‘আল্ বায়তুল আতীক্ব’-এর অর্থ, উন্মুক্ত, পরমোৎকৃষ্ট এবং অতি প্রাচীন গৃহ (লেইন)। ‘উন্মুক্ত’ বিশেষণের মধ্যে এই ভবিষ্যদ্বাণী নিহিত রহিয়াছে যে, কোন বিরোধী শক্তিই ইহা জয় করিতে সক্ষম হইবে-না। সর্বদাই এই গৃহ মুক্ত থাকিবে। গুণবাচক উক্তি ‘পরমোৎকৃষ্ট’-এর মর্ম এই যে, পৃথিবীতে কা’বা শরীফ সর্বকালেই এক সম্মানজনক স্থান দখল করিয়া থাকিবে। পৃথিবীতে প্রাচীনতম ইবাদত গৃহ এই ‘কা’বা’, ইহার সত্যতার দৃঢ় সমর্থন পাওয়া যায় কুরআনের অন্য এক আয়াতে (৩৯৭)। ইহার অস্তিত্ব বহু পূর্ব হইতেই বিদ্যমান ছিল যখন হযরত ইব্রাহীম (আঃ) তাঁহার স্ত্রী হাজেরা ও পুত্র ইসমাঈলকে মক্কার রৌদ্র-দগ্ধ, ধূসর ও অনুর্বর উপত্যকায় বসবাস করিতে আনিয়াছিলেন (১৪ঃ৩৮)। কাহারো বিশ্বাসমতে হযরত নূহ (আঃ) কা’বা গৃহের তাওয়াফ করিয়াছিলেন (তাবারী — এনসাইক অব ইসলামে উদ্ধৃত)। প্রতিষ্ঠিত ও প্রখ্যাত ইতিহাসবিদরাও কেহ কেহ স্বীকার করিয়াছেন যে, স্মরণাতীত কাল হইতে কাবা পবিত্র বলিয়া স্বীকৃত হইয়া আসিতেছিল। বর্তমানে হিজায নামে খ্যাত এই অঞ্চল সম্বন্ধে লিখিতে গিয়া ডিওডরাস সিকুলাস (Deodorus Siculus) বলিয়াছেনঃ এই দেশের এই স্থানে সমগ্র আরববাসী কর্তৃক অতীব পবিত্র বিবেচিত এক উপাসনালয় আছে, যাহার প্রতি সম্মান প্রদর্শনার্থে চতুর্দিকের প্রতিবেশী রাষ্ট্রের লোকেরা দলে দলে ভীড় জমায়। স্যার উইলিয়াম মুইর বলেন, এই কথাগুলি নিশ্চয় মক্কার পবিত্র গৃহটির প্রতি অঙ্গুলী নির্দেশ করে, কেননা আরবের সার্বজনীন সশ্রদ্ধ স্বীকৃতি দাবী করে এমন অন্য কোন কিছু আছে বলিয়া আমরা জানিতে পারি আরব জাতির ঐতিহ্য আরবের সকল অঞ্চল হইতে হজ্জ যাত্রীর দৃশ্যে স্মরণাতীত কাল হইতে কা’বার চিত্রই মূর্ত হইয়া উঠে ……… এত বেশী ব্যাপক একটি সশ্রদ্ধ স্বীকৃতি অবশ্যই এক অতি প্রাচীন যুগে শুরু হইয়া চলিয়া আসিয়াছে (Muir, P.c iii) ইহাতে প্রতিপন্ন হয় যে, কা’বা সর্বপ্রথম হযরত আদম (আঃ) কৃর্তক নির্মিত হইয়াছিল, পরবর্তীকালে হযরত নূহ (আঃ)-এর যুগে সর্বনাশা প্লাবনে ইহা বিনষ্ট হইয়া গিয়াছিল এবং পরে হযরত ইব্রাহীম (আঃ) তাঁহার পুত্র ইসমাঈলের সহায়তায় ইহা পুনর্নির্মাণ করেন।