১১৩

الفلق

সূরা আল্‌ ফালাক

Al-Falaq

মক্কী ৬ আয়াত ১ রুকু পারা ৩০

ইহা মক্কায় অবতীর্ণ, বিসমিল্লাহ্‌সহ ইহাতে ৬ আয়াত এবং ১ রুকু আছে।

بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ ﴿۱﴾

১
আল্লাহ্‌র নামে, যিনি অযাচিত-অসীম দাতা, পরম দয়াময়।

قُلۡ اَعُوۡذُ بِرَبِّ الۡفَلَقِ ۙ﴿۲﴾

২
তুমি বল, ‘আমি প্রভাতের প্রতিপালকের আশ্রয়৩৪৭০ চাই,
৩৪৭০। ‘ফালাক’ অর্থ ঊষাকাল; দোযখ; সৃষ্টির সাকল্যটা (লেইন)। মুসলমানকে নির্দেশ দেওয়া হইয়াছে এইসব ব্যাপারে প্রার্থনা করার জন্য যথাঃ (১) ইসলামের উপর হইতে অত্যাচার অনাচারের অন্ধকার রাত্রির অবসান হইয়া যখন উজ্জ্বল ঊষাগমন ঘটিবে, তখন ঐ ঊষার সূর্য যেন মধ্যগগনে উত্তীর্ণ না হওয়া পর্যন্ত ইসলামের আকাশে উদীয়মানই থাকে; (২) আল্লাহ্‌তা’লার সৃষ্ট বস্তুসমূহের মধ্যে যেসব অশুভ প্রভাব থাকিতে পারে— যেমন উত্তরাধিকার, পারিপার্শিকতার ভ্রমাত্মক শিক্ষা ইত্যাদি— সেইগুলি হইতে যেন আল্লাহ মো’মেনকে বাঁচাইয়া রাখেন; (৩) আল্লাহ্ যেন তাহাদিগকে ইহকালের ও পরকালের নরক-যন্ত্রণা হইতে রক্ষা করেন।

مِنۡ شَرِّ مَا خَلَقَ ۙ﴿۳﴾

৩
তিনি যাহা সৃষ্টি করিয়াছেন উহার অনিষ্ট হইইতে,

وَمِنۡ شَرِّ غَاسِقٍ اِذَا وَقَبَ ۙ﴿۴﴾

৪
এবং অন্ধকারাচ্ছন্নকারীর৩৪৭১ অনিষ্ট হইতে, যখন উহা অন্ধকারাচ্ছন্ন করে,
৩৪৭১। এই আয়াত বর্তমান যামানার অশুভ তৎপরতার প্রতি অঙ্গুলি নির্দেশ করিতে পারে যখন সত্যের জ্যোতিঃ নির্বাপিত হইয়া পাপ ও অন্যায় বিশ্ব-ব্যাপী ছড়াইয়া পড়ে। অথবা এই আয়াত মানুষের দুঃখ-দুর্দশার কঠিন কালকেও বুঝাইতে পারে যখন সে চতুর্দিকে কেবল অন্ধকারই দেখিতে পায়, আশার সামান্য আলোক-রশ্মিও তাহার দৃষ্টি-গোচর হয় না।

وَمِنۡ شَرِّ النَّفّٰثٰتِ فِی الۡعُقَدِ ۙ﴿۵﴾

৫
এবং সম্পর্ক-বন্ধনে (বিচ্ছেদ সৃষ্টির জন্য) ফুৎকার-কারিণীদের অনিষ্ট হইতে,৩৪৭২
৩৪৭২। এই আয়াতটি কুমন্ত্রণা-দানকারী কুচক্রীমহলের প্রতি ইঙ্গিত করিয়া বলিতেছে যে, ঐসব কুচক্রীরা মৈত্রী-বন্ধনে জোট-বদ্ধ হইয়া প্রতিষ্ঠিত সুশৃঙ্খল প্রশাসনকে ভাঙ্গিয়া ফেলার জন্য কর্তৃত্বকারীদের বিরুদ্ধে অপবাদ দিয়া জনগণকে উস্কানী ও প্ররোচনা দিতে থাকে; অজুহাত সৃষ্টি করিয়া আইন-অমান্য আন্দোলন পরিচালিত করে এবং বিশ্বাস-ভঙ্গের ইন্ধন যোগাইয়া মুসলমানের ঐক্যে ফাটল ধরায় এবং ঝগড়া-ফাসাদ সৃষ্টি করে। এই সূরাটি মানুষের জাগতিক জীবনের পার্থিব ব্যাপার ও বিষয়াদির অবস্থা ব্যক্ত করিয়াছে। আর পরবর্তী সূরাটি ব্যক্ত করিয়াছে মানুষের আধ্যাত্মিক জীবনের বিষয়াদির অবস্থার কথা। মানুষ জীবনে বহু প্রকারের প্রতিবন্ধকতা ও বিপদাপদের সম্মুখীন হয়। যখনই সে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজে নিয়োজিত হয়, বিশেষ করিয়া যখনই সে সত্যের আলো-বিস্তারের মহান ব্রতে আত্ম-নিয়োগ করে, তখনই অন্ধকারের অশুভ শক্তি তাহাকে চারিদিক হইতে ঘিরিয়া ধরে। তাহা সত্বেও যখন সে কৃতকার্যতার কাছাকাছি পৌঁছে, তখন কুচক্রী-বাহিনী তাহার পথে বিভিন্ন ধরণের বিঘ্ন ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। তাহার পরেও যখন সে কৃতকার্যতার দ্বার খুলিয়া ফেলে, তখন হিংসুটে মানুষের দল, তাহার পরিশ্রমের ফল ভোগ করা হইতে তাহাকে বঞ্চিত করিতে চায়। এইসব বাধা-বিঘ্ন, বিপদাপদ ও সংকটাবস্থা হইতে রক্ষা পাইবার উদ্দেশ্যে মো’মেনকে এইভাবে দোয়া করিবার ও সাহায্য চাওয়ার শিক্ষা দেওয়া হইয়াছে যাহাতে চতুর্দিকের অন্ধকারের মধ্যেও সে আলো প্রাপ্ত হয়, পথ দেখিতে পারে এবং দৃষ্কৃতকারীদের ষড়যন্ত্র ও হিংসুটে মানুষের হিংসার থাবা হইতে রক্ষা পাইতে পারে।

وَمِنۡ شَرِّ حَاسِدٍ اِذَا حَسَدَ ﴿٪۶﴾

৬
এবং হিংসুকের অনিষ্ট হইতে, যখন সে হিংসা করে।’
সূরা আল্‌ ফালাক - রুকু ১