَ رَفَعَہَا وَوَضَعَ الۡمِیۡزَانَ ۙ﴿۸﴾

৮
এবং এই যে আকাশ– তিনি ইহাকে সুউচ্চ করিয়াছেন এবং তুলাদণ্ড স্থাপন করিয়াছেন,২৯২১
২৯২১। এই বিশ্ব-জগত একটা অভিন্ন নিয়মের অধীন এবং ইহার বিভিন্ন অংশ একত্রে মিলিয়া গতি ও আকৃতির একটা মহিমান্বিত ঐক্য ও সমন্বয় তৈরী করিয়াছে। এই পারস্পরিক সমন্বয় ও ভারসাম্য যাহা বিভিন্ন বস্তুগুলিতে বিরাজমান রহিয়াছে, তাহাতে যদি সামান্য ব্যাঘাতও ঘটে, তাহা হইলে সমস্ত বিশ্ব-জগত ছিন্ন-ভিন্ন হইয়া পড়িবে। কিন্তু যে সকল বিধান সমগ্র বিশ্ব-জগতকে পরিচালনা করে, উহার চাবি-কাঠি আল্লাহ্‌তা’লা নিজের আয়ত্বে, মানুষের নাগালের বাহিরে রাখিয়াছেন।

اَلَّا تَطۡغَوۡا فِی الۡمِیۡزَانِ ﴿۹﴾

৯
যেন তোমরা তুলাদণ্ডে সীমাতিক্রম না কর।২৯২২
২৯২২। বিশ্ব-জগতের সবকিছুর মাঝে যেমন একটা সার্বিক ঐক্য ও সমন্বয় রহিয়াছে, তেমনি সৃষ্টির মুকুটমণি মানুষকেও আদেশ করা হইয়াছে তাহারা যেন ঐ একতা ও সমঝোতার ভারসাম্য রক্ষাকল্পে সকল মানবের প্রতি সমতা ও ন্যায়-নীতিপূর্ণ ব্যবহার করে; প্রত্যেককে তাহার প্রাপ্য প্রদান করে এবং স্রষ্টার প্রতি কর্তব্য সম্পাদন করিতে গিয়া কখনও যেন সীমা না ছাড়ায় বরং মধ্যপথ অবলম্বন করে।

وَاَقِیۡمُوا الۡوَزۡنَ بِالۡقِسۡطِ وَلَا تُخۡسِرُوا الۡمِیۡزَانَ ﴿۱۰﴾

১০
সুতরাং তোমরা ন্যায়সঙ্গতভাবে ওজন প্রতিষ্ঠিত কর এবং মাপ কম করিও না।