২১৩০

কুরআনের একাধিক স্থানে (৭ম এবং ১১দশ সূরা) এবং বর্তমান সূরাতেও পাঁচ নবীর— হযরত নূহ, হযরত হূদ, হযরত সালেহ্‌, হযরত লূত এবং হযরত শো’আয়্‌ব (আলয়হেমুস্‌সালাম)-এর নাম এক সঙ্গে উল্লেখ করা হইয়াছে এবং একই ক্রমপর্যায়ে উল্লেখিত হইয়াছে এবং অভিন্ন বাণী তাহাদের মুখে উচ্চারিত হইয়াছে। সকল ধর্মের দুইটি মৌলিক শিক্ষা — আল্লাহ্‌র তৌহীদ এবং যুগ-নবীর আনুগত্য; তদতিরিক্ত প্রত্যেক নবীর ক্ষেত্রে তাঁহার লোকেরা যে ধরণের রোগ-ব্যাধি এবং অনৈতিকতায় বিশেষভাবে ভূগিতেছিল তাহার উপরে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হইয়াছে। হযরত নূহ (আঃ)-এর জাতির লোকেরা সংযোগবিহীন স্বতন্ত্র গোত্রে বিভক্ত হইয়া গিয়াছিল এবং তাহাদের মধ্যে সামজিকভাবে সঙ্গতিসম্পন্ন ও সচ্ছল লোকেরা মিথ্যা মর্যাদার অহমিকায় ভুগিতেছিল। তাহাদের ধনী ব্যক্তিরা সমাজের দরিদ্র শ্রেণীর সঙ্গে মিলিত না। হযরত হূদ (আঃ)-এর গোত্র সামরিক দক্ষতা ও স্থাপত্যের কীর্তির জন্য অহংকার করিত এবং তাহাদের কল-কারখানার জন্য গর্ববোধ করিত। হযরত সালেহ্‌ (আঃ)-এর গোত্রের লোকজন তাহাদের শক্তি, সম্মান এবং ধন-সম্পদের বড়াই করিত। হযরত লূত (আঃ)-এর গোত্রের লোকেরা এক অতি অস্বাভাবিক, নীতি-বিগর্হিত এবং কলংকময় যৌন কদাচারকে নির্লজ্জভাবে প্রশ্রয় দিয়াছিল। শো’আয়ব’ (আঃ)-এর জাতি ব্যবসায় লেন-দেনে অসাধু ছিল। এই দোষগুলির প্রত্যেকটির পৃথকভাবে সেই যুগ-নবীর ক্ষেত্রে উল্লেখ করা হইয়াছে যাহার গোত্রের লোকেরা যে দুশ্চরিত্রতার শিকারে পরিণত হইয়াছিল। আল্লাহ্‌তা’লার নবীগণের ইহাই পন্থা যে, ধর্মের মূলনীতিসমূহের উপর জোর দেওয়া ছাড়াও যে সকল কলুষতায় তাহাদের জাতির জনগোষ্ঠি লিপ্ত হয় সেই সমস্ত বিশেষ বিষয়ের উপর বিশেষভাবে জোর দিয়া থাকেন।