এই একটি ক্ষুদ্র আয়াত যুদ্ধ সংক্রান্ত নীতি ও নিয়মাবলী এবং ইহার পরিচালনার প্রয়োজনীয় নির্দেশাবলী অতি সংক্ষেপে বর্ণনা করিয়াছে এবং প্রসঙ্গতঃ কৃতদাস-প্রথাকে চিরতরে উচ্ছেদের পথ-নির্দ্দেশও দিয়াছে। নির্দেশাবলী হইলঃ (ক) মুসলমানগণ যখন আত্মরক্ষা, ধর্মরক্ষা, সম্মানরক্ষা বা সম্পদ রক্ষা ইত্যাদির জন্য নিয়মিত কোন যুদ্ধে আহূত হইবে, তখন তাহারা সাহসিকতার সহিত প্রাণপণে যুদ্ধ করিবে (৮ঃ১৩-১৭), (খ) একবার যুদ্ধ আরম্ভ হইলে, শান্তি ও বিবেকের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত তাহা বিরামহীনভাবে চালাইয়া যাইতে হইবে (৮ঃ৪০); (গ) নিয়মিত ও বিঘোষিত যুদ্ধে শক্ররা যখন সুনিশ্চিতভাবে পরাজয় বরণ করে,কেবল তখনই শক্র-সৈন্যকে যুদ্ধ-বন্দীরূপে আটকানো যাইতে পারে। বিঘোষিত যুদ্ধই একমাত্র ক্ষেত্র, যেখান হইতে বন্দী গ্রহণ করা যাইতে পারে; অন্য কোন কারণেই মানুষকে তাহার জন্মগত ব্যক্তি-স্বাধীনতার অধিকার হইতে বঞ্চিত করা যায় না; (ঘ) যুদ্ধ শেষ হইয়া গেলে, যুদ্ধ-বন্দীদের মুক্তির ব্যবস্থা করিতে হইবে। অনুগ্রহ প্রদর্শন পূর্বক বন্দীকে মুক্তি দান, কিংবা ক্ষতিপূরণ লইয়া মুক্তি দান কিংবা পারস্পরিক আলোচনা ও বন্দী-বিনিময়ের মাধ্যমে বন্দী-মুক্তি দান— মুক্তিই লক্ষ্য হওয়া উচিত। যুদ্ধ-বন্দীকে চির বন্দীত্বে বা কৃতদাসত্বে রাখা কখনও উচিত নহে। হযরত নবী করীম (সাঃ) বনী মুস্তালিক গোত্রের প্রায় একশত পরিবারকে এবং হাওয়াজিন গোত্রের কয়েক হাজার লোককে সম্পূর্ণ পরাজিত অবস্থায় বন্দী হওয়া সত্ত্বেও বিনা শর্তে মুক্ত করিয়া দিলেন। বদরের যুদ্ধের পরে কিছু সংখ্যক বন্দীর কাছ হইতে মুক্তি-পণ লইয়া তাহাদিগকে মুক্তি দেওয়া হইল এবং যেসব বন্দীর মুক্তি-পণ দিবার সামর্থ্য ছিল না অথচ লিখিতে-পড়িতে জানিত, তাহাদিগকে নিরক্ষর মুসলমানদের পড়া-লিখার জন্য শিক্ষক নিযুক্ত করিয়া মুক্তির পথ করিয়া দেওয়া হইল। আয়াতটি কৃতদাসত্বের মূলোৎপাটনের এমন কার্যকরী ব্যবস্থার উল্লেখ করিয়াছে যে, কৃতদাসত্ব চিরকালের জন্য বিলুপ্ত হইয়া গেল।