২১৭৫

‘নাক্বারাহু’ অর্থ সে ইহাকে এমনভাবে পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করিয়াছিল যে, ইহা দেখিয়া চিনিতে পারা যায় না; সে ইহাকে দেখিতে অতি সাধারণ করিয়াছিল (লেইন)। অতএব এই উক্তির অর্থ এইরূপ হইতে পারে, ‘এই সিংহাসনটিকে তাহার (রাণীর) সিংহাসনটির তুলনায় অতি সাধারণ বলিয়া মনে হয়।’ তফসীরাধীন আয়াত ইহা বুঝাইতে চহিয়াছে যে, হযরত সোলায়মান (আঃ) রাণীর জন্য সিংহাসন নির্মাণের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তাকে সিংহাসনটিকে এমন সৌন্দর্যমণ্ডিত করিয়া প্রস্তুত করিবার জন্য নির্দেশ দিয়াছিলেন যাহাতে রাণী দেখিয়া ইহার কারিগরী দক্ষতার শ্রেষ্ঠত্ব উপলব্ধি করিয়া নিজের সিংহাসনকে অপসন্দ করেন এবং তৎদৃষ্টে রাণী বুঝিতে পারেন যে, হযরত সোলায়মান (আঃ) রাণী অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ ও অধিক ক্ষমতা এবং সমৃদ্ধির অধিকারী। ‘সে হেদায়াত পায় না’, বাক্যের মর্মার্থ মনে হয় ইহাই। হযরত সোলায়মান (আঃ)-এর বিরোধিতা বা প্রতিবন্ধকতায় রাণীর ব্যর্থতার কথা তাহাকে তিনি বুঝাইয়া দিতে চহিয়াছিলেন। রাণী এবং তাঁহার মন্ত্রীপরিষদ তাহাদের শক্তি-সামর্থ্য সম্বন্ধে গর্ব বোধ করিত বলিয়া ধারণা হয় (২৭ঃ৩৪) এবং হযরত সোলায়মান (আঃ) তাহাদের এই ভ্রান্ত ধারণা ভাঙ্গিয়া দিতে চাহিয়াছিলেন (২৭ঃ৩৭)। ‘তাহার (রাণীর) সিংহাসনকে’ শব্দদ্বয় যদি হযরত সোলায়মান (আঃ)-কে উপহার স্বরূপ রাণীর প্রেরিত সিংহাসন অর্থে নেওয়া হয় তাহা হইলে ‘নাক্বিরু’ শব্দের অর্থ হইবে এই যে, সিংহাসনটি এমন সুন্দর ও সৌষ্ঠবপূর্ণ হওয়া উচিৎ এবং উহার উপর খচিত কোন প্রতিমা যদি থাকে, তাহা সম্পূর্ণরূপে এমনভাবে মুছিয়া ফেলা উচিৎ যাহাতে তিনি (রাণী) ইহাকে সনাক্ত করিতে ব্যর্থ হন।

Visitor Edits

January 12, 2026 10:15 amApproved
‘নাক্বারাহু’ অর্থ সে ইহাকে এমনভাবে পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করিয়াছিল যে, ইহা দেখিয়া চিনিতে পারা যায় না; সে ইহাকে দেখিতে অতি সাধারণ করিয়াছিল (লেইন)। অতএব এই উক্তির অর্থ এইরূপ হইতে পারে, ‘এই সিংহাসনটিকে তাহার (রাণীর) সিংহাসনটির তুলনায় অতি সাধারণ বলিয়া মনে হয়।’ তফসীরাধীন আয়াত ইহা বুঝাইতে চহিয়াছে যে, হযরত সোলায়মান (আঃ) রাণীর জন্য সিংহাসন নির্মাণের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তাকে সিংহাসনটিকে এমন সৌন্দর্যমণ্ডিত করিয়া প্রস্তুত করিবার জন্য নির্দেশ দিয়াছিলেন যাহাতে রাণী দেখিয়া ইহার কারিগরী দক্ষতার শ্রেষ্ঠত্ব উপলব্ধি করিয়া নিজের সিংহাসনকে অপসন্দ করেন এবং তৎদৃষ্টে রাণী বুঝিতে পারেন যে, হযরত সোলায়মান (আঃ) রাণী অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ ও অধিক ক্ষমতা এবং সমৃদ্ধির অধিকারী। ‘সে হেদায়াত পায় না’, বাক্যের মর্মার্থ মনে হয় ইহাই। হযরত সোলায়মান (আঃ)-এর বিরোধিতা বা প্রতিবন্ধকতায় রাণীর ব্যর্থতার কথা তাহাকে তিনি বুঝাইয়া দিতে চহিয়াছিলেন। রাণী এবং তাঁহার মন্ত্রীপরিষদ তাহাদের শক্তি-সামর্থ্য সম্বন্ধে গর্ব বোধ করিত বলিয়া ধারণা হয় (২৭ঃ৩৪) এবং হযরত সোলায়মান (আঃ) তাহাদের এই ভ্রান্ত ধারণা ভাঙ্গিয়া দিতে চাহিয়াছিলেন (২৭ঃ৩৭)। ‘তাহার (রাণীর) সিংহাসনকে’ শব্দদ্বয় যদি হযরত সোলায়মান (আঃ)-কে উপহার স্বরূপ রাণীর প্রেরিত সিংহাসন অর্থে নেওয়া হয় তাহা হইলে ‘নাক্বিরু’ শব্দের অর্থ হইবে এই যে, সিংহাসনটি এমন সুন্দর ও সৌষ্ঠবপূর্ণ হওয়া উচিৎ এবং উহার উপর খচিত কোন প্রতিমা যদি থাকে, তাহা সম্পূর্ণরূপে এমনভাবে মুছিয়া ফেলা উচিৎ যাহাতে তিনি (রাণী) ইহাকে সনাক্ত করিতে ব্যর্থ হন।