‘বরকতপূর্ণ রাত্রিতে’— কুরআনের অন্যত্র ঐ রাত্রিকে ‘উৎকৃষ্ট রজনী’ বলা হইয়াছে (৯৭ঃ২-৪)। সহীহ্ হাদীস অনুযায়ী এই সৌভাগ্য ও উৎকৃষ্ট রজনী রমযান মাসের শেষ দশ রাত্রির কোন একটি বেজোড় রাত্রি, যে রমযান মাসে কুরআনের অবতরণ শুরু হইয়াছিল (২ঃ১৮৬)। সঠিক রাত্রি রমযানের ২৪ তম রাত্রি (মসনদ ও জরীর)। ‘বরকত পূর্ণ রাত্রি’ বা ‘সৌভাগ্য রজনী’ কুরআনের একটি রূপক বৈশিষ্ট্য, যাহা দ্বারা একটি অন্ধকারাচ্ছন্ন যুগকে বুঝাইয়া থাকে যাহা পৃথিবীকে নৈতিক ও আধ্যাত্মিক অধঃপতনের অতল তলে ডুবাইয়া ফেলে এবং পরিশেষে সংস্কারক মহাপুরুষের অভ্যূদয়ের মাধ্যমে পাপী-তাপী মানব পুনরুদ্ধার ও পুনর্জীবন লাভ করে। যে রাত্রি বিশ্ব-মানবকে ইহার সর্বোত্তম শিক্ষক, সর্বশেষ শিক্ষা ও পূর্ণতম ঐশী বিধান উপহার দিল, উহাকে বরকতপূর্ণ ও সৌভাগ্য-রাত্রি ছাড়া আর কি বলা যাইতে পারে? কুরআনের উদ্বোধনী-অবতরণ হইতে সমাপ্তি-অবতরণ পর্যন্ত সমস্ত সময়টাকে এই রাত্রি বেষ্টন করিয়া আছে, সমস্ত সময়টিকেই সৌভাগ্য-রজনী বলা যাইতে পারে।