الفلق
Al-Falaq
ইহা মক্কায় অবতীর্ণ, বিসমিল্লাহ্সহ ইহাতে ৬ আয়াত এবং ১ রুকু আছে।
অবতরণের তারিখ ও প্রসঙ্গ
এই সূরা এবং পরবর্তী সূরাটি এমনি পরস্পর সংযুক্ত যে, যদিও ইহাদের প্রত্যেকটি সূরাই স্বাধীন, পূর্ণ ও স্বতন্ত্র, তথাপি পরবর্তী সূরা ‘নাস’কে এই সূরার পরিপূরক বলা যাইতে পারে। এই সূরাতে একই বিষয়ের একটি দিক আলোচিত হইয়াছে এবং পরবর্তী সূরাতে অপর একটি বিশিষ্ট দিক আলোচিত হইয়াছে। দুইটি সূরাকে একত্রে বলা হয় ‘মো’আওয়েযাতান’ (নিরাপত্তা দানকারী যুগল)।কারণ দুইটি সূরাই আরম্ভ হইয়াছে নিরাপত্তা চাহিয়াঃ ‘আমি আমার প্রভুর আশ্রয় চাই।’ এই সূরার অবতরণকাল নিয়া পণ্ডিতগণের মধ্যে বহু মতভেদ রহিয়াছে। হযরত ইব্নে আব্বাস ও কাতাদাহসহ অনেকেরই মতে ইহারা মাদানী সূরা। অপরপক্ষে হযরত হাসান, ইকরিমা, আতা ও জাবীর প্রমুখ অনেকের মতে এই দুইটি হইল মক্কী সূরা। সকল সংশ্লিষ্ট বিষয় ও ঐতিহাসিক তথ্যাদি বিশ্লেষণ করিয়া অধিকাংশ মুসলিম মুফাস্সের এই দুইটি সূরাকে মক্কী সূরা বলিয়া মত ব্যক্ত করিয়াছেন।
বিষয়-বস্তু
সূরা ইখলাসের সহিত এই সূরা দুইটির সম্পর্ক রহিয়াছে। সূরা ইখলাসে মো’মেনগণকে এই কথা ঘোষণা করিতে নির্দেশ দেওয়া হইয়াছে— প্রচার করিতে থাক, আল্লাহ্ এক অদ্বিতীয় ও অনন্য, সব কিছুর উর্ধ্বে সর্বময় ক্ষমতার একচ্ছত্র অধিকারী ও অংশীদারবিহীন। আর এই দুই সূরাতে (ফালাক ও নাসে) মো’মেনগণকে বলা হইতেছে, উপরোক্ত ঘোষণা করিতে যাইয়া অত্যাচারী শাসক, নির্মম একনায়ক রাজা কিংবা দাম্ভিক বাদশাহর ভয়ে তাহারা যেন ভীত না হয় ইহা মো’মেনদের পবিত্র কর্তব্য যে, তাহারা দৃঢ়-প্রত্যয়ের সহিত এই কথা মনে গাঁথিয়া রাখিবে যে, আল্লাহ্ই এই মহাবিশ্বের একমাত্র পরিচালক এবং তাঁহার বান্দাগণকে এই সব কুসংস্কারাচ্ছন্ন শক্তিধরদের ক্ষতি-সাধন হইতে বাঁচাইতে তিনি সম্পূর্ণ সক্ষম। যদিও এই সূরা দুইটি কুরআনেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ, তথাপি ইহাদিগকে কুরআনের উপসংহার বলা যাইতে পারে। সূরা ইখলাস দ্বারা কুরআনের মূল বক্তব্য শেষ হইয়াছে বলিয়া মনে হয়, কেননা সমগ্র কুরআনের সারাংশ ও নির্যাস ইহার মাত্র কয়েকটি বাক্যের মধ্যে বিধৃত হইয়াছে। অতঃপর, পরবর্তী সূরা দুইটিতে কুরআনের এই অতি-সংক্ষেপিত শিক্ষা হইতে যাহাতে মো’মেনদের কোনরূপ বিচ্যুতি না ঘটে এবং তাহাদের ইহলৌকিক মঙ্গল ও পারলৌকিক উন্নতির সঙ্গে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী দুষ্কর্ম ও কুপ্রবৃত্তির যাহাতে তাহারা শিকার না হয়, সেজন্য ঐশী সাহায্য প্রার্থনা করিতে থাকার আদেশ দেওয়া হইয়াছে। মহানবী (সাঃ) রাত্রে নিদ্রা যাইবার প্রাক্কালে এই সূরাগুলিকে নিয়মিতভাবে তেলাওয়াত করিতেন।
بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ ﴿۱﴾
قُلۡ اَعُوۡذُ بِرَبِّ الۡفَلَقِ ۙ﴿۲﴾
وَمِنۡ شَرِّ غَاسِقٍ اِذَا وَقَبَ ۙ﴿۴﴾
وَمِنۡ شَرِّ النَّفّٰثٰتِ فِی الۡعُقَدِ ۙ﴿۵﴾
وَمِنۡ شَرِّ حَاسِدٍ اِذَا حَسَدَ ﴿٪۶﴾