৫৯০

‘তামাত্তা’আ বিল মারআতি’ অর্থ সে স্ত্রীলোকটি হইতে সাময়িক ভাবে উপকার পাইল। ‘ইস্‌তামতাআ বি কাযা’, অর্থ সে ইহা দ্বারা দীর্ঘদিন উপকার পাইয়াছে। স্ত্রীলোকের সাথে অস্থায়ী সম্পর্ক অর্থে ইস্‌তামতার ব্যবহার, আরবী বাগ্‌ধারা, একেবারেই সমর্থন করে না (লিসান)। ইহা লক্ষ্যণীয় যে, যখন ‘তামাত্তু’ বিশেষ্যটি স্ত্রীলোকের সাথে অস্থায়ী সম্পর্ক বুঝাইয়া থাকে, সেই ক্ষেত্রে ইহার পরে বা অব্যয়টিও ব্যবহৃত হয়, যেমন উপরের উদাহরণে দেখানো হইয়াছে। একজন আরব কবি বলিয়াছেন, “তামত্তা বিহা মা সা-আফাৎকা ওয়ালা তাকুন আলায়কা শাজান্‌ ফিল্‌ হাল্‌কি হীনা’তাবীনু”(হামাসাহ্)। অর্থাৎ “যতদিন পর্যন্ত স্ত্রীলোকটি সম্মত থাকে, ততদিন পর্যন্ত তাহার কাছ হইতে উপকৃত হও। কিন্তু সে যখন তোমার কাছ হইতে পৃথক হইয়া দূরে চলিয়া যায়, তখন এমন যেন না হয় যে, গলায় কাঁটা বিধার মত যন্ত্রণায় ভূগিতে থাক।” কিন্তু এই আয়াতে মেয়েলোক বুঝাইতে যে ‘হুন্না’ শব্দটি ব্যবহার করা হইয়াছে উহার সহিত (পূর্বে) ‘মিন’ অব্যয়টি ব্যবহৃত হইয়াছে। মুত্‌’আহ্‌র ব্যাপারে যে ভুলের উৎপত্তি হইয়াছে, তাহা দুইটি শব্দ ‘তামাত্তু’ ও ‘ইস্‌তিম্‌তা’হ-এর প্রভেদ না বুঝার কারণেই হইয়াছে। লিসানের গ্রন্থকার যাজ্জাজের একটি উদ্ধৃতি দিয়াছেন, “আরবী ভাষার সঠিক জ্ঞান না থাকার কারণে, কিছু লোক মনে করিয়াছেন যে মুত’আহ্ শরীয়াত-সিদ্ধ। কিন্তু ধর্ম বিশারদগণের ঐক্যমত ইহাই যে মুত’আহ্ শরীয়াত-বিরুদ্ধ কাজ। ‘ফামাস্‌তাম্‌তা’ তুম্ বিহি মিন্‌হুন্না’র অর্থ উপরোক্ত শর্তগুলি পালনের মাধ্যমে বিবাহ। এই আয়াতে যদি মুত’আহ্-এর কথাই বলা হইত, তাহা হইলে অব্যয়টি ‘মিন’ না হইয়া ‘বা’ হইত। তদুপরি এখানে ‘ইস্‌তিম্‌তাহ’ শব্দ ব্যবহৃত হইয়াছে, ‘তামাত্তাআ’ শব্দ নহে, আর এই দুই শব্দের মধ্যে অর্থের প্রভেদ রহিয়াছে। ‘উজুরাহুন্না’ (তাহাদের মহরানা) শব্দটির ব্যবহার হইতেও মুত’আহ্’র স্বপক্ষে কিছু উদগত হয় না। কুরআনের ৩৩ঃ৫১ আয়াতেও শব্দটি মহরানা অর্থে ব্যবহৃত হইয়াছে। অতএব, কুরআন মুত’আহ্’কে নিশ্চিত ভাবে নিষেধ করিয়াছে, কেননা বিবাহ বন্ধন বহির্ভূত যৌন-মিলন কুরআন অনুযায়ী ব্যভিচার বৈ আর কিছুই নহে।

Visitor Edits

January 20, 2026 5:07 amPending Review
‘তামাত্তা’আ বিল মারআতি’ অর্থ সে স্ত্রীলোকটি হইতে সাময়িক ভাবে উপকার পাইল। ‘ইস্‌তামতাআ বি কাযা, অর্থ সে ইহা দ্বারা দীর্ঘদিন উপকার পাইয়াছে। স্ত্রীলোকের সাথে অস্থায়ী সম্পর্ক অর্থে ইস্‌তাম্‌তার ব্যবহার, আরবী বাগ্‌ধারা, একেবারেই সমর্থন করে না (লিসান)। ইহা লক্ষ্যণীয় যে, যখন ‘তামাত্তু’ বিশেষ্যটি স্ত্রীলোকের সাথে অস্থায়ী সম্পর্ক বুঝাইয়া থাকে, সেই ক্ষেত্রে ইহার পরে ‘বা’ অব্যয়টিও ব্যবহৃত হয়, যেমন উপরের উদাহরণে দেখানো হইয়াছে। একজন আরব কবি বলিয়াছেন, “তামত্তা বিহা মা সা-আফাৎকা ওয়ালা তাকুন আলায়কা শাজান্‌ ফিল্‌ হাল্‌কি হীনা’তাবীনু”(হামাসাহ্)। অর্থাৎ “যতদিন পর্যন্ত স্ত্রীলোকটি সম্মত থাকে, ততদিন পর্যন্ত তাহার কাছ হইতে উপকৃত হও। কিন্তু সে যখন তোমার কাছ হইতে পৃথক হইয়া দূরে চলিয়া যায়, তখন এমন যেন না হয় যে, গলায় কাঁটা বিধার মত যন্ত্রণায় ভূগিতে থাক।” কিন্তু এই আয়াতে মেয়েলোক বুঝাইতে যে ‘হুন্না’ শব্দটি ব্যবহার করা হইয়াছে উহার সহিত (পূর্বে) ‘মিন’ অব্যয়টি ব্যবহৃত হইয়াছে। মুত্‌’আহ্‌র ব্যাপারে যে ভুলের উৎপত্তি হইয়াছে, তাহা দুইটি শব্দ ‘তামাত্তু’ ও ‘ইস্‌তিম্‌তা’হ্-এর প্রভেদ না বুঝার কারণেই হইয়াছে। লিসানের গ্রন্থকার যাজ্জাজের একটি উদ্ধৃতি দিয়াছেন, “আরবী ভাষার সঠিক জ্ঞান না থাকার কারণে, কিছু লোক মনে করিয়াছেন যে মুত্’আহ্ শরীয়াত-সিদ্ধ । কিন্তু ধর্ম বিশারদগণের ঐক্যমত ইহাই যে মুত্’আহ্ শরীয়াত-বিরুদ্ধ কাজ। ‘ফামাস্‌তাম্‌তা’ তুম্ বিহি মিন্‌হুন্না’র অর্থ উপরোক্ত শর্তগুলি পালনের মাধ্যমে বিবাহ। এই আয়াতে যদি মুত্’আহ্-এর কথাই বলা হইত, তাহা হইলে অব্যয়টি ‘মিন্’ না হইয়া ‘বা’ হইত। তদুপরি এখানে ‘ইস্‌তিম্‌তা’ শব্দ ব্যবহৃত হইয়াছে, ‘তামাত্তাআ’ শব্দ নহে; আর এই দুই শব্দের মধ্যে অর্থের প্রভেদ রহিয়াছে। ‘উজুরাহুন্না’ (তাহাদের মহরানা) শব্দটির ব্যবহার হইতেও মুত্’আহ্’র স্বপক্ষে কিছু উদ্‌গত হয় না। কুরআনের ৩৩ঃ৫১ আয়াতেও শব্দটি মহরানা অর্থে ব্যবহৃত হইয়াছে। অতএব, কুরআন মুত্’আহ্’কে নিশ্চিত ভাবে নিষেধ করিয়াছে, কেননা বিবাহ বন্ধন বহির্ভূত যৌন-মিলন কুরআন অনুযায়ী ব্যভিচার বৈ আর কিছু নহে।