৫২

এই আয়াতটি একটা চরম সত্যের প্রতি আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। তাহা এই যে, মানুষের জীবন, তাহার শরীরের ধ্বস ও বিনাশের সাথে সাথে শেষ হইয়া যায় না। মানব-জীবন এত সম্ভাবনাময় এবং এত দায়িত্ব-কর্তব্য দ্বারা ভারাক্রান্ত যে, শরীরের ক্ষয় ও মৃত্যুর সাথে সাথে ইহা শেষ হইবার নয়। যদি জীবনের বড় ও মহান উদ্দেশ্য না-ই থাকত, তাহা হইলে আল্লাহ্ তাহা সৃষ্টিই করিতেন না। আর যখন সৃষ্টি করিয়াছেন, তখন ইহার মৃত্যু ঘটাইতেন না, যদি পারলৌকিক জীবন না থাকিত। মৃতুই যদি সকল জীবনের অবসান হইত, তাহা হইলে, মানব সৃষ্টি প্রহসনে পরিণত হইত। মানব-সৃষ্টি হাসি তামাসা ও খেলার বস্তু হইলে, আল্লাহ্‌র প্রজ্ঞা ও বুদ্ধিমত্তার প্রতি কটাক্ষ করার অবকাশ থাকিয়া যাইত। আল্লাহ্‌তা’লা যিনি সকল প্রজ্ঞা ও বুদ্ধিমত্তার উৎস, তিনি এই বিশ্বের সব কিছু সৃষ্টি করিয়াছেন মানব-জীবনকে কেন্দ্র করিয়া। তাহা কি ষাট-সত্তর বৎসর জীবন ধারণের পর, পুনরায় মাটিতে বিলীন হইয়া যাইবার জন্যই? নিশ্চয় নয়। তিনি তাহাকে উচ্চতর, পূর্ণতর, চিরস্থায়ী ও অমর জীবনের জন্য সৃষ্টি করিয়াছেন। ইহজীবনের শরীর-রূপী তাঁবুর মধ্যে থাকিয়া দায়-দায়িত্ব সম্পাদন করার পর যখন সে এই অস্থায়ী তাঁবুটি পরিত্যাগ করিবে, তখন সে স্থায়ী বসবাসের জন্য নিজের আসল ও চিরস্থায়ী আবাসে চলিয়া যাইবে।

Visitor Edits

February 11, 2026 9:29 amPending Review
এই আয়াতটি একটা চরম সত্যের প্রতি আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। তাহা এই যে, মানুষের জীবন, তাহার শরীরের ধ্বংস ও বিনাশের সাথে সাথে শেষ হইয়া যায় না। মানব-জীবন এত সম্ভাবনাময় এবং এত দায়িত্ব-কর্তব্য দ্বারা ভারাক্রান্ত যে, শরীরের ক্ষয় ও মৃত্যুর সাথে সাথে ইহা শেষ হইবার নয়। যদি জীবনের বড় ও মহান উদ্দেশ্য না-ই থাকত, তাহা হইলে আল্লাহ্ তাহা সৃষ্টিই করিতেন না। আর যখন সৃষ্টি করিয়াছেন, তখন ইহার মৃত্যু ঘটাইতেন না, যদি পারলৌকিক জীবন না থাকিত। মৃতুই যদি সকল জীবনের অবসান হইত, তাহা হইলে, মানব সৃষ্টি প্রহসনে পরিণত হইত। মানব-সৃষ্টি হাসি তামাসা ও খেলার বস্তু হইলে, আল্লাহ্‌র প্রজ্ঞা ও বুদ্ধিমত্তার প্রতি কটাক্ষ করার অবকাশ থাকিয়া যাইত। আল্লাহ্‌ তা’লা যিনি সকল প্রজ্ঞা ও বুদ্ধিমত্তার উৎস, তিনি এই বিশ্বের সব কিছু সৃষ্টি করিয়াছেন মানব-জীবনকে কেন্দ্র করিয়া। তাহা কি ষাট-সত্তর বৎসর জীবন ধারণের পর, পুনরায় মাটিতে বিলীন হইয়া যাইবার জন্যই ? নিশ্চয় নয়। তিনি তাহাকে উচ্চতর, পূর্ণতর, চিরস্থায়ী ও অমর জীবনের জন্য সৃষ্টি করিয়াছেন। ইহজীবনের শরীর-রূপী তাঁবুর মধ্যে থাকিয়া দায়-দায়িত্ব সম্পাদন করার পর যখন সে এই অস্থায়ী তাঁবুটি পরিত্যাগ করিবে, তখন সে স্থায়ী বসবাসের জন্য নিজের আসল ও চিরস্থায়ী আবাসে চলিয়া যাইবে।