“আ’রাফ” বহুবচন, একবচনে “উর্ফ” অর্থ- ‘উন্নত বা মর্যাদা-পূর্ণ স্থান’। আ’রাফা আলাল কাওম” অর্থাৎ সে তাহাদের সঙ্গে পরিচিত হইয়া তাহাদিগের বা সেই সকল লোকের ব্যবস্থাপক বা তত্বাবধায়ক ছিল বা হইয়াছিল। বিশিষ্ট সম্মানিত এবং উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিগণকেই সাধারণতঃ উচ্চ এবং উন্নত স্থানে উপবিষ্ট করানো হইয়া থাকে। হযরত হাসান এবং মুজাহীদ (রাঃ)-এর মতানুসারে উচ্চস্থানে অধিষ্ঠিত ব্যক্তিগণই মো’মেনদিগের মধ্যে সেরা, বাছাই-করা এবং উচ্চ মার্গের জ্ঞানী বুযুর্গ, কিরমানীর মতে তাঁহারা শাহাদত বরণকারীগণ। অন্যান্য অনেকে মনে করেন য়ে, উহারা হইবেন নবীগণ এবং ইহাই সর্বতোভাবে সঠিক বলিয়া অনুমিত হয়। উচ্চতর স্থানে অধিষ্ঠিত ব্যক্তিবর্গ কেবল ভাল দৃষ্টিভঙ্গির সক্রিয় আকর্ষণকারীই হইবেন না, অধিকন্তু সম্মানিত এবং উচ্চ মর্যাদাপূর্ণ অবস্থার কারণে তাহারা অধিকতর তথ্যাভিজ্ঞ বা ওয়াকিফহালও হইবেন। প্রত্যেককে দেখিয়াই তাহারা উহাদিগের পদমর্যাদা, স্তর বা অবস্থান বুঝিতে পারিবেন। স্পষ্টভাবেই ইহা একটি ভুল ধারণা যে, ‘আ’রাফে’ আসীন বা উচ্চ স্থানে অধিষ্টিত ব্যক্তি মাঝারি বা মধ্যম শ্রেণীর ও মর্যাদার লোক হইবেন—যাহাদের সম্বন্ধে তখন পর্যন্ত কোন স্থির সিদ্ধান্ত লওয়া হয় নাই, যেন উহাদের বিষয় বিবেচনাধীন রহিয়াছে। এইরূপ অর্থাৎ মধ্যবর্তী লোকদিগকে উচ্চ স্থানে আসীন করার মধ্যে কোন যুক্তিপূর্ণ জ্ঞানের বিষয় নিহিত নাই—যেক্ষেত্রে শহীদ এবং নবীগণ নিম্নস্তরের মর্যাদায় অধিষ্ঠিত থাকিবেন।
৯৭৮
“আ’রাফ” বহুবচন, একবচনে “উর্ফ” অর্থ- ‘উন্নত বা মর্যাদা-পূর্ণ স্থান’। “আ’রাফা আলাল কাওম” অর্থাৎ সে তাহাদের সঙ্গে পরিচিত হইয়া তাহাদিগের বা সেই সকল লোকের ব্যবস্থাপক বা তত্বাবধায়ক ছিল বা হইয়াছিল। বিশিষ্ট সম্মানিত এবং উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিগণকেই সাধারণতঃ উচ্চ এবং উন্নত স্থানে উপবিষ্ট করানো হইয়া থাকে। হযরত হাসান এবং মুজাহীদ (রাঃ)-এর মতানুসারে উচ্চস্থানে অধিষ্ঠিত ব্যক্তিগণই মো’মেনদিগের মধ্যে সেরা, বাছাই-করা এবং উচ্চ মার্গের জ্ঞানী বুযুর্গ; কিরমানীর মতে তাঁহারা শাহাদত বরণকারীগণ। অন্যান্য অনেকে মনে করেন যে, উহারা হইবেন নবীগণ এবং ইহাই সর্বতোভাবে সঠিক বলিয়া অনুমিত হয়। উচ্চতর স্থানে অধিষ্ঠিত ব্যক্তিবর্গ কেবল ভাল দৃষ্টিভঙ্গির সক্রিয় আকর্ষণকারীই হইবেন না, অধিকন্তু সম্মানিত এবং উচ্চ মর্যাদাপূর্ণ অবস্থার কারণে তাহারা অধিকতর তথ্যাভিজ্ঞ বা ওয়াকিফহালও হইবেন। প্রত্যেককে দেখিয়াই তাহারা উহাদিগের পদমর্যাদা, স্তর বা অবস্থান বুঝিতে পারিবেন। স্পষ্টভাবেই ইহা একটি ভুল ধারণা যে, ‘আ’রাফে’ আসীন বা উচ্চ স্থানে অধিষ্ঠিত ব্যক্তি মাঝারি বা মধ্যম শ্রেণীর ও মর্যাদার লোক হইবেন—যাহাদের সম্বন্ধে তখন পর্যন্ত কোন স্থির সিদ্ধান্ত লওয়া হয় নাই, যেন উহাদের বিষয় বিবেচনাধীন রহিয়াছে। এইরূপ অর্থাৎ মধ্যবর্তী লোকদিগকে উচ্চ স্থানে আসীন করার মধ্যে কোন যুক্তিপূর্ণ জ্ঞানের বিষয় নিহিত নাই—যেক্ষেত্রে শহীদ এবং নবীগণ নিম্নস্তরের মর্যাদায় অধিষ্ঠিত থাকিবেন।